রাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এবং…
২৯ জুলাই ২০২৬ ২০:০২
॥ মাহবুবুল হক ॥
যতই দিন যাচ্ছে, ততই কেন যেন মনে হচ্ছে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব সার্থক ও সফলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের স্টেকহোল্ডাররা ছিল প্রাথমিকভাবে কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় পর্বে এলো কন্যা, জায়া ও জননীরা। তৃতীয় পর্বে এলো বাবা, চাচা, খালু, মামা তথা আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা। ফ্যাসিবাদকালের রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের যৌক্তিক দাবি করেছিল জুলাই বিপ্লবের সৈনিকরা। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরপরই খুব মজবুতভাবে এই দাবি উত্থাপন করে রাষ্ট্রপতির ভবন ঘেরাও করেছিল জুলাই বিপ্লবের স্টেকহোল্ডাররা। তারা এ দাবি থেকে কোনো অবস্থায়ই সরে আসতে চাচ্ছিল না। তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ফ্যাসিবাদের পথের বিচারপতিরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগে বাধ্য করা যায়নি। কোনো না কোনো পক্ষের স্বার্থের পাহারাদার ছিলেন তিনি। অবশেষে সেই পাহারাদারিত্ব অন্য কোনো পক্ষ সামাল দেবে বলে তিনি এখন চলে গেলেন। চলে তাকে যেতেই হতো। কারণ নতুন সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণকালে বিরোধী জোট সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল। যদিও প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন করে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন। তার সেই অভাবিত বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ নানা মাত্রায় বিশ্লেষণ করেছিলেন। বোঝা গিয়েছিল, প্রেসিডেন্টের সেই ভাষণ ড্রাফট করে দিয়েছিল বর্তমান সরকার। সাধারণত আমাদের দেশে এভাবেই প্রেসিডেন্টের ভাষণ সরকার বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়। যদিও ইচ্ছা করলে প্রেসিডেন্ট নিজের ভাষণ নিজেই তৈরি করতে পারেন বা উপস্থাপন করতে পারেন।
আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি তথা রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অতটা সবল নয়। অনেকটা দুর্বল। প্রেসিডেন্টকে দুর্বল অবস্থানেই থাকতে হয়। প্রেসিডেন্ট-শাসিত সরকার থাকলে প্রেসিডেন্টের যে ক্ষমতা থাকত, তা তো আর নেই। ভবিষ্যতে এর পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। গণতন্ত্রের মাঝেও একজন রাজা, রানি বা প্রেসিডেন্ট থাকতে হয়। সে কারণে রিচুয়াল হিসেবে এটা রয়ে গেছে। যেহেতু মনে করা হয় যে, রাজা বা রানি রাখার স্কোপ এখন আর নেই। সে কারণে আমাদের সংবিধানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন টিউটোরিয়াল হেডকে রাখা হয়েছে।
ব্রিটেনের পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে রাজা-রানির যে সম্মান এবং বিশ্বব্যাপী যে মর্যাদা, তা তো আর পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসির অধীনে প্রেসিডেন্টের নেই। কিছু না কিছু থাকলে অসুবিধা হয়তো হতো না। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বেপরোয়াভাবে শক্তিশালী থাকতে চায়। ক্ষমতার ভাগাভাগি করতে চায় না। কোয়ালিশন গভর্নমেন্ট করতে চায় না। শক্ত বা উন্নত বিরোধীদলও চায় না। তারা চায় গৃহপালিত সবকিছু। যেমন গৃহপালিত প্রশাসন, সংসদ, সংসদের স্পিকার, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টপব্রাস, সামরিক বাহিনীর প্রধানগণ, নির্বাচন কমিশন, সংবাদপত্র ও মিডিয়াসহ রাষ্ট্রের প্রধান প্রধান বিভাগসমূহ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এমনকি তারা চায় গৃহপালিত বিরোধীদল ও বিরোধী জোটও যেন তাদের অধীনে বা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
থেকেছেও। শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখন তিনি খুব চিন্তাভাবনা করে এমন একজন প্রেসিডেন্ট বানালেন, যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বেতনভুক্ত অফিস সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ। খুব নিরীহ টাইপের লোক। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তাকে আমরা দেখেছি ৫৪, পুরানা পল্টনের অফিসে। রাস্তা থেকেই তাকে দেখা যেত। অফিসের দক্ষিণ দিকের দরজা-জানালা সব খোলা থাকতো। টেবিল-চেয়ারে বসে নিঃশব্দে কাজ করতেন। কোনো প্রয়োজনে নিজে উঠেই সব কাজ করতেন। হাঁটা-হাঁটিতে ব্যস্ত থাকতেন। দর্শনার্থীরা স্বাভাবিকভাবে তার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। কথাবার্তা বলতে পারতেন। নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের মানুষ ছিলেন। সহজ-সরল নির্বিরোধ মানুষ ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান তাকে কেন প্রেসিডেন্ট করেছিলেন, সেই বিষয়ে সেই সময়কালে কম আলোচনা হয়নি। একবাক্যে সংবাদপত্রসহ সকল উঁচু মহলে এ বিষয়ে যে শেষ কথাটি বলা হয়েছিল, তা হলো রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ পদটিকে স্বয়ং শেখ মুজিব ইচ্ছা করে তছনছ করে দিয়েছেস। রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদটি একটি ব্যক্তির পদ নয়। রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি, প্রধান ইনস্টিটিউশন। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, তার শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-গবেষণা, বিশ্ব দৃষ্টি, ইতিহাস, চেতনা, অতীতকাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত মানুষের সভ্যতা, উন্মেষ ও ধ্বংসলীলা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য, যোগাযোগ, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, বন্ধুত্ব, মানুষে মানুষে শত্রুতা, ধর্মে ধর্মে শত্রুতা, জাতিতে জাতিতে শত্রুতা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, মতবাদ ও আদর্শের তরঙ্গ, জাতীয়তাবাদ, জাতিগত সংকীর্ণতা, জাতিগত উচ্চতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সঙ্গীত, চিত্রকলা, নাট্যকলা, গার্হস্থ্য কলা, মানুষের কমেডি, ট্র্যাজেডি, বক্তৃতা, যাপিত জীবন, বিজ্ঞানের অভিযাত্রা, জ্যোতিষবিজ্ঞান, ভূগোল, যুগে যুগে ভূগোলের রূপান্তর, দেশে দেশে আগ্নেয়গিরি উল্লাস, ভূমিকম্পের দিশেহারা কম্পন, ঝড়-ঝঞ্ঝার গতি-প্রকৃতি, সমুদ্রসমূহের কর্ম ও আচরণ, সমুদ্র সম্পদ, সমুদ্রের পথপরিক্রমা, নদী ও গতি-প্রকৃতি, নদী ও তার আচরণ, নদী ও সভ্যতার বিকাশ, ভূমির উৎপত্তি, গঠন, প্রকৃতি, কৃষি ও লোকজ বিষয়, কৃষির উন্নতি, কৃষির বিজ্ঞান ও বিকাশ, জনপথ, আকাশপথ-নদীপথ, সমুদ্রপথের সূত্র, উন্নতি ও বিকাশ। এর সাথে আরো যুক্ত হবে খেলাধুলা, ব্যায়াম, বিনোদন, লাইফস্টাইলসহ লাখো রকম বিষয়-আশয়। যা একজন রাষ্ট্রনায়ক বা প্রেসিডেন্টের সবকিছু জানতে হবে, সে কথা আমরা বলছি না। কিন্তু প্রকৃতি ও মানবজাতির বিষয় সম্পর্কে তার মৌল ধারণা থাকতে হবে। তার সাথে ইন্টারভিউ হবে দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রনায়কদের, সরকারপ্রধানদের, রাষ্ট্রদূতদের, সেনাপ্রধানদের, নোবেল-লরিয়েটদের, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, নাট্যকার, চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক। যারা এখন পৃথিবীকে পরিচালনা করছে, তাদের মুখ্যজনরা আসবে। যারা মহান আল্লাহর এই পৃথিবীকে ইচ্ছা করে ধ্বংস করছে, তারাও তো আসবে।
সবাই শুধু আসবে? তাকে আবার রিটার্ন করতে হবে না? বেশি বুড়ো হলে যাবে কী করে। অথচ না গেলে একজন প্রেসিডেন্টের জীবন-দৃষ্টি সমৃদ্ধ হবে কী করে। শুধু প্রেসিডেন্টের কেন রাষ্ট্রের স্বার্থে তার সফরসঙ্গীদের কথাও তো ভাবতে হবে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠতর ফোরামগুলোয় তাকে অংশগ্রহণ করতে হবে। নিজের দেশের ভাষা এবং এর সাথে আরো অন্তত দুটি বা তিনটি ভাষা তার অধিকার বা আয়ত্তে থাকতে হবে। যেমনÑ আরবি, ইংরেজি ও স্প্যানিশ।
সবচেয়ে বড় কথা এই মান্যবর ব্যক্তিকে আমাদের আত্মপরিচয়, জাতিসত্তা, কৃষ্টি, স্বপ্ন, আকাক্সক্ষা ও উন্নত যাপিত জীবন সম্পর্কে হিমালয়সম উচ্চতর উপলব্ধি এবং তার সাথে শক্ত, মজবুত ও খাড়া মেরুদণ্ডের প্রাণবন্ত মানুষ হতে হবে।
একটু ভিন্নতর কথা বলি, মনে কিছু নেবেন না। একজন মহান ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার পূর্বে তার পূর্বসূরি, পূর্বসূরির পরিবার, বর্তমান পরিবার ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি পরিবার সম্পর্কে রাষ্ট্রের উন্নত ধারণা থাকতে হবে। সম্মানিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উল্লাহর জীবনসঙ্গী সম্পর্কে কিংবদন্তি আছে যে, বঙ্গভবনের মতো বিরাট ও বিশাল বাড়ির অধিবাসী হয়ে তিনি তার প্রিয়তম সৌভাগ্যবান জীবনসঙ্গীকে বলেছিলেন, আমাদের তো এতো রুমের প্রয়োজন নেই, তাছাড়া আমাদের দায়-দেনাও তো অনেক আছে। রুমগুলো ভাড়া দেয়া যায় না?
দেশের সিনিয়র সিটিজেনরা জানেন, এ নিয়ে দেশময় হাসি-ঠাট্টার সমারোহ ঘটেছিল। অধিকাংশ দেশবাসী এই গুজবের প্রেক্ষাপটে খুব লজ্জা ও শরম অনুভব করেছিলেন। এটা আবার কী ধরনের কথা হলো। এত সংকীর্ণমনা একটা পরিবারের মানুষকে কেনই-বা প্রেসিডেন্ট করা হলো আর তার জীবনসঙ্গীই-বা এতো ছোট মনের বা ছোট মানের আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেছেন এটা একদম ঠিক হয়নি। প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট পত্নীর একান্ত গল্প বাইরে কীভাবে চলে এলো এর অবশ্যই তদন্ত হওয়া দরকার। হয় এটা আওয়ামী লীগের শত্রুরা বানিয়েছে, না হয় প্রেসিডেন্ট ও তার জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কিত ছোটখাটো আত্মীয়-স্বজন এসব তৈরি করেছে। দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য এটা বাঞ্ছনীয় ছিল না। শেখ মুজিবুর রহমান কি জানতেন না, ছোট স্তরের মানুষরা বড় স্বপ্ন দেখতে পারে না। তারা যেখানেই যাক, ছোটমানের স্বপ্নই শুধু দেখে। প্রবাদ আছে ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’। আমার এই মুহূর্তে মনে আসছে না দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের কোনো বড় মানুষ বা অভিভাবক শ্রেণির মানুষ এই বিষয়ে কোনো কথা রেখেছিলেন কিনা। তবে বিষয়টি নিয়ে অনেক যৌক্তিক ও অযৌক্তিক কথাবার্তা যে বিস্তৃত হয়েছিল, সে কথাটি আমার খুব ভালো করে মনে আছে।
আমাদের উল্টাপাল্টা ৬৯ বলে একটা মজার গ্রুপ ছিল। আমরা এ বিষয় নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা করেছিলাম, তা অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য। আমরা পুরো বিষয়টিকে পজিটিভ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম মিসেস মোহাম্মদ উল্লাহর সাথে আমরা দেখা করে তাকে ধন্যবাদ জানাব এবং তার প্রতি দেশ-জাতি ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা, দোয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। তিনি একজন মুসলিম ছিলেন। তিনি আমাদের মহামান্য খলিফাদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবহিত ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তিনি এ ধরনের কথা রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তির কাছে আনন্দের সাথে উপস্থাপন করেছিলেন।
তিনি তো ভাবেননি তার দেশটি, রাষ্ট্রটি ও জাতিটি মুসলিম ঘরানার নয়। তিনি জানতেন, এটা মুসলমানদের রাষ্ট্র। মুসলমানদের নবী ও রাসূলগণ সবাই ছিলেন মুসলিম ও মুমিন। মহান খলিফারা ছিলেন তাদের পবিত্র উত্তরসূরি। তাঁরা এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীগণ তাদের যাপিত জীবনে এ ধরনের কৃচ্ছ্রতা বা সহজ-সরল জীবনের উজ্জ্বল নজির তো মানবজাতির জন্য রেখে গেছেন। সেসব কাহিনী আমরা মুগ্ধতার সাথে পড়াশোনা করি। অথচ এখনকার মুসলিম দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের নাগরিকগণ অতীতের ঐশ্বর্য নিয়ে গর্ব তো করিই না বরং এসব নিয়ে হাসি-তামাশা করি।
রাষ্ট্রের বা সরকারের যে যেখানে আমরা আছি, কে কত বেশি অন্যায়ভাবে খরচ করতে পারিÑ সেটাই যেন অহংকারের বিষয়, গর্বের বিষয় এবং গৌরবের বিষয়।
গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্রের বা সরকারের বড় থেকে ছোট কোনো স্তর থেকেই এ ধরনের মুসলমানিত্বের কথা আমরা কখনো শুনিনি। রাষ্ট্রের উচিত এই মহামনীষীকে পদক বা পুরস্কার প্রদান করা।
আরেকটা উদাহরণ আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নিয়ে চয়ন করতে পারি, সেটা হলো ‘ইন্ডিয়ার’ এক সময়ের প্রেসিডেন্ট এ পি জে আবদুল কালামের যাপিত জীবন ও তার জীবনের যাবতীয় ঐশ্বর্য ও সম্পদ। তিনি শুধু ভারতের সম্পদ ছিলেন না। তিনি ছিলেন বিশ্বমানবতার সম্পদ।
এখনো এই নষ্ট পৃথিবীতে অনেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী আছেন, যারা আমাদের সাহাবীদের অনুসরণের চেষ্টা করেন। এখনো সরল, সহজ ও স্বাভবিক জীবনযাপন করছেন। তারা কখনোই ভাবেন না, ‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’।
একজন প্রেসিডেন্ট-পত্নী খালি রুম ভাড়া দিতে চেয়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) গভর্নর ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজম খান। তিনি দেশ, জাতি, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বঙ্গভবনের অর্ধেক ভূমি কুরবানি করেছিলেন। সিনিয়র সিটিজেনদের নিশ্চয়ই মনে আছে, বঙ্গভবনের পশ্চিম-দক্ষিণের দেয়ার ছিল গুলিস্তান সিনেমা হল পর্যন্ত এবং তার উত্তর ও দক্ষিণের কিছু জায়গা পর্যন্ত। এখন যেখানে একপাশে পাবলিক পার্ক রয়েছে। এই বিষয়টিও তো প্রণিধানযোগ্য। একই বিষয় নিয়ে আমরা দুই ধরনের গর্ব করতে পারি। একটি হলোÑ ফুটানি দেখানোর জন্য সেক্যুলার গর্ব। আরেকটি হলো- মুমিনদের চিরন্তন অল্পতুষ্টের গর্ব।