সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৫৪
পাক-সৌদি চুক্তি কাশ্মীরি ও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে জোরদার করবে
পাকিস্তান উলেমা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আল্লামা তাহির মাহমুদ আশরাফি পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে এবং কাশ্মীরি ও ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তিশালী করবে। আল্লামা তাহির মাহমুদ আশরাফি স্থানীয় একটি নিউজ চ্যানেলকে বলেন, তিনি মুসলিম বিশ্বকে একত্রিত করতে এবং এর বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতি প্রচারে ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বকে একটি পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাক-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি মুসলিম ঐক্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে এবং কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য চলমান সংগ্রামকে শক্তিশালী করবে। আশরাফি এই চুক্তিকে এই বৈধ লক্ষ্যগুলোর সমর্থনে ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য ও সংহতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কেবল আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের সুনাম বাড়াবে না, বরং আরও কৌশলগত অংশীদারিত্বের দ্বার উন্মোচন করবে।
আল্লামা আশরাফি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী দিনে অন্যান্য দেশও একই ধরনের চুক্তির সাথে এগিয়ে যাবে, যা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে। পাকিস্তান উলেমা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সৌদি আরব সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উষ্ণ আতিথেয়তারও প্রশংসা করেন এবং এটিকে দুই দেশের মধ্যে গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন। আশরাফি বলেন, এমন মনোভাব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করে, যা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের পথ প্রশস্ত করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাক-সৌদি চুক্তি একটি শক্তিশালী জোটের দৃষ্টান্ত যা ইসরাইলকে চিন্তিত করেছে এবং ভারতীয় গণমাধ্যমও এতে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, এই চুক্তি কাশ্মীরিদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ডন।
বাগরাম ঘাঁটির ব্যাপারে ছাড় নয়: আফগান সেনাপ্রধান
বাগরাম ঘাঁটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সোপর্দের ব্যাপারে কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে রাজি নয় আফগানিস্তান। একইসাথে দেশের একবিন্দু ভূমিও কাউকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্প্রতি বাগরাম ঘাঁটি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানোর পর কাবুলে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই বার্তা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফসিহুদ্দিন ফিতরত। আফগান সেনাপ্রধান বলেন, আফগানবাসী নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন যে আমরা দেশের একবিন্দু জায়গার ব্যাপারেও কোনো সমঝোতা করব না এবং এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কাবুল থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ফজলুল কাহের আল কাজি জানান, ফিতরাত বলেছেন যে তারা কোনো অহঙ্কারী বা স্বৈরাচারী শক্তিকেই ভয় পান না। গত ২০ বছর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে করা যুদ্ধই এই মনোভাব প্রকাশের জন্য যথেষ্ট। আফগান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে দোহা চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, তারা যেন চুক্তি অনুযায়ী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি না দেয় এবং শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা না করে। তারা আরো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও কাবুলের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় জানানো হয়েছিল যে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব উভয়ের কাছেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। আল জাজিরা।
ইন্দোনেশিয়া গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত: প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোয়ো বলেন, গাজার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে তার দেশ শান্তিরক্ষী পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ভাষণে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা গাজার চলমান অসহনীয় ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করছি। হাজারো নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। দুর্ভিক্ষ আর ধ্বংসযজ্ঞ চলছে সেখানে। মানবিক বিপর্যয় আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। আমরা সবখানেই নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাই।’ প্রাবোয়ো আরও জানান, ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতেও প্রস্তুত’। একই সঙ্গে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি তার দেশের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। স্বীকৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসরাইল যদি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়, তাহলে ইন্দোনেশিয়া সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে এবং তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সমর্থন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার’ আমরা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। এসময় প্রাবোয়ো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঠেকানোর আহ্বান জানান। এদিকে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ধারা আরও গতিশীল হয়েছে। এর একদিন আগে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দিয়ে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এ পদক্ষেপের কড়া বিরোধিতা করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। গত রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘এটি হামাসকে পুরস্কৃত করার কোনো পদক্ষেপ নয়। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান পুনরুজ্জীবিত করার জন্যই এই স্বীকৃতি জরুরি।’ সম্প্রতি ফ্রান্স, বেলজিয়াম, মাল্টা ও লুক্সেমবার্গসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা ইসরাইলের দশকের পর দশকের দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে নয়া জোটের ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আবাসস্থল কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরাইলের হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার পর উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো যখন এই অঞ্চলে তাদের দীর্ঘস্থায়ী রক্ষক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে ক্রমশ উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেছে, তখন গত ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার গভীর রাতে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরবের নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কাতারে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উভয় সরকারের পক্ষ থেকে হামাসের সাথে কাতারের বহু বছরের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে উল্টে দেয়া হয়েছে। সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক সান দেগাং বলেছেন, এই হামলা সৌদি আরবকে অনুভব করিয়েছে যে মার্কিন সুরক্ষা অবিশ্বস্ত, যার ফলে তারা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের সন্ধান করছে এবং পাকিস্তানের সাথে সহযোগিতা জোরদার করছে। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম সেনাবাহিনীসহ একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। দেশটি এখন আরবকে পারমাণবিক সুরক্ষা প্রদান করতে বাধ্য কিনা, জানতে চাইলে একজন ঊর্ধ্বতন সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এটি একটি ব্যাপক প্রতিরক্ষা চুক্তি যা সকল সামরিক পন্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে।’
এদিকে বেইজিংয়ের সাথে কৌশলগত মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী মার্কিন মিত্র এবং চীনের একটি প্রধান সামরিক অংশীদার হিসেবে পাকিস্তান সৌদি আরবকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগ দিয়েছে এবং নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষা করেছে। চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে লিন বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে এই পছন্দগুলো বৃহৎ শক্তির তীব্রতর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পটভূমিতে উদ্ভূত হচ্ছে।’ সৌদি আরব এবং পাকিস্তান উভয়ই চীনের ভালো বন্ধু। সান বলেন, ‘চীন তাদের বর্ধিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছে, তার সমস্ত ডিম এক ঝুড়িতে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে না রেখে বিভিন্ন অংশীদারদের সাথে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন সন্ধানও চীনের অনুকূলে।’ সৌদি আরবে নিযুক্ত চীনের সাবেক সামরিক অ্যাটাশে এবং গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট লিন লি বলেছেন, ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান সন্দেহের কারণে নতুন চুক্তিটি সমগ্র অঞ্চলে একই ধরণের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির জন্ম দিতে পারে। উল্লেখ্য, বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে ভারতের সাথে পাকিস্তানের সশস্ত্র সংঘর্ষের কয়েক মাস পর পাকিস্তান-সৌদি নতুন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো। মে’তে চার দিনের সংঘর্ষটিকে বেইজিং চীনা তৈরি অস্ত্রের জন্য একটি বড় উৎসাহ হিসেবে দেখেছে, যেখানে পকিস্তান বাহিনী পরিচালিত চীনা জে১০-সিই অস্ত্র ব্যবস্থা ভারতীয় বাহিনী পরিচালিত ফরাসি তৈরি যুদ্ধ বিমান রাফালেকে গুলি করে ভূপাতিত করে প্রথম বিমান যুদ্ধে জয়লাভ করে। রয়টার্স।
আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান
গেল ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার ইরানি কর্মকর্তারা ঘোষণা দিয়েছেন, দেশটি প্রথম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই দাবি পারমাণবিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। কারণ ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উপর কোনো সীমা আরোপে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। অন্যদিকে এটা এমন সময়ে ঘটেছে যখন বিশ্ব নেতারা জাতিসংঘে মিলিত হচ্ছেন। ২০ সেপ্টেম্বর ইরানি আইনপ্রণেতা মোহসেন জাঙ্গানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-তে ঘোষণা করেন, ইরান একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ‘নিরাপত্তা পরীক্ষা’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তিনি এটিকে দেশটির সবচেয়ে উন্নত সিস্টেমগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে বর্ণনা করেন, যা আগে কখনো পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় বারবার হামলার পরও ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করবে না। জাঙ্গানে এই পরীক্ষাকে চাপের মুখে ইরানের কৌশলগত পথ ধরে রাখার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি সফল ছিল। তার এই টেলিভিশন মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন ইরানি এবং বিদেশী গণমাধ্যমগুলো তেহরান এবং অন্যান্য শহরের আকাশে উজ্জ্বল বস্তুর ভিডিও প্রমাণ ছড়িয়ে দিয়েছে, যা ব্যাপকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের চিহ্ন বহন করছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর তেহরান, গোরগান, সারি, সেমনান এবং অন্যান্য অঞ্চলে ধোঁয়া এবং আলোর রহস্যময় রেখা দেখা যায়।
বাসিন্দারা আকাশের বুকে উজ্জ্বল বক্ররেখার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। অন্যদিকে ইরানের বিরোধী-সমর্থিত পোর্টাল ইরান ইন্টারন্যাশনাল একটি ফুটেজ সম্প্রচার করেছে, যাতে কারাজ শহরের কাছে বিমানবিধ্বংসী কার্যক্রম দেখা গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা অবশেষে নিশ্চিত করেন, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা হয়েছে, যদিও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে নীরব ছিল। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তবে এর আগে দেশীয় সূত্র দাবি করেছিল, ভিয়েনায় ইউরোপীয় আলোচনায় যোগ দেবেন তিনি। পরীক্ষার পর রেভল্যুশনারি গার্ডের বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়, শত্রুদের যেকোনো ভুল হিসাবের জবাব ‘মরণঘাতী এবং শিক্ষণীয়’ হবে। এই সতর্ক বার্তা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে একটি বৃহত্তর প্রতিরোধ কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। অতিরিক্ত বিবরণ মতে, এই পরীক্ষাটি তেহরান থেকে প্রায় ২১৯ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত সেমনান ক্ষেপণাস্ত্র পরিসরের সাথে সম্পর্কিত ছিল। এই স্থানটি দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশ উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা রাতের অন্ধকারে একটি নাটকীয় উৎক্ষেপণের বর্ণনা দিয়েছেন, যার গর্জন এবং উজ্জ্বল রেখা মরুভূমির আকাশ জুড়ে দৃশ্যমান ছিল। ইরনা।
দুতার্তে আন্তর্জাতিক আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত
ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার তথাকথিত অভিযান ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ কমপক্ষে ৭৬ জনকে হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) আইসিসির প্রকাশিত এক নথিতে দুতার্তের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট গত মার্চ মাস থেকে নেদারল্যান্ডসের একটি আটক কেন্দ্রে বন্দী রয়েছেন। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন দুতার্তে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। এ সময় সন্দেহভাজন হাজারো মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারী নিহত হয়েছিল। এর আগে জুলাই মাসের শুরুর দিকে আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর মামে মান্দিয়ে নিয়াং-এর স্বাক্ষরিত আইসিসির অভিযোগপত্রে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সংঘটিত কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর জন্য দুতের্তের ব্যক্তিগত অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগটি দুতার্তের দাভাও সিটির মেয়র থাকাকালীন সময়ের। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯টি খুনের ‘পরোক্ষ সহ-অপরাধী’ ছিলেন। বাকি দুটি অভিযোগ প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের। প্রথমটি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে গুরুত্বপূর্ণ ১৪ জনকে হত্যার সাথে সম্পর্কিত। দ্বিতীয়টি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নিম্নস্তরের অভিযুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘ক্লিয়ারেন্স’ অভিযানের সময় সংঘটিত ৪৩টি হত্যার সাথে সম্পর্কিত। আইসিসির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭৬টি হত্যাকাণ্ড পুলিশের পাশাপাশি হত্যাকারী গ্রুপ বা গোষ্ঠীর হাতে সংঘটিত হয়েছে। আল জাজিরা।
সিরিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন ৫ অক্টোবর
সিরিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন আগামী ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সানা গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর নতুন পার্লামেন্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরো বিস্তৃত করার ভিত্তি গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ নেই। নতুন পার্লামেন্টের দায়িত্ব হবে সিরিয়ায় কয়েক দশকের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক নীতিমালা সংস্কারের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা এবং সিরিয়ার পররাষ্ট্রনীতিকে ঢেলে সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তির অনুমোদন দেয়া। সানার তথ্যমতে, ২১০টি আসনে সব নির্বাচনী এলাকায় একযোগে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বাকি এক-তৃতীয়াংশ আসনে প্রেসিডেন্ট আল-শারা সরাসরি পার্লামেন্ট সদস্য নিয়োগ দেবেন। তবে গত মাসে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নিরাপত্তার কারণে তিনটি প্রদেশে ভোট পিছিয়ে দেয়া হবে। নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে বলেছিল, সেপ্টেম্বরে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সুয়েইদার পাশাপাশি কুর্দি সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হাসাকা ও রাক্কা প্রদেশে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হবে। জুলাই মাসে সুয়েইদায় দ্রুজ যোদ্ধা ও সুন্নি বেদুইন উপজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা হয়েছিল। এর আগে মার্চ মাসে আল-শারার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পরিচালনার জন্য একটি সাংবিধানিক ঘোষণা জারি করা হয়। এতে নারীর অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়ার পাশাপাশি ইসলামী আইনের কেন্দ্রীয় ভূমিকা সংরক্ষণ করা হয়। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে দেশটির ইসলামপন্থী নেতৃত্বের মধ্যে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে যেতে পারে। রয়টার্স।
স্বাধীনের ৭৮ বছর পর বিদ্যুৎ
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং দ্রুততম বর্ধনশীল দেশ দাবিদার ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের একটি গ্রাম সম্প্রতি এমন একটি গল্প নিয়ে এসেছে, যা আশ্চর্যজনকভাবে তাদের অগ্রগতির সমস্ত দাবির সাথে সাংঘর্ষিক। স্বাধীনতার ৭৮ বছরে প্রথমবারের মতো মহারাষ্ট্রের একটি ছোট গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। থানে জেলার পাহাড়ি শাহপুর তালুকের ভারাসওয়াদি গ্রামে অবশেষে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। এ গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য, সুইচ চালু করা কোনো বড় পরিবর্তনের চেয়ে কম ছিল না, কারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের আলো তাদের জীবনের বছরের পর বছর ধরে চলা অন্ধকার দূর করেছে। মহারাষ্ট্র রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা লিমিটেডের মতে, গ্রামের ১৫টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে এবং রাস্তার আলোতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা প্রকাশ করেছেন যে, গ্রামে বিদ্যুতের জন্য ৬৭টি খুঁটি স্থাপনের পাশাপাশি একটি নতুন ৬৩ কেভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপনের প্রয়োজন ছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রিডের সাথে স্থায়ী সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রকল্পটিতে ৫ মিলিয়ন টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। কর্মকর্তারা আরো জানান, প্রকল্পটি ২ বছর আগে অনুমোদিত হয়ে, কিন্তু গ্রামে রাস্তাঘাটের অভাবের কারণে, খুঁটি এবং ট্রান্সফরমার পরিবহন করা খুবই কঠিন ছিল এবং তাছাড়া বনাঞ্চলে থাকার কারণে, বিভিন্ন বিভাগের; বিশেষ করে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন ছিল। গ্রামবাসীরা যখন তাদের বাড়িতে প্রথম বিদ্যুৎ আলো দেখতে পেল, তখন তারা আতশবাজি এবং স্লোগান দিয়ে এ ঐতিহাসিক উপলক্ষটি উদযাপন করে। জে এন।
পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলায় নিহত ২৩
পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার সীমান্তের দুর্গম অঞ্চলে বিমান হামলায় অন্তত ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ এলাকায় উগ্রবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেশোয়ার থেকে এএফপি জানায়, এলাকার এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চারটি বাড়ি লক্ষ্য করে যুদ্ধ বিমান দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে বাড়িগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।’ তবে প্রাণঘাতী এ হামলা কারা চালিয়েছে তা তিনি উল্লেখ করেননি। পেশোয়ারভিত্তিক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাÑ যিনি হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন- জানান, ওই এলাকায় পাকিস্তানি তালেবানের বহু আস্তানা রয়েছে। এএফপি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান