একের পর এক জামিন পাচ্ছে আওয়ামী দোসররা : লক্ষণ ভালো নয়
২৬ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৫
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময় যতই যাচ্ছে, চিহ্নিত আওয়ামী লীগ দোসরদের বিভিন্ন মামলায় জামিনের সংবাদ ততই পাওয়া যাচ্ছে। ঈদ-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস ২৪ মার্চ খোদ ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত থেকে জামিন পান আওয়ামী লীগ দোসর হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। এছাড়া ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন দেন উচ্চ আদালত। এভাবে দেশজুড়ে একের পর এক ফ্যাসিস্ট হাসিনার চিহ্নিত আওয়ামী দোসরদের প্রশাসনের সহায়তায় জামিনের ঘটনাগুলো তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিগত ১৬ বছর অধস্তন আদালতের যেসব বিচারক আওয়ামী লীগের খয়ের খাঁ এবং দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন, তাদের তেমন কারো বিরুদ্ধেই কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাইজ পোস্টিং দেয়া হয়েছে। একইভাবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত অর্ধশতাধিক দলকানা-দুর্নীতিবাজ বিচারপতির তালিকা তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বিএনপি-জামায়াত পন্থী আইনজীবীরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেয়। কিন্তু মাত্র কয়েকজন বিচারকের অপসারণ হলেও বেশিরভাগই রয়ে যায় আলোচনার বাইরে।
৫ মামলায় জামিন পেলেন আওয়ামী দোসর বিচারপতি খায়রুল হক
দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির অন্যতম কারিগর, আওয়ামী লীগ দোসর সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। সামান্য কিছু ব্যক্তিগত লাভের আশায় শেখ হাসিনার কাছে বিক্রি হয়ে যান সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। জলাঞ্জলি দেন দেশের বৃহত্তর স্বার্থ। গত ৮ মার্চ তিনি উচ্চ আদালত থেকে ৫টি মামলায় জামিন পান। জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী হত্যা ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির পাঁচটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে এ জামিন আদেশ দেন।
না’গঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভীর জামিন
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হত্যাসহ ৫টি মামলায় হাইকোর্টে জামিন পান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা ছিলো এগুলো। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ ছয় মাসের এ অন্তর্বর্তী জামিন আদেশ দেন। যদিও পরবর্তীতে চেম্বার আপিল বিভাগ এ জামিনগুলো স্থগিত করে নিয়মিত আপিল শুনানিতে পেশ করতে বলে। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভীর বিরুদ্ধে আরো ছয়টি মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু বাকি মামলাগুলোর মাঝে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় আইভীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত। গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি।
আইভীর জামিন প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান নজরুল বলেন, এই পাঁচ মামলার এজাহারে আইভীর নাম ছিল না, তাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে এসব মামলায় দেখানো হয়েছে। তারপরও আমরা জামিনের বিরোধিতা করেছি। হাইকোর্টের আজকের জামিনের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
কক্সবাজারের আওয়ামী এমপি ও মাদক ব্যবসায়ী বদির জামিন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতা এবং হত্যা মামলায় হাইকোর্ট হতে জামিন পেয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট হতে তিনি জামিন পান। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের বেঞ্চ তাঁকে ৬ মাসের জামিন দেন।
বরিশালে আওয়ামী লীগ এমপির জামিন
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দিয়েছেন আদালত। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বরিশালের অতিরিক্ত চিফ ম্যাট্রোপলিটন আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন পান। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মসমর্পণের পর বিচারক এস এম শরিয়ত উল্লাহ তার জামিন মঞ্জুর করেন। দুষ্কৃতকারী আওয়ামী এ সাবেক এমপির জামিনের ঘটনায় সাধারণ আইনজীবীরা প্রতিবাদস্বরূপ আদালত বর্জন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
পিরোজপুর-২-এর সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলমের জামিন
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক কুখাত আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ শাহ আলমও সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। গত ১০ মার্চ ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। এর কয়েকদিন আগে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়ার পর তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করার সময় ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলামের জামিন
জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম। গত ১৬ মার্চ বিচারপতি ইকবাল কবীরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ ঢাকার জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় তাকে জামিন দেন।
এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল বলেন, ঢাকায় জুলাই হত্যার একটি মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলামকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করবে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকায় সালাউদ্দিন সুমন নিহতের মামলায় গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ইনু-মেনন-মানিকের জামিন
রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় করা মানহানির একটি মামলায় সাবেক দুই মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে জামিন দিয়েছেন আদালত। গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। ওই মামলায় গত ২১ জানুয়ারি রাশেদ খান মেনন ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
ঠাকুরগাঁও-২-এর আওয়ামী লীগের এমপি দবিরুল ইসলামের জামিন
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামও সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। আওয়ামী লীগের ভোটের বিনিময়ে জামিনের ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিজয়ী এমপি প্রার্থী ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।
দবিরুলের আইনজীবী জানান, আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর কারাবন্দি থাকার পর এই মুক্তিকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার মুক্তিতে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ লক্ষ করা গেছে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সমাবেশে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুস সালামকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। ওইসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের এমপিকে মুক্তি দিলে আমরা আপনাকে ভোট দেব। এমপি দবিরুল ইসলাম ও তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজনের মুক্তি দিতে হবে।’
নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পোস্ট ঘিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। হরিপুর উপজেলা যুবদলের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও গেদুড়া ইউনিয়নের যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ঠাকুরগাঁও-২ আসনের আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি চিরঋণী। তাই আসুন মিলেমিশে দেশ গড়ি এক সাথে।’
স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির প্রার্থী ভোটের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের এমপিকে জামিন দিয়েছেন, যা জুলাই অভ্যুত্থানের সাথে প্রতারণার শামিল।
জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। গত ১১ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায় জামিন পেলেন। সেক্ষেত্রে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পরে গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি এ মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
চাঁদাবাজিসহ সব মামলায় ১০ দিনেই জামিন পেলেন খুলনার যুবলীগ নেতা
গ্রেফতারের ১০ দিনের মধ্যেই চাঁদাবাজি, অপহরণসহ সব মামলায় জামিন পেয়েছেন খুলনার আলোচিত যুবলীগ নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী শওকত হোসেন ওরফে কালা শওকত। গত ১৬ মার্চ খুলনা জজকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। এর আগে গত ৫ মার্চ ঢাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ৬ মার্চ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের বডিগার্ড হিসেবে উত্থান শওকত হোসেনের। এরপর পদ পান নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতির। পরের সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ও শেখ সোহেলের নাম ব্যবহার করে খুলনার ব্যাপক টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে নেতৃত্ব দেন তিনি।
ভুক্তভোগীরা জানান, ছাদখোলা জিপে দলবল নিয়ে চলাফেরা করতেন শওকত। গায়ের রং কালো হওয়ায় স্থানীয়রা তাঁকে ‘কালা শওকত’ নামে ডাকতেন। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবসায়ীদের অপহরণ, মারধর, দরপত্র বাক্স ভেঙে ফেলার মতো অসংখ্য অপরাধে জড়িত ছিলেন শওকত।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শওকতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুসহ একাধিক মামলা হয়েছিল। দেড় বছর পালিয়ে থাকার পর গত ৫ মার্চ রাতে রাজধানীর পলওয়েল মার্কেট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এ কে এম শহিদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জামিনের বিষয়টি আমার জানা নেই। এত দ্রুত জামিন উচ্চ আদালত ছাড়া সম্ভব না।’
খুলনার প্রবীণ আইনজীবী ও সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি কুদরত ই খুদা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মামলা বুঝে জামিন দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। তবে এ ধরনের জামিন প্রমাণ করে আইনের যে শাসন আমরা প্রত্যাশা করি, সেটা এখনো অনেক দূরে।’
বরিশালে সাবেক এমপিসহ ৩ আওয়ামী লীগ নেতার জামিন
জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একই সঙ্গে জামিন দেয়া হয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগর সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ দুজনকে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির জানান, বুধবার জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন।
দেশব্যাপী আওয়ামী দোসর নেতাকর্মীদের একের পর এক জামিন প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চমহলের ইচ্ছায় এ সকল আসামি মুক্তি পাচ্ছে এবং আগামীতে এগুলো আরো বাড়বে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।