কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বর্জ্য ভাসে পুকুরে
২৫ জুন ২০২৬ ১০:৫৮
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা : কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের সমস্ত বর্জ্য ফেলা হয় পুকুরে। ভাসমান এসব বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ-প্রতিবেশ। এই পুকুরপাড়ের আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বায়ু ও পানিবাহিত নানা রোগ। এভাবে রোগ-বালাইয়ের আতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে হাসপাতালপাড়া জামে মসজিদের পুকুরপাড়টি।
জানা যায়, জেনারেল হাসপাতালের প্রতিদিনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে হাসপাতালপাড়া জামে মসজিদের পুকুরপাড়ে। ময়লা-আবর্জনার জমে থাকা স্তূপ ছড়িয়ে যাচ্ছে পুকুরের পানিতে। এই পুকুরের পানিতে হাসপাতালের রোগী সাধারণ এবং হাসপাতাল পাড়ার অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত অজু ও গোসল করে থাকেন। হাসপাতালের অপসারণকৃত বর্জ্য পুকুরপাড়ে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলায় তা অনায়াসে পুকুরের পানিতে মিশে বায়ু ও পানিবাহিত রোগ ছড়াছে। একই সাথে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার ও আবাসিক এলাকায়। তিনটি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতালের সাথে সংযুক্ত থাকলেও এর বর্জ্য অপসারণের দায়দায়িত্ব কেউ বহন করতে চান না।
দীর্ঘদিন ধরেই দেখেও যেন না দেখার ভান করে চলছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগ। জেনারেল হাসপাতালের সমস্ত অবকাঠামো নির্মাণকাজ ও সংস্কারকাজ করে থাকেন স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ। তাদের পক্ষ থেকে হাসপাতালের বর্জ্য ফেলার জন্য হাসপাতাল চত্বরে কোনো ডাস্টবিন তৈরি করা হয়নি। একইভাবে হাসপাতাল এলাকাটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার আওতাভুক্ত থাকলেও কুড়িগ্রাম পৌরসভা বর্জ্য ফেলার জন্য হাসপাতাল এলাকায় ডাস্টবিন নির্মাণ বা এর জন্য কোনো ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও বর্জ্য ফেলা ও তা অপসারণের ক্ষেত্রে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
এ বিষয়ে হাসপাতালপাড়া জামে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি আবু আহসান, মো. বেলাল হোসেন, ময়নাল হক বলেন, এই মসজিদ অনেক বড় এবং প্রতি ওয়াক্তে অনেক মুসল্লি নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে আসেন। এই মসজিদে স্থানীয়দের পাশাপাশি বহিরাগত মুসল্লির সংখ্যা অনেক থাকে। হাসপাতালের আসা মানুষজন এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন। হাসপাতালের বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় পুকুরপাড়ে। এই ময়লার স্তূপ বড় হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পরে এবং পুকুরের পানিতে মিশে গিয়ে পানি দূষিত করে। এই পুকুরের পানিতে নিয়মিত অজু ও গোসল করেন হাসপাতালে আসা রোগী সাধারণ এবং একইভাবে স্থানীয়রাও এই পুকুরের পানি ব্যবহার করে থাকেন। যার ফলে খুব সহজেই পানি ও বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই।
হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকা একাধিক কর্মচারী বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে আমরা স্বস্তি পাই না। আমরা হাঁচি, কাশি, এলার্জি, খোসপাঁচড়া ও শ্বাসকষ্ট রোগে সবাই ভুগছি।
হাসপাতালপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি আলহাজ যুননুরাইন শামীম বলেন, মসজিদের পুকুরপাড়ে হাসপাতালের বর্জ্য ফেলার কারণে পুকুরের পানিতে তা মিশে গিয়ে পরিবেশ মারাত্মক দূষিত হচ্ছে। এই পানি এখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। হাসপাতাল এলাকায় ডাস্টবিন নির্মাণ করা জরুরি।
জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, হাসপাতালের বর্জ্য আগে থেকেই পুকুরপাড়ে ফেলা হতো। হাসপাতালে বর্জ্য ফেলার জন্য কোনো ডাস্টবিন নেই। আমরা ডাস্টবিনের জন্য চেষ্টা করছি।