দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতি ইঞ্চিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো-ডা. শফিকুর রহমান


১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৩

সোনার বাংলা মফস্বল ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের যে নতুন বাংলাদেশ, তা পাঁচ বছরেই ধরা দেবে।
তিনি বলেন, জনগণের টাকা যারা চুরি করেছে, তাদের শান্তিতে থাকতে দেয়া হবে না। যে দেশেই থাকুক, নিয়ে আসা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরই আমরা বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেটে খনিজসম্পদে ভরপুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের খনিজসম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের সব এলাকায় এখনো গ্যাস যায়নি। বিদ্যুৎ যায়নি সব জায়গায়। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। মদ, গাঁজা, জুয়ায় ছেয়ে গেছে সিলেট। আমরা দায়িত্ব পেলে এগুলো বন্ধ করবো। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ। এই দেশে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কোনো অফিস-আদালতে কারও ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না।
দেশের বিগত দিনের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। সবাই চুরি করেছেন- কেউ কম, কেউ বেশি। যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে, আমরা দায়িত্ব পেলে তাদের শান্তিতে থাকতে দেবো না। তাদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনবো। দুর্নীতি বন্ধ হলে, চুরি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে।
সিলেট প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন- কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয়, কাজে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করবো। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। ঢাকা-সিলেট ৬ লেনের ঝিমিয়ে পড়া কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডুয়েল গেজ রেলপথে পরিণত করে বুলেট ট্রেন সংযুক্ত করা হবে।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেবো। কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার, জলা তার হবে। চা-বাগানের শ্রমিকদের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
তিনি বলেন, যোগ্যতা থাকলে চা-শ্রমিকের ছেলেও যেন যথাযোগ্য স্থানে অধিষ্ঠিত হতে পারে- আমরা সেই সংস্কৃতি চালু করতে চাই। চাহিদার তুলনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলনামূলক কম। আমরা নির্বাচিত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করবো। এরপরও যারা ঘুষ খাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌলভীবাজারে জনসভা
গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশ এগিয়ে যাবে যুবকদের হাত ধরে। এই দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। মুখের কথা নয়, ঠোঁটের কথা নয় এটা আমাদের বুকের কথা। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে এই জাতি তাদের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা পাহাড়ি, সমতল, নিম্নাঞ্চল এবং সকল জাতি বর্ণ ও শ্রেণির মানুষদের নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। একটি শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে, আরেকটি শ্রেণি থাকবে ভুখাÑ এটা আমরা হতে দেবো না। আগামী ১২ তারিখের ভোট হবে বাংলাদেশ পরিবর্তনের ভোট। এটা ২৪ এর যোদ্ধাদের আকাক্সক্ষার ভোট। এই ভোটের সাথে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ আমরা পাবো।
প্রবাসীদের কল্যাণমূলক পরিকল্পনা বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনেক লোকজন দেশের বাইরে যান। সেখানে অনেক প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হলে তাদের নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বে এই লাশগুলো সম্মানের সাথে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে।
হ্যাঁ ভোট নিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, গণভোট বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধাদের, শহীদদের আকাক্সক্ষার ভোট। সেই ভোট হচ্ছে গণভোট। সেই ভোটে হ্যাঁ হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মিনে গোলামী।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো মায়েরা ঘরের মধ্যে নিরাপদ নয়। ঘর থেকে বের হলে এবং কর্মস্থলেও নিরাপদ নয়। এখনো প্রিয় দেশে চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের ভয়ে নিরীহ মানুষ অস্থির।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়বে। মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। সন্তানরা সুশিক্ষা পাবে। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা তারা তাদের স্বাস্থ্যের পরিচর্যার সমস্ত অধিকার ভোগ করবে। সমাজে নিরাপত্তা থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে কমপক্ষে ২৮ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে। এ টাকাগুলো কার? এ টাকাগুলো ১৮ কোটি মানুষের। রাস্তায় যিনি ভিক্ষা করেন এই টাকার অংশে তিনিও আছেন। আজকের জন্ম নেওয়া শিশুরও অংশ আছে। রাষ্ট্রের আয়ের তিনটি খাত- একটি হলো ট্যাক্স, আর একটি বিদেশি অনুদান, আর বিদেশি সাহায্য। এই তিনটি মিলে রাষ্ট্রের তহবিল গঠন হয়। এই তিনটিতে সমস্ত মানুষ অংশীদার। তারা জনগণের টাকা চুরি করে বড়লোক হয়েছে। তারা পরিবারসহ টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত একটা বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ময়দানে নেমেছি, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে আমরা চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেব। চাঁদাবাজরা আর চাঁদাবাজি করার সাহস পাবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক বন্ধুরা আছেন যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চান। এই অপকর্ম থেকে বিরত থাকুন। যদি আপনারা বিরত না থাকেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, গায়ে হাত তোলেন, কাপড় ধরে টান দেন তাহলে আমরা বলে দিচ্ছি- অনেক সহ্য করেছি। প্রয়োজনে জীবন দেব কিন্তু আর কাউকে মায়েদের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেনো না, ইনশাআল্লাহ।
তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে, ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে আইনের মাধ্যমে শাস্তি হবে, রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও যদি সেই অপরাধ করে তাদের সে আইনেই বিচার হবে।
তিনি নির্বাচিত প্রার্থীদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা সম্পর্কে বলেন, আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট। আমাদের যারা নির্বাচিত হবেন তারা প্রতি বছর একবার তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে বাধ্য হবেন। শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধি নন, তাদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আয়-ব্যয়ের হিসাবও দিতে হবে।
তিনি শিক্ষার ব্যাপারে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু কাগজের সার্টিফিকেট তৈরি করবে না। দক্ষ জনবল তৈরির কারখানা হবে। আমাদের যুবকেরা কারও কাছে বেকার ভাতা চায় না। তারা চায় তাদের হাতকে মর্যাদা দেওয়া হোক।
তিনি যুবকদের প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের জনবল নিয়ে আমরা গ্রামকেও শিল্প বানানোর পরিকল্পনা আছে। আমরা কৃষিভিত্তিক কলকারখানাও চালু করব। সেখানে শিক্ষিত যুবকেরা মেধা, যোগ্যতা দিয়ে গ্রামের চেহারা পাল্টে দেবে।
তিনি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে বলেন, আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি- আমরা সব ধরনের বিভক্তিকে ঘৃণা করি। বাংলাদেশকে আর বিভক্ত করতে দেব না। চারটি ধর্মের মানুষ এই বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে- মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান। মেধার ভিত্তিতে যে কোনো ধর্মের মানুষ তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সেই ধরনের উপযুক্ত কাজ পাবে।
তিনি বলেন, আমি কথা দিচ্ছি- শুধু হাদি নয়, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও হাদিসহ তাদের যত সহযোদ্ধা আমাদের জীবন দিয়ে তাদের জীবন জাতির জন্য উপহার দিয়েছেÑ আমরা তাদের হত্যার বিচার করব। তাদের হত্যাকারীদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে, ইনশাআল্লাহ। তবে হ্যাঁ, ন্যায়বিচার হবে। যেনতেন বিচার হবে না। বিচারের নামে কারও ওপর অবিচার করা হবে না। ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করব। তাতে কেউ যদি মুক্তি পায় পাক। আমি ঘোষণা দিচ্ছি- আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমি চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।
পুরনো রাজনীতির জিঞ্জিরে আটকে বাংলাদেশ- নড়াইলে ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ এখন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস চায় উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আর পুরানো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায় না। এই পুরনো রাজনীতি বাংলাদেশকে আগাইতে দেয় নাই। পায়ের জিঞ্জির দিয়ে আটকে রেখেছে— সামনে দৌড়ানোর সুযোগ দেয় নাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে পাল্টে দিতে চাই। এই সুযোগই আগামী ১২ তারিখ। গণভোটের মাধ্যমে পুরনো বন্দোবস্ত রাজনীতির যা আছে এটাকে বলা হবেÑ তুমি না, বিদায় নাও এবং নতুন রাজনীতিকে বলা হবে- হ্যাঁ।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেই বাংলাদেশটা আমরা গড়তে চাই। সকলের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ, সকলের জন্য গর্বের বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। জাতি ধর্ম দল মত নির্বিশেষে সব কয়টি নাগরিকের বিজয় চাই। সেই বিজয়ের লড়াই আগামী ১২ তারিখ, ইনশাআল্লাহ। আপনারা ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন?
আমীরে জামায়াত বলেন, আমাদের মাটিতে সম্পদ, মাটির উপরে সম্পদ, নিচে সম্পদ, পানিতে সম্পদ, পানির নিচে সম্পদ। তাহলে কোন সম্পদের অভাব আমাদের পিছে রেখে দিয়েছে? একটা মাত্র সম্পদ। এটি হচ্ছে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা আছেন তাদের চারিত্রিক সম্পদের অভাব। তাদের মধ্যে সততার অভাব।
তিনি বলেন, সাধারণ জনগণ এই দেশের কোনো ক্ষতি করে না। সাধারণ কৃষক মাঠে ফসল ফলায়। রক্ত ঝরানো ঘাম ঝরিয়ে আমাদের মুখে খাবার তুলে দেয়। মাঝি চলে যায় নদীতে কিংবা সাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখান থেকে মৎস্য সম্পদ আহরণ করে সেইটাও আমাদের মুখে তুলে দেয়। কামার, কুমার, তাঁতী যারা আছেন তারা আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলা তৈরি করে দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমস্যাটা অন্য জায়গায়। সমস্যাটা মাথায়। আমাদের সমাজের মাথা পচে আছে। মূল জায়গাটা হইলো রাজনৈতিক নেতৃত্ব। রাজনৈতিক নেতৃত্বের যদি সততা এবং সদিচ্ছা থাকে একটা সমাজ পাল্টাতে সময় লাগে না। আমাদের দুই দুইবার স্বাধীনতাÑ ৪৭-এ একবার, ৭১-এ আরেকবার। দুই স্বাধীনতার পরেই জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণ হয়নি। এখন একজন শিশু, যুবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, শ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষক কেউই ভালো নেই। স্বাধীনতার ৫৪ বছর হয়ে গেল এখনো কেন আমাদের শুনতে হয় আমি ভালো নেই?-প্রশ্ন তোলেন আমীরে জামায়াত।
সাংবাদিকদের অসহায়ত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা বিবেক দিয়ে যা তুলে আনতে চায়, মিডিয়া সেটা তুলে আনতে দেয় না। হুমকি দেওয়া হয়, ধমক দেওয়া হয়। সত্য খবর ছাপার জন্য তাদের জীবনে অভিশাপ নেমে আসে।
তিনি বলেন, সব বঞ্চনা নিয়েই ২৪ সালের জুলাই মাস আমাদের গর্বের সন্তানরা তারা বিষ্ফোরিত হয়েছিল। রংপুর থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকার রাজধানী- কোনো জায়গা বাদ পড়ে নাই। এই আন্দোলন ১৪০০ মানুষ খুন হয়েছে। শুধু ছাত্র না, ছাত্র তো মাত্র ৩২%, বাকি সব সাধারণ মানুষ। এবং যারা নিহত হয়েছে তার মধ্যে ৬২ ভাগ মানুষ হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি কথা দিচ্ছি, আপনারা যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখেন, ইনশাআল্লাহ আমরা যদি সরকার গঠনে সক্ষম হই, আমরা ইনশাআল্লাহ আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেব।
অতীতে যারা সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, ভোট চাওয়ার অধিকার তাদের নেই : পটুয়াখালীতে আমীরে জামায়াত
১২ তারিখ নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যারা নিজেদের সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, এখন যারা দিতে পারছে না, জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার তাদের নেই। ভোট তারাই চাইবে- যারা সমস্ত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের জনগণকে ভালোবাসবে। ১২ তারিখ এ দেশের জনগণ তাদেরই বেছে নেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাউফল উপজেলার পাবলিক মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, একটি জাতির তিনটি মৌলিক জিনিস- এক. ভালো শিক্ষা, দুই. স্বাস্থ্যসেবার উন্নত ব্যবস্থা আর তৃতীয়টি হচ্ছে সমাজের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ন্যায়বিচার। এই তিনটি যদি কোনো সমাজে থাকে, তাহলে তা একটি ভালো সমাজে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, ১৩ তারিখে যে নতুন সূর্য উদিত হবে, তা নতুন বাংলাদেশকে পিঠে নিয়ে উঠবে। আমাদের দুই হাতের ১০ আঙুল সবকিছু থেকে পরিচ্ছন্ন থাকবে। চাঁদাবাজি আমরা করি না, কাউকে করতেও দেব না। মামলা-বাণিজ্য আমরা করি না, কাউকে করতেও দেব না। শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করতে দেওয়া হবে না। প্রকল্পগুলো থেকে টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করতে দেওয়া হবে না।
মায়েদের ইজ্জতের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত থামব না : ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মায়েদের ইজ্জতের শতভাগ নিরাপত্তা ও গ্যারান্টি এবং মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আামাদের কেউ থামাতে পারবে না।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সরকারি আরসি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো চাঁদাবাজি করিনি, কোনো স্ট্যান্ডে হাত দিইনি। মানুষের জীবন ও ইজ্জতের পাহারাদার হিসেবে আমরা ৬ তারিখ থেকে ১৫ দিন আমাদের কর্মীরা সারা দেশে দায়িত্ব পালন করেছে। আমাদের লাখ লাখ ভলন্টিয়ার মসজিদ থেকে মন্দির ও মানুষের সম্পদ পাহারা দিয়েছে। আরেকদল নেমে গেল নিজেদের কিসমত বানাতে। কিরে ভাই, এটি কি রাজনীতি? এটি তো দুর্বৃত্তপনা। রাজনীতি হবে নীতির রাজা, মানুষের মানুষের কল্যাণ সাধন করা। মানুষের কোনো অকল্যাণ রাজনীতি হতে পারে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর যারা দায়িত্ব নিল তারা দেশটিকে কবরস্থানে পরিণত করল। জাগায় জাগায় ছোপ ছোপ রক্ত, বিভিন্ন স্থানে লাশ। বড় নেতার ছেলেরা পর্যন্ত ব্যাংক ডাকাতিতে লেগে গেল। মা-বোনরা ঘর থেকে বের হলে আর ইজ্জত নিয়ে ফিরতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা ছিল না।
তিনি বলেন, রিলিফ এলো বাংলাদেশের বিপন্ন মানুষের জন্য, সেই রিলিফ বাংলাদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলো না, তার আগেই বিক্রি হয়ে গেল। ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মারা গেল, তাদের দাফন কাফন করার মতো সময় সরকারের ছিল না। জনগণ যেভাবে পেরেছে সেই বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে। শুধু আনজুমান মফিদুল ইসলাম কয়েক হাজার নয়, কয়েক লক্ষ লাশ দাফন করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বিগত ১৫ বছর ছিল সবচেয়ে খারাপ সময়। বাংলাদেশের ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাচার করেছে ২৮ লাখ কোটি টাকা।
বরিশালের শহীদদের আকাক্সক্ষা ও আত্মত্যাগ তুলে ধরে তিনি বলেন, বরিশালে ৩০ এর ওপরে শহীদ আছেন। তারা কি চেয়েছিল? তারা একটি বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ চেয়েছিল। কারও দয়ার দানে নয়, মর্যাদার সাথে বাংলাদেশে বসবাস করবে। তারা এটি চেয়েছিল।
দুর্নীতি বন্ধের বিষয় তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতির পাতা আর ঢাল ধরে টান দেবো না, দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেবো আমরা। রাঘব বোয়াল, গড়ফাদার, মাফিয়ারা থাকবে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর ছিঁঁচকা চোরদের আনবেন আইনের আওতায়, শাস্তি দেবেন। এটি চরম অন্যায়। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে। দুর্নীতি করবো না, করতে দেবো না।
নদীভাঙনের ভয়বহতা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, অনেকে নদীভাঙনের কবলে পড়ে ভিটে মাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। নদীগুলো এখন ভরাট হয়ে মরুভূমি ও কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। নদী শাসন নয়, নদী সংস্কার লাগবে আমাদের। নদী বাঁচলে, বাংলাদেশও বাঁচবে, ইনআশাল্লাহ। আমাদের অগ্রাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে নদী সংস্কার করা।
জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, যেখানে যাই, সেখানেই দেখি হাহাকার। সেনাবাহিনীর এক ধরনের দাবি, আধা সামরিক বাহিনীর আরেক ধরনের দাবি। রাষ্ট্রীয় অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীতে যারা আছে, তাদের আরেক ধরনের দাবি। সব জায়গায় দাবি। যার মানে কোনো একটা সেক্টরের মানুষই সন্তুষ্ট নয়। আমরা যার যেটা ন্যায্য পাওনা, তাদের হাতে তা তুলে দেবো।
আমীরে জামায়াত বলেন, উন্নয়নের ব্যাপারে আমাদের সাফ কথা। ৫৪ বছর যাকে, যেখানে যত বেশি বঞ্চিত করা হয়েছে, সেখান থেকে আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে। আমরা কারও সাথে বেইনসাফি করবো না।
জনতার উদ্দেশে আমীরে জামায়াত বলেন, কারে ভোট দেবেন? উত্তরটা এরকম হবে। বিগত ৫৪ বছরে যারা শাসন করেছে, তাদের আমলনামা আমাদের সামনে আছে। আর ৫ আগস্ট থেকে এই ১৭ মাস যাদের দেখেছি, তাদের আমলনামাও আমাদের সামনে আছে। এখানে যাদের আমলনামাকে আমরা ভালোবাসবো তাদের ভোট দেবো। যারা নিজেদের দল সামলাইতে পারে না, তারা কি দেশ সামলাতে পারবে? যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে, তারাই দেশ সামলাবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের চৌকিদারি করতে চাই। তাদের জীবন সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হতে চাই। সেই সুযোগটা যদি আপনারা দেন। আমরা জান প্রাণ দিয়ে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় আমীরে জামায়াতের
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকারের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন এবং জাতিকে সঠিক রাস্তায় উঠানোর নির্বাচন। বহু রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশটা চাচ্ছি যে বাংলাদেশে আমার মায়ের দিকে, আমার স্ত্রীর দিকে, আমার বোনের দিকে, আমার মেয়ের দিকে কোনো অভদ্র, কোনো দুষ্ট, কোনো বেয়াদব বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস করবে না। সেই বাংলাদেশ আমরা চাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা ওই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে আর ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাতের ব্যবধানে জাতিকে আর টুকরা টুকরা করতে দেব না। এই বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। একজন মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান তার ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক- সে একজন বাংলাদেশি। আমার দেশের সংবিধান প্রত্যেকটি নাগরিককে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। কাউকে ধর্মের কারণে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর মহিষালবাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষ সেদিন লড়াই করেছে। লড়াই করেছিল বলেই আমরা ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমাদের সন্তানরা রাস্তায় নেমে একটাই স্লোগান দিয়েছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চাই, আমরা বৈষম্য চাই না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশটা গড়তে চাচ্ছি। যেই বাংলাদেশে শিশু, বৃদ্ধ, আবাল-বণিতা সকলের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। যেই বাংলাদেশে আমার মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে সমস্ত জায়গায় তারা নিরাপদ থাকবেন। সমাজ তাদেরকে মর্যাদা দিতে বাধ্য থাকবে।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমরা ওয়াদাবদ্ধ, আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আমরা বদলে দেবো, ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেকটা গ্রামে বসে শিক্ষিত যুবকেরা তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যমতো জীবনযাপন করবে আর রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
কর্মক্ষেত্রে নীতিমালার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত যেখানেই কাজ হোক একই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে, ইনশাআল্লাহ। কর্মস্থলে যে সমস্ত নারীরা, বোনেরা, মায়েরা কাজ করেন তাদের জন্য বেবি কেয়ার, ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে জায়গায় জায়গায় এবং শিল্পঘন এলাকায় তাদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এই রাষ্ট্র শ্রমিকদের আর রাস্তায় নামিয়ে দাবি আদায়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি করবে না। বরং শ্রমিক না চাওয়ার আগেই তার কাছে তার অধিকার পৌঁছে দিতে হবে, বলেন আমীরে জামায়াত। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ভোটটা হচ্ছে একটা দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত, একটা আধিপত্যবাদমুক্ত আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
মেধার বিকাশ ও মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা সরকারি খরচে হবে : নওগাঁয় আমীরে জামায়াত
মেধাবীদের মেধার বিকাশের সুযোগ করে দেয়া হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটা মায়ের শিশুকেও লেখাপড়ার বাইরে থাকতে দেব না। মাস্টার্স পর্যন্ত ছাত্রীরা সরকারি খরচে পড়ালেখা করবেন। তিনি বলেন, যে মায়ের সামর্থ্য নাই, সেই শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারও যদি মেধাবী ছেলে থাকে; তার মেধাকে বিকশিত করা হবে। যাতে সে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। এদেশের মানুষের প্রতি তার দায় দরদ থাকবে, সে বুঝবে এদেশের মানুষ কত কষ্টে জীবনযাপন করে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে নওগাঁর এ.টিম মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান, নওগাঁ যেহেতু কৃষি প্রধান এরিয়া ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে সেই পড়াশোনা কাগজে নয়, প্র্যাকটিক্যালি হবে প্রফেশনালি হবে। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে সে বিদেশে কাজ করবে।
তিনি বলেন, এখানে কৃষিভিত্তক বিশ্ববিদ্যালয় হলে ধান ও ফলের গবেষণার কাজ হয়ে যাবে। এখানে ধান ও পেয়ারা উৎপাদিত হয় প্রচুর। এখানে ফসল সংগ্রহের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাড়াহুড়ো করে ফসল বিক্রি করে দেন। এতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না কৃষকরা। আমারা কয়েকটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে দিবো ইনশাআল্লাহ। আম ও লিচু প্রসেসিং এর ব্যবস্থা করবো, যেটি দিয়ে জুস ও শরবত তৈরি হয়।
নওগাঁর উন্নয়ন পরিকল্পানা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, কুসুম্বা মসজিদ ও পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে গড়ে তুলবো। দুবলাহাটি রাজবাড়ীসহ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন বর্তমান বিশ্বে বিপুল আয়ের উৎস। বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের যে এলাকা বেশি অবহেলিত-বঞ্চিত হয়েছে, সেই জায়গা থেকে উন্নয়ন শুরু হবে। আমরা বেইনসাফি করতে পারবো না। কোনটা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি আর রাষ্ট্রপতির আমরা ওটা দেখতে পারবো না। কোন জায়গার মানুষ দুঃখ কষ্টে আছে সেখান থেকে আগে উন্নয়ন শুরু হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশে শুধু আমরা শুধু মুসলমানরা নয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানরা একসাথে বসবাস করছি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নাই কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানবো না। এদেশে যারা মুসলমান নয়, তারা ভয়ের মধ্যে থাকবে কেন? আমরা এটি গুঁড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা দেশ সাজাবো। যার মধ্যে যোগ্যতা এবং দেশপ্রেম থাকবে,তার কাছে কাজ পৌঁছে যাবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, এই ভোটটা হবে ইনসাফের প্রতীকে। ১১ দলের বিভিন্ন প্রকীকে যে যেখানে আছেন, প্রত্যেকে তার পক্ষে কাজ করবেন। নওগাঁর সবগুলো আসনে দাঁড়িপাল্লা, আলহামদুলিল্লাহ।
সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই : রাজশাহীতে আমীরে জামায়াত
আল্লাহর বিধান কখনো কারো ওপর জুলুম করতে পারে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। জুলুম করার প্রশ্নই ওঠে না। এদেশে আমরা মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান নারী পুরুষ এদেশে বহু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী আছে সাওতাল ভাই বোনেরা আছে, সবাইকে নিয়েই আমাদের বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা এ জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। আমরা ঐক্যবদ্ধ একটা জাতি নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। জাতিতে জাতিতে মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখতে দেব না।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যাকে সম্মান করতে বলেছেন, আমরা তাদের সম্মান করবো। যাকে ভালোবাসতে বলেছেন, তাদের সবাইকে ভালোবাসবো। কিন্তু আল্লাহর কসম, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবো না। নারীরাও না পুরুষরাও না। ভয় শুধু আল্লাহ তায়ালার জন্য। কিন্তু একটা ভীতির রাজত্ব ৫৪ বছরে কায়েম করে রাখা হয়েছে। গত জুলাইয়ে যারা লড়াই করে বুক চিতিয়ে জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে যারা আমাদেরকে জুলাই এনে দিয়েছে, ৩৬ জুলাই তাদের একটা অঙ্গীকার একটা আকাক্সক্ষা ছিল, তাদের আকাক্সক্ষা ছিল তারা একটা বৈষম্যহীন ন্যায়বিচারে ভরপুর একটা বাংলাদেশ চায়।
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ ও জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, জনগণের রায়ের ভোটের ভালবাসা সমর্থনে আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ আমাদের দেয়, আমরা কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেব না। এদেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না। এই দেশে আর আধিপত্যবাদী রাজনীতি চলবে না। প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। এ সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার ভিত্তিতে। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। এ যুবসমাজকে থামানো যায়নি, থামানো যাবে না, ইনশাআল্লাহ।
স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে তিনি বলেন, ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। অবসর জীবনে চলে যাবেন, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার, সেটাও বিনা পয়সায়। মাঝখানে পার্টিসিপেটির, কিছু আমরা কিছু সরকারের, এভাবে আমরা মানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবো।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিভাগীয় নগরী ও জেলা শহরে আমরা মেডিকেল কলেজ কায়েম করবো, বিশেষায়িত হাসপাতালও গড়ে তুলব। শ্রমঘন এরিয়ায় শ্রমিকদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে। তারা যাতে সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরণের সমস্যার সম্মুখীন না হন। সেই দেশটি আমরা গড়তে চাই।
যুবকদের উত্থান শুরু হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, পরিবর্তনের পক্ষে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে মা বোনদের উত্থান শুরু হয়েছে। ৫টা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণা জানিয়ে দিয়েছে লাল কার্ড। আগামী ১২ তারিখে হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লালকার্ড। ফ্যাসিবাদ নতুন না পুরাতন দেখার বিষয় না, তুমি যে অ্যাপ্রন গায়ে দিয়ে আসো, তোমাকে অবশ্যই লালকার্ড জানাবো।
রাজশাহীর সমস্যা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, আমরা খুঁজে খুঁজে বের করবো জাতির কোথায় কোথায় কী দরকার। সুগার মিল, এটা লোকসানি, শ্রমিকরা কাজ করে, লোকসানি কেন হবে? চুরি চামারির জন্য লোকসানি। মাওলানা নিজামী বন্ধ মিল কারখানা একটা একটা করে খুলতে শুরু করেছিলেন, চুরি বন্ধের জন্য এটা হয়েছিল। আমাদের ব্লু ইকোনোমিতে এখনো আমরা ঢুকতে পারিনি। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন, আমরা কারও চোখ রাঙানির পরোয়া করবো না। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য তুলে আনার চেষ্টা করবো। মনের মতো সব জায়গায় চাহিদা পূরণ করা যাবে।
তিনি বলেন, আমরা ১৩ তারিখ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সরকার চাই না, দলীয় সরকার চাই না, আমরা দলীয় সরকার চাই না, পরিবার ও গোষ্ঠীতান্ত্রিক সরকার চাই না, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই, আমি চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। সেই বিজয় যদি অর্জিত হয়, সেই বিজয় সকলের বিজয় হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, সিনা মজবুত করে শক্ত করে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। আমরা পারবো ইনশাআল্লাহ। নাহলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। সারা বাংলাদেশে জোয়ার শুরু হয়েছে। আল্লাহ যেন এ জোয়ার সংসদের পৌঁছায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ২২ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশের বেশিরভাগ জেলা সফর করেছেন। ঢাকার বাইরে সবশেষ জনসভাটি ছিল সিলেটে। এছাড়া জামায়াতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সংসদীয় আসনে জনসভায় অংশ নেন। জামায়াতের আমীরের সর্বশেষ নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের জনসভায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতা এবং জামায়াত ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আমীরে জামায়াত ঢাকায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আসনে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এছাড়া তিনি নিজের ঢাকা-১৫ আসনে নিয়মিত জনসংযোগ ও পথসভা করেন।