পঞ্চগড়ে চা বাগানে সাথী ফসল আম
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৫
আসাদুজ্জামাসান আসাদ, পঞ্চগড় : বসিরুল আলম প্রধান একজন সফল কৃষক। চা বাগানের ফাঁকা জায়গায় সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক বিদেশি জাতের আম বাগান করেছেন। কৃষি কাজে সমন্বিত কৃষির মডেল প্রতিষ্ঠা করেছন তিনি, যা থেকে বাড়তি আয় ঘরে তুলছেন। পঞ্চগড়ের সমতল মাটি কৃষি কাজের জন্য খুবই উপযোগী। এ মাটিতে রবিশস্যসহ নানা প্রজাতির ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত চাষাবাদের লক্ষ্যে তিনি ২২ একর জমিতে চা বাগান করেন।
জানা যায়, বসিরুল আলম প্রধান আলম চেয়ারম্যান নামে পরিচিত। তার বয়স ৭০ বছর। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান। তার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার দেওয়ানহাট এলাকার মহানগরপাড়া গ্রামে। স্থানীয় লোকজন তাকে আলম চেয়ারম্যান নামে চেনে। চলতি মৌসুমে তার চা বাগানের ফাঁকা জায়গায় লাগানো আম গাছে প্রচুর পরিমাণ মুকুল ধরেছে। আম গাছে মুকুল আসার সাথে সাথে গাছ পরিচর্যা শুরু করেছেন। প্রতিদিন শ্রমিকরা চা বাগানের আম গাছের যত্ন নিচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে সাজানো এ বাগান এখন স্থানীয় কৃষকের কাছে দর্শনীয় ও প্রেরণার জায়গায় পরিণত হয়েছে।
আম বাগানটি থেকে উদ্যোক্তা বসিরুল আলম প্রধান গত দু’বছরে ভালো সাফল্য পেয়েছেন। ২০২৪ সালে চা বাগান থেকে আম বিক্রি করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা, ২০২৫ সালে আম বিক্রি করেন ২৫ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে আরও বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে চা বাগান থেকে ধারাবাহিকভাবে ২০২৪ সাল ও ২০২৫ সালে বড় অঙ্কের টাকা ঘরে তুলেন। চলতি মৌসুমে সবুজ চা পাতা তোলা শুরু হয়েছে। এবার প্রতি কেজি চা পাতা ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। চা চাষের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্ষুদ্র চা চাষি হিসেবে ২০২৪ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।
পঞ্চগড়ের মাটিতে সব ধরনের রবিশস্য উৎপাদন হয়। বীজ বপনের পদ্ধতি ও কৌশল জানা থাকলে অল্প পরিশ্রমে সফলতা ঘরে আসে। আলম চেয়ারম্যান একজন বুদ্ধিমান কৃষক। মাটির সক্ষমতার কথা বুঝতে পেরে আম বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। জমি কোথায়? জমি হিসাবে চা বাগানের ফাঁকা জায়গা বাছাই করেন তিনি। যেই চিন্তা সেই কাজ। চা বাগানের ফাঁকা জায়গায় লাগান বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির আমের চারা। অত্যাধুনিক পদ্ধতি, যত্ন ও পরিচর্যায় চা বাগানের সঙ্গে আম বাগানের সৌন্দর্যে প্রাণ ভরে ওঠে, থমকে দাড়াঁয় পথিকের পা।
আলম চেয়ারম্যানের আম বাগান দেখে বিভিন্ন এলাকার অনেক চাষি নিজ নিজ চা বাগানে আমের চারা রোপন করছেন। চা বাগানে সাথী ফসল হিসেবে আমের বাগান এখন এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আলম চেয়ারম্যানের চা বাগান ও আম বাগান দেখার জন্য প্রতিদিন লোকজন ছুটে আসছে।
সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান বসিরুল আলম প্রধান বলেন, ‘আমি কৃষিকাজ শুধুমাত্র কৃষি হিসেবে নয়, ভালোবাসা দিয়ে করি। প্রথমে চা বাগানে শেড ট্রি হিসেবে আম গাছ লাগাই। ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে চা বাগানের ফাঁকে ফাঁকে বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছে চারা রোপণ করি। এখন চায়ের পাশাপাশি আম থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। অনেকেই আমার বাগান দেখতে আসেন এবং উৎসাহ পান। আমি চাই তরুণ কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজে মনোযোগী হয়ে উঠুক’।
ব্রাক নার্সারির ম্যানেজার আশিকুর রহমান বলেন, ‘চা বাগানের সঙ্গে আম চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি কৃষকের জন্য লাভজনক পদ্ধতি। আলম সাহেব উদ্ভাবনী চিন্তার একজন কৃষক। আমরা নিয়মিত তাকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি।’
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, চা বাগানের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। অনেক চাষি সেই ফাঁকা জায়গায় শেড ট্রি হিসেবে গাছ লাগান। সেখানে আম বা অন্য ফলজ গাছ লাগানো যায়। সবুজ চা পাতার দাম কমলেও সাথী ফসল হিসেবে কিছুটা ঘাটতি পুষিয়ে উঠবে। বসিরুল আলম প্রধানের সম্বনিত চা ও আম বাগান একটি উদাহরণ’।