সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১৭ মার্চ ২০২৬ ১০:৫৮

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে মসজিদে আগুন, দুই মুসলিম যুবক নিহত
নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ভারতের মেঘালয়ের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দুই মুসলিম যুবক নিহত, ৩০টিরও বেশি দোকান ভাঙচুর এবং একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। প্রাণভয়ে বহু মুসলিম পরিবার ভিটেমাটি ছেড়ে প্রতিবেশী রাজ্য আসামে আশ্রয় নিয়েছে। গত ৯ মার্চ গারো হিলস স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রথম দিনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সাবেক বিধায়ক এসমাতুর মমিনীন তুরা জেলা শাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিতে গেলে একদল উপজাতি আন্দোলনকারী তার ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাকে মারধর করে বলা হয়, ‘তুই এখানে কেন এসেছিস? আমরা কোনো অ-উপজাতিকে নির্বাচনে দাঁড়াতে দেব না।’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেঘালয় হাইকোর্ট এক রায়ে অ-উপজাতি প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাধা সরিয়ে দিয়েছিল, যা স্থানীয় কিছু উপজাতি সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ১০ মার্চ ভোরে পশ্চিম গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা চরম রূপ নেয়। এ ঘটনায় খাইরুল ইসলাম এবং আশরাফুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, একজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং অন্যজনকে দেশি পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সহিংসতার সময় চিবিনাং এবং তুরা বাজার এলাকায় মুসলিমদের লক্ষ করে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা অন্তত ৩০টি দোকান পুড়িয়ে দেয় এবং একটি মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয়। মসজিদের ইমামকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পাশের একটি মন্দির সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। নিরাপত্তার অভাবে ১০ মার্চ সূর্য ওঠার আগেই অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। কেউ নৌকায় করে নদী পার হয়ে আসামে ঢুকেছেন, কেউবা গহিন জঙ্গলে বা নিরাপদ গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, ‘এলাকায় এখন শুধুই আতঙ্ক। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পুরোপুরি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী ফ্ল্যাগ মার্চ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আগামী ১০ এপ্রিল নির্ধারিত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ডন।

ইরাক থেকে ইতালির সেনা প্রত্যাহার
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ইতালির সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইরাক থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করছে দেশটি। ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিলের ক্যাম্প সিঙ্গারা বিমানঘাঁটিতে রাতভর ড্রোন হামলা হয়। ন্যাটোর প্রায় ৩০০ সেনা এই ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। হামলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং দুটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। হামলায় কেউ আহত হয়নি, তবে ইরান এই অঞ্চলে আক্রমণ তীব্র করায় ইতালির প্রায় ১০০ সেনাকে রোমে ফিরে নেওয়া হয়েছে। কুর্দি সেনাদের বিদ্রোহের আশঙ্কায় সরকার কুর্দিস্তান অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করেছে। ইরাকি কুর্দিরা সংঘাতের প্রথম দিনগুলোয় তেহরানে স্থল থেকে আক্রমণ শুরু করে বলে জানা গেছে, যদিও পরে কুর্দি নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে ক্যাম্প সিঙ্গারায় এই আক্রমণ ইচ্ছাকৃত ছিল। কারণ সেখানে ইতালীয় সেনারা কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইসিসবিরোধী জোটের অংশ হিসেবে ইতালীয় সেখানে অবস্থান করছিল। এটি ইচ্ছাকৃত কি না জানতে চাইলে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো বলেন, ‘অবশ্যই হ্যাঁ। এটি অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভের মধ্যে একটি ন্যাটো ঘাঁটি, তাই এটি একটি আমেরিকান ঘাঁটিও।’ তিনি হামলার জন্য কে দায়ী তা উল্লেখ করেননি তবে বলেছেন, ঘটনাস্থলে থাকা ১৪১ জন ইতালীয় সেনা বাড়ি ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই সেই মিশন থেকে ১০২ জনকে ফিরিয়ে এনেছি এবং আমরা প্রায় ৪০ জনকে জর্দানে নিয়েছি।’ ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে তা স্পষ্ট নয়। এটি সম্ভবত ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘আমি আমাদের সেনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। তারা হামলার পরে অক্ষত আছেন।’ ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজোত্তি বলেছেন, ‘সামরিক কর্মীদের বিমান হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল এবং হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিল।’ পিজোত্তি আরো বলেন, ‘আমরা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত এবং প্রশিক্ষিত। আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমান হামলার সতর্কতা শেষ হয়ে গেছে।’ এক বিবৃতিতে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্সি বলেছে, ‘ইরাকি সরকারকে কূটনৈতিক দূত এবং জোট বাহিনীকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অবৈধ গোষ্ঠীগুলোকে আর দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিপন্ন করতে দেওয়া উচিত নয়।’ মেলোনি এর আগে বলেছিলেন, ইরানের যুদ্ধে ইতালির যোগদানের কোনো ইচ্ছা তার নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে’ কাজ করার অভিযোগ করেছেন। ইতালি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং প্রতিরক্ষা জোরদার করতে এ সপ্তাহের শুরুতে একটি ইতালীয় যুদ্ধজাহাজ সাইপ্রাসে পৌঁছেছে। এছাড়া জানা গেছে, ইতালি ও ফ্রান্স ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করেছে, যার মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। ডেইলি মেইল।

ভারতে মসজিদে মুসল্লিদের সংখ্যা ২০ জনে সীমাবদ্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা হাইকোর্টে বাতিল
উত্তরপ্রদেশের সম্বল জেলার একটি মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের সংখ্যা ২০ জনে সীমাবদ্ধ করার সরকারি নির্দেশকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ সুপার (এসপি) এবং জেলা শাসকের (ডিএম) তীব্র সমালোচনা করেছে আদালত। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি সিদ্ধার্থ নন্দনকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ, মুনজির খান নামক এক ব্যক্তির করা একটি আবেদনের শুনানি চলাকালীন সম্বল জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসকের বিরুদ্ধে কড়া পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। আদালত তাদের উদ্দেশ্যে বলে যে, যদি তারা আইনের শাসন বজায় রাখতে অক্ষম মনে করেন, তবে তাঁদের নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত অথবা অন্য জায়গায় বদলি নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। এর আগে স্থানীয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে পবিত্র রমজান মাসে ওই মসজিদে মাত্র ২০ জন মুসল্লিকে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়। গত ১৪ মার্চ শনিবার এই মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ব্যক্তিগত জমিতে প্রার্থনার অধিকার খর্ব করার কোনো অধিকার প্রশাসনের নেই। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে প্রশাসন এভাবে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে মানুষের সমাগম সীমিত করতে পারে না।’ আদালত আরও জোর দিয়ে বলেছে, যদি কোনো স্থান ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হয়, তবে সেখানে প্রার্থনা করার জন্য সরকারের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র তখনই সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে, যখন প্রার্থনা জনসমক্ষে বা সরকারি জমিতে অনুষ্ঠিত হয়। আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, ‘যদি পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসকের মনে হয় যে, তারা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম নন, তবে তাদের পদত্যাগ করা উচিত অথবা সম্বল থেকে বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া উচিত।’ আদালত রাজ্য সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে উপাসনা করার অধিকার রয়েছে এবং সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। মুনাজির খানের দায়ের করা আবেদনে অভিযোগ করা হয়, রমজান মাসে সমভলের গাটা নম্বর ২৯১-এর একটি মসজিদে রাজ্য কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের নামাজ পড়তে বাধা দিচ্ছে। তিনি জানান, পবিত্র রমজান মাসে সেখানে আরও অনেক বেশি মুসল্লির সমাগম হওয়ার কথা থাকলেও, প্রশাসন শুধুমাত্র ২০ জন মুসল্লিকে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল। সিয়াসত ডেইলি।

তুরস্ক কোনো যুদ্ধে জড়াবে না : এরদোগান
তুরস্ককে কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে টেনে নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তিনি বলেছেন, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে থেকেও আঙ্কারা নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এরদোগান বলেন, তুরস্কের দিকে আসা ইরানের একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৃতীয়বারের মতো প্রতিহত করেছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তুরস্ক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এরদোগান বলেন, ‘এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের আকাশসীমার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির বিষয়ে প্রতিরোধমূলক সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি-যেমনটি আমরা গত রাতেও করেছি।’ তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তুরস্ককে এই বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে রাখা। এরদোগান বলেন, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আমাদের দেশকে এই আগুনের গর্ত থেকে দূরে রাখা।’ বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের অবস্থান আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্স।

ট্রাম্পের আসন্ন বিপদ ‘এপস্টেইন ফাইল’
দশকের পর দশক ধরে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে চলা তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয় ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদনের পর এতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আইনের মাধ্যমে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংগৃহীত নথি প্রকাশের পথ উন্মুক্ত হয়। ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া তদন্তের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে নতুন আইনের আওতায় এপস্টেইনের অপরাধসংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করতে শুরু করে মার্কিন বিচার বিভাগ। প্রকাশিত এসব নথির মধ্যে রয়েছে লিখিত ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও এবং ই-মেইল বার্তা। এসব নথিতে বিশেষভাবে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে প্রকাশিত প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন নথির মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বারবার উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস, এলন মাস্ক এবং সাবেক হোয়াইট হাউস কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাইবেলের ইংরেজি অনুবাদে যতবার ‘গড’ বা ‘প্রভু’ শব্দটি এসেছে, এপস্টেইনের প্রকাশিত নথিতে তার চেয়েও বেশি বার ট্রাম্পের নাম উল্লেখ রয়েছে। বাইবেলের বিভিন্ন ইংরেজি অনুবাদে ‘প্রভু’ শব্দটি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে সাড়ে ৪ হাজারবার ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার ৩০০ নথিতে ট্রাম্পের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়া ট্রাম্প, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টসহ প্রেসিডেন্টকে ঘিরে ৩৮ হাজারের বেশি শব্দ বা উল্লেখ এসব নথিতে পাওয়া গেছে। তবে মিরর ইউএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশিত নথিগুলোয় ট্রাম্প সরাসরি কোনো অপরাধে জড়িত এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি নতুন প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-মেইল, সংবাদ প্রতিবেদন এবং অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন ডকুমেন্ট, যেগুলোর অনেক তথ্য এপস্টেইনের ব্যক্তিগত ই-মেইল আর্কাইভে সংরক্ষিত ছিল। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এক সময় ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যদিও পরবর্তী সময়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তত ২০০০ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
বিবিসির তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে এফবিআইয়ের নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মাইকেল রেইটার তদন্তকারীদের জানান, ২০০৬ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। রেইটার বলেন, ট্রাম্প তাকে জানিয়েছিলেন যে, এপস্টেইনের অসদাচরণ সম্পর্কে অনেকেই আগে থেকেই অবগত ছিলেন এবং নিউ ইয়র্কে অনেকেই তাকে ঘৃণার চোখে দেখতেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত আরেকটি নথিতে একজন নারীর সাক্ষাৎকারের বর্ণনা উঠে এসেছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন কিশোর বয়সে তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ অনুযায়ী, জেফরি এপস্টেইন তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এফবিআইয়ের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ওই নারী বলেন, যখন তার বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে, তখন ট্রাম্প ও এপস্টেইন তাকে যৌন নির্যাতন করেন। তিনি জানান, এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে নিয়ে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একপর্যায়ে ট্রাম্প তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তিনি প্রতিবাদ করে তাকে কামড় দেন বলেও দাবি করেন। ওই নারী আরো বলেন, ঘটনার পর দীর্ঘদিন তাকে চুপ থাকতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালের অক্টোবরে, ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালে নেওয়া তার শেষ সাক্ষাৎকারে তদন্তকারীরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ট্রাম্প সম্পর্কে আরো তথ্য দিতে চান কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আর তথ্য দিয়ে কী করব, যখন এগুলোর কোনো মূল্যই নেই’। ট্রাম্প এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগও জানিয়েছিল, প্রকাশিত কিছু নথিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর’ দাবি থাকতে পারে। উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পাঁচদিন আগে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করা হয়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর বিষয়টি অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। এদিকে কংগ্রেসে এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট পাসে ভূমিকা রাখা রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি বলেছেন, বিশ্বের অন্য প্রান্তে কোনো দেশে বোমা হামলা করলেই এপস্টেইন ফাইলের বিষয়টি অদৃশ্য হয়ে যাবে না। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধেরও সমালোচনা করেন। বিবিসি।

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিশ্বজুড়ে ইফতার’ অনুষ্ঠানে ১৮০ দেশের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ
সৌদি আরবের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মদিনা সম্প্রতি রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে তৃতীয়বারের মতো ‘বিশ্বজুড়ে ইফতার’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সালেহ আলআগলা উপস্থিত ছিলেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে একটি ইফতার টেবিলে অংশ নেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক সহাবস্থান ও বোঝাপড়ার মূল্যবোধ ফুটে ওঠে। ইফতারে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ঐতিহ্যবাহী রমজানের খাবার পরিবেশন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং সামাজিক যোগাযোগকে আরো জোরদার করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানো, শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার মাধ্যমে সভ্যতার মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়। আরব নিউজ।

দখলদার ইহুদিবাদীদের নতুন জায়গা খোঁজার সতর্কবার্তা
দখলকৃত ফিলিস্তিনের বাসিন্দাদের উদ্দেশে এক অস্বাভাবিক ও কড়া বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধের এই উত্তপ্ত সময়ে। বার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইরানের সামরিক বাহিনীর ভারী আঘাতে ইসরাইলি বাহিনীর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমনকি ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়েছে। এখন শুধু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোই নয়, অনেক সময় সেগুলো আসার আগাম সতর্কতাও দিতে পারছে না ইসরাইলি বাহিনী। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে, যুদ্ধের এই অবস্থায় বলা হচ্ছে ইরানের হামলা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, সামনের দিনগুলোয় হামলা আরো তীব্রতর হবে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধের শেষ করার ক্ষমতা একমাত্র ইরানেরই আছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে- কখন? উত্তর দেয়া হয়েছে এমনভাবে, যখন আগ্রাসীদের তাদের প্রাপ্য পুরোপুরি শাস্তি দেয়া সম্পন্ন হবে। বার্তায় আরো বলা হয়েছে, এত দিন ইসরাইলের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ ও নৌ শক্তি দাঁড়িয়ে ছিল, সে শক্তির দশা এখন টালমাটাল। গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকের আকাশে উড়তে থাকা দুটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানকে লক্ষ করে আঘাত হানা হয়। এর একটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, আরেকটি বাধ্য হয়ে জরুরি অবতরণ করেছে। ঘটনাটি দেখিয়ে বলা হয়েছে, যে ইসরাইল সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর নির্ভর করত, সেই ভরসাই এখন ভেঙে পড়ার মুখে। গত পাঁচ দিনে ইসরাইলি বাহিনী ইরানি বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে সাফল্য না পেয়ে ইরানের আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ভারী হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলা হচ্ছে। একইসাথে সতর্ক করা হয়েছে, এই পরিস্থিতি ইরানকে এমন এক কঠিন এবং ভাগ্যনির্ধারক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে, যার ফলে ইসরাইলকে ভাবতে হতে পারে, তেলআবিবের দখলকৃত ভূমি হয়তো মানুষের বসবাসের উপযুক্ত আর থাকবে না। এই অবস্থায় বার্তার শেষ কথাটি ছিল সরাসরি এবং স্পষ্ট, দখলকৃত ফিলিস্তিনের ইহুদিবাদী বাসিন্দাদের জন্য হয়তো এখন অন্য কোথাও থাকার জায়গা খোঁজার কথা ভাবাই মঙ্গলজনক হবে। তাসনিম নিউজ।

রাডার প্রযুক্তিতে চীনের বড় সফলতা
সামরিক এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে এক অভাবনীয় সাফল্যের দাবি করেছে চীন। দেশটির বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার বিশ্বের আকাশপথের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ (ঝঈগচ)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গ্যালিয়াম অক্সাইড’ (এধষষরঁস ঙীরফব)ভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে চীনের অভাবনীয় অগ্রগতি মার্কিন বিমানবাহিনীর গর্ব ‘এফ-২২ র‌্যাপটর’-এর রাডার সিস্টেমকে অন্তত দুই প্রজন্ম পেছনে ফেলে দিতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোতে ‘গ্যালিয়াম নাইট্রাইড’ (এধঘ)ভিত্তিক রাডার ব্যবহৃত হয়। মার্কিন এফ-২২ যুদ্ধবিমানটি পুরনো প্রযুক্তির রাডার ব্যবহার করলেও চীন তাদের জে-২০ এবং জে-৩৫ বিমানে উন্নত গ্যালিয়াম নাইট্রাইড রাডার যুক্ত করেছে। তবে এখন চীন ‘চতুর্থ প্রজন্মের’ সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে পরিচিত ‘গ্যালিয়াম অক্সাইড’ নিয়ে কাজ করছে। গ্যালিয়াম অক্সাইড তাপ সহ্য করার ক্ষমতা এবং উচ্চ ভোল্টেজে কাজ করার ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত গ্যালিয়াম নাইট্রাইডের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। চীনা গবেষকরা দাবি করছেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রাডারের আকার না বাড়িয়েই এর কার্যক্ষমতা বা ডিটেকশন রেঞ্জ কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে মার্কিন স্টিলথ বা অদৃশ্য যুদ্ধবিমানগুলো চীনা রাডারের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন এফ-২২ যুদ্ধবিমানগুলো যে ‘গ্যালিয়াম আর্সেনাইড’ভিত্তিক পুরনো রাডার ব্যবহার করে, সেটি চীনের নতুন এই প্রযুক্তির কাছে অনেক বেশি সেকেলে হয়ে পড়বে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি চীন সফলভাবে এই গ্যালিয়াম অক্সাইড রাডার তাদের যুদ্ধবিমানে যুক্ত করতে পারে, তবে মার্কিন বিমানবাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেমিকন্ডাক্টর বাজারে চীনের আধিপত্য এবং গ্যালিয়াম উত্তোলনে তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এই দৌড়ে তাদের কয়েক ধাপ এগিয়ে দিচ্ছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের এফ-৩৫ বিমানে আধুনিক রাডার যুক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে চীনের এই ‘গ্যালিয়াম অক্সাইড লাফ’ ভবিষ্যতে আকাশযুদ্ধের সক্ষমতায় বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি করতে পারে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

বন্দুকধারীদের হামলায় নাইজেরিয়ায় নিহত ২০
মধ্য নাইজেরিয়ার একটি গ্রামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে হামলাকারীরা গবাদিপশুসহ বিভিন্ন সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে একটি স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা। গত ১৪ মার্চ শনিবার এক বিবৃতিতে কানাম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (কাডা) জানায়, শুক্রবার দেশটির মধ্যাঞ্চলের প্লাটো অঙ্গরাজ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় বন্দুকধারীরা নিয়মিত টহলে থাকা সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সংস্থাটি জানায়, হামলার পর শুরু হওয়া গোলাগুলিতে ১২ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং তাদের সঙ্গে নিজেদের সম্প্রদায় রক্ষায় যোগ দেওয়া আরও আটজন নিহত হন। স্থানীয়দের ভাষায় ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অপহরণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নাইজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মুক্তিপণের জন্য গণঅপহরণ ও গ্রাম লুটের ঘটনা ঘটায়। কাডা আরও জানায়, সেনাদের ওপর হামলার পর বন্দুকধারীরা পাশের একটি গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং গবাদিপশুসহ বিভিন্ন সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। এতে আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া বর্তমানে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। দেশটিতে উগ্র ইসলামপন্থি বিদ্রোহ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী লড়াই চালিয়ে গেলেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এএফপি।

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ৬
আফগানিস্তানের কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান কাম এয়ারের একটি জ্বালানি তেলের ডিপোয় হামলা চালানো হয়। হামলা হয়েছে রাজধানী কাবুল ও নানগারহার প্রদেশেও। এসব হামলায় শিশুসহ ৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। কাবুলে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ৩৫ বছর বয়সী মুরসেলিন। হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘুম ভেঙে গেল। চারপাশ ধুলায় ঢেকে ছিল। কয়েক মিনিট পর আমার সন্তানদের কথা শুনতে পেলাম। তারা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল এবং চিৎকার করছিল।’ হামলায় তাঁর বোন ও তাঁর দুই শিশুসন্তানও আহত হয়েছে বলে জানান মুরসেলিন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এ হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের ওই ডিপো থেকে বেসরকারি উড়োজাহাজে তেল সরবরাহ করা হয়। জাতিসংঘের উড়োজাহাজও তেল নেয়। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এমনিতেই এ অঞ্চলে অস্থিরতা চলছে। পাকিস্তানের এ হামলার ফলে তা আরও বাড়বে। এর আগে গত মাসে সংঘাতে জড়িয়েছিল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ওই সময় প্রথমে হামলা চালিয়েছিল ইসলামাবাদ। এ হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন উল্লেখ করে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল কাবুলও। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। চীনের মধ্যস্থতায় সংঘাত কমে আসে। এর পর থেকে গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের পাকিস্তানের কোনো বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাতের হামলার পর পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে চারটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ করে এই হামলা চালিয়েছে তারা। কান্দাহারে তেলের ডিপোয় হামলার কথাও স্বীকার করেছে সূত্র। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এএফপি।

ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নতুন মেডিকেল বোর্ড গঠন
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করতে হবে, যা ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেবে যে তাকে জেল থেকে বাইরে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা উচিত হবে কি না। পাকিস্তানের কোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে ইমরান খানকে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে নতুন মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সুপারিশ করবে। আদালত এই নির্দেশনা দিয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। আদালত জানিয়েছে, নতুন বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন শিফা চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তার নাদিম কুরেশি। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে- বোর্ডের রিপোর্ট ছাড়া কোনো হাসপাতাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আদালত জানতে চেয়েছে আগের মেডিকেল বোর্ডের কোনো রিপোর্ট কেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। ইসলামাবাদ এডভোকেট জেনারেল আয়াজ শওকত জানান, ইমরান খানের স্বাস্থ্য বর্তমানে সন্তোষজনক এবং তিনি নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। জাস্টিস আরবাব মুহাম্মদ তাহির মন্তব্য করেন, যদি তার স্বাস্থ্য আরও খারাপ হয়, তাহলে দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের ওপর থাকবে। এডভোকেট জেনারেল নিশ্চিত করেছেন, সরকার এর জন্য দায়বদ্ধ থাকবে। পিটিআই আইনজীবী বাবর আওয়ান উল্লেখ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত ডাক্তারদের জেলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে বন্দীদের সঠিক চিকিৎসার অধিকারও তুলে ধরেন। সামাটিভি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান