নির্বাচনী ইশতেহার : রাজনৈতিক দলের গণপ্রতিশ্রুতি

প্রিন্ট ভার্সন
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৯

ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া

॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক কর্মপ্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত করেছে এবং প্রার্থীরাও তাদের মনোনয়নপত্র রিটানিং কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছেন। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত হবে কারা কোন দল বা জোট থেকে এমপি নির্বাচন করবে এবং কোন দল ও জোটের কত প্রার্থী। প্রার্থী চূড়ান্ত হবার পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার ও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের কাছে ভোট চাইবেন। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে জাতির সামনে ইশতেহার পেশ করা। এ ইশতেহারে থাকবে কোনো দল ও কোনো জোট বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে দেশ ও জাতির জন্য কী কাজ করবে এবং কী কর্মসূচি নেবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করবে। এককথায় রাজনৈতিক দলের এ নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে জনগণের কাছে দেয়া গণপ্রতিশ্রুতি।
আধুনিক বিশ্বের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হচ্ছে পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার প্রকাশ। এ ইশতেহার ঘোষণা ও প্রকাশের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়।
এ প্রতিশ্রুতিকে জনগণের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এক ধরনের রাজনৈতিক চুক্তিও বলা যেতে পারে। গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় নির্বাচনপূর্ব এ ইশতেহারগুলোকে গুরুত্বসহকারে নেয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলো সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এ ইশতেহার তৈরি ও ঘোষণা করে। তেমনিভাবে সংবাদমাধ্যমও ততোধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। তারপর সিভিল সোসাইটি থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার সম্পর্কে অবহিত হয়। ইশতেহার ঘোষণার পরবর্তীতে পত্রপত্রিকাসহ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর শুরু হয় চুলচেরা বিশ্লেষণ। অমুক রাজনৈতিক দল এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে- তারা পারবে কি এ ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে ইত্যাদি। তারপর যে রাজনৈতিক দল বা জোট ক্ষমতায় যায়, তখন সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সিভিল সোসাইটি প্রতিনিয়ত তাদের ইশতেহার নিয়ে পুরো পাঁচ বছর বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা চলতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক ময়দান ও সংবাদমাধ্যমে তেমন আলোচনা ও পর্যালোচনা হয় না। আর এটা না হওয়ার কারণ হলো বাংলাদেশে যেমনভাবে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়নি, তেমনিভাবে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিও গড়ে ওঠেনি। অপরদিকে তেমনিভাবে সংবাদমাধ্যমও নিরপেক্ষ নয় এবং শক্তিশালী হয়েও ওঠেনি।
নির্বাচনী ইশতেহার কী ও কেন
ইশতেহার বা ম্যানিফেস্টো নামটা রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতাকর্মীদের সম্যক পরিচিত হলেও তার ইতিহাস ও কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশে অতীতে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। তাই প্রভাবশালী অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করেনি। তাই তারা জনগণের কাছে যথাযথ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহার তৈরি করাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি এবং তার কোনো জবাবদিহিও ছিল না। তাই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কম অংশের মানুষেরই ইশতেহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে। তাই ইশতেহার কী ও কীভাবে তার উৎপত্তি, তা নিয়ে কিছুটা ধারণা নেয়া যাক।
ইশহেতার হলো কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা জোট, সরকার বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আগামী দিনের কর্মসূচি ও নীতিমালা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা বা লিখিত বক্তব্য। এটি সাধারণত জনগণকে জানানো, কোনো দাবি উপস্থাপন করা বা কোনো অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য প্রকাশ করা হয়।
ইশতেহারের ইংরেজি শব্দ হচ্ছে Manifesto। ‘ম্যানিফেস্টো’ শব্দটি এসেছে ইতালীয় শব্দ Manifesto থেকে, যার অর্থ ‘প্রকাশ্য’ বা ‘স্পষ্ট’। এটি একটি লিখিত বা প্রকাশ্য ঘোষণা, সাধারণত সংবাদপত্র, পোস্টার, অনলাইন বা সভার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের ইশতেহার বা প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় বা আইনি বিষয়ের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। তবে সাধারণত একটি দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেই ইশতেহার ঘোষণা ও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এটাকে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠনিকভাবে ঘোষিত একটি দলিলও বলা যেতে পারে।
নির্বাচনী ইশতেহার বা ম্যানিফেস্টোর ধারণাটি আধুনিক নির্বাচনী রাজনীতির অংশ। তবে এ নির্বাচনী ইশতেহারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে ১৮৩৪ সালে। যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার রবার্ট পিলের ‘ট্যামওয়ার্থ ম্যানিফেস্টো’র মাধ্যমে তার প্রথম সূচনা। এ নির্বাচনী ইশতেহার যুক্তরাজ্যের আধুনিক কনজারভেটিভ পার্টির ভিত্তি স্থাপন করে এবং যা পরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়।
১৮৩৪ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার রবার্ট পিল ‘ট্যামওয়ার্থ ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন, তাতে তিনি তার দলের নীতি ও আদর্শ তুলে ধরেন। এটিই ছিল প্রথম দিকের একটি সুপরিচিত নির্বাচনী ইশতেহার। এটি এখন গণতান্ত্রিক বিশ্বে নির্বাচনের জন্য আদর্শস্থানীয় টুলস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এরও আগে ‘ম্যানিফেস্টো’ শব্দটি রাজনৈতিক ঘোষণার জন্য ব্যবহৃত হতো, যেমন কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’, যা তারা ১৮৪৮ সালে প্রকাশ করেন।
বিংশ শতাব্দীতে; বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারকে ভোটারদের কাছে তাদের কর্মসূচি তুলে ধরার একটি অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে, যা একটি ‘চুক্তি’র মতো বিবেচিত হতে থাকে।
সুতরাং নির্বাচনী ইশতেহারের ধারণাটি যদিও পুরনো, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কর্মসূচি হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয় মূলত ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যে, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়।
সর্বোপরি ইশতেহারকে এক প্রকারের গণপ্রতিশ্রুতি (Public Promise) বলা যায়। কোনো রাজনৈতিক দল, নেতা বা সরকার কর্তৃক জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার, যা তাদের সমর্থন আদায়ের জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য করা হয়, যেমন গণঅভ্যুত্থানের পর। এটি মূলত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও আকাক্সক্ষার প্রতি একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার, যেখানে জনকল্যাণ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থাকে ।
ইশতেহার নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের অভিমত
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নির্বাচনী ইশতেহারকে (Manifesto) রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি ও প্রতিশ্রুতির ‘ব্লুপ্রিন্ট’ হিসেবে দেখেন, যা ভোটারদের কাছে নিজেদের মতাদর্শ তুলে ধরতে এবং সরকারের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে; তবে এর বাস্তবায়ন, ফাঁকা বুলি বা কেবল নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যবহার নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগও থাকে, যেখানে ইশতেহার দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও প্রচারে সহায়ক হলেও অনেক সময় প্রার্থীদের স্বাধীনতা সীমিত করে।
ইশতেহারের গুরুত্ব ও ভূমিকা
নীতিগত নীলনকশা (Policy Blueprint) : ইশতেহার হলো দলগুলোর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দলিল, যা তাদের নীতি ও কর্মসূচির সুস্পষ্ট ধারণা দেয়।
পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মানদণ্ড (Performance Benchmark) : এটি সরকারের কাজের মূল্যায়ন এবং দলগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি ভিত্তি তৈরি করে।
ভোট আকর্ষণের কৌশল (Vote-Winning Tool) : দলগুলো ইশতেহারের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে, লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দেয়।
দলীয় মতাদর্শের প্রতিফলন (Reflection of Ideology) : ইশতেহারগুলো দলগুলোর মৌলিক আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, যা গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
প্রচার-সহায়ক উপাদান (Campaign Material) : এটি প্রার্থীদের জন্য একটি সারসংক্ষেপ হিসেবে কাজ করে এবং ভোটারদের মধ্যে বিতরণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা প্রচারাভিযানকে সুশৃঙ্খল করে।
ইশতিহার পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনা
বাস্তবায়নের অভাব (Lack of Implementation) : অনেক সময় দলগুলো ক্ষমতায় আসার পর ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পালন করে না, যা ভোটারদের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করে।
ফাঁকা বুলি ও বিভ্রান্তি (Empty Promises & Misinformation) : অনেক ইশতেহার বাস্তবসম্মত না হয়ে কেবল নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নীতিনির্ধারণে প্রভাব (Influence on Policy) : যদিও ইশতেহারগুলো দলের অবস্থান বোঝার জন্য সহায়ক, তবে অনেক সময় এগুলো মিডিয়া বা অন্যান্য চাপের কারণে ফিল্টারড (Filtered) হতে পারে।
প্রার্থীদের ওপর চাপ (Pressure on Candidates) : ইশতেহার দলের অবস্থানকে সুসংহত করলেও, এটি প্রার্থীদের নিজস্ব নীতি বা ভোটারদের চাহিদা অনুযায়ী কথা বলার স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ইশতেহারকে একটি অপরিহার্য রাজনৈতিক উপকরণ হিসেবে দেখেন, যা গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে, কিন্তু এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বদা প্রশ্ন তোলেন।
ইশহেতার কেন দেওয়া হয়?
একটি রাজনৈতিক দল, জোট বা ব্যক্তি নিজের অবস্থান বা মতামত জানাতে এবং জনগণের সমর্থন পেতে কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মসূচি ঘোষণা করতে নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে থাকে।
রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারকে সাধারণ জনগণের সাথে রাজনৈতিক দলের একটি চুক্তি বলা যেতে পারে। বাংলাদেশেও বিগত প্রতিটি নির্বাচনেই বড় রাজনৈতিক দলগুলো ইশতেহার প্রকাশ করেছে। কিন্তু কোনো সময়ই যেসব রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়েছে তারা ইশতেহার বাস্তবায়নে যেমন গুরুত্ব দেয়নি, তেমনিভাবে জনগণও তাদের জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেনি।
তার মূল কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে বিগত ৫৪ বছরেও গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। যার কারণে রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসন, জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক দল সব একাকার হয়ে আছে। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ না পাওয়ায় দেশে জবাবদিহির কোনো সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জবাবদিহির যেমন সংস্কৃতি নেই তেমনিভাবে জনগণও ততটা শক্তিশালী নয় যে রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
আর মাত্র দেড় মাস পর বাংলাদেশে একটি জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও বাংলাদেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি ও প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দলের ইশতেহার তৈরি করতে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ইশতেহার তৈরিতে অনলাইনে জনমত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গত ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, আপনার একটি সুন্দর পরামর্শ বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের আগামী। আপনার মতামতের ভিত্তিতেই তৈরি হবে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার। ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব মতামত সংগ্রহ করা হবে।
জানা গেছে, অপর বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্ত করছে। বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ে এবারের ইশতেহার তৈরি হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ইশতেহার তৈরিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য উন্নয়ন সেবা এ ৮টি খাতে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
কেমন ইশতেহার চায় জনগণ
আশা করা যাচ্ছে, বরাবরের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ বড় দল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে। বড় দলগুলো তাদের ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। দলগুলো সাধারণত জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই তাদের নির্বাচনী ইশহেতার ঘোষণা করে থাকে। এবারে দেশের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা রাজনৈতিক দলগুলো ইশতেহারে দেশ ও জাতির গুরুত্বপূর্ণ সংকট ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা অন্তর্ভুক্ত করবে এবং তা সমাধানের পথও উল্লেখ করবে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন, লুটপাট বন্ধ, গণতন্ত্র, রাষ্ট্র ও সরকারের ক্ষমতার পৃথকীকরণ, সংবিধান ও আইন সংস্কার, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি, সরকার ও প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে দিকনির্দেশনার পাশাপাশি বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও কৌশল থাকবে তাদের ইশতেহারে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শিল্প ও বাণিজ্য নীতির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেকার সমস্যা সমাধানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কৌশল ও নীতি প্রণয়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে কী কী উদ্যোগ নেয়া হবে, তার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা থাকবে।
প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা নিয়েও যথাযথ নীতিমালা ও পদ্ধতি থাকবে। দেশের জ¦ালানিনীতি থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষানীতি ও গণমাধ্যম নীতিমালা নিয়ে ইশতেহারে যেমন প্রস্তাব থাকবে তেমনিভাবে নীতিমালা ও কর্মকৌশল থাকবে। সর্বোপরি আপামর জনগণের প্রত্যাশা এ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি রূপকল্প প্রণয়ন ও পথরেখা দিয়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার দেবে।
ইমেইল: [email protected]

ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া

সম্পর্কিত খবর