গাইবান্ধায় জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশে মাওলানা আবদুল হালিম

অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে


৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৩

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে গত ৪ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০টায় জেলা কার্যালয়ে এক দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, গাইবান্ধা জেলা আমীর ও গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল হক সরকারের পরিচালনায় দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যগণ দেশের সর্বস্তরের জনগণ ও সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের মানুষ জামায়াতকে অভূতপূর্ব সমর্থন প্রদান করেছে। এজন্য দেশবাসীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। জামায়াতের এমপিগণ জাতীয় সংসদে গিয়ে দেশের জনগণের পক্ষে কথা বলছে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জামায়াত কোনো আজ্ঞাবহ বিরোধীদল নয়। আমরা একটি কার্যকর সংসদ গড়ে তুলতে চাই।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামায় বিএনপি স্বাক্ষর করেছে। যে অধ্যাদেশ দিয়ে নির্বাচন হয়েছে, সে অধ্যাদেশ দিয়ে গণভোটও হয়েছে। সরকার জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রকারান্তরে তা থেকে তারা সরে আসছে। বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে এখন জুলাই সনদের বিপরীতে চলছে। নির্বাচন মানলে গণভোটও মানতে হবে, আর গণভোট মানলে সংবিধান সংস্কার মানতে হবে। জনগণ আজ বিক্ষুব্ধ। জনগণ রাস্তায় নেমে আসার উপক্রম হয়েছে। ৪ কোটি জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং গণভোট বাতিলের ষড়যন্ত্র করলে সরকার নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সংসদে ও সংসদের বাইরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদসমূহে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরই বসাতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে অবিলম্বে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আবদুল হালিম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কল্যাণে যে সকল অধ্যাদেশ জারি করেছে, সেগুলো বর্তমান সরকারকে কার্যকর করতে উদ্যোগ নিতে হবে। বিএনপি তাদের মেনিফেস্টোতে যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেছিল, তার প্রথম দফা দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা। অথচ আজ বিএনপি সংবিধান সংস্কারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গণভোটের অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বেশ কিছু অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল। তিনি সরকারকে এ হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
জামায়াতের জনশক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক সংগঠন। তাই জামায়াতের দায়িত্বশীল এমপিগণকে দায়ী ইলাল্লাহর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি জামায়াতের সকল স্তরের জনশক্তিকে সত্যের সাক্ষ্য হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক জেলা আমীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর আব্দুল ওয়ারেছ এমপি, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম এমপি, জেলা সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনজ্জামান ও মো. ফয়সাল কবির রানা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ছাত্রনেতা মো. ইউসুফ আল কারযাভীসহ জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং উপজেলা আমীর ও সেক্রেটারিরা।