ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের উন্নতি হস্তক্ষেপমুক্তের ওপর নির্ভরশীল
১২ মার্চ ২০২৬ ১০:৩১
॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
অপেক্ষা ছিল জাতীয় নির্বাচনের। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তার সঙ্গে ভারত সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে বলে আশা করছিল। এখন সেই সময় এসেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে- ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি কীভাবে হবে? কোন কোন ক্ষেত্রে ‘উন্নতি’ হলে সেটিকে উন্নতি বলে ভাবা যাবে?
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের পলাতক আওয়ামী সরকারের শূন্যতার ফলে বিমূঢ় হয়ে পড়ে ভারত। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতের এই বিমূঢ়তার জন্য তারাই দায়ী। তারা যদি একতরফাভাবে একটি দলের ওপর নির্ভর না করে সরকার টু সরকার ভারসাম্যমূলক স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখতো, তাহলে হয়তো এ পরিস্থিতি হতো না।
এ পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরূপতা প্রবলভাবে প্রকাশিত হতে দেখা যায়। অতঃপর ছাব্বিশের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে স্থিরতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোন কোন ক্ষেত্রগুলো জটিল অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো সংক্ষেপে পর্যালোচনা করে দেখা যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র দলগুলো সর্বদা একেবারে ভারতের নতজানু হয়ে দেশ পরিচালনা পছন্দ করতো। অন্যদিকে ভারতকে একেবারে উপেক্ষা করে চলার মানসিকতার লোকও রয়েছে। কিন্তু দুটিই একেবারে প্রান্তিক চেতনা। প্রতিবেশীর অবস্থান ও উপস্থিতির বাস্তবতাকে অস্বীকার করা জ্ঞানহীন ও মূর্খতার লক্ষণ। একশ্রেণির লোক ‘ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে’ এই কৃতজ্ঞতাবোধ তাদেরকে এমন মানসিকতায় পৌঁছে দিয়েছে যে, তারা মনে করতে থাকে এজন্য ভারতের যেকোনো কামনা-বাসনা পূরণ করা তাদের জন্য অপরিহার্য। আর এর সুযোগ নিয়ে ভারত বাংলাদেশকে প্রায় করদরাজ্যের পর্যায়ে নামিয়ে দিয়েছিল।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ
বিগত আওয়ামী আমলে সবচেয়ে ক্ষতিকারক দিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ। বিশেষ করে নির্বাচন, রাজনীতি ও বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে ভারতের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ নিয়ে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক ওঠে। বিশেষত বাংলাদেশের নির্বাচনে কে কে অংশ নেবে, কে ক্ষমতায় আসবে, কে বিরোধীদলে থাকবে ইত্যাদি বিষয়ে ভারতের বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকে এ হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া বিগত সময়গুলোয় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ভারতের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো বলে নানা বক্তব্যে উঠে আসে।
এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে ভারতের রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও গোয়েন্দা বিভাগের হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে সীমাহীন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ভূমিকা রেখেছে এবং তা কর্তৃত্ববাদী শাসনকে ক্ষমতাবান করেছে। ভারতের হস্তক্ষেপ প্রতিবেশী দেশগুলোর গণতন্ত্র দুর্বল করে দিচ্ছে। এতে দেশগুলোর আর্থসামাজিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ এ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক হলেন বাংলাদেশের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম ও মঞ্জুর হাসান, নেপালের কনক মানি দীক্ষিত ও সুশীল পিয়াকুরেল এবং শ্রীলঙ্কার লক্ষণ গুনাসেকারা। এরা তাঁদের বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা
বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা পুরনো রোগ হলেও এর পেছনে ভারতের সুবিধাবাদী নীতি কার্যকর রয়েছে। তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে বাংলাদেশ ভারতে ১.৮২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং ৯.৬৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। ডলার সংকট, বৈশ্বিক মন্দা এবং আমদানির উচ্চ প্রবণতার কারণে এ ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে, যা মূলত কৃষি, বস্ত্র ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির তুলনায় ভারতের থেকে আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। ভারত থেকে তুলা, খাদ্যশস্য (চাল, গম), চিনি, মসলা এবং মেশিনারি পণ্য বেশি আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম পণ্য রপ্তানি করে, যার মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য অন্যতম। স্থলবন্দরগুলোয় নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, শুল্ক সুবিধা একতরফা থাকা, জরুরি সময়ে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাতে গড়িমসি অথবা অহেতুক সময়ক্ষেপণ, বাণিজ্যে অতিমাত্রায় কর্তৃত্বসুলভ আচরণ প্রভৃতি অন্যতম। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ পক্ষের কাজ হবে বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা এবং সমমর্যাদাকে ব্যবসার ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা।
অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার
বাংলাদেশের প্রতি ভারতের বড় রকম জুলুমের অন্যতম ক্ষেত্র হলো অভিন্ন নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে চলা। এর পরিণতিতে বাংলাদেশের নদীগুলো শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হতে চলছে। এ নিয়ে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশকে লড়াই করে চলতে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ ও তা চালুর পর থেকে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। পরে আরো আলোচনায় উঠে আসে ব্রহ্মপুত্র তথা যমুনা, তিস্তা, মহানন্দা ও বরাক নদী। এমনকি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রবহমান অভিন্ন ৫৪টি নদীর প্রসঙ্গও উঠে আসে। বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য ভয়ঙ্কর সংবাদ হলো, এই অভিন্ন নদীসমূহের প্রায় প্রতিটিতে এবং এর উপনদীগুলোয়ও ভারত অসংখ্য প্রকল্প নির্মাণ করেছে এবং আরো প্রকল্পের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে চলেছে। এর মধ্যে যেমন আছে বৃহদাকার ব্যারাজ, ড্যাম, সেচ ক্যানেল, আছে বিদ্যুৎ প্রকল্পও। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন অভিন্ন নদীসমূহের পানি উজানে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে, তেমনি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর অনিবার্য প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের নদী তথা পানিসম্পদের মালিকানা ও অধিকার থেকে এদেশের জনসাধারণ বঞ্চিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ এবং মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন।
ভারতের নদীকেন্দ্রিক কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ। তাদের গৃহীত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, নদীর পানি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের জন্য খাল বা ক্যানাল খনন, এক নদীর সঙ্গে অপর নদীর সংযোগ সাধন, নদীর উচ্চতম স্থানে ড্যাম তৈরি ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন, ব্যারাজ ও ব্রিজ নির্মাণ, নদীর এক বেসিন হতে অন্য বেসিনে পানি স্থানান্তর। ভারত ইতোমধ্যে দৃশ্যমান নদনদীগুলোর ওপর ৩ হাজার ৬০০টি বাঁধ বেঁধেছে। আরো ১ হাজার বাঁধের নির্মাণকাজ চলছে পুরোদমে।
গত অর্ধশতাব্দীতে ভারতে বন্যা-খরায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত- এ ব্যাপারে পরিসংখ্যান নেই। ভারত প্রায় সবক’টি উৎসকেই বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। এভাবে এসব উৎসের শতকরা ৯০ ভাগ পানি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
ভারত বা বাংলাদেশ প্রকল্প যার প্রয়োজনেই হোক না কেন, এ থেকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে উভয়েরই লাভ থাকতে হবে। অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষত ফারাক্কা বাঁধের গোড়ায় যাতে উজান থেকে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে উজানে ভারতের বর্তমান প্রকল্পগুলোয় সৃষ্ট পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করতে হবে।
সংখ্যালঘু ইস্যু
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে তথাকথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইস্যু তৈরি করে। যদিও পৃথিবীর সর্বাধিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের রেকর্ড রয়েছে ভারতের। সেখানে মসজিদ ও মাদরাসা ভেঙে ফেলা, গরু জবাইয়ের কারণে মুসলিম নাগরিককে হত্যা করা- এসবই সাম্প্রদায়িকতার উদাহরণ। বাংলাদেশে তার তুলনায় কিছুই ঘটে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় এ ইস্যুকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের এ ইস্যু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অত্যন্ত অন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হয়ে আসছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সূত্রে একটি কথিত ঐক্য পরিষদ এ সময় ৯ জন হিন্দু নাগরিকের মৃত্যুর কথা প্রচার করে। তবে তাদের প্রায় সবগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা অন্যান্য কারণ যুক্ত ছিল, যদিও সেগুলো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছিল না।
উল্টো ভারতে এ ইস্যুতে কী পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটি তুলে ধরে কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেছেন, সংখ্যালঘু ইস্যুতে বাংলাদেশের থেকে ভারতের অবস্থা আরও খারাপ। তিনি বলেন, ‘ভারতেও এরকম একই পরিস্থিতি আছে।’ ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার চলছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার করা হচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। যদি ভারতেও সংখ্যালঘুদের ওপরে অত্যাচার চালানো হয়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে কী পার্থক্য আছে? আমি ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি না।’ আর সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস নেতা রশিদ অতি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘উত্তরাখণ্ড থেকে মসজিদ নিয়ে খবর সামনে আসছে। আমরা সম্ভলের ঘটনা দেখেছি। যেখানে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। আজমীর দরগা শরিফ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের থেকে এরকম পরিস্থিতি ভারতে আরও খারাপ।’
এখনকার করণীয়
এ কথা দিবালোকের মতো সত্য যে, বাংলাদেশে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পলাতক আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের অবসানের পর ভারত নিজে থেকেই উভয় দেশের সম্পর্ককে টানাপড়েনের মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নবায়নের সময় এসেছে। ভারতকে তার দাদাগিরি এবং সম্প্রসারণমূলক চরিত্র পরিবর্তন করতে হবে। যেটি শেখ হাসিনার আমলে খুবই দৃষ্টিকটু অবস্থায় পৌঁছে যায়। যে অবস্থার কারণে আওয়ামী লীগ নিজ দেশের জনগণকে নিপীড়ন করে গদি আঁকড়ে রাখতে সমর্থ হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রশিটি খুলে যায়।
বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাটা নির্ভরশীল বলে ভারত বছরের পর বছর মনে করে এসেছিল। এ ধরনের অবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখন দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। এখন আশা করা যায়, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সম্পর্ককে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে আসা। তবে নয়াদিল্লির উচিত হবে এর চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা।
এর মূলে থাকতে হবে ভারতের কর্তৃত্বসুলভ ও বিগব্রাদারের অবস্থান ত্যাগ করে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে মেনে নিয়ে সেরূপ আচরণ করা এবং এতেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠা।