সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৯
সীমান্তে মিশরের লাইভ-ফায়ার মহড়া, আতঙ্কে ইসরাইলিদের নির্ঘুম রাত
ইসরাইল-মিশর সীমান্ত বেড়ার মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বে মিশরের সরাসরি গুলিবর্ষণসহ (লাইভ-ফায়ার) সামরিক মহড়া পরিচালনার সিদ্ধান্ত দক্ষিণ ইসরাইলে তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি বিদ্যমান থাকলেও, গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য যে কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে, এই ঘটনা তা-ই প্রকাশ করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে গোয়েন্দা ব্যর্থতার তিক্ত অভিজ্ঞতায় থাকা ইসরায়েলি সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের কাছে এই মহড়া কোনো রুটিন ঘটনা নয়। তাদের কাছে এটি একটি কৌশলগত সতর্কসংকেত, যা আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সময় এবং ‘বাফার জোন’ বা মধ্যবর্তী নিরাপত্তা অঞ্চলকে সংকুচিত করে তুলছে। গাজাসংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা সমন্বয়কারীদের ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, ২৬ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সিনাই সীমান্তে মিশরীয় সেনাবাহিনীর মহড়া চলবে। ‘ইসরাইল বর্ডার কমিউনিটিস ফোরাম’ এই মহড়ার অনুমোদনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, সীমান্তের এত কাছে মিশরীয় সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ নিতে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তাদের দাবি, এটি এমন একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে যা ৭ অক্টোবরের মতো আকস্মিক হামলার সুযোগ করে দিতে পারে। ফোরাম আরও যুক্তি দিয়েছে যে, সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের কৌশলগত আত্মতুষ্টির ‘গিনিপিগ’ বানানো উচিত নয়। তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে এই মহড়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে, যাতে সীমান্তের ওপারে এমন কোনো সামরিক বাস্তবতা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত না হয়। ১৯৭৯ সালের মিশর-ইসরাইল শান্তি চুক্তি অনুযায়ী, সিনাই অঞ্চলকে সামরিক জোনে ভাগ করা হয়েছিল যাতে কোনো পক্ষই আকস্মিক সেনা সমাবেশ করতে না পারে। ইসরাইল সীমান্তের নিকটতম ‘জোন-সি’ মূলত হালকা অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের (এমএফও) জন্য সংরক্ষিত। সীমান্তের এত কাছে যেকোনো সামরিক মহড়ার জন্য ইসরাইলের পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি জেনেও ‘পারান আঞ্চলিক ব্রিগেড’-এর মাধ্যমে এই মহড়ার অনুমতি দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বিষয়টি কোনো আকস্মিক সংঘাত নয় বরং দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই ঘটছে। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মূল ভিত্তি ছিল দূরত্ব এবং আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সময় নিশ্চিত করা। কিন্তু সীমানার মাত্র ১০০ মিটার দূরে লাইভ-ফায়ার মহড়া সেই কৌশলগত গভীরতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বানি নেতজারিম-এর একজন বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন, সিনাইয়ের বিস্তীর্ণ মরুভূমি থাকা সত্ত্বেও কেন একদম সীমানা ঘেঁষে এই মহড়া করতে হবে? তাদের মতে, এই স্থানের নির্বাচন কেবল লজিস্টিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মহড়াগুলোর উদ্দেশ্য সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা না হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদে সিনাই অঞ্চলকে একটি অসামরিক বাফার জোন থেকে সক্রিয় সামরিক থিয়েটারে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া।
স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব ঘটাল সৌদি আরব
গত এক দশকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রেকর্ড করেছে সৌদি আরব। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (এমওএইচ) তথ্যানুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবার ওপর সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টির হার এখন ৯৭.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির বার্ষিক প্রতিবেদনের সাথে এই পরিসংখ্যানগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে এই কর্মসূচিটি তার শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা, মান এবং ফলাফলের ক্ষেত্রে অর্জিত প্রধান মাইলফলকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আগাম রোগ নির্ণয়ে বিশাল সাফল্য দেখা গেছে। স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এর ফলে ৭০% ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা যাচ্ছে। এছাড়া প্রাক-বিবাহ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা গ্রহণ করেছেন ৬০ লাখ মানুষ। সৌদিতে দীর্ঘস্থায়ী রোগে মৃত্যুর হার ৪০% এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার ৩০% হ্রাস পেয়েছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ৫০% কমেছে। সামগ্রিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমেছে ৬০ শতাংশেরও বেশি, যা বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। জরুরি সেবা বা ইমার্জেন্সি রেসপন্সের ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স রেট এখন ৮৫%। দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও বিস্তৃত করতে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত ২৪১টি হাসপাতাল এবং ১,৪০০-এর বেশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ৩৬৫টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স বহরে যুক্ত করেছে। জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২,০০০টিরও বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৭,০০০ ফার্মেসিকে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ কোটিরও বেশি মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ৮০০-এর বেশি প্র্যাকটিশনার সৌদি কমিশন ফর হেলথ স্পেশালিটিসে নিবন্ধিত। এছাড়া ৩৫,০০০-এর বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্বেচ্ছাসেবক ১৭ কোটি ঘণ্টারও বেশি সেবা প্রদান করেছেন। সমগ্র দেশে স্বাস্থ্যসেবার আওতা এখন ৭০.৪%। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৫৯.১% প্রতি সপ্তাহে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন। তবে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ১৯% স্থূলতা বা মেদজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এ সব প্রচেষ্টার ফলে সৌদি আরবে গড় আয়ু বেড়ে ৭৯.৭ বছর হয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ দেশটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক সংস্থাগুলো থেকে ১৯টিরও বেশি পুরস্কার অর্জন করেছে। বিশ্বের সেরা হাসপাতালগুলোর তালিকায় সৌদি আরবের সাতটি হাসপাতাল স্থান করে নিয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) কর্তৃক দেশটির ১৬টি শহরকে ‘হেলদি সিটি’ বা স্বাস্থ্যকর শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সৌদি গেজেট।
দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের রাডার বিপ্লবে কাঁপছে প্রতিপক্ষ
পাকিস্তান সম্প্রতি তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এএম-৩৫০এস লং-রেঞ্জ রাডার এবং মাচান ট্যাকটিক্যাল এইএসএ রাডার সক্রিয় করেছে। চীনের সহায়তাপুষ্ট স্যাটেলাইট ডেটা লিংকের মাধ্যমে সংগৃহীত এই ব্যবস্থাটি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এর ফলে স্টিলথ ফাইটার, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মতো আধুনিক হুমকি মোকাবিলায় পাকিস্তানের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপটি কেবল আকাশসীমা নজরদারি নয়, বরং ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের একটি সংকেত। এখন থেকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কেবল যুদ্ধবিমানের সংখ্যার ওপর নয়, বরং সেন্সর বা রাডার প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বের ওপর নির্ভর করবে। এই রাডার দুটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চীনের সহায়তায় তৈরি স্যাটেলাইট ডেটা লিংক। এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন রাডার ইউনিটগুলো এখন একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। ফলে কোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় মিনিট থেকে সেকেন্ডে নেমে আসবে। এমনকি শত্রুপক্ষ ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত করলেও এই স্যাটেলাইট সংযোগের কারণে পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে পারবে। আইডিইএএস ২০২৪ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে প্রথম উন্মোচিত হওয়া এই রাডারটি পাকিস্তানের প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তির দূরপাল্লার রাডার। এটি একটি এস-ব্যান্ড গালিওম নাইট্রাইড (গ্যান) ভিত্তিক অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) রাডার। এর সর্বোচ্চ শনাক্তকরণ সীমা ৩৫০ কিলোমিটার। তবে সাধারণ যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত কার্যকর। ছোট আকারের ড্রোন বা ০.১ বর্গমিটার ক্রস-সেকশনের লক্ষ্যবস্তুকে এটি ৮০ কিলোমিটার দূর থেকে শনাক্ত করতে পারে। এটি ৬০,০০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত নজরদারি চালাতে সক্ষম। এর ৩৬০-ডিগ্রি আজিমুথ কভারেজ থাকায় চারপাশের যেকোনো দিক থেকে আসা লক্ষ্যবস্তু এর নজর এড়াতে পারবে না। ট্রাক-মাউন্টেড হওয়ায় এই রাডারটি মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব, যা শত্রুর আক্রমণ থেকে একে রক্ষা করবে। যেখানে এএম-৩৫০এস দূরপাল্লার নজরদারি করে, সেখানে ‘মাচান’ বা ‘জি-র্যাড’ রাডারটি কাজ করে নিচু দিয়ে উড়ে আসা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে। পাহাড় বা ভূ-প্রকৃতির আড়ালে লুকিয়ে আসা ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং নিচু দিয়ে উড়া হেলিকপ্টার শনাক্ত করা এর প্রধান কাজ। রাডারটির শনাক্তকরণ সীমা ১০০ থেকে ১০৫ কিলোমিটার। এটি মূলত বিমানঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে এক্স-ব্যান্ড এবং এক্স-ব্যান্ড উভয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা একই সাথে লক্ষ্যবস্তু খোঁজা এবং নির্ভুলভাবে সেটিকে লক করতে সাহায্য করে। এটি একসাথে ১২টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে এবং চরম প্রতিকূল ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পরিবেশেও কার্যকর থাকে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের এই উন্নয়ন এটিই প্রমাণ করে যে, পাকিস্তান এখন কেবল আমদানিকৃত প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। চীনের স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাথে দেশীয় রাডারের এই সমন্বয় একটি ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ব্যাটেলস্পেস ম্যানেজমেন্ট’ তৈরি করেছে। আঞ্চলিক সামরিক পরিকল্পনাবিদদের জন্য এখন বড় প্রশ্ন এটি নয় যে পাকিস্তান শত্রু বিমান দেখতে পাবে কি না, বরং প্রশ্ন হলো উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে পাকিস্তানের এই সেন্সর নেটওয়ার্ক কতটা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। এই নতুন ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পাকিস্তানের আকাশসীমাকে অভেদ্য করে তুলতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া।
গাজায় বিশুদ্ধ পানির হাহাকার, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ
গাজায় বিশুদ্ধ পানি ও মৌলিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনে। প্রতিদিনই বাড়ছে পানিবাহিত রোগ, সংক্রমণ এবং মানসিক চাপ। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ যে অনেক রোগী ক্ষতস্থানের সঠিক পরিচর্যা করতে পারছেন না, ফলে সেখানে জটিল সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে, কারণ নিরাপদ পানি ও পরিচ্ছন্নতার সুযোগ তাদের জন্য আরও সীমিত। সংস্থাটির জরুরি মানবিক বিষয়ক ব্যবস্থাপক লরেলিন ল্যাসের বলেন, বিশুদ্ধ পানি, সাবান এবং মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে গাজার মানুষ ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, অনেক পরিবার প্রতিদিন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে যে সীমিত পানি দিয়ে তারা পিপাসা মেটাবে, রান্না করবে, নাকি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করবে। তিনি আরও বলেন, এই সংকট নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। সন্তান প্রসবের পরও পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিশুরাও নিয়মিত অসুস্থ হয়ে পড়ছে, কারণ নিরাপদ পানির অভাব তাদের স্বাস্থ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে পানিসরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ওপর হামলার কারণে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে পানি সরবরাহ ও মেরামত কাজে নিয়োজিত একাধিক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এতে পুরো পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। গাজার পানি সরবরাহ সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত কয়েক ডজন পানি সরবরাহকর্মী নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক হামলায় গুরুত্বপূর্ণ পানি উৎস ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজারো মানুষ সরাসরি পানির সংকটে পড়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় বর্তমানে প্রতিদিন একজন মানুষের জন্য গড়ে পাওয়া যাচ্ছে খুব সীমিত পরিমাণ পানি, যা মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম। এর ফলে পানিশূন্যতা, সংক্রমণ এবং ত্বকজনিত রোগ দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, তবুও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পরিবারকে সীমিত পানিতে গোসল, রান্না ও দৈনন্দিন কাজ সামলাতে হচ্ছে, যা জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া সাবান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারছেন না, ফলে সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য গার্ডিয়ান।
গাজার উদ্দেশে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র নতুন মিশন
গাজার অবরোধ ভেঙে ত্রাণ পৌঁছাতে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নতুন মিশন শুরু করেছে। ইতালি থেকে ৬৫টি নৌকা নিয়ে এ যাত্রার শুরু। ঝুঁকি থাকলেও আন্তর্জাতিক সমর্থনে এটি মানবিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) শুরু হয়েছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ২০২৬ সালের বসন্তকালীন মিশন। আবারো উত্তাল সমুদ্র চিরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে এগোচ্ছে মানবিকতার বিশাল নৌবহরটি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট মিডলইস্ট মনিটর এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরাইল সরকারের দীর্ঘদিনের কঠোর অবরোধ ভেঙে গাজার সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। গত ১২ এপ্রিল স্পেনের শহর বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই বহরটি ইতালির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিসিলিতে এসে সাথে আরো কিছু শক্তি যোগ করেছে। সিসিলির সিরাকিউজ ও অগাস্টা শহর থেকে ইতালীয় সক্রিয়কর্মী এবং বেশকিছু নৌকা এই বহরে যোগ দেয়। অগাস্টা ইয়ট হারবারে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার সময় নৌকার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫টিতে। একটি সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক পরিকল্পনা মেনে ভূমধ্যসাগরের নীল পানিরাশি চিরে নৌকাগুলো এখন গাজার পথে। মাঝসমুদ্রে গ্রিনপিসের একটি জাহাজ এই নাগরিক উদ্যোগে সংহতি জানিয়ে বহরে যোগ দিলে সবার মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রার সময় ফিলিস্তিনের সমর্থনে স্লোগান আর মশাল জ্বালিয়ে বিদায় জানানো হয় কর্মীদের। চোখে-মুখে অনিশ্চয়তা থাকলেও সবার কণ্ঠে ছিল গাজার উপকূলে পৌঁছানোর একরোখা সংকল্প। মিডলইস্ট মনিটরের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ আহমেদ বলেছেন, গাজা অবরোধের এই জটিল রাজনীতি বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে। ‘ফ্লোটিলা’ বা এই নৌ-অভিযান মূলত বিশ্ববিবেকের এক প্রতিবাদী প্রতীক। ২০০৭ সাল থেকে ইসরাইল যখন গাজাকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে, তখন থেকেই আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিস্টরা সমুদ্রপথে এই অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে আসছেন।
এই ‘ফ্লোটিলা’ শব্দটির ইতিহাসও বেশ পুরনো। এটি স্প্যানিশ শব্দ ‘ফ্লোটা’ থেকে এসেছে, যার মানে ছোট নৌবহর। মূলত সামরিক বা বিশেষ প্রয়োজনে ছোট ছোট জাহাজের দলবদ্ধ যাত্রাকেই ফ্লোটিলা বলা হয়। বর্তমান সময়ে এটি কেবল ত্রাণবাহী জাহাজ নয়, বরং এটি ইসরাইল সরকারের অমানবিক অবরোধের বিরুদ্ধে এক বিশাল রাজনৈতিক ঢাল। যারা এই নৌকায় আছেন, তারা জানেন গাজার সমুদ্রসীমায় পৌঁছানো কতটা বিপজ্জনক, তবুও তারা যাচ্ছেন কেবল এই বার্তা দিতে যে, গাজা একা নয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এটি একটি বৈশ্বিক প্রতিরোধ। এই মিশনটি ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র জন্য দ্বিতীয় দফার প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা একবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অক্টোবরে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় থাকাকালীন ইসরাইল বাহিনী সেই বহরের ওপর হামলা চালায় এবং শত শত কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। বন্দীদের হেনস্তা করে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের অর্থকড়িও চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। তবুও থেমে থাকেনি এই মানবিক অভিযাত্রা। এবারের যাত্রায় মানুষের ঢল আর গ্রিনপিসের মতো বড় সংস্থার সমর্থন প্রমাণ করছে যে গাজার ওপর অব্যাহত এই অবিচারের বিরুদ্ধে দুনিয়াজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমেনি, বরং বাড়ছে। ইসরাইল দাবি করে যে নিরাপত্তার সাথে আপস না করতেই তারা এই অবরোধ দিয়েছে, কিন্তু সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য এ এক ‘খোলা জেলখানা’। এই জেলখানার দেয়াল ভাঙতে বড় কোনো কামানের দরকার নেই, মাঝেমধ্যে একঝাঁক সাদা পাল তোলা নৌকাই বিশ্বের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে দিতে যথেষ্ট। সমুদ্রের ঢেউ ডিঙিয়ে এই ৬৫টি নৌকা গাজার উপকূলে ভিড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে ঠিকই, কিন্তু তাদের এই যাত্রা এরই মধ্যে বিশ্বরাজনীতির টেবিলে এক বড় ঝাঁকুনি দিয়ে ফেলেছে। এদিকে এর আগের ফ্লোটিলার অন্যতম সদস্য ছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মানবাধিকার কর্মী ড. শহিদুল আলম। ফ্লোটিলার অন্য সদস্যদের সাথে তাকেও আটক করে ইসরাইলের কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছিল। কারাগারে তারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তার কাছে থাকা ডলারসহ দামি জিনিসপত্র চুরি করেছে বলে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এবারে ফ্লোটিলার যাত্রা শুরুর সময় আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন ড. আলম। কিন্তু হাড় ভেঙে যাওয়ায় তিনি ফ্লোটিলায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন নয়া দিগন্তকে। হাড় জোড়া লাগতে চার সপ্তাহ লাগবে এবং তারপর তিনি ফ্লোটিলায় যোগ দেয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান। মিডলইস্ট মনিটর।
হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অক্ষম ইসরাইল
হিজবুল্লাহর আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অক্ষমতা এখন খোদ দেশটির সংবাদমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সামরিক কোনো জুতসই সমাধান না থাকায় এবং হিজবুল্লাহর নির্ভুল নিশানায় সপাটে জবাব দেয়ার সক্ষমতায় তেলআবিবের রণকৌশল ও শ্রেষ্ঠত্ব এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলার মুখে ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলআবিব এবং এর আশপাশের এলাকায় হিজবুল্লাহ নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানছে। এর ফলে খোদ ইসরাইলের ভেতরেই বড় ধরনের বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়েছে, হিজবুল্লাহর ছোড়া এসব আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো কোনো কার্যকর সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে ইহুদিবাদী বাহিনীর হাতে নেই। তারা বলছে, হিজবুল্লাহর অস্ত্রের বহর এবং তাদের রণচার্তুযের সামনে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অসহায় অবস্থা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে এসেছে। ইসরাইলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর এই ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে রুখে দেয়ার জন্য আসলে কোনো জুতসই সামরিক সমাধান তেলআবিবের কাছে নেই। এমনকি নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু হলেও সেখান থেকে ইসরাইল কোনো বাস্তব বা বড় ধরনের অর্জন ঘরে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে খোদ দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাস আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের নভেম্বরে যখন একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তখন থেকেই হিজবুল্লাহ অনেকটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছিল। সেই সময়ে তারা ইসরাইলি উসকানির বিপরীতে সরাসরি কোনো পাল্টা আক্রমণে না গিয়ে বরং লেবানন সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন হিজবুল্লাহ আর কোনো রাখঢাক রাখছে না। ইসরাইলি আগ্রাসনের বিপরীতে তারা এখন তাৎক্ষণিক এবং সপাটে জবাব দিচ্ছে। সংবাদ বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহর এই সরাসরি অ্যাকশন আসলে ইসরাইলি দখলদারদের জন্য একটি বড় বার্তা। গত বছরের সেই যুদ্ধবিরতির পর থেকে লেবানন সরকার দাবি করে আসছিল যে তারা কূটনীতির মাধ্যমে ইসরাইলি দখলদারি বন্ধ করতে পারবে। কিন্তু সেই চেষ্টায় কোনো ফল না আসায় হিজবুল্লাহ এখন নিজ হাতেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে। তাদের প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ডিফেন্স সিস্টেমকে রীতিমতো ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আছড়ে পড়ছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এই স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় যে শুধু প্রযুক্তির দাপট দেখিয়ে একটি পুরো অঞ্চলকে চাপে রাখা সম্ভব নয়। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের গতি আর নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে মানসিকভাবেও অনেকটা পেছনে ঠেলে দিয়েছে। ফলে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো কতদূর গড়াবে এবং ইসরাইল আদৌ এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার কোনো রাস্তা খুঁজে পাবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে, হিজবুল্লাহর শক্তির কাছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের এতোকালের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের তকমা এখন নিছক মশকরা হতে চলেছে। তাসনিম নিউজ।
১৭ বছর পর মার্কিন মাটিতে ব্রিটিশ রাজার সফর
যুক্তরাজ্যের রাজা কিং চার্লস তৃতীয় চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন রানি ক্যামিলা। সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় একযোগে কাজ করার বার্তা দেওয়া। গত ২৭ এপ্রিল সোমবার মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণের মাধ্যমে সফর শুরু হয়। এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও ইউক্রেন ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের পার্থক্য আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে সেই দূরত্ব কমিয়ে উভয় দেশ আবারও অভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে রাজকীয় দম্পতিকে স্বাগত জানান প্রটোকল প্রধান মনিকা ক্রাউলি এবং ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার ক্রিশ্চিয়ান টার্নার। এরপর তারা যান হোয়াইট হাউসে যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অভ্যর্থনা জানান। স্বাগত পর্বের পর উভয় পক্ষ অনানুষ্ঠানিক চা-চক্রে অংশ নেন। সেখানে ফিঙ্গার স্যান্ডউইচ, কেক, মধু ও চা পরিবেশন করা হয়। এই সফরের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল একটি চিত্রকর্মের সামনে তাদের আলাপচারিতা, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলার এলাকায় ঘটে যাওয়া হামলার একটি দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই ঘটনায় ট্রাম্পের কানে গুলি লাগে, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে; বিশেষ করে একটি বড় অনুষ্ঠানে হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর। হোয়াইট হাউসে অবস্থানকালে রাজা চার্লস একটি বিশেষ মৌচাক পরিদর্শন করেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে রানি ক্যামিলা তাঁর পোশাকে একটি ঐতিহাসিক ব্রোচ পরেছিলেন, যা ১৯৫৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। এটি দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সফরের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ দূতাবাসে একটি গার্ডেন পার্টির আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় ৬০০ অতিথি অংশ নেন। সেখানে মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য ন্যান্সি পেলোসি এবং টেড ক্রুজ উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে পরিবেশিত কিছু খাদ্যদ্রব্য সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতীক হিসেবেও গুরুত্ব পায়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরে। রানি ক্যামিলা এ সময় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তবে জেফরি এপস্টাইন কাণ্ডের কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে রাজা চার্লসের সাক্ষাতের অনুরোধ রাজপ্রাসাদ প্রত্যাখ্যান করেছে, যা আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে রাজা চার্লস মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ রাজা এই সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁর ভাষণে গণতন্ত্র রক্ষা, সহনশীলতা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাটো জোটকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরছে। দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিবিসি।
আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের হামলায় শিক্ষকসহ নিহত ৭
আফগানিস্তানের পূর্ব প্রদেশের কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় শিক্ষকসহ সাতজন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা সবাই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, আহতদের মধ্যে ৩০ জনই কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এদিকে হামলার অভিযোগটি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। এটা মিথ্যা তথ্য বলে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলায় মর্টার ও রকেট ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। তবে অন্য সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এ হামলায় যুদ্ধবিমান ও ড্রোনও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, হামলার সময় ক্যাম্পাসজুড়ে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। বিবিসি।
সন্ত্রাসী হামলায় নাইজেরিয়ায় প্রাণ গেল ২৯ গ্রামবাসীর
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় এক সশস্ত্র হামলায় অন্তত ২৯ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র হামলাকারীরা একটি গ্রামে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দস্যুদের তৎপরতার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে আছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই এমন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে। এপি।
পানির কূপ নিয়ে সংঘর্ষে শাদে ৪২ জন নিহত
শাদের পূর্বে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) এক সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। শাদ উত্তর-মধ্য আফ্রিকার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। এর উত্তরে লিবিয়া, পূর্বে সুদান, দক্ষিণে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়া এবং পশ্চিমে নাইজার অবস্থিত। এনজামেনা চাদের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। এই সংঘর্ষের সূত্রপাত একটি পানির কূপ নিয়ে বিরোধ থেকে। একজন সরকারি প্রতিনিধি বলেছেন, গত ২৫ এপ্রিল শনিবার ওয়াদি ফিরা প্রদেশের গুয়েরেদা উপপ্রশাসনিক অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। গত ২৬ এপ্রিল রোববার বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন স্থানীয় কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আঞ্চলিক প্রশাসন ও বিকেন্দ্রীকরণের দায়িত্বে থাকা উপপ্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাত রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং এখন নিয়ন্ত্রণেই আছে।’ বেশ কয়েক বছর ধরে পূর্ব চাদের কৃষক এবং যাযাবর আরব পশুপালকদের মধ্যে সংঘাত চলছে। প্রতিবেশী সুদানে চলমান সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের কারণে এই উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এনজিও ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কৃষি ও চারণভূমি নিয়ে সংঘাতের কারণে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং দুই হাজার আহত হয়েছেন। রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান