কুড়িগ্রামে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

উদ্যোক্তার অভাবে জমছে না বিসিক শিল্পনগরী


৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:০৪

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকার পরেও বিনিয়োগকারী না থাকায় ৪৫ বছরেও জমে উঠতে পারেনি বিসিক শিল্পনগরী। অটো রাইস মিলস প্রযুক্তিতে শুধু চালকল নির্ভরশীল এই শিল্পনগরীতে বর্তমানে নেমেছে ধস। ঋণ প্রদান কার্যক্রমে অনেক নারী উদ্যোক্তা থাকার পরেও কোনো বড় নারী বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ মেলেনি।
১৯৮১ সালে ২০ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের জেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। শুরুতেই কৃষি নির্ভরশীল জেলায় কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে অধিকাংশ প্লটে স্থাপন করা হয় চালকল। প্রযুক্তিতে অটোরাইস মিল আসায় এই শিল্পনগরীর এনালগ যুগের স্থাপিত চালকল চাতালগুলোর অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে এই শিল্পনগরীর স্থাপিত মিল কারখানাগুলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। শিল্পনগরীতে ৮৮টি উন্নত এবং ৪৫টি অনুন্নত প্লট এর মধ্যে বরাদ্দকৃত অনুন্নত ৬টি প্লট ৪৩তম সভায় বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত প্লটগুলো সবেমাত্র কাগজ কলমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে স্থানীয় এক শিল্পপতিকে। এই শিল্পনগরীতে উৎপাদনরত খাদ্য ও খাদ্যজাত শিল্প রয়েছে ২২টি। নির্মাণাধীন ১টি এবং বন্ধ আছে ২টি। উৎপাদনরত বস্ত্র ও বস্ত্রজাত শিল্প ৪টি, পাট ও পাটজাত শিল্প ২টি, রসায়ন ও ওষুধশিল্প ৭টি, প্রকৌশল শিল্প ১টি রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১ হাজার ১২৪ জনের। এর মধ্যে নারীদের কর্মসংস্থান হয়েছে ৪২৪ জনের।
শিল্পনগরীতে স্থাপিত শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদন চলমান থাকলেও শিল্পে তারা তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। এই শিল্পনগরীর অধিকাংশ কারখানা নাম মাত্র উৎপাদন করে থাকে, যাতে তাদের বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল না হয়। অপরদিকে বিসিক জেলা কার্যালয় ও শিল্পনগরী যৌথভাবে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছেন এই জেলায়। ২০২১ সাল থেকে প্রণোদনার আড়াই কোটি টাকা এবং ২০১৫ সাল থেকে ষাট লাখ টাকার ঋণ আদান- প্রদানের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৬৫ জন উদ্যোক্তা ঋণ গ্রহণ করে তা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন উল্লেখযোগ্য। এই জেলার নারী উদ্যোক্তারা উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা পেলে তারা শিল্পে ভালো বিনিয়োগকারী হতে পারবেন।
নারী উদ্যোক্তা জুলিয়া জুলকারনাইন রত্না বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ নারী উদ্যোক্তা হয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের উৎপাদিত পণ্য দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। আমরা উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতা পেলে এই জেলার জন্য ভালো বিনিয়োগকারী হতে পারবো।
শিল্পনগরীর বিনিয়োগকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, এই শিল্পনগরীতে চালকল চাতালের সংখ্যাই বেশি। অটোরাইস মিলস চালু হওয়ায় এই শিল্প নগরীর অনেক চালকল শিল্পে ধস নেমে আসে। তারা কোনোরকমে শুধু তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। হাসিনা সরকারের পতনের পরে এই শিল্পনগরীর প্লট বরাদ্দ পাওয়া অনেক বিনিয়োগকারী ঘা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের কারখানাগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ আছে। কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই শিল্পনগরীর রাস্তা গুলো সংস্কার করে বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে উন্নত শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। বিসিক কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, কুড়িগ্রাম কৃষিপ্রধান জেলা হওয়ায় শিল্পনগরী গড়ে উঠেছে কৃষিভিত্তিক। এই জেলার চিলমারী উপজেলায় একটি নৌবন্দর এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সোনাহাট স্থলবন্দর আছে। আমাদের বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন এলাকায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে। এখন এই শিল্পনগরীতে বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব। আমরা ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ভালো উদ্যোক্তা ও ভালো বিনিয়োগকারী তৈরি করার জন্য চেষ্টা করছি।