বিএনপির নানা বাঁক
১২ মার্চ ২০২৬ ১০:৩৪
॥ মাহবুবুল হক ॥
এখন আর একটি দল, বড় দল- এসব বলার দরকার নেই। সহজ হয়ে গেছে। সরকারি দল বা বিএনপি বললেই চলে।
বিএনপি সবসময় এক ধরনের দল ছিল না। এমনকি দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলেও একরকম ছিল না। তিনি শুরুতে এক ধরনের চিন্তাভাবনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন, মাঝে ভিন্ন ধরনের বাঁকে যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং শেষে প্রথম ধরনের অবস্থানে বাঁক বদল করেছিলেন।
তবে জিয়াউর রহমান যাই করুন না কেন, তিনি কখনোই ইসলামপন্থী, মুসলিমপন্থী বা পাকিস্তানপন্থী ছিলেন না।
ছিলেন খাঁটি মুক্তিযোদ্ধা, খাঁটি ভারতবিরোধী, খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং সে কারণে বাঙালিত্ব ছেড়ে বাংলাদেশি হয়েছিলেন এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের জায়গায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে প্রমোট করেছিলেন। এ বিষয়ে তার প্রধান গুরু ছিলেন দ্বিজাতিতত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ মরহুম আবুল মনসুর আহমদ এবং সহ-প্রবক্তা বিশিষ্ট সাংবাদিক খন্দকার আবদুল হামিদ।
তবে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট, তিনি কখনো বামপন্থী ছিলেন না, কমিউনিস্ট ছিলেন না, ধর্মহীন ছিলেন না।
ছিলেন ডানপন্থী। ছিলেন মধ্যমপন্থী। ছিলেন বাস্তবতাবাদী। ছিলেন সমন্বয়বাদী। ছিলেন মডারেট। ছিলেন উদারপন্থী। ছিলেন বিশ্বাসী ও ধর্মপরায়ণ।
কট্টর বা প্রান্তিক ছিলেন না। আদর্শিক বিষয়ে অনড় ছিলেন না। কমপ্রোমাইজিংও ছিলেন না। সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। অসাম্প্রদায়িকও ছিলেন না। ছিলেন না তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষবাদীও। এসব বিষয়ে সুচিবাইগ্রস্তও ছিলেন না।
ছিলেন কল্যাণকামী, সাদামাটা মুক্তিকামী, সকলের মঙ্গলাকাক্সক্ষী।
ছিলেন সৎ, কঠোর পরিশ্রমী, সাহসী, আত্মবিশ্বাসী, লড়াকু, স্বপ্নচারী। দিনভর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাইলের পর মাইল হেঁটে দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেছেন, আবার গভীর রাতে মন্ত্রিসভার সভা ডেকেছেন। সভা শেষ করেছেন ফজরের ওয়াক্তে। দেশ বা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট টাইমটেবিল ছিল না। খুব ফরমাল ছিলেন না আবার একেবারে ইনফরমালও ছিলেন না। মাঝামাঝি একটা মননশীলতা ছিল। অযথা কখনো সময় নষ্ট করেননি। অযথা নিজের বা রাষ্ট্রের খরচ বাড়াননি। যদিও উন্নয়নের জন্য মাঝে মাঝে বলেছেন, মানি ইজ নো প্রবলেম।
শৃঙ্খলা ও ঐক্যের কথা অনেক বলেছেন। সমঝোতা এবং সালিশ-দরবারের কথা কম বলেননি। ঈমানের কথা খুব বেশি বলেননি। ধর্মশাসিত রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রশাসিত ধর্মের কথা বলেননি। ধর্মের বিষয়ে কখনো বাড়াবাড়ি করেননি। মাজারি ছিলেন না। লালনপন্থী ছিলেন না। ছিলেন না পীরপন্থী বা সুফীপন্থী। আবার অকাট্ট শরীয়াহপন্থীও ছিলেন না। ভাবনার দিগন্তে ছিল যার যার ধর্ম সে পালন করবে। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।
মানুষে মানুষে খুব বেশি ভেদাভেদ করেননি। দেশের মানুষ লেখাপড়া জানুকÑ এটা মনেপ্রাণে চাইতেন। সে কারণে খাল-খনন ও পুনঃখননকালে বয়স্কশিক্ষার ওপর খুব জোর দিয়েছিলেন। হারিক্যান, স্লেট-পেন্সিল, খাতা-পেন্সিল, প্রাথমিক বইপত্রের সরবরাহের ওপর ব্যাপক বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।
অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, অবকাঠামোহীন শিক্ষা, গণশিক্ষা স্বাক্ষরতা- এসবের ওপর জিয়াউর রহমানের পৌনঃপৌনিক দৃষ্টি সবসময় বিরাজমান ছিল। শুভদৃষ্টি ছিল শিশু ও নারী শিক্ষার ওপরও।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করতে হয়েছে। স্বাধীনতা-সংগ্রাম করতে হয়েছে। লাখ লাখ মানুষের জীবন দিতে হয়েছে। পাকিস্তান অর্জনের সময়কালে যারা ভারত থেকে হিজরত করে পাকিস্তান তথা পূর্ব পাকিস্তানে এসে বসতি গড়েছিল, তাদের অনেককেও তো অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল। আবার পূর্ববাংলার অগণিত মানুষ মুক্তিযুদ্ধকালে পশ্চিম পাকিস্তান, পরবর্তীকালে পাকিস্তানে অভাবনীয়ভাবে নিগ্রহ ভোগ করেছিল- এসব বাস্তব স্মৃতি তার হৃদয়ে সমুজ্জ্বল ছিল। সেসব কারণে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে জিয়াউর রহমান সমুন্নত করার খুব চেষ্টা করেছেন। গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিলেন। একদলীয় রাজনীতি থেকে বহুদলীয় রাষ্ট্র ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার আকাক্সক্ষা ছিল ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম অব গভর্নমেন্ট’। তাই যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে অবলোকন করার বয়ানে সচেষ্ট ছিলেন।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে তথা জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রধান কাজ হিসেবে উচ্চকিত করেছিলেন। আঞ্চলিক ও ভূরাজনীতিকে বাংলাদেশের পক্ষে তথা সকল রাষ্ট্রের পক্ষে আনার জন্য সার্ক গঠনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভারত মহাসাগরীয় বৃহত্তর অঞ্চলে ভারত ছাড়া ছোট ছোট দেশগুলো যাতে নিজ নিজ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা সমভাবে অক্ষুণ্ন রেখে পারস্পরিক প্রয়োজন পূরণ করতে পারে, সার্ক সৃষ্টির মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল তাই। এই রাষ্ট্রসমূহ রক্ষাকারী বিরল ব্যবস্থা জিয়াউর রহমানের তিরোধানের পরপরই ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়ে যায়।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে টিকে থাকার জন্য কৃষিকেই যে প্রাধান্য দিতে হবে, এর যে কোনো বিকল্প নেই- এ বিষয়টি জিয়াউর রহমান যে দৃষ্টিভঙ্গিতে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, দেশের যারা টপব্রাসে ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্য কেউ এ চিন্তার অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছিলেন বলে আমাদের জানা নেই। তাই তিনি ১৯ দফা প্রণয়ন করে খাল খনন ও পুনঃখননে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে গেছেন। তার পরবর্তী প্রকল্প ছিল নদী খনন ও পুনঃখনন, যা করতে পারলে শুধু কৃষক ও কৃষিপণ্য বাঁচতো না, বাঁচতো দেশের অর্থনীতি, শিল্প, বাণিজ্য, যোগাযোগ, পরিবহনসহ বহু কিছু। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয়। সে সময় শেখ মুজিব সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল। তারই অনিবার্য ফলে বহুদলীয় দেশ একদলীয় দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল। পুনরায় পৃথিবীর সকল দেশ সত্তর দশকের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। কেউ দুর্ভিক্ষকে ঠেকাতে পারবে না। কেউ যুদ্ধকেও ঠেকাতে পারবে না। বিশ্বযুদ্ধ না হলেও আন্তঃআঞ্চলিক যুদ্ধ তো চলছেই। যুদ্ধ বাড়তে থাকবে, কমবে না।
জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে কৃতিত্ব ছিল মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা। তার পূর্বে এ জায়গায় কেউ তেমন পা রাখতে পারেনি। বিশেষ করে সৌদি বাদশাহদের সাথে অনুপম সম্পর্ক সৃষ্টি করা। অনুর্বর সৌদির মাটি যে গত প্রায় ৫০ বছর ধরে ধীরে ধীরে ফুল-ফল, তরিতরকারিতে সুশোভিত হয়ে উঠেছে, এতে তার অবদান অনস্বীকার্য।
এ সম্পর্ককে দৃঢ় ও স্থায়ী করার জন্য তিনি দেশের মুসলিম লীগসহ ছোট ছোট ইসলামী দলকে ওয়েলকাম করেছিলেন, কিন্তু বড় কোনো ইসলামী দলকে আহলান-সাহলান করেননি।
তিনি সেক্যুলার ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু তাই বলে বামপন্থীদের আশকারা দেননি।
তার শাহাদাতের পর বিএনপিতে নানা পরিবর্তন সাধিত হয়। বিশেষ করে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়। ১৯ দফা মুখ থুবড়ে পড়ে। বিএনপিতে ভারতের অনুপ্রবেশ ঘটে। বাঙালিত্ব পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ায়। দলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। বামপন্থীদের উত্থান ঘটে। বিশেষ করে চীনপন্থী, আরো পরিষ্কার করে বললে বলতে হয়, ভাসানীপন্থীদের আশ্রয়ের একটি বড় জায়গা হয় বিএনপিতে। ইতোপূর্বে রুশপন্থীরা আশ্রয় পেয়েছিল আ’লীগে এবং বাকশালে। শ্রমিক নেতা আবদুল মান্নান ভূঁইয়া থেকে শুরু করে বিএনপির রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে চীনপন্থীদের হাতে। এ বিষয়ে তেভাগা আন্দোলনের নেতা হাজী দানেশের অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। ভাসানীর অনুরক্ত ও ভক্তরাও কম অবদান রাখেননি। খালেদা জিয়ার আমল অনেক দীর্ঘ। এ আমলে বিকল্প রাজনৈতিক দল ছিল বিএনপি। বিশেষ করে সেক্যুলারদের মধ্যে যারা আওয়ামী লীগকে পছন্দ করতে পারত না, তারাই বিএনপিতে যোগ দিত। বিএনপির দরজা সবার জন্য তখন উন্মুক্ত থাকত। ভারতের দালাল এরশাদকে নানা কারণে বিএনপি, আ’লীগ ও জামায়াত বরদাশত করতে পারত না। জাতীয়, রাষ্ট্রীয় ও দলীয় স্বার্থে উপর্যুক্ত ৩ দল একতাবদ্ধ হয়ে প্রায় ৯ বছর এরশাদবিরোধী আন্দোলন করে।
এ আন্দোলন করাকালীন ইসলামপন্থী সবচেয়ে বড় দল জামায়াতের সাথে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। ততদিনে জিয়ার পছন্দসই ইসলামী দলগুলো দেশের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে এবং তলে তলে তারা এরশাদের অন্যতম সখ্য হয়ে দাঁড়ায়। ফলে জামায়াতের গুরুত্ব, তাৎপর্য, প্রভাব এবং প্রতিপত্তি খালেদা জিয়ার কাছে হন হন করে বৃদ্ধি পায়।
খালেদা জিয়া নোয়াখালীর কন্যা হলেও তার জীবনের বড় অংশ কাটে দিনাজপুরে (তথা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় নিয়ে বৃহত্তর দিনাজপুরে)। নোয়াখালী বা ফেনী থেকে দিনাজপুর ও বগুড়ার মানুষকে তিনি বেশি ভালোবাসতেন। ভাসানী ন্যাপ ও জামায়াতে ইসলামী ততদিনে অনেকদূর অগ্রসর হয়ে যায়। খালেদা জিয়াদের আত্মীয়তার বন্ধনও অনেক দূর বৃদ্ধি পায়। এসব কারণ বড় না হলেও ঈমান, ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রতীক জামায়াত খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধাভাজন হিসেবে প্রতীয়মান হয়ে ওঠে।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান জামায়াত থেকে সতর্ক দূরত্ব বজায় রেখেছেন অথচ তার জীবনসঙ্গী উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, জামায়াতের যত কাছাকাছি যাওয়া যাবে, ততই দেশ ও জাতির জন্য; এমনকি দলের জন্য কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক হবে। তার এ উপলব্ধি থেকে সরিয়ে আনার জন্য মাঝে মাঝে নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে। তিনি কিছু সময় দ্বিধান্বিত ছিলেন। দেশ ও জাতির বেশকিছু ক্ষতিও হয়। অবশেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তিনি মেনে নিয়েছিলেন।
খালেদা জিয়া এরশাদ ও হাসিনার বিষয়ে সবসময় আপসহীন ছিলেন। তাদের দুজনকে তিনি ভারতের দালাল মনে করতেন। দেশদ্রোহী মনে করতেন। বিশ্বাসঘাতক মনে করতেন। কিন্তু তার দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকেই এত দৃঢ়ভাবে বিষয়টিকে কখনো মূল্যায়ন করেনি।
এরশাদের জাতীয় পার্টি, হাসিনার আ’লীগ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ভারতবিরোধিতার বিষয়ে খালেদা জিয়া আপসহীন ছিলেন। অন্যসব বিষয়ে তিনি আপসহীন ছিলেন না। দুর্নীতির বিষয়ে তিনি শক্ত ভূমিকা পালন করতে পারেননি। ফলে বিএনপিকে একবার ক্ষমতাও ছেড়ে দিতে হয়। বিএনপিতে দেশি-বিদেশি অনেক দালাল নির্বিঘ্নে দেশবিরোধী কাজ করতে সক্ষম হয়েছিল, খালেদা তা ঠেকাতে পারেননি। অল্প শিক্ষিত, অযোগ্য, স্বার্থপর, দুর্নীতিপরায়ণ বহু ‘গডফাদার’কে তিনি এরশাদ ও হাসিনাকে ঠেকানোর জন্য বিএনপিতে জায়গা করে দিয়েছিলেন। ‘টিট ফর ট্যাট’-এ তিনি বিশ্বাস করতেন। এটাও বিশ্বাস করতেন যে, এরশাদ ও হাসিনা অনেক জটিল ও কূটিল, ষড়যন্ত্রে তারা পটু। সুতরাং বিএনপিতেও এমন একটা গোষ্ঠীকে লালন-পালন করতে হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত তাকে ম্লান করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিএনপি অবশেষে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের শিকারও হয়েছে। তার অনেক আস্থাভাজন প্রকাশ্যে এবং গোপনে তাকে ও তার দলকে বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার, তার দল ও দেশবাসীর অনেক ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে। জিয়াউর রহমান স্বজনপ্রীতি করেননি, কিন্তু তিনি করেছেন। এটা দেশ ও দশ কারো জন্য ভালো হয়নি, বরং তার সন্তান ও তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিএনপি শুরু থেকে সেক্যুলার দল ছিল। প্রথমে ছিল নমনীয় সেক্যুলার দল। এখন দুর্দান্ত সেক্যুলার দল। সেক্যুলারিজমকে তারা পূর্ণাঙ্গ আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ডিপটেস্ট থেকে শুরু করে সারা দুনিয়ার সকল সেক্যুলার, তা স্টেট হোক, সরকার হোক, বিরোধীদল হোক, ব্যক্তি হোক, সবাই তাদের একনিষ্ঠ বন্ধু। আঞ্চলিক ও দেশীয়ভাবে তারা দুর্নীতিবাজ, ভারত, আ’লীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় বিশ্বাসঘাতক, জাতীয় বেইমানদের সাথে জোট বেঁধেছে এবং ২০২৪-এর গণবিপ্লবের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল, তাদের সবার দুশমন হয়ে উঠেছে। অথচ বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুও বলবে, বর্তমান বিএনপি একটি বেইমান দল। যাদের আত্মত্যাগের কারণে বিএনপি শুধু টিকে থাকেনি, ক্ষমতায় আসীন হয়েছে, তাদের বিএনপি অস্বীকার করছে। যারা দেশকে বাঁচাল, জাতিকে বাঁচাল, সমস্ত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল, জীবন দিল, দেশবাসী অবশ্যই তাদের ভোলেননি। তাদের উল্টা-পাল্টা গতিবিধি দেশবাসী পূর্বের তুলনায় অনেক গভীরভাবে নিরীক্ষণ করছে।
বিএনপির উচিত হবে স্থান-কাল-পাত্রভেদে বিচার-বিবেচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদার উত্তম অবদানগুলো অনুসরণ করা।