সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে নূরুল ইসলাম

ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফলের শতভাগ প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে

প্রিন্ট ভার্সন
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫২

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হারুন ইবনে শাহাদাত ছবি: তুলেছেন যোবায়ের রহমান

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফলের শতভাগ প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের মধ্যে সে পরিবর্তন আমরা লক্ষ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। আপনারা জানেন, আজ থেকে ৩০-৩৫ বছরের রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যে আদর্শের ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে, সেই আদর্শের রাজনৈতিক দলই জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে।
৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন হারুন ইবনে শাহাদাত।
সোনার বাংলা : ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আপনাকে সাপ্তাহিক সোনার বাংলার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।
নূরুল ইসলাম : শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ। সাপ্তাহিক সোনার বাংলাকেও আন্তরিক অভিনন্দন।
সোনার বাংলা : ইসলামী ছাত্রশিবিরের এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নতুন সেশনের সভাপতি হিসেবে আপনার মূল্যায়ন কী?
নূরুল ইসলাম : আমার মনে হচ্ছে, এটি একটি বড় ধরনের শিফটিং আমাদের জন্য। অর্থাৎ একটি বড় পরিবর্তন। ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই বিপ্লব হয়েছে অনেক তাজা প্রাণের বিনিময়ে। এ বিপ্লবের দাবি রাষ্ট্র সংস্কার, সমাজ সংস্কার। এ সংস্কারগুলো খুবই প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকার এ সংস্কারের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেছে। এরপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন।

******
ইনসেট
একনজরে নূরুল ইসলাম
নুরুল ইসলাম  বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সেশনের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা
বাবার নাম : মো. সুলতান আহমদ, মায়ের নাম : মঞ্জু আরা বেগম। জন্ম : ১৯৯৩ সালের নভেম্বর মাসের। তার স্থায়ী ঠিকানা খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলায়। চার ভাই-বোন। তিন ভাই, এক বোন। বোন সবার বড়। ভাইদের মধ্যে তিনি বড়।
শিক্ষা
১. বর্তমানে প্রফেসনাল মাস্টার্স ইন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (পিএইচআরএম) এ বিষয়ে অধ্যয়নরত।
২. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
৩. নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (মেজর ইন ফিন্যান্স)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এন্টারপ্রেনিউরিয়াল ইকোনমিকে পোস্ট-মাস্টার্স।
৪. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক : তিনি খুলনার দারুল কুরআন সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম সম্পন্ন করেন।
সাংগঠনিক ক্যারিয়ার : ২০২৬ কেন্দ্রীয় সভাপতি। ২০২৫ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল। ২০২৪ কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক। ২০২৩ কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক। ২০২২ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্পাদক। ২০২০-২১ কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও এইচআরএম সম্পাদক। ২০১৯-২০ খুলনা মহানগরী সভাপতি।
**********
এ নির্বাচনটি হবে একটি বড় মাইলফলক। মানুষ যেভাবে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। এই জাগরণের পক্ষে দেশের জনগণ একটি বড় ধরনের রায়ের জন্য অপেক্ষা করছে। আমি মনে করি, দেশ ও জাতির এমন একটা পরিবর্তনের মুহূর্তে ইসলামী ছাত্রশিবিরের মতো একটি সংগঠনের এত বড় দায়িত্ব সত্যিকার অর্থেই চ্যালেঞ্জিং। একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য, নতুন বন্দোবস্তের সূচনা করার জন্য আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন, যে পরিবর্তনের জন্য শহীদ ওসমান হাদি, শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আলী রায়হানসহ তরুণরা জীবন দিয়েছেন। এ জীবন দান সার্থক হবে এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে, ইনশাআল্লাহ।
সোনার বাংলা : কবে কার মাধ্যমে দাওয়াত পেয়ে ছাত্রশিবিরে যোগ দিয়েছেন?
নূরুল ইসলাম : সংগঠনে পারিবারিকভাবে আসার আমার কোনো সুযোগ ছিলো না। কারণ আমার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কেউ এরকম সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন না। সংগঠনের একটি মৌলিক কার্যক্রম হচ্ছে দাওয়াতি কার্যক্রম। এরমাধ্যমে আমরা আমাদের সংগঠনের মিশন, ভিশন, লক্ষ্য, উদ্দেশ্যগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিই। সেই আলোকেই আমি যখন মাঠে খেলতে যেতাম। মাদরাসায় পড়াশোনা করতাম। সেই সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা আমাদের টার্গেট করে নামাজের দাওয়াত দিয়েছেন। কুরআন পড়ার গুরুত্বের কথা আমাদের মনে জাগ্রত করার জন্য তৎকালীন ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা প্রচুর চেষ্টা করেছেন। আমরা বিষয়গুলোর দিকে খুব একটা সিরিয়াস ছিলাম না। কিন্তু তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম, ছাত্রশিবির সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম। কারণ আমরা ছাত্রশিবিরের ব্যাপারে অনেক মিথ্যাচার শুনতাম ও জানতাম- ‘এরা রগ কাটে, সন্ত্রাস করে’। কিন্তু আমি যখন তাদের সাথে মিশলাম, তখন দেখলাম তাদের সম্পর্কে যা বলা হয় সবই মিথ্যা ও অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই না। এরপর ধীরে ধীরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বই-পুস্তক পড়া শুরু করলাম; এর লক্ষ্য, আদর্শ ও কার্যক্রমগুলো দেখেই সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হলাম।
সোনার বাংলা : একজন সাংবাদিক এবং অভিভাবক হিসেবে আমার মূল্যায়ন বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবিরের ব্যক্তিগত দাওয়াতি কাজ কমে গেছে। এর কারণ কী?
নূরুল ইসলাম : ব্যক্তিগত দাওয়াতি কাজ হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী আমাদের ভাইয়েরা করতে পারছেন না। কারণ অনেক রাজনৈতিক এনগেজমেন্ট এবং বড় বড় কিছু প্রোগ্রাম থাকার কারণে ব্যক্তিগত দাওয়াতের জায়গাটা কিছুটা কমে যেতে পারে। কিছু জায়গায় মনোযোগ না দিতে পারার কারণ বর্তমান রাজনৈতিক কার্যক্রম ও বড় বড় প্রোগ্রাম। তবে আমাদের সমর্থক বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাপকভাবে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে ছাত্রশিবির সম্পর্কে জানছে এবং সমর্থক হচ্ছে। এটা শুধু বাড়েনি, চার-পাঁচগুণ বেড়েছে।
সোনার বাংলা : একজন ছাত্রের জ্ঞানার্জন ও ছাত্র সংগঠনের কাজের মধ্যে সমন্বয়টা কীভাবে করা হয়? আপনি শুধু একজন ছাত্রনেতা নন, মেধাবী ছাত্রও। এটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে?
নূরুল ইসলাম : এ সংগঠনে যিনিই আসেন, তাকেই রিপোর্ট রাখতে হয়। রিপোর্টের একটি কলাম গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হয়, যেটা হচ্ছে একাডেমিক। আমরা অধ্যয়ন কতটুকু করলাম। আমার মনে পড়ে এ সংগঠনে আসার আগে আমি লেখাপড়ায় অতটা মনোযোগী ছিলাম না। ক্লাসে কখনো এক রোল, দুই রোল ক্লাস এইটে আসার আগে কখনো হয়নি। ছাত্রশিবিরে আসার পর শিবিরের ভাইদের সাথে দেখা হলেই লেখাপড়া করার কথা বলতেন, নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন। লেখাপড়ার গুরুত্ব বোঝাতেন।
অথচ ছাত্রশিবিরের সাথে যোগাযোগের আগে তখন আমি মনে করতাম যে, অনার্স করব আমাদের বাড়ির পাশের কলেজে। এটাকেই অনেক বড় কিছু মনে করতাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা বা ইউনিভার্সিটির লেখাপড়ার ব্যাপারে আমাদের বিন্দুমাত্র কোনো ধারণা ছিলো না। তখন প্রযুক্তির এত উৎকর্ষও সাধিত হয়নি। তথ্যও এবল এবল (ধনষব ধনষব) ছিল না। তথ্য পাওয়া এত সহজ ছিল না। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। কীভাবে ভালো রেজাল্ট করতে হয়, কীভাবে পড়তে হয়- এ বিষয়গুলো শিখিয়েছে এবং আমাদের বৈঠকগুলোয় লেখাপড়া পর্যালোচনা করে যারা ভালো করেছে, তাদের পুরস্কার দেয়া হতো। Appreciate (মূল্যায়ন) করা হতো। যাতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়। আগে আমরা যে সময় অপব্যয় করতাম এবং বন্ধু-বান্ধবরা আড্ডা দিয়ে, টিভি দেখে যে সময় নষ্ট করে, ছাত্রশিবিরে আসার পর আমরা সংগঠনের দাওয়াতি ও ভালো কাজে সেই সময়গুলো ব্যয় করতাম। যার ফলে আমাদের লেখাপড়ায় কোনো ধরনের ঘাটতি হতো না। আমাদের অতিরিক্ত সময়গুলো পরিকল্পিতভাবে ব্যয় করতে পারতাম।
সোনার বাংলা : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সর্বপর্যায়ে নেতৃত্ব সরবরাহকারী একটি সংগঠন, তবে নিন্দুকরা বলে শিবির আলেম তৈরিতে খুব একটা ভূমিকা রাখে না। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
নূরুল ইসলাম : প্রথম কথা হলো, ইসলামী ছাত্রশিবির একটি ছাত্র সংগঠন। আলেম তৈরির জন্য দেশে অনেক কওমি ও আলিয়া মাদরাসা আছে। সেখান থেকে বড় বড় অনেক আলেম তৈরি হয়েছেন এবং হচ্ছেন। ইসলামী ছাত্রশিবির মাদরাসা এবং স্কুল ও কলেজের ছাত্রদের মাঝে ইসলামী আদর্শ প্রচার করে। তাদের এ আদর্শের সকল মৌলিক জ্ঞানের আলোকে নির্দিষ্ট সিলেবাসের ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত করে। একজন ছাত্র যদি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য সিলেবাস অধ্যয়ন করে, তাহলে সে আলিম, ফাজিল; এমনকি কামিল পাস করা আলেমের মতো জ্ঞান অর্জন করতে পারে। কে কত টুকু জ্ঞান অর্জন করতে পারবে, তা ব্যক্তি টু ব্যক্তি ভেরি করে। ছাত্রশিবিরের কর্মী, সাথী ও সদস্যরা এভাবে ইসলামের জ্ঞান লাভ করার সুযোগ পায়। এ জ্ঞানের আলোকে তারা যেন জীবন পরিচালনা করে, আমরা সেই মোটিভেশনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করি। একজন মুসলমান যেন হারাম এবং হালালের মধ্যে পাথর্ক্য বুঝে। হালাল মেনে চলে, হারাম থেকে বিরত থাকে। সুন্নতি জীবনযাপন করে। এজন্য আমাদের সংগঠন কাজ করে।
আলেম তৈরির জন্য আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থাৎ মাদরাসা আছে। কওমি মাদরাসা, আলিয়া মাদরাসা আছে। আমরা একটি ছাত্র সংগঠন মাত্র। ইসলামী ছাত্রশিবির মাদরাসায় কাজ করে, সেখানে থেকে অনেকে আলেম হচ্ছেন। ইসলামী ছাত্রশিবির কাজ করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, সেগুলো আলেম তৈরির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে এ সমাজটাকে আমূল পরিবর্তন করা। এ পরিবর্তন হতে হবে একজন ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী সব পেশার মানুষের ক্ষেত্রে। তারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে সততা অবলম্বন করে চলবে। ঘুষ খাবে না, দুর্নীতি করবে না, পণ্যে ভেজাল দেবে না, প্রতারণা করবে না। সৎ ও দক্ষ মানুষ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা মানুষের সার্বিক জীবনের পুনর্বিন্যাস সাধন করতে কাজ করি। আমাদের শিক্ষা হলো- আমরা আল্লাহ বিধান রাসূল সা.-এর নিদের্শিত পথে অনুসরণ করে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করব। ইসলামী ছাত্রশিবিরের লক্ষ্য হচ্ছে জাতিকে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব উপহার দেয়া। আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপযোগী সিলেবাস, কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকে সমাজের আমূল পরিবর্তনের জন্য কাজ করি।
সোনার বাংলা : সবাই স্বীকার করেন ৩৬ জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নায়ক ইসলামী ছাত্রশিবির। আপনি সেই সময় মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন- সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন আপনি কীভাবে করেন?
নূরুল ইসলাম : ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় চেষ্টা করেছে বিপ্লবটাকে ধারণ করার জন্য। ইসলামী ছাত্রশিবির ক্রেডিটের রাজনীতি পছন্দ করে না। এমনকি জুলাই বিপ্লবে কতজন সাথী বা সদস্য শাহাদাতবরণ করেছেন, কতজন কর্মী আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, সেই হিসাবটা ইসলামী ছাত্রশিবির কখনো জাতির সামনে দেয়নি বা তুলে ধরেনি। আমরা মনে করেছি, ১৫ বছর যে ফ্যাসিজম ছিল, সেই ফ্যাসিজম থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই জাতির জন্য কাক্সিক্ষত এ পরিবর্তনটি হয়েছে। জুলাই আন্দোলন যে সহস্রাধিক মানুষ জীবন দিয়েছেন, এর মধ্যে মাত্র আড়াইশত হলেন ছাত্র। শাহাদাতবরণকারীদের মধ্যে আছেন কৃষক, দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির অংশগ্রহণেই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। সুতরাং যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, তাদের সবার অবদানই এ বিপ্লবে রয়েছে। আমরা মনে করি, এ বিপ্লবের মূল্যায়নটা হচ্ছে- দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, স্বজনপ্রীতিমুক্ত ইনসাফ এবং ন্যায়ের নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা শুরু হলো। জুলাই বিপ্লব পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে রক্তের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। জনগণ সেই পক্ষেই রায় দেবে, যারা বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেবে।
সোনার বাংলা : চাকসু, ডাকসু, জকসু, জাকসু, রাকসু, গকসুসহ দেশের যে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটিতে ইসলামী ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এ ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যে কী কার্যকারণ কাজ করেছে?
নূরুল ইসলাম : এটি আমাদের জন্য একটি বড় শিফটিং পরিবর্তন, রূপান্তর অথবা যুগস্থানান্তর যাই বলেন না কেন? বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ডাকসু নির্বাচনে এমন ঐতিহাসিক বিজয় পেল ইসলামী ছাত্রশিবির। এর আগেও ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির অংশ নিয়েছে, তখন অপপ্রচার, মিডিয়া ট্রায়াল সন্ত্রাস, হামলার শিকার হয়েছিলেন আমাদের ভাইয়েরা। সেই সময় আমাদের অনেক ভাই হাত-পা হারিয়েছেন, কারাবরণ করেছেন। তাদের নির্বাচনী প্রচার চালাতে দেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে তাদের নির্বাচন বয়কট করতে হয়েছে। এ ঘটনাগুলো ৯০-এর দশকে ঘটেছে।
ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পরপরই আশির দশকে যে কয়টি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সেই সময়ের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইসলামী ছাত্রশিবির অংশ নিয়েছে। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা ভিক্টরিয়া কলেজ, খুলনা বিএল কলেজ ও কমার্স কলেজ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির একচেটিয়া বিজয় অর্জন করেছিলো। সেই সময়ের জন্য এটা ছিল ভূমিধস বিজয়। এই জনপ্রিয়তার কারণ সেই সময় আমাদের কর্মপদ্ধতির কারণে ছাত্ররা আদর্শ পছন্দ করে ব্যাপকভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরে অংশগ্রহণ করেছিল এবং করছিল। এ জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকার, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী চক্র মিডিয়াকে ব্যবহার করে ব্যাপক অপপ্রচার শুরু করে। যারা আমাদের নির্মূল করার এজেন্ডা নিয়ে সম্মিলিতভাবে মাঠে নেমেছিল, তারা অপপ্রচারের সাথে সাথে হত্যা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছিলো। তারা আমাদের বিরুদ্ধে তথ্যসন্ত্রাসের সাথে সাথে আমাদের ভাইদের শহীদ করেছে। আমরা আমাদের প্রচার বৃহত্তর পরিসরে করতে পারিনি। আমাদের করতে দেয়া হয়নি। এমন একটি অবস্থায় যখন জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হলো এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ওতপ্রোতভাবে এ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রশিবিরের ভূমিকা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর দেড় বছর ধরে ইসলামী ছাত্রশিবির বিনা বাধায় শিক্ষার্থীদের কাছে যেতে পেরেছে, আদর্শের কথা বলতে পেরেছে, তুলে ধরতে পেরেছে। প্রত্যক্ষভাবে শিবির কর্মীরা তাদের কাজ ও চরিত্রের প্রভায় ক্যাম্পাসগুলো কিছুটা আলোকিত করতে পেরেছে বা সক্ষম হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, আমাদের নামে যে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, এটা স্রেফ আমাদেরকে মানুষের থেকে আলাদা ‘ডিহিউম্যানাইজ’ (Dehumanization) করার জন্য একটা গভীর চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই না। ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীরা যখন তাদের সহপাঠী- যারা ইসলামী ছাত্রশিবির করে, তাদের চরিত্র, কর্ম, তাদের লেনদেন, আচার-আচরণ দেখেছে এবং কমিটমেন্টগুলো শিক্ষার্থীরা ‘ওন’ করেছে। এরই ফলে ব্যাপকভাবে আমাদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট এসেছে।
আমরা মনে করি, এটাই আমাদের সংগঠনের কর্মের সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য শিক্ষার্থীরা উপভোগ করে। যে নোংরা রাজনীতি, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের যে রাজনীতি এ দেশে চালু ছিল, সেই রাজনীতির এগেইনস্টে (বিপরীতে) একটি নতুন বাংলাদেশ, একাডেমিকবান্ধব একটি ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, সেই ওয়াদার পক্ষেই শিক্ষার্থীরা রায় দিয়েছে। আমাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী আমরা আমাদের কার্যক্রমগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা যে কমিটমেন্ট দিয়েছি, তার চাইতেও বেশি কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করছি। আমাদের চরিত্র ও কাজ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। তারা সন্ত্রাসনির্ভর নোংরা রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ সন্ত্রাসনির্ভর নোংরা রাজনীতির বিপরীতে আমাদের কমিটমেন্ট শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করেছে।
সোনার বাংলা : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ জয়ের প্রভাব কতটা পড়বে?
নূরুল ইসলাম : আমরা আশা করি, শতভাগ পড়বে, ইনশাআল্লাহ। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের মধ্যে সেই পরিবর্তন আমরা লক্ষ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। আপনারা জানেন, আজ থেকে ৩০-৩৫ বছরের রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যে আদর্শের ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে, সেই আদর্শের রাজনৈতিক দলই জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। যেমন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনগুলো যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে, তাদের আদর্শের দলই জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামী মূল্যবোধ ও ইনসাফের সমাজ কায়েমের কথা যারা বলছেন, ইসলামী ছাত্রশিবির সেই আদর্শই ধারণ করেছে। দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এ আদর্শের আলোকে একটি ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবর্তনের পক্ষের সরকারের জন্য। তাদের সেই প্রত্যাশার আলোকে আমরা একটা পরিবর্তন আনতে পারব, ইনশাআল্লাহ। এজন্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা আবার প্রয়োজনে রাজপথে নেমে আসবে এবং জীবন দিতে দ্বিধা করবে না।
সোনার বাংলা : জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আপনার আরো ব্যাপকভিত্তিক মূল্যায়ন জানাবেন কি? নিজের ভিত্তিতে আপনি সরকার গঠন করার মতো আসনের ব্যাপারে এতটা আশাবাদী?
নূরুল ইসলাম : আমরা একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মিশছি; বিশেষ করে ব্যক্তিগতভাবে আমি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় সভা-সমাবেশগুলোয় যাচ্ছি। আমদের কেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা তার নিজ নিজ এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোয় মানুষের সাথে মিশছে, তাদের সাথে কথা বলছে। জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে। আমরা প্রতিনিয়ত বসে রিপোর্টগুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি। মানুষের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছি, মানুষ কী চিন্তা করছে, তা উপলব্ধি করেই আমরা শতভাগ আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ। মানুষ এখন পরিবর্তনের চিন্তা করছে। আমরা জুলাই-পরবর্তী যে পরিবর্তন চেয়েছিলাম, কোথাও তা দেখতে পাচ্ছি না। অর্থাৎ ঘুষ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মানুষ হত্যা, নারীর শ্লীলতাহানি করা, মানুষের সম্পদ জবরদখল করা, প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়নি। কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু একটি রেজিম চেঞ্জ হয়েছে। মানুষ এখন একটা পরিবর্তন আশা করছে। যারা সেই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে, সেই শক্তিকে বা যারা খুনি-সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে জুলাই-পরবর্তী সময়ে। অথচ তারা জুলাইয়ের আগে মজলুম ছিলো, এখন জালিম হয়েছে উঠেছে। এই জালিমদের বিরুদ্ধে গণরায় দেয়ার জন্য জনগণ তীব্র আশা নিয়ে অপেক্ষা করছে। আমরা মনে করি, পরিবর্তনটা এতটাই দৃশ্যমান হবে ১১ দলীয় জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠা পাবে, তারা সরকার গঠন করবে, ইনশাআল্লাহ।
সোনার বাংলা : অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, একটি গোষ্ঠী কেন্দ্র দখলের ছক আঁকছে। এ সন্ত্রাস মোকাবিলায় অর্থাৎ কেন্দ্র দখল প্রতিরোধে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
নূরুল ইসলাম : সন্ত্রাস মোকাবিলার দায়িত্ব প্রশাসনের। জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র-গোলাবারুদ তাদের কাছেই থাকে। তারাই এক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষ। তাদের জনগণের পক্ষ থেকে এ কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আছে। ইসলামী ছাত্রশিবির নির্বাচনের আগে ও পরে জনগণ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কেন্দ্র পাহারা দেবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমরা ভোট দিতে পারিনি। এবার যেন কোনো সন্ত্রাসী বা ভোট ডাকাতদের কারণে ভোট থেকে বঞ্চিত না হই। জনগণ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে না পড়ে। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আমাদের আছে। জুলাই বিপ্লবে দেখেছেন, গোলাবারুদ ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ইট ও লাঠি দিয়ে প্রতিহত করেছি। এবারও আমরা প্রস্তুত থাকবো। যদি কেউ ভোট ডাকাতি করতে আসে, আমরা তার পাল্টা জবাব দেবো। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। আমাদের পক্ষ থেকে ভঙ্গ করা হবে না। আমরা জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। এ ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর।
সোনার বাংলা : দেশের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে কিছু বলুন।
নূরুল ইসলাম : আমরা মনে করছি, বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক যে প্রেক্ষাপট, এখানে ৬ কোটি ৪৪ লাখ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, পুরোপুরি কর্মহীন প্রায় ৩০ লাখ, শিক্ষিত বেকার দিন দিন বাড়ছে। আমরা খেয়াল করছি Precautionary Unemployment কর্মসংস্থান আছে কিন্তু ভবিষ্যতে বেকারত্বের ঝুঁকিতে আছে), Underemployment (স্বল্প-কর্মসংস্থান ও বাধ্য হয়ে যোগ্যতার চেয়ে নিম্নমানের কাজ করছে, Disguised unemployment ছদ্মবেশী বেকারত্বে সংখ্যা অনেক বেশি। জীবন ধারণের উপযোগীর চেয়ে অনেক কম আয় উপার্জন করার কারণে দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করতে পারছে না। তারা বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছে। টেকসই পরিবর্তনের জন্য একাডেমিক জায়গা থেকে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের নিজেকে আগে গড়তে হবে দেশ, জাতি ও সমাজের জন্য। শুধুমাত্র একাডেমিক লেখাপড়ার মধ্যদিয়ে নয়, কারিগরি শিক্ষায় নিজেকে অনবদ্য দক্ষ করে গড়ে তুলে হবে। এ সমাজে এখন অনেক ধরনের অপকর্ম প্রচলিত আছে যেমন; দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট, সম্পদের অপব্যবহার, পুঁজিবাদী মানসিকতার কারণে সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখা। আরেকটা সমস্যা দ্রব্যমূল্যের প্রচণ্ড ঊর্ধ্বগতি। রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে নৈরাজ্য, কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। সকল অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়তে হবে।
সোনার বাংলা : আপনাকে ধন্যবাদ।
নূরুল ইসলাম : আপনাকে এবং সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সম্পাদকসহ সকলকে ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকার

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৯

গুপ্ত, গুপ্ত
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৭

সম্পর্কিত খবর