ফাল্গুনের রাঙাদূত শিমুল ফুলের হাসি


১২ মার্চ ২০২৬ ১০:৫৯

জাহাঙ্গীর আলম, চৌগাছা (যশোর) : ফাল্গুনের আগমনে পাল্টে গেছে চৌগাছার প্রকৃতির রূপ। শীতের ম্লানতা কাটিয়ে চারদিকে এখন বসন্তের রঙের উচ্ছ্বাস। বিশেষ করে উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মাঠের ধারে, কাঁচা রাস্তার পাশে ও পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিমুলগাছগুলো লাল ফুলে ছেয়ে গিয়ে সৃষ্টি করেছে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। দূর থেকে মনে হয়, সবুজের বুকচিরে জ্বলে উঠেছে আগুনের শিখা। বিশেষ করে চৌগাছার পুড়াপাড়া বাজার থেকে চুটারহুদা হয়ে বল্লভপুর গ্রামে প্রবেশ করলে প্রকৃতির এই লাল-সবুজে ভরে প্রকৃতি প্রেমিকের হৃদয়। পাতাহীন ডালে গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তিম শিমুল ফুল যেন প্রকৃতির নিজস্ব অলংকার। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় কিংবা পড়ন্ত বিকেলের রোদে এই ফুলের রং আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অনেকেই থেমে ছবি তুলছেন, কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ফাল্গুনের এই রাঙা বার্তা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতি বছরই ফাল্গুনে শিমুলের এই রূপ চৌগাছার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অন্য মাত্রা দেয়।
শিমুল (ইড়সনধী পবরনধ) শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এর ফুলে মধু থাকায় মৌমাছি ও বিভিন্ন পাখির আনাগোনা বাড়ে। ফলে প্রকৃতির পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় গাছটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রামীণ পরিবেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে শিমুল এক অনন্য অবদান রাখছে।
বাংলা সাহিত্যেও বসন্ত ও রক্তিম ফুলের অনুষঙ্গ বারবার উঠে এসেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মে বসন্তের উচ্ছ্বাসে রাঙা প্রকৃতির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা শিমুল ফুলের সঙ্গেই যেন মিলে যায়।
স্থানীয়ভাবে শিমুল গাছের অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। এর ফলের তুলা বালিশ ও তোশক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কাঠ হালকা হলেও এই কাঠ দিয়ে বড় বড় বিল্ডিং লিনটন ও ছাদ ঢালায়ে ব্যবহার করা, বরফ, দিয়াশলাই, ও কাগজ তৈরির কাঁচামাল হিসেবেও ব্যাবহার করা হয়। ফলে অনেক পরিবার এ গাছ থেকে আর্থিকভাবে উপকৃত হয়।
তবে সচেতন মহলের মতে, নগরায়ণ ও নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের কারণে দেশীয় গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে । পরিবেশ রক্ষায় শিমুলের মতো দেশীয় বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
ফাল্গুনের এই লাল শিমুল যেন শুধু প্রকৃতির রঙ নয়, আমাদের ঐতিহ্য ও পরিবেশ সচেতনতারও প্রতীক। চৌগাছার আকাশে-প্রান্তরে শিমুলের আগুনরঙা ফুল তাই বসন্তের প্রাণবন্ত স্বাক্ষর হয়ে ফুটে ওঠে।