রোহিঙ্গা সংকটে সফলতার দেখা নেই


২৭ জুন ২০২৬ ১১:৪৭

॥ মাহমুদুল হক আনসারী ॥
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় বর্তমানে প্রধান ও বহুমাত্রিক সংকট হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘাটতি বা খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়া, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারণে ক্যাম্পের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মিয়ানমারের ভেতরে চলমান সংঘাতের কারণে প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত হয়ে পড়া। বাংলাদেশে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার এই বিশাল জনপদে প্রধান সংকটগুলোর মধ্যে রয়েছে, তহবিল ও খাদ্য সহায়তা হ্রাস : দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা ক্রমেই কমে আসছে। এর ফলে মাথাপিছু রেশন কমে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্করা মারাত্মক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিঝুঁকিতে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি : ক্যাম্পের অভ্যন্তরে আধিপত্য বিস্তার, মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও খুনাখুনি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সাধারণ রোহিঙ্গারা যেমন জিম্মি, তেমনি স্থানীয় বাংলাদেশিদেরও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা থমকে গেছে।
মানবিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সমস্যা: ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পাশাপাশি স্থানীয় বনাঞ্চল ও পরিবেশের ওপরও প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন জাতিসংঘ) ও বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলো (যেমন ফিনল্যান্ড) মাঝে মাঝে জরুরি সহায়তা প্রদান করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বাস্তবায়ন এখনে কার্যকর হচ্ছে না। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচক্ষণ কূটনৈতিক তৎপরতায় তিনি কিছু আশার বাণী শুনিয়ে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তার সফলতা বাংলাদেশের জনগণ দেখতে পায়নি। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে ফেরত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বাস্তবতা এখনো শুরু হয়নি। তালিকাভুক্ত ১ লাখ ৮০ হাজারের বাইরেও আরো ৮০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথাও ছিল। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিজ দেশে স্বসম্মানে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ঘাটতি ছিল তখন ও এখনো নেই। ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা তুলে ধরতে যথাযথ ভাবে সক্ষমতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ নোবেল বিজয়ী এই মানুষটির হাত ধরেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন দেখার আসা করছিল।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হত্যা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে উখিয়া টেকনাফের ১২টি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ডুকে পড়ে রোহিঙ্গারা। বর্তমানে ৩৩টি ক্যাম্পে ১৩ থেকে ১৪ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে। তাদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ জোরেশোরে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও এ পর্যন্ত কোনো আসাব্যঞ্জক ফল পাওয়া যায়নি। তাদের অবস্থানের কারণে স্থানিয় ৫ লাখ বাংলাদেশি প্রতিদিন নানাবিধ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে আন্তঃকোন্দল বাড়ছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপের সৃষ্টি। সন্ত্রাস অপহরণ নারী শিশু পাচার অহরহ ঘটছে। জঙ্গি সম্পৃক্ততা মিলছে। আন্তর্জাতিক নানা দেশের জঙ্গি গ্রুপের সাথে ক্যাম্পে থাকা সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে যোগাযোগের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আসছে। এটি বাংলাদেশের স্বাধিনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য বড় রকমের হুমকি হিসেবে তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হিসেবে তারা অবস্থান করছে। এদেশের সরকার ও জনগণ মানবিক কারণে তাদেরকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে এ অঞ্চলের জন্য তারা আতঙ্ক হিসেবে তৈরি হয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামে নানা ভাবে ঢুকে পড়ছে। বাংলাদেশের এন আইডি, জন্মনিবন্ধন বিভিন্ন কৌশল করে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে। মোটা অংকের অর্থ খরচ করে অবৈধ পথে পাসপোর্ট পর্যন্ত সংগ্রহ করার কথা শোনা যায়। এগুলো ব্যবহার করে স্থল, নৌপথে বাংলাদেশের বাইরে পাড়ি জমানোর জন্য চেষ্টা করছে। সমুদ্রপথে নারী শিশু পাচার করছে। একটি সিন্ডিকেট শক্তভাবে তাদেরকে এসব পথে পাচার করছে। এ অঞ্চলের সবরকমের মাদকের পাচারের সাথে রোহিঙ্গারা নানাভাবে সম্পৃক্ত।
তাদের কারণে মাদক, নারী শিশু পাচার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দিন দিন তারা হিংস্র হয়ে উঠছে। ফলে বাংলাদেশি স্থানীয় নাগরিকগণ নানাভাবে দৈনন্দিন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী, মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী গ্রুপের সাথে মিয়ানমার এবং পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী চক্রান্তে রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী জড়িত থাকার যথেষ্ট আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তারা দেশের স্বাধীনতা, স্বকীয়তা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এসব সন্ত্রাসীদের কতিপয় গোষ্ঠী মদদ দিচ্ছে বলেও শোনা যায়। এনজিও নামক অগণিত প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়ে কাজ করছে। দেশ-বিদেশ থেকে তারা তাদের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে আসছে। অনুদানের অর্থ তাদেরকে দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ অনেকেই রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ। এগুলো সবকিছু বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে সচেতন জনগণ।
তাদের মধ্যে নিরীহ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন চাইলে ও কতিপয় রোহিঙ্গা লিডার ফেরত যেতে চায় না। প্রত্যাবর্তনবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। তাদেরকে মদদ দিচ্ছে দেশি-বিদেশি মহল। তাদের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জনগণ বাস্তবায়ন চায়। তাদের মিয়ানমার সরকার পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে তাদের নিজ নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করুকÑ সেটিই এদেশের জনগণের দাবি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশে যারা অবস্থান করছে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যারা তাদের কাছে গিয়ে সহানুভূতি জানায় তাদের বলবো, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করুন। সেই জায়গায় সার্বিক সহযোগিতা করুন। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রদের নিয়ে নানাভাবে দিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত প্রতিবেশী দেশের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা ও সম্প্রীতির বন্ধনে থেকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। এই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন হিসেবে দেখার অপেক্ষায় জনগণ। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের পাশে থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসা সময়ের দাবি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে ভাবে আগ্রহ ও তৎপরতা সেই ধরনের তৎপরতা এদেশের জনগণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে দেখতে চায়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের নানা কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অত্যন্ত মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দেয় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অঞ্চলে। সে দেশের জনতা সরকার তাদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চালালে তারা দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক নির্মমভাবে তাদের হাতে নিহত হয়। গুম করে অপহরণ করা হয়। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালায়। এ দৃশ্য সারা পৃথিবী অবলোকন করেছে। ২০১৭ সালে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিছিলে মিছিলে বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত মানবিক কারণে তাদেরকে আশ্রয় দেয়। তাদের জন্য উদ্বাস্ত ক্যাম্প তৈরি করা হয়। নারী শিশু বৃদ্ধ বণিতা শিক্ষিত অশিক্ষিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের টেকনাফ কক্সবাজারে ক্যাম্প তৈরি করে আশ্রয় দেয়া হয়। তারা আশ্রয় নেয়ার পর সারা পৃথিবী বাংলাদেশ সরকারকে মানবিকতার এই আচরণের জন্য ধন্যবাদ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক দেশ সংগঠন সংস্থা দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখের অধিক এ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করছে। তাদের কারণে সে অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়-পর্বত বিলীন হয়ে গেছে। রোহিঙ্গারা তাদের ক্যাম্পে বসে বসে জাতীয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় খেয়ে দেয়ে বেঁচে আছে। তারা ঠিকমতো আহার পাচ্ছে চিকিৎসা হচ্ছে। তাদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সবগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে নিরলসভাবে আন্তরিকতার সাথে তাদের সেবা দিচ্ছে। এরপরও রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময় নানা ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচার-আচরণ করছে। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসা, অস্ত্র পাচার, নারী শিশু অপরহরণ, আন্তঃকোন্দলে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
একটি চক্র রোহিঙ্গাদের থেকে নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। ওতপেতে থাকা কতিপয় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঢুকে পড়ছে। কোনোভাবেই তাদের ক্যাম্পে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তারা কোনো নির্দেশনা মানছে না। তাদের জন্য কাজ করছে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা। দেশি-বিদেশি নানা সাহায্য সংস্থা তাদের নিয়মিত সহায়তা দিচ্ছে। এরপরও তাদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন আইন না মানা , আনুগত্য না করা। বিভিন্নভাবে তারা এদেশের শৃঙ্খলা মানছে না। সেটি জনগণ দেখতে পাচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। নির্বাচিত এই সরকার রোহিঙ্গাদের দ্রুত সময়ে প্রত্যাবর্তনের রাস্তা খুঁজে বের করবেন সেটিই জনগণের দাবি। রোহিঙ্গাদের আত্মমর্যাদার সাথে নাগরিক অধিকার প্রাপ্তির সাপেক্ষে তাদের সে দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা বাংলাদেশ সরকারের চলমান রয়েছে। কিন্তু সেটি মোটেও সফল হচ্ছে না।
ইতোমধ্যে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃদ্ধি পাওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনেক সন্ত্রাসী গ্রুপ ক্যাম্পগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে গড়ে ওঠা নানা ধরনের জঙ্গি সংগঠন সে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে জানা যায়।
ইতোমধ্যে নানাভাবে ক্ষমতার দ্বন্দে তাদের মধ্যে আন্তঃকোন্দল ছড়িয়ে পড়ছে। একে অপরকে হত্যা করছে, তারা বেপরোয়া হচ্ছে। এইসব ঘটনা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকগণ। তাদের সন্ত্রাসের সাথে একশ্রেণির এনজিও সেবা সংস্থা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার অভিযোগ শোনা যায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী বাহিনী বাংলাদেশে সন্ত্রাস বৃদ্ধি করতে তাদের মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার সংবাদও গণমাধ্যমে জানা যাচ্ছে।
অভিযোগ আছে, রোহিঙ্গাদের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ঠিকমতো তাদের পেছনে খরচ করছে নÑ এমন এনজিও সেখানে কাজ করছে সেটাও নানা সূত্র বলছে। তাদের জন্য আনা অর্থ নানাভাবে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করছে। নানাভাবে তারা সেটা অন্যখানে ব্যয় করছে অন্য কাজে ব্যয় করছে। ইচ্ছেমতো তারা তা ব্যয় করছে। যে উদ্দেশ্যে যেসব দেশ তাদের জন্য অর্থ পাঠায়, সে অর্থ সেখানে যথাযথভাবে ব্যয় করছে না। এমন চরম অভিযোগ সরেজমিন শোনা যায়।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশাল একটি বাণিজ্য বাংলাদেশে চলছে। বৈধ অবৈধভাবে অনেক ধরনের সংস্থা এখানে রোহিঙ্গাদের সাইনবোর্ড বানিয়ে কাজ করছে। বাস্তবে রোহিঙ্গারা বেঁচে থাকলেও তাদের বক্তব্য হলো আত্মমর্যাদাহীন একটা জীবন তারা পার করছে। অনেক রোহিঙ্গাদের বক্তব্যে জানা যায়, তারা পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে তাদের নিজ বাড়ি ভিটায় চলে যেতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার আপ্রাণ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলেও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য যেটি করা দরকার, যা করা দরকার তা এখনো কার্যকর হচ্ছে না। ফলে তারা দিন দিন বেপরোয়া উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠছে। কারো নিয়ম-নীতি তারা মানছে না। আন্তঃকোন্দলে তারা বিভক্ত।
তারা নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এতে এ অঞ্চলসহ বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এদেশের জনগণের প্রত্যাশা অবিলম্বে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এবং আরো যাদের রাখতে হয়, জাতীয় আন্তর্জাতিক ফোরাম তৈরি করে তাদের দেশে পূর্ণ নাগরিক অধিকার প্রদান করার মাধ্যমে তাদের দেশে প্রত্যাবর্তন করা হোক। অন্যথায় দেশ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য, এদেশের অর্থনীতি রাজনীতির জন্য তাদের অবস্থান আমাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এ হুমকি থেকে বাঁচতে হলে জাতীয় আন্তর্জাতিক এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবর্তন ত্বরান্বিত করতে হবে। সেটি যতদিন না হবে, ততদিন রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করা, তাদের নির্দিষ্ট সীমানায় রাখা বাংলাদেশের পক্ষে কঠিন থেকে কঠিনতর হবে।
আশা করছি, যত দ্রুত সম্ভব বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জোরালোভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবেন এবং সফলতা দেখাবেন- এটাই প্রত্যাশা জনগণের।
লেখক : সংগঠক, গবেষক ও কলামিস্ট।