শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৭
জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাতা হলো শিক্ষিত তরুণসমাজ। একটি দেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে- সেই চিত্র আন্দাজ করা যায় তরুণসমাজের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে। আমরা যদি আমাদের সন্তানদের সৎ, যোগ্য, চরিত্রবান, ধর্মভীরু, দেশপ্রেমিক, সাহসী, দক্ষ এবং কুসংস্কার-সংকীর্ণতামুক্ত করে গড়তে পারি, তবেই পাবো সুখী, সুন্দর সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ। অন্যদিকে বর্তমান প্রজন্ম যদি হয় কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী মাদকাসক্ত, তাহলে আর বলার অপেক্ষা রাখে না আমাদের সামনে জাহেলিয়াত কতটা ভয়ংকর রূপে অপেক্ষমাণ।
আমরা বিশ্বাস করি, তরুণসমাজকে গড়তে প্রয়োজন প্রত্যাশার আলোকে আলোকিত মানুষ গড়ার উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভাঙার পর সময়ের কাঁটা শতাব্দী ছুঁইছুঁই করছে বাংলাদেশ স্বাধীন ভূখণ্ড ও পতাকা পেয়েছে, তাও অর্ধশতাব্দীরও প্রায় এক দশক আগে। কিন্তু মানসিক গোলামিমুক্ত কাণ্ডারির প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি। ১৯০৫ সালে যারা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল, ১৯২১ সালে যারা চায়নি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হোক, এ জনপদকে অশান্ত করতে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বোনা চলছেই। শিক্ষক নিয়োগ, সিলেবাস তৈরিতে গোলামির অপচ্ছায়ায় সাধ পূরণ না হওয়ায় মাদক, সন্ত্রাস আর পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সন্দেহ-সংশয়ের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব যারা মেনে নিতে পারেনি, তাদের এ তৎপরতা শুরু হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পরপরই।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের ধারাবাহিকতায় তারা শুরু করেছে জাতিবিধ্বংসী অপতৎপরতা। মেধার বদলে পেশিশক্তি আর অস্ত্রের জোরে চর দখলের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাঙ্গনগুলো বেদখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহারের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষায় শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের এ অপরিমাণদর্শী অপকর্মের সুযোগ নিচ্ছে পতিত ফ্যাসিস্ট ও তাদের পৃষ্ঠপোষক বিদেশি শক্তি। যার পরিণতি আবারও গোলামির শিকল এ সত্য বর্তমান সরকার উপলব্ধি করতে পারছে না- বলেই আমাদের মনে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর ছাত্রদল নামধারীদের হামলা এবং একই সময় বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘জামায়াত নির্মূল’ -করার মতো অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট উক্তি দেশের সুন্দর সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য অশনিসংকেত বলে আমরা মনে করি। তাই দেশকে এ বিপথ থেকে রক্ষা করতে যেকোনো মূল্যে শিক্ষাঙ্গনে প্রতিটি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
এখন বিভক্তি নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই সনদের আলোকে দেশ গড়ার সময়। কিন্তু সরকারি দল বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে টানবাহানা শুরু করেছে। দেশের ৭০ ভাগ মানুষের প্রত্যাশার সাথে তাদের এমন রহস্যজনক আচরণ এবং শিক্ষাঙ্গন অস্থিতিশীল করার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আশা করি তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিপ্লবপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ও প্রতিবিপ্লবগুলো পর্যালোচনা করলে অতি সহজেই বুঝতে পারেন। সরকার ও বিরোধীদলের এমন বিরোধ জিইয়ে রাখলে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকার ও বিরোধীদল। দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট শক্তির নতুন কোনো ভার্সন এসে আবার সিন্দাবাদের ভূতের মতো জাতির ঘাড়ে সওয়ার হবে, যা আমাদের কারো কাম্য নয়। তাই আশা করি, সরকার এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। দেশ ও জাতির কথা বিবেচনা করে শত্রু দেশের প্ররোচনার নেতিবাচক ধারা থেকে বের হবে। ইতিবাচক রাজনীতির শুভ সূচনা করবে। ৩৬ জুলাই বিপ্লবের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাঙ্গনসহ দেশের প্রতিটি সেক্টরে ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে কোনো কিন্তু কিংবা যদিকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।