সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৩

ইসরাইলকে আরব আমিরাতের সতর্কবার্তা
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে আবুধাবি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের এসব হামলা মুসলমানদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের শামিল। এ ধরনের সহিংসতা এখনই বন্ধ করা উচিত। বিবৃতিতে তুলকারেমে একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমিরাতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলার পূর্ণ দায় ইসরাইলি সরকারের। একইসঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমিরাত সতর্ক করে বলেছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সেটিকে তাদের প্রতি নীরব সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমন পরিস্থিতি ঘৃণা, বর্ণবাদ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি। এদিকে আরব আমিরাতের এই অভিযোগ ও সতর্কবার্তার বিষয়ে এখনো ইসরাইলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গালফ নিউজ।

তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট কায়েস সায়েদের পাঁচ বছর পূর্বে জরুরি শাসন জারি করে। এখনো জরুরি অবস্থার অবসান না হওয়ায় হাজার হাজার তিউনিসীয় নাগরিক পদযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট সায়েদের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি তারা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০১১ সালে তিউনিসিয়ায় শুরু হয় আরব বসন্ত। এরপর কয়েকবার ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সর্বশেষ মসনদে বসেন কায়েস সায়েদ। তিনি জরুরি অবস্থা জারি করে দেশ পরিচালনা করছিলেন। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের হাবিব বোর্গুইবা এভিনিউতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। ২০২১ সালের ২৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট সায়েদ পার্লামেন্ট স্থগিত করে অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার জন্য যে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই নাগরিকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। আন্দোলনকারীরা রিপাবলিক স্কয়ার থেকে শুরু করে মিউনিসিপ্যাল থিয়েটারের দিকে পদযাত্রা করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘সায়েদ দূর হটো’, ‘স্বাধীনতা, কাজ ও জাতীয় মর্যাদা’ এবং ২০১১ সালের গণবিপ্লবের বিখ্যাত সেøাগান ‘জনগণ সরকারের পতন চায়’ নতুন করে উচ্চারণ করেন। আন্দোলনকারীরা রাজনৈতিক বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান। বিরোধী জোমহৌরি পার্টির মুখপাত্র উইসাম সঘায়ার জানান, রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তি হিসেবে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা তুলে ধরতেই তারা রাজপথে নেমেছেন। আন-নাহদা পার্টির মুখপাত্র ইমেদ আল-খামিরি জানান, সাধারণ নাগরিকরা সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও সরকারি পরিষেবার অবনতিতে চরম ক্ষুব্ধ হওয়ায় আন্দোলন এখন শুধু বিরোধীদলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০১১ সালে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক জয়নাল আবিদিন বিন আলির পতনের মধ্য দিয়ে তিউনিসিয়ায় যে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, সায়েদের একচ্ছত্র শাসনের ফলে তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। অধ্যাদেশের মাধ্যমে শাসন শুরুর পর থেকে সায়েদ বহু বিচারককে বরখাস্ত করেন। তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপান এবং বিরোধীদলের শীর্ষনেতাদের গ্রেফতার করেন। যার মধ্যে অন্যতম ৮৫ বছর বয়সী সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার রাশেদ ঘানুচি, যাকে সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট কায়েস সায়েদ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। আল-জাজিরা।

বিখ্যাত আদিনা মসজিদকে মন্দির দাবি করে হতে যাচ্ছে শিবপূজা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার পাণ্ডুয়ার বিখ্যাত আদিনা মসজিদকে আদিনাথ মন্দির দাবি করাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি বিধানসভার বাদল অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে মন্দির দাবি করে বিতর্কিত বিষয়টিতে ঘৃতাহুতি করেন। এই পরিস্থিতিতে আদিনাতে আয়োজন করা হয়েছে শিবপূজার। ৬৫০ বছরের পুরোনো এই আদিনা মসজিদের ৫০ মিটারের মধ্যে স্থাপিত হতে চলেছে শিবলিঙ্গ। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদ তৈরি করেন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর এই স্থাপত্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয় বির্তক। দাবি করা হয়, স্থাপত্যের বিভিন্ন কারুকার্যে রয়েছে শিব বা আদিনাথের অস্তিত্ব, হিন্দু দেব-দেবীর কারুকার্য। হিন্দুদের দাবি, এটি আগে শিবমন্দির ছিল। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও চলছে। এমন অবস্থায় সোমবার এই স্থাপত্যের ৫০ মিটারের মধ্যে আদিনাথের রুদ্রাভিষেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আয়োজনের উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামী জানান, এই স্থাপত্যে আদিনাথ বা শিবমূর্তির অস্তিত্ব রয়েছে। স্থাপত্যের বিভিন্ন কারুকার্যে প্রমাণ রয়েছে হিন্দু দেব-দেবী। অর্থাৎ এই স্থাপত্যটি শিব মন্দির। আদিনাথ শিব মন্দির ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে কাজল গোস্বামী বলেন, ‘এই আন্দোলন আমাদের দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আমরা আইন মেনে আদালতের মাধ্যমে এখানে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করব আগামী দিনে। এটি কোনোদিন মসজিদ ছিল না। এটিকে ভেঙে মন্দির থেকে মসজিদে পরিণত করা হয়েছিল এটা সবাই জানে। মুসলিম আমল তারপর ব্রিটিশ আমল এরপর কংগ্রেস তারপর এই রাজ্যে বাম আমল ও গত ১৫ বছর তৃণমূলের আমলে এ নিয়ে অনেকেই আন্দোলন করেছে। অনেকে আওয়াজ তুলেছে। কিন্তু সংখ্যালঘু তোষণ রাজনীতির কারণে তাদের হেনস্তা করেছে আগের সরকারগুলো। বর্তমানে এই রাজ্যে ও দেশে জাতীয়তাবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। আপাতত প্রতি বছরের মতন এখানে মেলা হবে। শিবলিঙ্গটি আদিনা সৌধের নিকটবর্তী স্থানে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আদালতের মাধ্যমে এই শিবলিঙ্গকে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা হবে। বর্তমানে আদিনা সৌধ আর্কিওলজি সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অধীনে রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং ও প্রধানমন্ত্রীর সাথেও এই নিয়ে দেখা করব। রাম জন্মভূমি হয়েছে, আগামী দিনে আদিনাথ শিব মন্দিরও পুনরায় প্রতিষ্ঠা হবে। ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না।’ এনডিটিভি।

ভারত সীমান্তে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান মোতায়েন চীনের
ভারতের উত্তর সীমান্তে পঞ্চম প্রজন্মের ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। একইসঙ্গে ভারতের সংলগ্ন সীমান্তে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও সামরিক মহড়া বহুগুণ বাড়িয়েছে বেইজিং। উপগ্রহ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের সীমান্তবর্তী দুটি চীনা বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মহাকাশভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, গত ৯ জুলাই শিনজিয়াংয়ের হোটান বিমানঘাঁটির রানওয়েতে সাতটি জে-২০ বিমান সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল। বেসামরিক ও সামরিক দ্বিমুখী ব্যবহারের উপযোগী এই ঘাঁটি লাদাখের উত্তরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সীমান্তসংলগ্ন চীনা ঘাঁটিতে একযোগে এত বিপুলসংখ্যক স্টিলথ বিমানের উপস্থিতি এটিই প্রথম। একই প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত দ্বিতীয় একটি ছবিতে তিব্বতের দামশুং বিমানঘাঁটির রানওয়েতে আরো চারটি জে-২০ স্টিলথ বিমান দেখা গেছে। অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে এই ঘাঁটির দূরত্ব মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার। প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা নিউ স্পেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও যুদ্ধবিমানের সাবেক পাইলট সমীর জোশী বলেন, ‘ভারতের মুখোমুখি এসব সীমান্তঘাঁটিতে ১১টি জে-২০ বিমানের উপস্থিতি প্রমাণ করে, পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ বিমান পরিচালনা চীনের জন্য এখন স্বাভাবিক রুটিনে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য একটি স্থায়ী হুমকি।’ বর্তমানে ভারতের নিজস্ব কোনো স্টিলথ ফাইটার নেই। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম স্টিলথ বিমান ‘এএমসিএ’ তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চললেও সেনাবাহিনীতে চূড়ান্তভাবে এটি অন্তর্ভুক্ত হতে অন্তত ২০৩৫ সাল লেগে যেতে পারে। সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়ার জোন’ জানায়, ২০১৯ সালে চীনের কাছে প্রায় ৫০টি জে-২০ বিমান ছিল, যা ২০২২ সালের শেষে ২০০ ছাড়ায়। বর্তমানে চীন বছরে প্রায় ১২০টি জে-২০ তৈরি করতে সক্ষম। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, চীনের বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০টি জে-২০ যুক্ত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছাবে। এনডিটিভি।

ভারতে শিশুদের চেয়ে গরু বেশি নিরাপদ : পিডিপি প্রধান
ভারতে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ও নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লিজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনে এবার যোগ দিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতি। দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোজ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এই আন্দোলনকে দেশটির সংবিধান, গণতন্ত্র এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দেন। প্রখর তাপদাহ ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেহবুবা মুফতি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১২ বছর ধরে দেশে কেবল ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি, দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, আজ আমাদের দেশে শিশুদের চেয়ে গরুরাও বেশি নিরাপদ। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের এই প্রতিবাদ দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কেন্দ্রীয় সরকার ও বিচারব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে পিডিপি প্রধান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা দিল্লির রাজপথে আন্দোলন করলেও তাদের ক্ষোভ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ পরিবারগুলো জমানো অর্থ খরচ করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে অথচ সরকারের উদাসীনতা তাদের চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মেহবুবা মুফতি সতর্ক করে বলেন, তরুণদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দাবি যদি আমলে না নেওয়া হয়, তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে দেশের তরুণসমাজের শক্তির ওপর আস্থা রেখে তিনি জানান, কোনো সরকারের অহংকারই চিরস্থায়ী হতে পারে না এবং এই দেশের তরুণরাই শেষ পর্যন্ত ভারতের সংবিধানকে রক্ষা করবে। ইন্ডিয়া টুডে।

মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বেড়েছে
মিয়ানমারে নতুন সামরিক নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে বেসামরিক মানুষের ওপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও বিমান হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (এসিএলইডি)। গত সোমবার (২৭ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, মার্চে সামরিক বাহিনীর কমান্ড কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পর থেকে জান্তার দমন-পীড়ন আরো তীব্র হয়েছে। নতুন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে বিশেষায়িত যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে একই লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলার কৌশল নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক মিলিয়ন মানুষ। গত মার্চে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা য়ে উইন উ-কে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন মিন অং হ্লাইং। এর কয়েকদিন পরই বিরোধীদলগুলোকে নিষিদ্ধ করে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। নতুন সেনাপ্রধানের অধীনে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে বিরল খনিজসম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথসংলগ্ন এলাকায়, সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এসিএলইডির মতে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অন্তত এক ডজন গণহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৫০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যার প্রায় ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের শুষ্ক অঞ্চল ‘আনইয়ার’-এ। প্রতিবেদনে মে মাসের একটি অভিযানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় শত শত জান্তা সেনা প্রাচীন বাগান নগরীর বিপরীতে অবস্থিত মিয়িত চে টাউনশিপে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪০ জনকে হত্যা করে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানান। ৩৫ বছর বয়সী এক বাসিন্দা, ইয়ে নাউং, দাবি করেন, প্রায় ৭০০ সেনা শহরে ঢুকে বাসিন্দাদের মালামাল লুট করে, মারধর করে এবং পরে হত্যা করে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি। এসিএলইডির ডেটাবেসে ঘটনাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসিএলইডি বলেছে, ২০২৬ সালে সামরিক বাহিনীর কৌশলে পরিবর্তন এলেও বেসামরিক মানুষের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা একটুও কমেনি; বরং এর ধরন আরও সংগঠিত ও তীব্র হয়েছে। এদিকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক রদবদলের পর আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মিন অং হ্লাইং ইতোমধ্যে প্রতিবেশী ভারত ও চীন সফর করেছেন। তবে এসিএলইডির আশঙ্কা, সামরিক জান্তা ক্ষমতা আরও সুসংহত করার দিকে মনোযোগ দেওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা খুবই কম। রয়টার্স।

নিজেদের অধিকার রক্ষায় ভারতীয় শীর্ষ মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও আলেমদের বৈঠক
ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা এবং আইনি সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে দেশটির শীর্ষস্থানীয় আলেম, মুসলিম নেতা, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবীদের অংশগ্রহণে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ভারতীয় মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় পরামর্শ’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে ইন্ডিয়ান মুসলিমস ফর সিভিল রাইটস (আইএমসিআর)। বৈঠকে ৫১ সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংগঠনটির নেতা আজম বেগ জানান, নবগঠিত কমিটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, গণপিটুনি, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি মামলা, মসজিদ ও মাদরাসা ভাঙার অভিযোগ এবং মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মুসলিম প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে। একইসাথে সংবিধান রক্ষা এবং আইনি উপায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, বৈঠকে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেয়া, গণতান্ত্রিক পন্থায় অধিকার আদায় এবং দেশের সব সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আজম বেগ জানান, বৈঠকে ১১০টি সংগঠন অংশ নেয়। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ছাড়া প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম নেতা ও সংগঠনের প্রতিনিধি এতে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি একটি ১১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার (এসডিপিআই) জাতীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফি বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, গণপিটুনি, মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের উদ্যোগ, মাদরাসা নিয়ন্ত্রণ এবং মুসলিমদের সাংবিধানিক অধিকার, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় সংসদ সদস্য ইকরা হাসান, মহিবুল্লাহ নদভি, ইমরান মাসুদ, জিয়াউর রহমান বারক, জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ড. ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সালমান খুরশিদ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খান আজমী, সুফি নেতা সৈয়দ সরওয়ার চিশতী এবং মহারাষ্ট্রের বিধায়ক আবু আসিম আজমীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সিয়াসত ডেইলি।

যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়া
ইউরোপের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়া। দেশটির ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরে প্রথমবারের মতো বিরল ও প্রাণঘাতী এ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ভিব্রিও ভালনিফিকাস’ নামের এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত মানবদেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং স্বল্প সময়েই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরে রাজ্যটিতে এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের একাধিক ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যু হয়। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় বা সংক্রমণের বিস্তারিত স্থান সম্পর্কে কিছু প্রকাশ করা হয়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ভিব্রিও ভালনিফিকাস মূলত উষ্ণ সমুদ্রের পানিতে বেঁচে থাকে। মানবদেহের কোনো কাটা বা ক্ষতস্থান দিয়ে এই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে মারাত্মক ক্ষত ও রক্তে বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, লিভারের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা বা অন্যান্য ক্রনিক রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ প্রাণঘাতী রূপ নেয়। চলতি ভাষায় একে ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ বলা হলেও এটি মূলত ত্বক, নরম টিস্যু ও আশপাশের কোষকলাকে দ্রুত বিনাশ বা পচিয়ে ফেলে। দ্রুততম সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা না গেলে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, খোলা ক্ষত নিয়ে সমুদ্রের পানিতে নামলে অথবা কাঁচা ও অপর্যাপ্ত রান্না করা সামুদ্রিক খাবার (বিশেষ করে ঝিনুক) খেলে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সমুদ্রে নামার আগে শরীরের ক্ষত স্থান পুরোপুরি ঢেকে রাখা জরুরি। এছাড়া সামুদ্রিক খাবার ভালোভাবে সেদ্ধ করে খাওয়া এবং সমুদ্রের সংস্পর্শে আসার পর ক্ষতস্থানে লালচে ভাব, তীব্র যন্ত্রণা, ফোলা বা জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। উষ্ণ আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা। রয়টার্স।

জেলেনস্কিকে ‘পরজীবী’ আখ্যা ইরানের
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি একটি জাহাজে প্রাণঘাতী হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ২৬ জুলাই রোববার তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের ইঙ্গিতেই এই হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের কাস্পিয়ান সাগরে ‘ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজে’ হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শনিবার (২৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই ‘শত্রুতাপূর্ণ এবং অপরাধমূলক’ হামলায় জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইসলামী প্রজাতন্ত্র রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই হামলার প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও তলব করেছে মন্ত্রণালয়। এরপর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি এক পোস্টে জেলেনস্কিকে ‘পরজীবী’ বলেও আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘পরজীবী জেলেনস্কি একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে একজন নাবিককে হত্যা করেছেন। ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনতে ইসরাইলের ইঙ্গিতে জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এটি।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিমন্ত্রী কাইয়া কালাস এবং রাশিয়ার প্রতিমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘কিয়েভের পরনির্ভরশীল সরকার যা করেছে, তার জবাব দিতেই হবে।’ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে লাভরভ ইরানকে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ফোনালাপে আরাগচি রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ওই অঞ্চল থেকেই জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জাহাজের ক্রুদের সহায়তা করেছিল। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, আরাগচি ‘কিয়েভ শাসকগোষ্ঠীর এমন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।’ এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথাও লাভরভকে জানান তিনি। তাস।

‘ককরোচদের’ বিজয়, মোদির জন্য আসন্ন বিপদের ইঙ্গিত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ১২ বছরের শাসনকালে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এমন এক সরকারের জন্য বড় ধাক্কা, যারা দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধিতাহীন শাসনের ভাবমূর্তি ধরে রেখেছিল। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন জেনজিদের আন্দোলন ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। এরপর আত্মহত্যা করে একাধিক শিক্ষার্থী। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। যদিও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রথম দিকে আন্দোলনকারীদের দাবির সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। গত ২৪ জুলাই শুক্রবার রাতে এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি তরুণদের উদ্দেশে কথা বলেন এবং তাদের ‘গঠনমূলক পরামর্শের’ জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে আন্দোলনকারীরা একে ব্যঙ্গ করে আরো প্রতিবাদী প্রচারণা চালায়। পরদিন শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয়ও আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিকমাধ্যমে তরুণদের ব্যাপক সক্রিয়তা সরকারের প্রচলিত প্রচারণাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে জনমত নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা দেখিয়েছে। কিন্তু এবার লাখ লাখ তরুণের তৈরি মিম, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা সরকারের সেই প্রভাবকে দুর্বল করে দেয়। মোদির তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তাও অনলাইনে ব্যাপক ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপের মুখে পড়ে। আন্দোলনের সময় মূলধারার কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, শুরুতে এসব চ্যানেল বিক্ষোভের খবর এড়িয়ে যায় এবং পরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তি বা পাকিস্তানি গোষ্ঠীর মদতের অভিযোগ তোলে। এর জবাবে আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব দাবির বিরোধিতা করে এবং সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অশুতোষ বর্ষ্ণির মতে, সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আর কোনো বিকল্প ছিল না বলেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মোদি সরকার রাজনৈতিক বয়ান বা জনমতের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধান ছিলেন মোদির ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মন্ত্রীদের একজন। তার পদত্যাগ বিজেপির অভ্যন্তরেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এতে অন্য মন্ত্রীরাও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে বিজেপি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে সাফল্য পেয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার ধাক্কাও জোট সরকার গঠনের মাধ্যমে সামলে নিয়েছিল দলটি। তবে নতুন এই তরুণ আন্দোলন বিরোধী রাজনীতিকেও নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে। কংগ্রেসসহ বিরোধীদলগুলো আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে সক্রিয় হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেন এবং পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল হয়ে পড়া বিরোধী রাজনীতিতে এই আন্দোলন নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। ভারতের তরুণদের ক্ষোভের মূল কারণ শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়; এর সঙ্গে রয়েছে বেকারত্ব, কম কর্মসংস্থান, স্থবির মজুরি এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা। আগামী দিনে এই আন্দোলন কীভাবে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আন্দোলনের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, এটি তাদের শেষ নয়, বরং শুরু। তাদের লক্ষ্য তরুণদের রাজনীতিতে আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। দ্য গার্ডিয়ান।

ভোটার আইডি-প্যান কার্ড থাকা শাহিদাকেও ‘বাংলাদেশি’ বানাতে মরিয়া শুভেন্দুর পুলিশ
ভারতীয় নাগরিক হিসেবে একাধিক সরকারি নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কর্তৃক এক মুসলিম নারীকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার, নির্বিচারে আটক এবং ভুলভাবে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (মাসুম)-এর সম্পাদক এবং ‘প্রোগ্রাম এগেইনস্ট কাস্টোডিয়াল টর্চার অ্যান্ড ইমপিউনিটি’ (পাক্তি)-এর জাতীয় আহ্বায়ক কিরীটি রায় দেশটির প্রধান বিচারপতির কাছে এক অভিযোগপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জানান এবং জরুরি বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানান। সংস্থাটির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং সিআইডি এ ঘটনায় সাংবিধানিক সুরক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। অভিযোগটি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপদহ গ্রামের বাসিন্দা জুম্মান ফকিরের স্ত্রী শাহিদা ফকিরকে কেন্দ্র করে। ‘মাসুম’-এর মতে, কাজের খোঁজে প্রায় ২০ বছর আগে শাহিদা ও তাঁর স্বামী মুম্বাই পাড়ি জমান। শাহিদা সেখানে গৃহকর্মী এবং তার স্বামী গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করেন। ‘মাসুম’ জানিয়েছে, শাহিদার বাবা-মা পশ্চিমবঙ্গের নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন এবং ২০০২ সালের স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। এছাড়া, শাহিদার জন্ম ১৯৯৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় এবং ২০১৯ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর তথ্যও রাজ্য সরকার রেকর্ড করে। সংস্থাটি আদালতকে জানায়, শাহিদার কাছে ভোটার আইডি কার্ড, প্যান কার্ড, জন্মসনদ এবং নিজস্ব নামে জমির রেকর্ডসহ বেশ কয়েকটি অফিসিয়াল নথি রয়েছে, যা তার পরিচয় ও ভারতীয় নাগরিকত্বকে নিশ্চিত করে। অভিযোগে বলা হয়, এই নথিগুলো সম্মিলিতভাবে প্রমাণ করে যে শাহিদা একজন ভারতীয় নাগরিক এবং তিনি সমস্ত সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। ‘মাসুম’-এর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই শাহিদা যখন স্থানীয় বাজারে যাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ তাঁকে পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক একটি কেন্দ্রে নিয়ে যায়, যেখানে সন্দেহভাজন অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের রাখা হয়।
সংস্থাটি দাবি করেছে, কোনো বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত বা আইনগত নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পুলিশ ও সিআইডি কর্তারা তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে আখ্যা দেন। তারা আরও জানায়, শাহিদাকে প্রায় ৯০ ঘণ্টা ধরে হেফাজতে রাখা হলেও কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি। এমনকি তাঁকে আটকের কারণ জানানো হয়নি এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ‘মাসুম’-এর মতে, এই আটক ভারতের সংবিধানের ২১ ও ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের চরম লঙ্ঘন, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে গ্রেফতারকৃত যেকোনো ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। সংস্থাটি আরও অভিযোগ করে যে, এটি ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩’ এবং সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ কিছু রায় যেমন ডি. কে. বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, যোগিন্দর কুমার বনাম উত্তর প্রদেশ রাজ্য এবং অর্ণেষ কুমার বনাম বিহার রাজ্য মামলার নির্দেশিকাও লঙ্ঘন করেছে। অভিযোগপত্রে ‘মাসুম’ যুক্তি দেয় যে, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিরূপণ করার আইনি ক্ষমতা পুলিশ প্রশাসনের নেই। অভিযোগে বলা হয়, ‘কেবল সন্দেহ বা প্রোফাইলিংয়ের ওপর ভিত্তি করে কাউকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা নির্বাহী বিভাগের (পুলিশের) এখতিয়ারভুক্ত নয়।’ সংস্থাটি যোগ করে যে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন কেবল ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৪৬ সালের বিদেশি আইন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের অধীনেই নির্ধারিত হতে পারে। সংস্থাটি এ ঘটনাকে ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সাংবিধানিক গ্যারান্টির গুরুতর লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ‘মাসুম’ কলকাতা হাইকোর্টের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন শাহিদাকে অবিলম্বে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আটকের সপক্ষে বৈধ আইনি আদেশ না থাকলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়া এই বেআইনি গ্রেফতারের বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত, আটকের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও সরকারি রেকর্ড সংরক্ষণ, জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের জন্য শাহিদাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ভারতীয় নাগরিকদের যেন বিদেশি বানিয়ে আটকে না রাখা হয়, তা নিশ্চিত করার আইনি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। সিয়াসত ডেইলি।

ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পথে সিরিয়া
ইসরাইলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সিরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, এই সমঝোতা হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও সামগ্রিক শান্তির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। আল জাজিরার ‘আল মুকাবলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন আহমেদ আল-শারা। তিনি জানান, ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সমঝোতার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনে একটি সামগ্রিক সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। তবে কোনো চুক্তিই ইসরাইল-অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। শারা বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে নতুন করে কোনো সংঘাতে জড়ানো এড়িয়ে চলছে সিরিয়া। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে একটি নিরাপত্তা সমঝোতা হলে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আহমেদ আল-শারা ক্ষমতায় আসার পর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলি অনুপ্রবেশ ও বিমান হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নিরাপত্তা চুক্তির উদ্যোগটি সামনে এলো। এদিকে লেবাননে ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত হিজবুল্লাহকে মোকাবিলায় সিরিয়াকে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শারা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশ লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। বরং সংকট কাটিয়ে উঠতে লেবাননের কর্তৃপক্ষকে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনা করছে তাঁর সরকার। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, লেবাননে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সিরিয়ার ওপর সরাসরি ও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আঞ্চলিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আল-জাজিরা।

উত্তর ইরাকের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ড্রোন হামলা
উত্তর ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ‘খোর মোর’ গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলেও বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির দাবি অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই সোমবার দিবাগত শেষ রাতে সুলাইমানিয়ায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলাটি চালানো হয়। অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হয় এই খোর মোর ক্ষেত্র থেকেই। ইরাকি সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিস্ফোরণের মুহূর্তের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, এরবিলের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত খালিফান ও সোরান এলাকার বিভিন্ন স্থান লক্ষ করে অন্তত চারটি ইরানি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পুলিশের ধারণা, এই ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোনকে উড্ডয়ন করতে দেখা গেছে। পুলিশ আরো জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু করা এলাকা ও তার আশপাশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বিধ্বস্ত হয়। উল্লেখ্য, টানা ১৩ রাত পাল্টাপাল্টি হামলার পর গত ২৪ জুলাই শুক্রবার থেকে ইরানে সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন হামলা বন্ধ করায় তেহরানও তাদের আক্রমণ থামিয়ে দেয়। মার্কিন হামলা স্থগিতের পেছনে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বেশ কিছু আমেরিকান সংবাদমাধ্যম। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার মিশিগান যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ভালো আলোচনা চলছে। সামনে ভালো কিছু ঘটার সম্ভাবনা। আল-জাজিরা।

নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র হামলায় ৩০ জন নিহত
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাডুনা রাজ্যের একটি গ্রামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরের দিকে গ্রামে ঢুকে বন্দুকধারীরা অতর্কিত গুলি চালালে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে। ডোগন রানা নামের এক গ্রামপ্রধানের সচিব জানান, বন্দুকধারীরা হঠাৎ করেই এলাকায় প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে এবং ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত আটটি শিশু রয়েছে। এছাড়া আরো চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইশায়া দাওয়া নামের স্থানীয় এক যুবনেতা জানান, হামলাকারীরা মধ্যরাতের দিকে কাউরু এলাকার নারিডন গ্রামে হামলা চালায়। তারা বাসিন্দাদের লক্ষ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। কোনো কোনো বাসিন্দাকে নির্মমভাবে জবাই করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা রয়েছেন। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ইতোমধ্যে কয়েকজনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই স্থানীয় বাসিন্দা আরো জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সকালের দিকে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। কাডুনা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র মনসুর হাসান বলেছেন, এই হামলার বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম এবং আইএসডব্লিউএপির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও এখন পর্যন্ত কাডুনা রাজ্যের এই হামলার দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। সম্প্রতি সশস্ত্র গ্যাং ও অপরাধী চক্রগুলোর এমন সহিংসতা নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলে মারাত্মক নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। সেখানে প্রায়ই বিভিন্ন জনপদে সাধারণ মানুষের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটছে। রয়টার্স।

সৌদির তেল ট্যাঙ্কারে হুথিদের হামলা
ইয়েমেনের হুথিদের সংগঠন আনসারুল্লাহর সূত্র দাবি করেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তিনটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কার লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। গত ২৭ জুলাই সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া সামুদ্রিক অবরোধের কারণে সৌদি-সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৬টি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম না করেই ফিরে গেছে এবং এরপর থেকে কোনো সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারই ওই কৌশলগত জলপথ পার হতে পারেনি। সূত্রটির ভাষ্য, সৌদি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে এবং কোনো জাহাজকে পার হতে দেওয়া হবে না। এদিকে আনসারুল্লাহর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, আল-জাওফ প্রদেশের আকাশে অভিযানে থাকা সৌদির একটি তুরস্কে তৈরি বায়রাকতার আকিঞ্জি সশস্ত্র নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। প্যালেস্টাইন ক্রনিকলস।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান