জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি, জামায়াতের সঙ্গে করবে না ঐক্য সরকার
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান নির্বাচনের পর তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দলের এককভাবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকার কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) নেতৃত্ব দেওয়া তারেক রহমান (৬০) প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন। তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে ফেরেন তিনি। শেখ হাসিনা ছিলেন তাঁর মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও এখন দলটির পুনরুত্থান ঘটেছে।
এই দুই দল মিলে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেছে। এর মধ্যে জামায়াত বলেছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করার জন্য একটি ঐক্য সরকারের জন্য ওই অংশীদারত্ব পুনরায় চালু করার বিষয়ে রাজি আছে তারা।২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা দীর্ঘদিনের মিত্র ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে।
শুক্রবার নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি জানি না, তারা কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দল হয়, তাহলে আমি আশা করি তাদেরকে ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব।’
তারেক রহমানের সহযোগীরা বলছেন, নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোতে তাঁদের জোট শরিকেরা লড়ছেন।
নির্বাচনে বিএনপি কত আসনে জয় পেতে পারে, সে সংখ্যা বলতে চাননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’
সব জনমত জরিপেই বিএনপি জয়ী হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। তবে তাদেরকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও জরিপে এসেছে। তরুণদের নেতৃত্বে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন–জিদের দল (এনসিপি) জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুসম্পর্ক
ঢাকার একটি আদালত গত বছর রায়ে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে–ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।’
শেখ হাসিনার সন্তানেরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাঁদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তাঁর পতনের আগে বা সেই সময়ের আশপাশে দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিদেশে চলে গেছেন। -উৎস: প্রথমআলো
লিঙ্ক :Exclusive: Bangladesh PM front-runner rejects unity government offer, says his party set to win