সংবাদপত্রের পাতা থেকে


২৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:২১

ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর দেশের মানুষের আকাক্সক্ষা ছিলো আমূল পরিবর্তন হবে দেশের। কমবে অপরাধ, বন্ধ হবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন। একইসঙ্গে নাগরিকদের জীবন হবে নিরাপদ ও ভোগান্তিমুক্ত। শাসনব্যবস্থায় আসবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। সরকার গঠনের পর এসব প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ হচ্ছে, তা নিয়মিত উঠে আসছে খবরের পাতায়। চলতি সপ্তাহের বেশকিছু খবরের চুম্বক অংশ নিয়ে আজকের আয়োজন।
দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকাগুলোর মধ্যে দৈনিক মানবজমিন গত ২৯ জুলাই ‘খুলনায় টেন্ডার ছাড়া কেসিসির শতাধিক কাজ ভাগ বাটোয়ারা’ শিরোনামে শেষ পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। প্রতিবেদনে বলেছে, খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)-এর ‘জরুরি’ কাজের নামে টেন্ডার ছাড়া শতাধিক কাজ ভাগ বাঁটোয়ারা করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কেসিসি’র বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে নজিরবিহীন এসব অনিয়মে সরকারি অর্থ লুটপাটের তথ্য মিলেছে। মানবজমিনের হাতে আসা নথিপত্র এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত তিন মাসে কেসিসি’র শতাধিক জরুরি মেরামত ও উন্নয়ন কাজ কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি প্রশাসক নিজ ক্ষমতায় নেতাকর্মীদের মাঝে ভাগ বাঁটোয়ারা করে দিয়েছে। কেসিসি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতারা ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত হবে। এ নিয়ে গত ২৯ জুলাই প্রতিবেদন করেছে দৈনিক আমার দেশ। ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট চাপা আট মাস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান এবং ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ এবং একটি সমান্তরাল কমান্ড-কাঠামো তৈরির ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর তদন্ত কমিশনের ২১১ পৃষ্ঠার রিপোর্ট জমা দেওয়ার আট মাসেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে পিলখানার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও হয়নি। সরকারের এমন রহস্যজনক নীরবতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা।
চলমান আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচিত হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ। এ নিয়ে গত ২৯ জুলাই দৈনিক ইনকিলাব ‘ইরানকে টোল দিতে রাজি উপসাগরীয় দেশগুলো’ শিরোনামে সংবাদ ছেপেছে। এতে বলা হয়, ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ফলে স্থবির হয়ে পড়া বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে ওমান। ওমানের তৈরি করা একটি প্রস্তাবনায় সমর্থন জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান ‘স্বেচ্ছামূলক ফি’ সংগ্রহ করতে পারবে। বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দৈনিক প্রথম আলো ‘সন্ধ্যা নদীর তীরে একের পর এক স্থাপনা’ শিরোনামে প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, বরিশালের বানারীপাড়া শহরে সন্ধ্যা নদীর তীরে খাসজমির ১ একর ৮৮ শতাংশ ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি (রেকর্ড) হয়েছে। ওই জমি রাতারাতি বিক্রয় সূত্রে হাতবদল হয়েছে। এখন পাকা ভবনসহ অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ চলছে। দখল করা জমির মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দখলের শুরুতেই স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে রহস্যজনক কারণে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
দৈনিক যুগান্তর গত ২৯ জুলাই ‘টিসিবির পণ্য কিনতে গিয়ে ঝরল ৩ প্রাণ’ শিরোনামে প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুরে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বহু মানুষ। তপ্ত রোদে গাদাগাদি অবস্থায় হঠাৎই তাদের ওপর ধসে পড়ে পাশের দেওয়াল। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পুরো এলাকা। ইটের আঘাতে অচেতন হয়ে পড়েন নাসিমা বেগম, বিউটি ও ফিরোজসহ অনেকে। দ্রুত তাদের নেওয়া হয় হাসপাতালে। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়ার পর মারা যান নাসিমা ও বিউটি। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ফিরোজ নামে আরও একজন রিকশাচালক মারা গেছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চার থেকে পাঁচজন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন গত ২৯ জুলাই ‘আরাকান আর্মির ফাঁদে পাহাড়ি তরুণ’ শিরোনামে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন ছেপেছে। এতে বলা হয়, আরাকান আর্মির ফাঁদে পড়ছেন পাহাড়ি তরুণ-যুবকরা। নতুন স্বাধীন দেশে লোভনীয় চাকরির আশ্বাসে ছুটছেন তাঁরা। পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম পাহাড় থেকে শত শত তরুণ-যুবক হারিয়ে যাচ্ছেন নিঃশব্দে। তাদের গন্তব্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। সেখানে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’। এ গোষ্ঠী এখন চরম জনবল সংকটে পড়েছে। টার্গেট করা হচ্ছে বান্দরবান, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-যুবকদের। তাদের দলে টানতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এজেন্ট। গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডেকেট। স্থানীয় দালালদের দেওয়া এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা ও মাসিক বেতনের টোপ গিলছেন অনেকে। দুই বছরে অন্তত ৪০০ যুবক সীমান্ত পার হয়েছেন। যোগ দিয়েছেন ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীতে। সীমান্তের ওপারে গড়ে উঠেছে গোপন নিয়োগবাণিজ্য। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গত ২৮ জুলাই নয়া দিগন্ত ‘হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা’ শিরোনামের খবরে বলেছে, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত ঘটনাকে ‘জেনোসাইড’ (গণহত্যা) ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন ‘হেভিওয়েট’ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং কারাবন্দী ১০ আসামিকে আগামী ১৬ আগস্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২৮ জুলাই ইনকিলাব ‘ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট থেকে সরছে টাকা’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে লিখেছে, প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুর্নীতি মামলার আসামিরা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগে ‘রিল্যাক্স মুডে’ ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেক আসামি। আদালতে দুদকের নিজস্ব আইনজীবী নেই। এই মওকায় একতরফা শুনানির সুযোগ নিয়ে সরাসরি বিচারিক আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিচ্ছেন। কেউবা হাইকোর্ট থেকে নিয়েছেন আগাম জামিন। কমিশন না থাকায় এসব জামিন ঠেকানোর সিদ্ধান্তও নেয়া যাচ্ছে। নানা কৌশলে বাইরে থেকে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অবস্থান করে কেউ কেউ সরিয়ে নিচ্ছেন জব্দকৃত অ্যাকাউন্টের টাকা। মানিলন্ডারিং মামলার আসামি হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না তাদের লন্ডারিং।
বণিক বার্তা গত ২৮ জুলাই ‘নির্মাণ ব্যয়ে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষে, অবকাঠামোগত সুবিধায় পিছিয়ে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। এতে বলা হয়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে বাংলাদেশও। দেশের প্রথম ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণ করা হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে। অন্যদিকে বিদেশি ঋণে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ‘ঢাকা-আশুলিয়া’। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ উড়ালসড়কের নির্মাণ ব্যয় ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যয়ের দিক দিয়ে এটি বিশ্বে অন্যতম শীর্ষে। এ প্রকল্পের ডিপিপি পাস হয় ২০১৭ সালে। ঠিকাদারের সঙ্গে চায়না কমার্শিয়াল লোনের চুক্তি হয়েছে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে। এরপর শুরু হয় নির্মাণকাজ।
কিলোমিটারপ্রতি ৮৩৭ কোটি টাকা খরচে পোর্ট অ্যাকসেস এলিভেটেড হাইওয়ে নির্মাণ করছে শ্রীলংকা। কিলোমিটারপ্রতি ৩৯০ কোটি টাকায় শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ স্কাইওয়ে নির্মাণ করেছে ইন্দোনেশিয়া। রামা ৩ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করেছে থাইল্যান্ড কিলোমিটারপ্রতি ৬১২ কোটি টাকা ব্যয়ে। এ প্রকল্পগুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা চীন, মালয়েশিয়ায় নির্মিত এক্সপ্রেসওয়েগুলোর মতোই।
পত্রিকাটি একই দিন ‘৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার’ শিরোনামে একটি খবর ছেপেছে। এতে বলা হয়, ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তারা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত) সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়া তাদের প্রায় সবাই ২০১৮ সালে বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আগে তারা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন। গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পত্রিকাটি গত ২৭ জুলাই ‘আশ্রয় চাওয়া বাংলাদেশিদের আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিতে চায় ইউরোপীয় পাঁচ দেশ’ আরও একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। এতে বলা হয়, প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের পাঁচ দেশ।
জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এর আওতায় এ দেশগুলোর কোনোটিতে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ীভাবে তৃতীয় কোনো দেশে রাখা হবে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে কেনিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
সম্প্রতি দেশের জ্বালানি সংকট প্রকট হয়েছে। সরকারের অব্যবস্থাপনার অভিযোগও উঠছে। এ নিয়ে গত ২৮ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাক ‘জ্বালানি নিয়ে শিল্প খাতের সংকট আরো গভীর হচ্ছে’ শিরোনামে খবর ছেপেছে। এতে বলা হয়, দেশের স্থবির শিল্প খাত এখন গভীর জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। গ্যাসনির্ভর অসংখ্য কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, অনেক কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান দিনে কয়েক ঘণ্টার বেশি উৎপাদন চালাতে পারছে না। শিল্পমালিকরা আশঙ্কা করছেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে না পারার ঝুঁকিও আছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে শুধু উৎপাদনই নয়, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ; এমনকি সামগ্রিক অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। দেশে প্রতিদিন গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। অথচ বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২২০ কোটি থেকে ২৩০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি ঘনফুট।
ইত্তেফাক ‘রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে সক্রিয় অর্ধশতাধিক পেশাদার খুনি’ শিরোনামে আরও একটি প্রতিবেদন ছেপেছে গত ২৮ জুলাই। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ও আশপাশের অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পেশাদার খুনি ও চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপগুলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে বর্তমানে অর্ধশতাধিক পেশাদার ‘শুটার’ বা ‘কিলার’ সরাসরি মাঠপর্যায়ে হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির মিশন বাস্তবায়ন করছে। এতে বাড়ছে খুনাখুনি। এমনকি সন্ত্রাসীরা নিজেরাও খুনের শিকার হচ্ছে। কয়েকদিন আগে পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন।
গত ২৮ জুলাই রাজধানীয় মাদক সিন্ডিকেট নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন ‘তালিকায় ৩৬৩ মাদকসম্রাট’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, সরকারের ঘোষিত বিশেষ অভিযানের তিন মাসেও লাগাম টানা যায়নি মাদক কারবারের। উল্টো যত সময় যাচ্ছে, ততই বাড়ছে মাদকের স্রোত। আগের মতোই পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে দেদার বিক্রি হচ্ছে সর্বনাশা ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল থেকে শুরু করে সব ধরনের মাদক। ঢাকায় হোম সার্ভিসের পাশাপাশি সমাজমাধ্যম, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, কুরিয়ার সার্ভিস ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হালনাগাদ এক গোপন তালিকায় মহানগরীর ৫০ থানা এলাকার ৩৬৩ মাদকসম্রাটের নাম উঠে এসেছে। যাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরাও রয়েছে। পুলিশ বলছে, মাদকের এই কারবারিরা এখন রাজধানীতে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নেটওয়ার্কের জাল এখন সারা দেশে। মাদক কারবারিদের শক্তিশালী এই নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতেই মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। শিগগিরই সমন্বিত অভিযান শুরু হবে।
গত ২৮ জুলাই দৈনিক যুগান্তর ‘টাকায় মেলে বিচারকের স্বাক্ষর’ শিরোনামে প্রধান খবর ছেপেছে। এতে বলা হয়, ঢাকার আদালতপাড়ায় টাকা ফেললেই মেলে বিচারকের স্বাক্ষর। বিচারকের সিল, স্বাক্ষর আর আদালতের নথি এখন যেন হাতের খেলনা। টাকা দিলেই তৈরি হচ্ছে আদালতের আদলে নথি। গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট), সমন, নোটারি হলফনামা, কাবিননামা; এমনকি মামলার সার্টিফায়েড কপি বা নকলের কপিতেও বসানো হচ্ছে বিচারকের জাল স্বাক্ষর ও সিল। এসব নথি ব্যবহার করে চলছে প্রতারণা, হয়রানি এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার কারসাজি। ঢাকার অধস্তন আদালতকেন্দ্রিক এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে যুগান্তর। আদালতের নথি, এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আদালত প্রাঙ্গণের কিছু ফটোকপির দোকান, দালাল, অসাধু আইনজীবী এবং কিছু অসৎ কর্মচারীর যোগসাজশে তৈরি হয়েছে এই নেটওয়ার্ক।
সম্প্রতি ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করেছেন। তাকে নিয়ে দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিবেদন করেছে। গত ২৭ জুলাই দৈনিক যুগান্তর ‘অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সাহাবুদ্দিন’ প্রথম পৃষ্ঠায় প্রধান খবর ছেপেছে। বলা হয়েছে, অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ইসলামী ব্যাংক দখলে এস আলম গ্রুপকে সহায়তা করাসহ বিভিন্ন বিষয় এখন সামনে চলে আসছে। দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগও কম নয়। শুধু তাই নয়, গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে জুলাই গণহত্যায় তার সমর্থন থাকার বিষয়টিও। সম্প্রতি হাইকোর্টে দাখিল করা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারিতে মো. সাহাবুদ্দিন ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স জড়িত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে শুনানিও হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি থাকাবস্থায় দায়মুক্তি দেওয়ায় মো. সাহাবুদ্দিনকে এসব অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে কি না-সেই প্রশ্ন এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
গত ২৮ জুলাই প্রথম আলো ‘জুলাই ফাউন্ডেশনের টিকে থাকার লড়াই’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। পাননি ঈদ বোনাসও। রাজধানীর শাহবাগ কার্যালয়ের ১২ মাসের অফিস ভাড়ার ২৪ লাখ টাকা বকেয়া। আবর্তক বা পরিচালন ব্যয়ের তহবিলে অর্থ না থাকায় দৈনন্দিন কাজ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। যে ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের আর্থিক, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া, সেই প্রতিষ্ঠানই এখন টিকে থাকার সংকটে। গত ঈদুল আজহার আগে কর্মীরা যাতে একেবারে খালি হাতে বাড়ি না ফেরেন, সেজন্য ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফাউন্ডেশনকে ১০ লাখ টাকা বিনা সুদে ঋণ দিয়েছেন।
প্রথম আলো গত ২৭ জুলাই ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় লোক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, সরকার ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের। এর আগে কখনোই সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে একসঙ্গে এত রাজনীতিবিদকে নিয়োগ দিতে দেখা যায়নি।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ দিতে আইনি কোনো বাধা নেই। তবে এতদিন ধরে এসব পদে আমলা নিয়োগ প্রচলিত একটা ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনীতিবিদদের বসানো হয়েছিল। পরে বিভিন্ন সরকারের সময় এমন নিয়োগ হলেও তা ছিল সীমিত পরিসরে।
গত ২৮ জুলাই আমার দেশ ‘বিদেশে বসে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে হাসিনার ঘনিষ্ঠজনরা’ শিরোনামে প্রতিবেদন করেছে। এতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ঘনিষ্ঠজনদের দেশে থাকা তৎপরতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা, বড় অবকাঠামো প্রকল্প এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কেও পরিবর্তন আসবেÑ এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও অতীতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও ঠিকাদারি নেটওয়ার্ক এখনো বিভিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, দরদাতা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক ব্যক্তির দাবি, প্রকাশ্যে না থাকলেও দেশের বাইরে অবস্থান করে কিছু ব্যক্তি তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি বা অংশীদারদের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো চালু আছে। পরিবর্তন হয়েছে শুধু পরিচালনাকারী।
গত ২৭ জুলাই আমার দেশ ‘অভিবাসন ব্যয় লাগামহীন উদ্যোগ নেই নিয়ন্ত্রণের’ শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট, ভিসা-বাণিজ্য আর অসাধু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সিন্ডিকেটের কারণে অভিবাসন ব্যয় বেড়েই চলছে। কাগজে-কলমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ কম হলেও বাস্তবে কয়েকগুণ বেশি। এই ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
কোনো কর্মী বিদেশে যেতে চাইলে কোন দেশের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে কত টাকা দিতে হবে, তা ১০ বছর আগে নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু সেই অনুযায়ী কোনো কর্মীই বিদেশে যেতে পারছেন না। মন্ত্রণালয়ের তদারকির অভাব এবং বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় নির্ধারিত মূল্য থেকে ৫-৬ গুণ টাকা নেওয়া হচ্ছে ভিসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে। এতে নিরাপদ অভিবাসন ব্যয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গ্রন্থনা- আবু জায়েদ আনসারী