ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সতর্ক জামায়াতে ইসলামী
১২ আগস্ট ২০২৬ ২১:০৮
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
অর্জন যেন বিসর্জন না হয়- ছোট এ কথার মানে আর কেউ না বুঝলেও জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঠিকই উপলব্ধি করতে পারছেন বলে মনে করেন দেশের রাজনীতি বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালে আগস্ট বিপ্লবের পরপরই দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’র সঞ্চালক ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক শালীনতা, সংযম ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন। জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ডা. শফিকুর রহমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উসকানিমূলক রাজনীতি এড়িয়ে চলা, প্রতিহিংসার বিপরীতে ক্ষমার সংস্কৃতি চর্চা এবং দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় তার নেওয়া বাস্তবমুখী পদক্ষেপ দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতায় অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।’ এই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত আছে- জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি কর্মসূচি যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা সবাই এ কথা স্বীকার করেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ফলাফল ঘোষণায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা জানার পরও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তার নেতৃত্বের ১১ দলের সদস্যদের এমপি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ; এরপর প্রধান বিরোধীদলের নেতা হিসেবে সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা দেশ ও জাতিকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেছে বলে বিশ্বাস করেন বিশ্লেষকরা। জাতীয় স্বার্থে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাথে সাথে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সতর্ক পদক্ষেপে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের তোষামোদিও নয়, আবার অহেতুক বিরোধিতাও নয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি বিরোধীদলের অবস্থান যেমন হওয়া উচিত, ঠিক তেমন ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। চিন্তাবিদ, কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার মন্তব্য করেছেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ডা. শফিকুর রহমান যেভাবে ‘জুলাই চেতনা’ এবং ছাত্র-জনতার গণআকাক্সক্ষাকে ধারণ করেছেন, তা ইতিবাচক। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মেরুকরণ এড়িয়ে সব পক্ষের সাথে সমন্বয় ও সমঝোতার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে সহজ করেছে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই বিপ্লবের সুফল দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবং এ অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে পূর্ণতা দিতে গণভোটের রায় কার্যকর করতে সতর্ক পদক্ষেপে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা বিশ্বাস করে, বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি নির্দিষ্ট তারিখ বা মুহূর্তের বিজয়েই শেষ হয় না।
জুলাই এখনো শেষ হয়নি
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিপ্লব চিরন্তন নিয়ম। ইতিহাসের পাতায় কোনো বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি নির্দিষ্ট তারিখ বা মুহূর্তের বিজয়েই বন্দি থাকে না। তাই বিপ্লবীদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। একটু অসতর্ক হলেই প্রতিবিপ্লব মাথাচাড়া দিয়ে মুর্হূতেই সব শেষ করে দিতে পারে। তাই চূড়ান্ত বিপ্লবের পরও আত্মহারা হওয়ার অবকাশ নেই। কথায় আছে- স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। শুধু স্বাধীনতা নয়, প্রতিটি অর্জনের ক্ষেত্রেই এ কথা সমান গুরুত্ববহ। এ গুরুত্ব বুঝতে ভুল করলে অর্জন বিসর্জনে পরিণত হতে সময় লাগে না। ফরাসি বিপ্লব থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের যেকোনো গণআন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ক্ষমতাচ্যুত অপশক্তি কখনোই তাদের পরাজয় সহজে মেনে নেয় না। চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিপ্লবের ফসল ছিনতাই করা এবং রং বদলে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুপ্রবেশ করে প্রতিবিপ্লব ঘটানো অপশক্তির একটি চিরন্তন রাজনৈতিক কৌশল।
চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র থেমে নেই
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্টের অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে দেড় দশকের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। কিন্তু দীর্ঘদিনের সুবিধাভোগী অপশক্তি এবং তাদের দোসররা অন্তর্ধানে গেলেও তাদের চক্রান্ত থেমে নেই। তারা সুযোগের সন্ধানে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে তাদের প্রভু আধিপত্যবাদী ভারতের মদদে প্রতিশোধ নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই সন্ধিক্ষণে দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং গণআকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ পলিসি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারণ পতিত অপশক্তির স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা জনরোষ থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালালেও তাদের তৈরি করা সুবিধাভোগী ও অনুগত একটি বিশাল গোষ্ঠী এখনো দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবস্থান করছে।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়, সচিবালয়, বিচার বিভাগ এবং পুলিশের অভ্যন্তরে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা রূপ পরিবর্তন করে আত্মগোপনে রয়েছে বা নতুন রূপ ধারণ করেছে। পরাজিত শক্তির দোসররা রাতারাতি নিজেদের অবস্থান বদলে বিভিন্ন উদীয়মান রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের ছত্রছায়ায় ও আশ্রয়ে অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তারা জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকার ছদ্মবেশ ধরে মূলত জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করছে।
প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি, দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সম্পর্কে হতাশা ছড়াচ্ছে।
২০২৪ বিপ্লব আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের দাসত্ব থেকে বাংলাদেশের মুক্তির লড়াই। গণহত্যার দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ দেড় দশক ধরে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রেখেছিল। ফলে ভারতে আশ্রয় নেওয়া পরাজিত শক্তির মূল নেতৃত্ব এবং আধিপত্যবাদী শক্তি যৌথভাবে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়। তাই তারা ছাত্র-জনতা, আলেম-ওলামা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার জাতীয় ইস্পাতকঠিন ঐক্য নষ্ট করতে দেশে কৃত্রিম রাজনৈতিক কোন্দল উসকে দিয়ে এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করা যে, বাংলাদেশ অস্থিতিশীল। আধিপত্যবাদী ভারতের মাধ্যমে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসন করে দেশে প্রতিবিপ্লবের অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করতে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সুস্থ ও টেকসই রাজনীতির জন্য মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। পরাজিত অপশক্তি তাদের রং বদলে সরকারের নীতিনির্ধারণী স্তর ও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট- আইনসম্মত, গণতান্ত্রিক এবং রাজপথের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে এই সুযোগসন্ধানী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত ও পরাস্ত করতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামী সতর্কতার সাথে এ সঙ্কট মোকাবিলা করছে, তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে না। ১১ দলীয় ঐক্য অটুট রেখে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করছে। তাদের পক্ষে জনমত গঠনে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘১১ দলীয় জোট সংসদে গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চায়। ১১ দল ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অন্ধকার যুগের হত্যার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে গণতান্ত্রিক পথে আনতে জামায়াতে ইসলামী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাই গণতান্ত্রিকভাবে এবং আইনগতভাবে হত্যা সন্ত্রাসের তার মোকাবিলা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী কায়দা থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দিতে হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে, জনগণের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের জাতীয় সংসদে এবং এর বাইরেও গঠনমূলকভাবে শক্তিশালীভাবে ভূমিকা রাখবে হবে। জামায়াতে ইসলামী ১১ দলকে সাথে নিয়ে সে পথেই হাঁটছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ৪ বিভাগে লংমার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।’
তিনি আরো জানিয়েছেন, ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকার মুক্তাঙ্গনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচি হলো- ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা অভিমুখে লংমার্চ। ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ (রেল যাত্রা)। ১৪ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় এই সংকট অনুধাবন করে দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে স্পষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ পলিসি ঘোষণা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়, কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এবং সম্মান, ইজ্জত, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর প্রত্যয়দীপ্ত সাহসী তারুণ্যের এ বিপ্লব। এ বিপ্লবের লক্ষ্য ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ গড়া এবং আগামীর পথচলা। আমাদের ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে তাদের প্রত্যাশার সুন্দর আগামী গড়ার জন্য। সেই জিম্মাদারি আমাদের যথাযথভাবে আঞ্জাম দিতে হবে।’
তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন, ‘বিপ্লব কোনো বয়স মানে না। ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী অপশক্তি যদি সরকারের ভেতরের বা বাইরের দোসরদের মাধ্যমে জুলাই সনদের চেতনাকে অকার্যকর করতে চায় বা জনগণের রায় নিয়ে ধোঁকাবাজি করে, তবে দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা আবার রাজপথে নেমে যেকোনো প্রতিবিপ্লবী চক্রান্তকে রাজপথেই রুখে দেবে।’
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্যবাদী ভারত ও তার পরাজিত সেবাদাসরা রূপ বদলে, নতুন ছদ্মবেশে প্রশাসনের ভেতরে ও রাজনৈতিক ময়দানে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এর মোকাবিলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের অঙ্গীকার- কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো প্রলোভন বা চাপের মুখে জুলাইয়ের চেতনা ও জনগণের সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিতে দেবে না। যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করে সময়ের দাবি পূরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সদা প্রস্তুত।