দেশ গঠনে জাতীয় সরকার বনাম দলীয় সরকার : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ


১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৫

॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া ॥
ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। এ নির্বাচনের পর জাতি একটি নতুন সরকার পাচ্ছে। তাই শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের চোখ এখন বাংলাদেশের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিকে। সবাই আশা করছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটটি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং একটি শক্তিশালী সরকার গঠিত হবে। বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি নতুন সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে একসময়ের জোটসঙ্গী দুই দলের মধ্যে। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দুই জোট। আজ থেকে দুই যুগ আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একই জোটে নির্বাচন করেছে। কালের পরিক্রমায় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী জোট গঠিত হয়েছে এবং ঐ জোট জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের টার্গেট নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। নির্বাচন ও ভোট নিয়ে দেশি-বিদেশি অনেকগুলো সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন রকম জরিপ করেছে। এসব জরিপে বিভিন্ন রকম মতামত প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশ জরিপেই দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি জনসমর্থন প্রায় কাছাকাছি। সর্বশেষ জরিপে দুই দলের জনসমর্থনের পার্থক্য মাত্র এক শতাংশ।
তবে উভয় ক্যাম্প থেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, তারাই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবেন এবং সরকার গঠন করবে। তবে দুই জোটের পক্ষ থেকে এটাও বলা হয়েছে তারা আগামী দিনের দেশ পরিচালনায় একটি জাতীয় সরকার বা জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করবে। তবে জাতীয় সরকার গঠনের এ চিন্তাটা নতুন হলে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশ পরিচালনায় একটি জাতীয় সরকারই জনগণের কাক্সিক্ষতও বটে। বিশ্বের অনেক দেশেই জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সব দল ও মতের দলগুলো নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের বহু নজির রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বা ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় সরকার গঠন করা হয়েছিল।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন বিভিন্ন রকম রাষ্ট্র আছে, তেমনি সরকারও বিভিন্ন পদ্ধতির রয়েছে। যেমন আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার রাষ্ট্র ব্রিটেনে সংসদীয় গণতন্ত্রের সরকার, কিন্তু রাষ্ট্রটি আবার এখনো রাজতান্ত্রিক। তেমনিভাবে বিশ্বের পরাশক্তির দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে, তবে কংগ্রেস থেকে পৃথক সরকার ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রণয়ন বিভাগ কংগ্রেসের দুই কক্ষের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা নির্বাহী বিভাগের মন্ত্রী হতে পারেন না। অপরদিকে আর এক পরাশক্তির দেশ চীন প্রেসিডেন্ট শাসিত একদলীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত।
জাতীয় সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনার বিষয়টি গণঅভ্যুত্থানের পরপরই আলোচনায় এসেছিল। তখন একটি সূত্রে জানা গিয়েছিল, অভ্যুত্থানের নায়ক ছাত্র নেতারা ও জামায়াতে ইসলামী একটি জাতীয় সরকার গঠনে একমত ছিলেন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টি রাজনৈতিক ময়দানে চাউর হয়েছিল এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন, কিন্তু বিএনপি তাতে সম্মতি না দেয়ায় তখন তা গঠন করা যায়নি। তাই শেষ পর্যন্ত জাতীয় সরকার আলোর মুখ দেখেনি।
জামায়াত ও ডা. শফিকুর রহমান
তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আবার জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনোত্তর একটি জাতীয় সরকার গঠন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর তার নিজস্ব বাসভবনে রয়টার্সের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা অন্তত পাঁচ বছর দেশটা স্থিতিশীল দেখতে চাই। যদি দলগুলো একমত হয়, তাহলে আমরা সবাই মিলে দেশটা চালাব।’ ‘ফেব্রুয়ারির ভোটের পর ঐকমত্যের সরকার গঠনে রাজি বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল’ এ শিরোনামে রয়টার্স গত ২ জানুয়ারি একটি রিপোট প্রকাশ করে। রয়টার্স প্রকাশিত রিপোর্টে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখিত অভিমত ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত নেতারা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর শোকাহত তারেক রহমানকে সমবেদনা জানাতেই জামায়াত নেতৃবৃন্দ তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
পত্রিকার খবরে জানা গেছে, তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ওই বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়েও আলোচনা করেছেন তারা। জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমরা বলেছি, আগামী পাঁচ বছর সুন্দর পরিবেশের জন্য আমরা সবাই মিলে ভালো কিছু চিন্তা করতে পারি কি না, সেটাও চিন্তা করা দরকার। আমরা এ-ও বলেছি, নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের আগে আমরা আবার বসব। খোলামনে চিন্তা করে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব।’
বিএনপি ও তারেক রহমান
দেশের স্বার্থে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে বিএনপিও বেশ কয়েকবার তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছে। বিএনপি ভোটে জিতলে মিলেমিশে দেশ পরিচালনা করবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারাও অনেক সময় বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে জিতলে জাতীয় সরকার গঠন করবে।
বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখায়ও বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়া এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়িয়া তুলিয়াছিল, সেই রাষ্ট্রের মালিকানা আজ তাহাদের হাতে নাই। বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রকাঠামোকে ভাঙিয়া চুরমার করিয়া ফেলিয়াছে। এই রাষ্ট্রকে মেরামত ও পুনর্গঠন করিতে হইবে। দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরাইয়া দেওয়ার লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জয় লাভের পর বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার হটানোর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা হইবে।” ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিগত ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে এ রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিগত কয়েক বছর যাবত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় বড় দলই দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে জাতীয় সরকার বা জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের বিষয়ে তারা বিভিন্ন সময় তাদের মতামত ব্যক্ত করেছে।
জাতীয় সরকার কী?
জাতীয় সরকার (National Government) হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা, যেখানে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মতভেদ ভুলে দেশের বিশেষ কোনো সংকটে বা জরুরি প্রয়োজনে একত্রিত হয়ে সরকার গঠন করে। সাধারণত যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মহামন্দা বা জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে এ ধরনের সরকার গঠন করা হয়ে থাকে। অতীতে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, একটি দেশে বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় সরকার গঠন করা হয়ে থাকে। রাজনৈতিক ঐক্য, জরুরি অবস্থা মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাষ্ট্র সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারণে ও প্রয়োজনেই একটি দেশ জাতীয় সরকার গঠন করে থাকে।
রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে কোনো সময় একক কোনো দলের পরিবর্তে দেশের বড় এবং ছোট প্রধান দলগুলো মিলে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেই জাতীয় সরকার করা হয়ে থাকে। দেশের কোনো জরুরি অবস্থা দেখা দিলে তার মোকাবিলা, জাতীয় সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে এ ধরনের জাতীয় সরকার গঠন করা হয়ে থাকে। দেশের কোনো কোনো সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্র সংস্কার প্রয়োজন হয়। তখনো অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের পরে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য বা সংবিধান সংস্কারের জন্য সব দলের অংশগ্রহণে এমন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিভিন্ন দেশে জাতীয় সরকার
রাষ্ট্র ও সরকারের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক রাষ্ট্রই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনীতিবিদরা এক হয়ে জাতীয় সরকার গঠন করেছেন। যেমন ১৭৮৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম জাতীয় সরকার গঠন করা হয়। পঞ্চম প্রজাতন্ত্র (ফিফথ রিপাবলিক) গঠনের পূর্ববর্তী ফ্রান্সে চার্লস দ্য গলের সরকারকেও জাতীয় সরকার বলা হয়। ১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক সংকটের সময় দেশব্যাপী ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আনতে র‌্যামসে ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে ১৯৩১-৩৫ মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য বহুদলীয় ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ থেকে স্বাধীনতার পর ভারত একটি অন্তর্বর্তী জাতীয় সরকার গঠন করেছিল, যা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে জাতীয় সরকার গঠন করা হয়েছিল। ১৯৩২ সালের এক রক্তপাতহীন বিপ্লবের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। তারপর ১৯৩২ সালের ২৪ জুন দেশটিতে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হয়েছিল। গত শতকের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী ব্যবস্থা বিলোপের পর নেলসন ম্যান্ডেলা জাতীয় সরকার গঠন করেছিলেন। ওপরের উদাহরণ দিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, এ দেশগুলোয় বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় প্রয়োজনে বিভিন্ন পক্ষ তথা ভিন্ন মত ও পথের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট
বিগত ৫৪ বছর ধরে বিভিন্ন মত ও ধরনের রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় ছিল। কিন্তু পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা ক্ষমতায় থাকার পরও দেশটি কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। ৫৪ বছর কিন্তু কম সময় নয়, বরং দীর্ঘসময়। এ দীর্ঘসময়ে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা ও প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগ কোনো সময় ক্ষমতায় বা বিরোধীদলে, বিএনপিও ক্ষমতায় বা বিরোধীদলে এবং জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় বা বিরোধীদলে এবং জামায়াতে ইসলামী বিরোধীদলে ছিল। কিন্তু কোনো সরকারই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের মৌলিক চাহিদা তথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে পারেনি। অপরদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও দুর্নীতি করালগ্রাস তথা দুনীতির রাহু থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। সাধারণ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়িত্ব সরকার ও প্রশাসনের দুর্নীতি প্রতিরোধ করবে। কিন্তু বিগত পাঁচ দশকে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদল উভয় পক্ষ থেকেই দেশ ও জাতির উন্নয়নের পরিবর্তে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। সংসদীয় রাজনীতির ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদলের সংস্কৃতি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যেমন যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি, তেমনি সাধারণ জনগণের কল্যাণকর কোনো ব্যবস্থাও করতে পারেনি। তাই বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বিরোধিতার জন্য বিরোধীদল এ সংস্কৃতির বাইরে এসে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রসর ও ব্যতিক্রম ধরনের চিন্তা জাতীয় জীবনে আলোচনায় এসেছে। তাই দীর্ঘসময় না হলেও মিনিমাম পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদলভিত্তিক সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে সবাই মিলে দেশ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। আর সেটা হতে পারে সব মত ও পথের রাজনৈতিক দল গ্রুপ মিলে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি জাতীয় সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি জাতীয় সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারি। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটটা এমনই এক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে, তাই রাষ্ট্র সংস্কারসহ দেশ গঠনে একটি জাতীয় সরকার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ চিন্তায় একমত হলে আগামী সরকার হতে পারে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার বা জাতীয় সরকার। একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আগামী মাসেই একটি জাতীয় সরকার গঠিত হতে পারে- এ প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে বাংলাদেশের জনগণ।
লেখক : বার্তা সম্পাদক
সাপ্তাহিক সোনার বাংলা
মেইল : ferdous.ab@gmail.com

ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া