তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিমত

আওয়ামী লীগ কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না


২৬ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৮

॥ এম গজনবী ॥
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নৈতিক স্খলন ঘটেছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও খোদ দলের মধ্যে কোনোদিনই গণতন্ত্র ছিল না। শেখ হাসিনার নিজের কথামতো দল এবং সরকার চলেছে। কেউ কথা বললে তাকে হয় দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে অথবা বধির করে রাখা হয়েছে। তাছাড়া বড় কথা হলো তিনি কারোর কথা শুনতেন না। নিজের সিদ্ধান্তে দল এবং সরকার পরিচালিত হয়েছে। আর এজন্য জুলাই বিপ্লব হয়েছে। জনতার এই বিপ্লব রুখে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না বলে শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ আর কোনোদিনই মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে পারবে না। কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এমন ধারণা দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসতে ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ২৪-এর জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনা নিহত না হলেও দল ৪২ বছরেও ক্ষমতায় আসা তো দূরের কথা, কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। আবদুস সামাদ আজাদ, জিল্লুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবদুল জলিল, মোহাম্মদ নাসিম, বেগম সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরীর মত নেতা দলে আর একজনও বেঁচে নেই। তাদের সমমাপের দুই নেতা বেঁচে আছেন। এর একজন আমির হোসেন আমু আরেকজন তোফায়েল আহমেদ। বয়োবৃদ্ধ আমু বেঁচে থাকলেও তিনি বর্তমানে জেলে। আর তোয়ায়েল আহমেদ মৃত্যুশয্যায়। অল্পসংখ্যক নেতা যারা জেলে আছেন, আমু বাদে তারা প্রকৃত অর্থে ঘিলুশূন্য। বাদবাকি যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তারা তো একেবারেই ঘিলুশূন্য। তাদের পক্ষে কোনোভাবে বিদেশে বসে দেশ চালানো সম্ভব না। শক্তিশালী টিম না থাকলে ভারতে বসে শেখ হাসিনার একার পক্ষেও দল গোছানো কঠিন।
রাজধানীর মতিঝিল ও খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বললে তারা এ প্রতিনিধিকে বলেন, দল এখন নিষিদ্ধ থাকায় কোনো কথা বলা সমীচীন হবে না। কথা বললেও নাম প্রকাশ করা যাবে না- এই শর্তে তারা বলেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্ট সরকার পতনের লক্ষ্যে যে আন্দোলন হয়েছে, তা একদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটা বহুদিনের চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সরকার পতনের সপ্তাহখানেক আগে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম এবার আর রক্ষা নেই। নাজুক পরিস্থিতি আচ করতে পেরে শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছিলেন মাঠ দখলে রাখতে, কিন্তু তার কথায় তখন সাড়া মেলেনি। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ মাঠে নামলে হতাহতের সংখ্যা আরো বেড়ে যেত। আন্দোলকারীদের সঙ্গে মহড়া শুধু পুলিশই দিয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ আওয়ামী লীগকে কাছে পেতে চেয়েছিল, কিন্তু পুলিশের ডাকেও সাড়া মেলেনি। যে কারণে রাজপথে পুলিশকে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শেষ দিকে অনেকটা নিশ্চুপ ছিলেন। কিছু জিজ্ঞেস করলে বলতেন সময়মতো নির্দেশনা আসবে- অপেক্ষা করুন।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মাঠপর্যায়ের এক নেতা এ প্রতিনিধিকে বলেন, ওপর থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা; বিশেষ করে রাজু ভাস্কার্য চত্বর ছাত্রলীগের দখলে রাখতে। কারণ রাজু ভাস্কর্য চত্বরটি আন্দোলনকারী ছাত্রদের দখলে ছিল। কিন্তু কোটা আন্দোলনকারীদের দাপট এতটাই বেশি ছিল যে, আমরা রাস্তায় নামলে টিকতে পারতাম না। তাছাড়া ছাত্রলীগের অনেকে শেষ দিকে বিভ্রান্ত হয়। তাদের বক্তব্য ছিল রাজু ভাস্কর্য আমাদের দখলে আনতে গেলে রক্তপাত ঘটবে। কোনোভাবেই রক্তপাত এড়ানো যাবে না। অন্য কোনো কৌশল খুঁজতে হবে। ওই নেতা আরো বলেন, আমরা বলেছিলাম পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না। পুলিশ-র‌্যাব আমাদের সঙ্গে থাকলে রাস্তায় নামা যেতে পারে। কিন্তু ওপর থেকে বলা হলো ছাত্রলীগকে এককভাবে নামতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কোনো জায়গায় নামলেও ফলাফল ভালো আসেনি। তিনি বলেন, শুনেছি এখন ফের নির্দেশনা এসেছে রাজু ভাস্কর্য দখলের জন্য। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যা, তাতে সম্ভব নয়। তারপরও ভারতে বসে থাকা দলের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে স্বল্প সময়ের জন্য গোটা কয়েকজন মিলে আতঙ্কের মধ্যে শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করা হয়েছে। সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু করা যাবে না। করতে গেলে জীবনের ওপর ঝুঁকি আসবে।
অফিস আর খুলবে না
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর দিন থেকে সপ্তাহখানেকের মধ্যে খুলনা, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে সামান্যসংখ্যক আওয়ামী লীগের তালাবদ্ধ অফিস খুলতে দেখা যায়। হাতেগোনা কয়েকজন কর্মী শেখ হাসিনার নামে নানা স্লোগান দিয়ে তারা অফিস খোলেন। শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে তড়িঘড়ি করে অফিস ফের বন্ধ করে চলে যায়। এরপর ওই অফিসগুলো আর খোলা হয়নি। শুধু ওই অফিসগুলোই নয়, দেশের আর কোথাও আওয়ামী লীগের অফিস খোলার খবর পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে খুলনা আওয়ামী লীগের একজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা আর অফিস খুলতে যাবো না। অফিস খোলার পর পুলিশের নজরে পড়তে হয়েছে। ফের খুলতে গেলে জেলে যেতে হবে। পাঁচ-দশ মিনিটের জন্য অফিস খুলে কোনো লাভ নেই। সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আবেগে অফিস খুলতে গেলে বিপদ ডেকে আনা হবে। ঢাকা মহানগর যুবলীগের একজন নেতা এ প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নির্বাচনের পরপর দেশের কিছু কিছু জায়গায় বন্ধ অফিস খোলা হয়েছিল। তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অফিসগুলো খোলা রাখা সম্ভব হয়নি। মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিল করা যেতে পারে, কিন্তু অফিস খোলা যাবে না। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতি আমাদের প্রতিকূলে। দলের ওপর এখনো নিষেধাজ্ঞা বলবৎ। নতুন বিএনপি সরকারের ক্ষমতার বয়স এক মাসের একটু বেশি। সরকার আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। হুট করে ক্ষতিকর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। এ পরিস্থিতিতে অফিস আর খুলবে বলে মনে হয় না। যে কারণে বন্ধ অফিস খোলা এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ কর্মীরা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়ে বিদেশে চলে গেছেন। দলটির সভাপতি নিজেই ভারতে পালিয়ে যান। শুধু পালাননি আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের কর্মী, যারা ত্যাগী হিসেবে পরিচিত। অনেকে আবার পালানোর সুযোগ না পেয়ে দেশের নানা জায়গায় আত্মগোপনে থাকেন। যারা ধরা পড়েছেন তারা জেলে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন করে আর কোনো নেতাকর্মী জেলে গেছেন বলে শোনা যায়নি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যাদের নামে কোনো মামলা নেই তাদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক নেতাকর্মী আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসছেন। গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আত্মগোপনে ছিলেন দলের তৃতীয় সারির নেতা কামাল আহমেদ বলেন, শুধু আত্মগোপনেই ছিলাম না মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রাখি। ১৮ মাসে কারোর সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারিনি। লোক মারফত পরিবারের লোকদের সঙ্গে খোঁজখবর নিয়েছি। অথচ আমাদের বড় বড় নেতা যারা বিদেশে পালিয়ে গেছেন তারা আমাদের কোনো খোঁজখবর পর্যন্ত রাখেননি। জানতে পেরেছি তারা বিদেশে পালিয়ে থেকে ভালোই আছেন। কেউ চাকরি আবার কেউ ব্যবসা বাণিজ্য করে আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে আবার অর্থ উপার্জন করে নানা মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠাচ্ছেন। অনেকে আবার ছেলে মেয়েদের স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যারা দলের একনিষ্ঠ কর্মী- আমাদের ছেলে মেয়েরা কী করছে, সে খোঁজ তারা রাখছেন না। এমন নেতাদের নির্দেশনা মানি কী করে?
ফিরোজ নামে আওয়ামী লীগের এক নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে এ প্রতিনিধিকে বলেন, ১৬ বছর দল ক্ষমতায় থাকাকালে যারা টাকার পাহাড় বানিয়েছিলেন, তারাই পালিয়ে গেছেন। আমরা যারা টাকার পাহাড় বানাইনি, তারা দেশে আছি এবং থাকবো। বিদেশে পালাবো না। কিন্তু আমরা আর পালানো নেতাদের কোনো নির্দেশ মানবো না। তাদের নির্দেশ মানতে গেলে রাজপথে মার খেতে হবে। ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেছে। এখন তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায়। এই সরকার কী করে, তা দেখার জন্য সময়ের প্রয়োজন। সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করতে গেলে বিপদ আসতে পারে। বিপদ ছাড়ানোর কেউ নেই। বন্ধ অফিস খুলতে গেলে বা রাজপথে মিছিল করতে গেলে পুলিশ গ্রেফতার করবে। একসময় আওয়ামী লীগের আইনজীবীর কোনো অভাব ছিল না এখন জেলে পচলেও কোনো আইনজীবী পাবো না। সুতরাং বিদেশে পলাতক কোনো নেতার কথামতো কিছু করা যাবে না। তবে তারা যদি দেশে এসে নেতৃত্ব দেন, তখন বিষয়টা বিবেচনা করে দেখা যাবে। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।
‘তাদের পতন অনিবার্য ছিল’
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে পুনর্বাসন হওয়া বা কোমর সোজা করে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন- এমন কথা শুধু দলটির মধ্যে থেকে না বিভিন্ন মহল থেকেও উঠছে। তারা বলছে, বিএনপি মাত্র সরকার গঠন করেছে। তাদের ঠিক হয়ে বসতেও তো বছর পার হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সময় লাগবে। এখন জাতীয় সংসদ আছে। সকল সিদ্ধান্ত সংসদ থেকেই আসতে হবে। সংসদে জামায়াতে ইসলামীর মতো শক্তিশালী দল রয়েছে। নয়া দল এনসিপির সদস্য সংখ্যা সংসদে কম হলেও তারাও শক্তিশালী। জুলাই বিপ্লবের নায়ক তারা। সুতরাং জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে বিএনপি এককভাবে কিছু করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হলে সংসদের অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে জামায়াত এনসিপি, কখনো অনুমোদন দেবে না।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) এক নেতা এ প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আওয়ামী লীগ একটানা ১৮ বছর স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালিয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু ছিল না সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পন্থায় তারা দেশ চালায়। তারা মনে করতো এদেশ তাদের একার। এ প্রেক্ষাপটে তাদের পতন অনিবার্য ছিল। সিপিবির ওই নেতা আরো বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে গেছে। নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন। নেতারা পালিয়ে বিদেশে গেছেন। সরকার নিষিদ্ধ আদেশ প্রত্যাহার করলেও কোমর সোজা করে দাঁড়াতে অনেক সময় লাগবে। খিলগাঁও থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট দল। এই দলকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত দল আর কোনো দিনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। পারলেও অন্তত তিন যুগ অপেক্ষা করতে হবে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক দল কমিউনিস্ট কেন্দ্রের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে তাদের দোষে। ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে উন্নয়নের কথা বলে শুধু বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা করেছে। গণতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা তাদের ছিল না। শেখ হাসিনা সবকিছু একক সিদ্ধান্তে করেছেন। অনেক সময় দলের সিদ্ধান্ত শোনেননি। তিনি বলেন, সরকার পতন আন্দোলনকারীদের দমানোর জন্য কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত হয় ১৪ দলের বৈঠক থেকে। আমরা এর বিপক্ষে অবস্থান নেই। আমরা বলি, কারফিউ জারি করে কোনো লাভ হবে না। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং ’৮১ সালে জিয়া হত্যা ঠেকানো যায়নি। ৯০ সালে সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদকে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়া ঠেকানো যায়নি। সুতরাং পথ একটা খোলা তা হলো- আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতায় আসা। অযথা কারফিউ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ তখন আমাদের কথা শোনেনি। পরিণতি যা হওয়ার তাই হয়েছে। তাদের নিজেদের ভুলের খেসারত দিতে বহু সময় লাগবে।