১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না


২৫ জুন ২০২৬ ১১:০১

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি ভুল পথে এগোচ্ছে এবং সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসুন। জনগণকে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করুন। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
বিএনপিকে আওয়ামী লীগের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-যুবসমাজের আন্দোলনকে সরকার দমন করার চেষ্টা করেছিল, নির্বিচারে মানুষ খুন ও পঙ্গু করা হয়েছিল। অবশেষে জনস্রোতের মুখে তৎকালীন বেহায়া ও নির্লজ্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। তিনি মানুষ খুন, পঙ্গু করা, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, ব্যাংক-বিমা-শেয়ারবাজার লুণ্ঠন এবং অর্থ পাচার করেছেন এবং শেষে তার ‘সেবাদাসী’ হিসেবে কাজ করা প্রভুদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গত ২০ জুন শনিবার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশের সর্বস্তরের মানুষÑ যুবক, শিশু, নারী ও প্রবীণ একসাথে দাঁড়িয়েছেন। এই জনজাগরণকে আর থামানো যাবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। যারা জনরায়কে অগ্রাহ্য করে, তাদের পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে।
খুলনাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, খুলনাবাসী, আমরা আপনাদের কাছে একটি অঙ্গীকার নিয়ে এসেছিলাম। আপনারা যে রায় দিয়েছেন, আমরা সেই রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও কৌশলের মাধ্যমে ভোট কেড়ে নেওয়া হলেও আমরা পিছিয়ে যাব না। সংসদে যতটুকু শক্তি আছে, তা নিয়েই সিংহের মতো লড়াই করব, ইনশাআল্লাহ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জানি, অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের কানে জনগণের কথা পৌঁছায় না। সংসদে যদি জনগণের দাবি ও ন্যায়বিচারের সমাধান না হয়, তাহলে দেশের মাঠ-ঘাট, জনপদ ও জনসমাবেশ থেকেই জনগণ তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ সারা দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবেÑ বলেন তিনি।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু কেউ যেন মনে না করেন যে, আমরা অন্যায়কে মেনে নিয়েছি। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি না হোক, সে কারণেই আমরা ধৈর্যধারণ করেছি। কিন্তু অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা আমাদের শিখিয়েছেন, দেশের প্রয়োজনে হাসিমুখে কষ্ট ও সংগ্রামকে বরণ করে নিতে হয়। বাংলার ইতিহাসও সেই ত্যাগ ও সাহসিকতার শিক্ষা দেয়। জনগণ প্রয়োজনে সেই আদর্শ ধারণ করেই এগিয়ে যাবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যদি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভুদের কাছে নতি স্বীকার করা হয়, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণ সর্বদা সচেতন ও প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চাই না। একইভাবে আমাদের দেশেও যেন কোনো ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ না হয়, সেটাও আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক প্রতিবেশীর সম্পর্ক চাই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ এলে জনগণ তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মনে হচ্ছে দেশকে একটি নতুন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। এটি হবে একটি স্বাধীন, মর্যাদাবান, শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। আমি বাংলাদেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছিÑ দেশের কল্যাণে প্রস্তুত হোন। শুধু তরুণরাই নয়, জাতির প্রয়োজনে প্রবীণরাও নিজেদের যুবকের মতো প্রস্তুত রেখেছেন। অন্যায়, শোষণ, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে লড়াই করতে হবে। সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।
সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে জনগণ স্পষ্টভাবে কিছু মৌলিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কারের মধ্যে ছিল- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব হ্রাস; জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন; উচ্চকক্ষে পিআরসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার করা। গণভোটে জনগণের বিপুল সমর্থন এই সংস্কারগুলোর প্রতি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন। গণভোটে যেসব সংস্কার নিয়ে জনগণের সমর্থন ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনীহা ও বিলম্ব জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য মনে করে, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে এবং বাইরে- উভয় ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম। জনগণের প্রত্যাশা হলো- তাদের মতামত, অধিকার এবং উন্নয়নের দাবি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ রয়েছে। খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং সামাজিক অস্থিরতার বিভিন্ন ঘটনা মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করছে। বাগেরহাট থেকে সমাবেশে আসার পথে কিছু ভাইয়ের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই সরকার জনগণের সরকার নয়, কর্তৃত্ববাদী সরকারের দিকে ধাবিত হয়েছে। গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।
এছাড়া অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোবারক হোসাইন, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা ইমরান হোসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আযম মো. আবু বকর এমপি, যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূল এমপি, মেহেরপুর জেলা আমীর মাওলানা তাজউদ্দিন খান এমপি, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির খুলনা মহানগরী সভাপতি অধ্যক্ষ এসএএম সাইফুদ্দোহা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগরী সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মোড়ল প্রমুখ। এ সময় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্যগণ হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান।

চব্বিশের আত্মত্যাগই ২৬ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তি
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা : বিরোদীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ না হলে ২০২৬ সালের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
গত ১৯ জুন শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের রয়েল পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলন-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর আ. জ. ম. রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের পরিচালক ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৪৭, ১৯৫২ ও ১৯৭১ সালের মতোই ২০২৪ সালেও বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি জাতির গভীর কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত এবং তাদের অবদানকে কখনো ছোট করে দেখা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ হয়েছিল বলেই ২০২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। ২০২৪ না হলে ২০২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তাদের রক্তের বিনিময়েই আমরা সরকারি ও বিরোধীদলের অবস্থানে এসেছি। শহীদদের কেউ যেন অবমূল্যায়ন না করেন, এটাই আমার অনুরোধ।’
তিনি বলেন, অতীত আন্দোলন-সংগ্রাম ও গণভোট প্রসঙ্গে অনেকে প্রশ্ন তুললেও জনগণই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। দীর্ঘসময় দেশ স্বৈরশাসনের কবলে ছিল এবং জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানিয়েছে। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সকল সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যথায় জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মাওলানা আবদুল জব্বারকে নারায়ণগঞ্জের সিটি মেয়র প্রার্থী ঘোষণা
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, ব্যাংক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে নিজ দলীয় লোক বসিয়ে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের জনগণ এ একদলীয় শাসনব্যবস্থা মেনে নেবে না। এ সময় তিনি সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালনার দাবি জানান। একই মঞ্চে মাওলানা আবদুল জব্বারকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
গত ১৯ জুন শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. আবদুল জব্বার। পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন।
তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর আবদুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জকে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাশীল নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই এখানে দরকার ভালো মানুষ। এমন মানুষের প্রয়োজন, যে আল্লাহকে ভয় করে এবং যার যে হক, তা তার হাতে পৌঁছে দেয়। আমরা সৎ নেতৃত্ব তৈরি করব, ইনশাআল্লাহ। আবদুল জব্বারের ব্যাপারে তিনি বলেন, তার চোখে ও স্বপ্নে মানুষের কল্যাণ। আগামীতে যাতে ভোট জালিয়াতি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমার বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জবাসী সৎ ও যোগ্য মানুষকেই ভোট দেবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের সাবেক আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, নায়েবে আমীর আবদুল কাইয়ুম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মোমিনুল হক সরকার, শহীদ মো. আবিলের পিতা আবুল কালাম এবং ঢাকা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন। বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।