গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিক

জনতার আন্দোলন চলবে : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি


২৫ জুন ২০২৬ ১০:৫৮

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত শ্রমিক-জনতা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের রায়কে সম্মান না করলে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান থাকবে।
গত ১৯ জুন শুক্রবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর বিধান ও ইসলামী আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মানব রচিত মতবাদ দিয়ে জনগণের প্রকৃত মুক্তি ও শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠিত শক্তি গড়ে তুলতে হবে। ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। শ্রমিকদের সমর্থন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং শতাধিক শ্রমিকের আত্মত্যাগের পরও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে শ্রমিকদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। জুলাই সনদে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখা হয়নি। একইসঙ্গে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোও প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল জাতীয় বাজেটের ০.০৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ০.০৪ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশের শ্রমিকদের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা হলেও চার সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকার কম নয়। শ্রমিকদের ন্যায্য জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন করতে হবে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ভোটের পূর্বে দেশে মদিনার শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল। আমরা সেই কথা তাদেরকে স্মরণ করে দিতে চাই। মদিনার ইসলাম কায়েম করতে হলে রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহকে মনে রাখতে হবে এবং খেলাফতে রাশেদার সুন্নাহকে ধারণ করতে হবে। হাদিসে এসেছে ‘ফিসুন্নাতি ওয়া সুন্নাতিল খুলাফায়ির রাশিদিনাল মাহদিয়্যিন’। হেদায়েত পেতে হলে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে হলে আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহর মধ্যে এবং খেলাফতে রাশেদার সুন্নাহর মধ্যেই হেদায়েত খুঁজতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারী আপনাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। তাদের কথায় চললে আপনি বিভ্রান্ত হবেন। ভুলভাল বলবেন। নিজের মর্যাদা হানি করবেন। দেশ ও জনগণকে লজ্জিত করবেন। আমরা এরকম অবস্থা চাই না। আপনি ১৮ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের পরিপূর্ণ সীমার প্রধানমন্ত্রী। কাজেই বাংলাদেশের সকল মানুষের মর্যাদা, দেশের মর্যাদা রক্ষা করা হচ্ছে আপনার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শুরু করে সর্বত্র আবার ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রতিষ্ঠা করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সেই বিষয়েও আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান, নগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ও মুহাম্মদ ইসহাক, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও অধ্যক্ষ খায়রুল বাশার এবং নগর ফেডারেশনের সহসভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া।