ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩০
স্টাফ রিপোর্টার : ভোটের শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার অপচেষ্টা হচ্ছে তৃণমূলে। তুচ্ছ ঘটনায় উগ্র আচরণের ফলে প্রাণহানিও ঘটছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো স্থানে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ নেতাকর্মী। ভোলার চারটি নির্বাচনী আসনেই একাধিকাবার সহিংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় জেলায় শতাধিক জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে এ রিপোর্ট লেখার দিন বিকেলেও ভোলা-৩ আসনে সাদাপুল নামক স্থানে জামায়াত জোট প্রার্থী নিজামুল হক নাঈমের কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি শনিবার ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির দরজার সামনে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় বিএনপির লোকেরা। এ ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। সরকারি হিসাব বলছে, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি থেকে শুরু করে শেরপুরের জামায়াত নেতা রেজাউল করিমসহ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত দেড় মাসে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি এবং হত্যাকাণ্ড ৫টি। কমিশন কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে অনেকই আশঙ্কা করছেন।
শেরপুরে জামায়াত নেতাকে হত্যা, ৬ শতাধিক আসামি
শেরপুরের বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। এই মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৩৪ জনকে। অজ্ঞাত আসামি আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জন। গত ২৮ জানুয়ারি এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার দুই দিনপর ৩০ জানুয়ারি জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম ঝিনাইগাতী থানায় মামলাটি করেন। রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান জেলা জামায়াতের আমীর হাফিজুর রহমান।
দেড় মাসে ২৭৪ সহিংস ঘটনা, হত্যাকাণ্ড ৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গত দেড় মাসে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি এবং হত্যাকাণ্ড ৫টি। জামায়াতের নারী ভোটকর্মীদের ওপরও বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এতে বলা হয়, নির্বাচন ঘিরে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নির্বাচন ঘিরে ভীতি দেখানো বা আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি, প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি, হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পাঁচটি, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে তিনটি। এছাড়া হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ৯টি, প্রচার কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২৯টি, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২০টি, অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ১টি এবং অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে ৭০টি।