বিএনপির প্রার্থী ফখরুল, ১১ দলের কর্নেল অলি
১২ আগস্ট ২০২৬ ২১:০৩
স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২০ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য তাদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের নাম ঘোষণা করেছে। সরকারি দল বিএনপি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুখ খোলেনি। একাধিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ব্যাপক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এখনো দল থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি জানিয়েছেন, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, ১৩ আগস্ট ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রত্যাহার করা যাবে।
সংবিধানের ৭০ ধারা কার্যকর থাকায় নিজ দলের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি। তাই পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ নির্বাচন একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সরকারি দল থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলেই স্পষ্ট হবে, কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। বিএনপির আরো যাদের নাম শোানা যাচ্ছে, তারা হলেন- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে তাদের নাম যে প্রেক্ষাপটে এসেছিলো, বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। তাই এর মধ্যে অন্য কোনো ঘটনা না ঘটলে বলা যায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
গত ৯ আগস্ট রোববার সকালে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সর্বসম্মতভাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শীর্ষনেতা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈমসহ ১১ দলের শীর্ষনেতৃবৃন্দ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ১১ দলের শীর্ষনেতৃবৃন্দ।
ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। সবক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত। আমরা চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের গতি ও সুস্থধারা ফিরে আসুক। এজন্য আমরা সর্বসম্মতক্রমে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রমকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছি।
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আমি বাংলাদেশের জনগণ ও ১১ দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই মনে করেছে আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একজন পরীক্ষিত লোক এবং আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সুন্দরভাবে জীবনযাপন করছি। এজন্য সবাই আমাকে মনোনীত করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমি আমাদের জায়গা থেকে এ জাতির সাথে বেঈমানি করব না। হারবো বা জিতবো সেটি প্রশ্ন না- জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং মানুষের জন্য যেটা ভালো, সেটার জন্য সবসময় কাজ করব। সেজন্য আজ একসাথে হয়েছি এবং সবাই আমার নাম প্রস্তাব করেছে।
নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি সরকার জনগণের সাথে দ্বিচারিতা করছে। জুলাই সনদে ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারব। কিন্তু সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। এই সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা আনন্দিত আমাদের বিবেচনায় সবচেয়ে যোগ্য একজনকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনীত করেছি। ১১ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে মনোনীত করেছি। তিনি জুলাইয়ের চেতনার একজন বলিষ্ঠ ধারক। আমরা আশা করব, ১১ দলের বাইরেও যারা দেশকে ভালোবাসেন, তারাও তাকে বিবেচনা করবেন। আমরা প্রত্যাশা রাখি, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের সফল নেতৃত্ব দেবেন।