তরুণ ভোটাররাই হবেন সংসদ নির্বাচনের ডিসাইডিং ফ্যাক্টর
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৩
॥ জামশেদ মেহদী ॥
আজ থেকে ঠিক ৫ দিন পর অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এটি যদিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, কিন্তু অতীতের ১২টি ইলেকশনের সাথে এই ইলেকশনের তুলনা করলে ভুল হবে। নানা কারণে এবারের নির্বাচন অনন্য। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই পরিস্থিতি আপনারা সকলেই জানেন। তাই সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করছি না। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এবং বিপ্লবের পর জনমনে একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং আদর্শ বাংলাদেশ গড়ার যে আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়, আসন্ন নির্বাচন সেই জনআকাক্সক্ষা পূরণের একটি বড় ধাপ বলে আশা করা গিয়েছিল।
জুলাই বিপ্লবের ফলে শেখ হাসিনা সদলবলে পালিয়ে গেলে এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপিই দেশের বৃহত্তম দল বলে তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচিত হয়। সুতরাং জনগণের পরিবর্তনের আশা বিএনপির নিকট থেকেই প্রত্যাশিত ছিলো। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ৪৮ ঘণ্টার মাথায় বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা চুরমার করে দেয়। তারা ৭ আগস্ট তাদের নয়াপল্টন অফিসের সামনে জনসভা করে। এ জনসভায় লন্ডন থেকে যোগ দেন তারেক রহমান। এ জনসভার একটি মাত্র উদ্দেশ্য ছিল এবং একটি মাত্রই দাবি ছিল। সেটি হলো, পরবর্র্তী ৩ মাসের মধ্যে দেশে সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। এত বড় একটি বিপ্লব ঘটে গেল। ১৪ শত লোক শহীদ হলেন। ২৬ হাজার মানুষ আহত হলেন। আহতদের অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারালেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করলেন।
শেখ হাসিনা পালালেন, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু আত্মগোপনে। দেশে কোনো সরকার নেই। যে দেশের ১৮ কোটি মানুষই বিপ্লবে অংশ নিয়েছে এবং সেই বিপ্লবের ভ্যানগার্ড ছিলেন যেখানে তরুণ সমাজ, সেখানে ৩ দিন ধরে সরকার ছিল না। এতবড় রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর এবং আওয়ামী লীগের জুলুম, লুণ্ঠন, হত্যাকাণ্ডসহ যত রকমের অপশাসন রয়েছে, সেগুলোর প্রতিশোধ হিসেবে জনগণের মারমুখী হওয়ার কথা ছিল। সুখের বিষয়, বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের অব্যবহিত পর জনগণ ফরাসি বিপ্লব বা অন্যান বিপ্লবের মতো স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদীদের নির্মূল অভিযান পরিচালনা করেনি। বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন যেসব ছাত্র ও তরুণ তাদের সামনে ছিল না পরবর্তী কোনো দিকনিদর্শন। তাই ৫ আগস্ট বেলা ২টার মধ্যে হাসিনার পলায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর তরুণ নেতৃত্ব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। সৃষ্টি হয় বিরাট প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক শূন্যতা। এ অবস্থায় রাজনীতিবিদদের বৈঠক ডাকেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আর ঐ দিকে নাহিদ ইসলাম, অসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাদিক কায়েম প্রমুখ তরুণ নেতা ফ্রান্সে অবস্থানরত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে যোগাযোগ করেন। সরকার কাঠামো সেনাপ্রধান এবং পুরাতন পলিটিশিয়ানরাই ঠিক করেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৮ আগস্ট এসে শূন্যস্থান পূরণ করেন।
অথচ ৮ আগস্ট কোনো অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা ছিল না। ছাত্র নেতৃবৃন্দ ফ্রান্সে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে যোগাযোগের আগে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা তাকে অবিলম্বে দেশে এসে একটি জাতীয় সরকার গঠনের অনুরোধ করেন। কিন্তু তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং অতি দ্রুত সাধারণ নির্বাচনের দাবি করেন (দেখুন : জুলাই : মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু : আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া)।
তারেক রহমান কর্তৃক জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ছাত্ররা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেশের দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ করলে দ্বিতীয় দিনে তিনি সাড়া দেন এবং ৮ আগস্ট এসে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। যেহেতু পার্লামেন্ট বহাল থাকলে বাইরে থেকে এসে সরকার গঠন করা যায় না, তাই ৬ আগস্ট আমি ও ডামি ভোটে নির্বাচিত শেখ হাসিনার সাজানো পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার সংবিধানের অধীনে শপথ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি বিপ্লবের মৃত্যু হয়।
অথচ জুলাই বিপ্লবের পরই দেশে গঠিত হওয়া উচিত ছিল একটি বিপ্লবী সরকার। সেই সরকার জুলাই বিপ্লবের সমস্ত অভিপ্রায় বাস্তবায়িত করার পর সাধারণ নির্বাচন দিতে, তার আগে নয়। বিগত ১৮ মাস ধরে বিএনপির দাবি ছিল মাত্র একটিই। আর সেটি হলো নির্বাচন অনুষ্ঠান। অবশেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপির দাবির কাছে নতি স্বীকার করেন এবং বিএনপির দাবি মোতাবেক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ সংসদ ইলেকশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নির্বাচন ঠিকই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা বিডিআরের সেনাবাহিনীর ৫৭ জন অফিসারসহ যে ৭৪ জন ব্যক্তিকে ঠাণ্ডামাথায় ভারতের সহযোগিতায় হত্যা করেন, তার বিচার হবে কিনা সেটি অনিশ্চিতই রইলো। অথচ মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান তার কমিশনের বিস্তারিত রিপোর্ট দাখিল করেছেন এবং সেই রিপোর্টে পিলখানা ম্যাসাকারের জন্য আওয়ামী লীগ এবং ভারতকে দায়ী করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে বাংলাদেশের আলেম-ওলামাদের যে ম্যাসাকার করা হয়েছে, তার বিচার তো দূরের কথা, তার ওপর কোনো কমিশনও গঠন করা হয়নি। অথচ নির্বাচন বেশ জাঁকজমকের সাথেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৩৪ বিলিয়ন বা প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা শেখ হাসিনা এবং তার লুটেরা সহযোগীরা দেশের বাইরে পাচার করেছেন। এটি ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণা করে বের করেছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স। আড়াই লাখ কোটি টাকার এক পয়সাও ফেরত আনা হয়নি। অথচ ইলেকশন হয়ে যাচ্ছে। আয়নাঘরের মামলা উঠেছে। ১৬ জন মিলিটারি অফিসারের বিচার শুরু হয়েছে। তারা কেউই কোনো জেলে আটক নন, ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে একটা বাড়িকে সাবজেল নাম দিয়ে ঐসব অভিযুক্ত সামরিক অফিসারকে রাখা হয়েছে। আর সেই সাবজেল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কোর্টে হাজিরা দেওয়ার জন্য যেসব অফিসার আসা-যাওয়া করছেন, তারাও একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মিনিবাসে আসা-যাওয়া করছেন। এসব বিচার আদতেই শেষ হবে কিনা, সেটি নিয়েও রয়েছে বিপুল সংশয়। কিন্তু নির্বাচন ঠিকই হয়ে যাচ্ছে। আগামী সরকার এসব জ¦লন্ত প্রশ্নকে অ্যাড্রেস করবে কিনা, সে ব্যাপারে ধোঁয়াশাই থেকে যাচ্ছে।
এর মধ্যেই আশুলিয়ায় বিপ্লবের মধ্যে আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যা এবং লাশ পুড়িয়ে ফেলার বিচার শেষ হয়েছে। আবু সাঈদ হত্যারও বিচার শেষ হয়েছে। এই দুটি হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় এতদিনে ঘোষিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি যখন এই ভাষ্য লিখছি, তখন পর্যন্ত রায় ঘোষিত হয়নি। এমনি অনেক হতাশার কথা রয়েছে।
সেই হতাশার মধ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এবং গণভোট। এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। ২০০৮ সালের যে পাতানো নির্বাচনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। তখন ভোটার সংখ্যা ছিলো ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩। বিগত ১৬ বছরে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন।
এ নির্বাচনে আরো একটি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, যেটি বিদগ্ধমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেটি হলো, এ নির্বাচনে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা হলো ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬। এরা হলেন তরুণ ভোটার। এ তরুণ ভোটার মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। দেশি এবং বিদেশি বিদগ্ধ মহলে তুমুল জল্পনা-কল্পনা চলছে যে, এই তরুণ ভোটাররাই আখেরে নির্বাচনী ফলাফলে দারুণভাবে প্রভাবিত করবেন।
এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হলেন ২৮৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৪ জন, এনসিপি ৩২ জন, ইসলামী আন্দোলন ২৫৩ জন, জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টি ১৯২ জন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪ জন। পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন। ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬১ এবং পোলিং বুথ ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৯।
এ পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোট। গত ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিগত ১০ দিনের (২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারে দেখা গেছে যে, বিএনপির প্রচারে কোনো সারবত্তা নেই। তারা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বয়ানকেই ব্যবহার করছে। জামায়াতের কোনো দোষ বা ত্রুটি বের করতে না পেরে তারা সেই ৭১-এর আওয়ামী বয়ান ফেরি করে বেড়াচ্ছে। আরো দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো এই যে, মির্জা ফখরুলের মতো প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর জুলাই বিপ্লবকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছেন। অথচ জামায়াত এবং এনসিপি অসংখ্যবার বলেছে যে, ৭১ এবং ২৪-এর মধ্যে কোনো বিরোধিতা নাই। বরং ৪৭, ৭১ এবং ২৪- একে অপরের পরিপূরক।
নারীদের প্রতি জামায়াত বৈষম্য করে- এই বয়ান আওয়ামী লীগ, সিপিবি এবং ভারতপ্রেমীদের অতি পুরাতন বয়ান। বিএনপি জামায়াতের কোনো ত্রুটি খুঁজে না পেয়ে আওয়ামী ও কমিউনিস্টদের বয়ান নতুন করে বাজাচ্ছে। তারেক রহমান তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বলেছেন। আর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে বলেছেন।
এ দেশের তরুণ সমাজ বিএনপির ওপর থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনা বিএনপি নেতাদের রাতের ঘুম হারাম করেছে। তাই তারা জামায়াতের বিরুদ্ধে আবোল-তাবোল বকা শুরু করেছে। জামায়াতকে ভোট দিলে নাকি জান্নাতের টিকিট পাওয়া যাবে- এমন উদ্ভট ও গাঁজাখুরি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জনগণ তাদের সব উদ্ভট এবং মিথ্যা প্রচারণায় কান দিচ্ছেন না।
এমন একটি পটভূমিকায় ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। এদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ হলেন দলীয় প্রার্থী এবং অবশিষ্ট ১৩ শতাংশ হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই ১ হাজার ৯৮১ জনের মধ্য থেকেই জনগণ বেছে নেবেন তাদের ৩০০ জন প্রতিনিধি।
কারা এই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন? এটি একটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। বিএনপি এবং তার সমর্থকরা এমন ভাব করছেন যেন মনে হচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারির প্রয়োজন নেই, তার আগেই তারা ক্ষমতায় চলে গেছেন। প্রশাসনের একটি বিরাট অংশও এই ধারণায় আচ্ছন্ন হয়ে বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে। তাই এই নির্বাচনে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড বিনষ্ট হয়ে গেছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম; বিশেষ করে রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন প্রভৃতি গণমাধ্যম কোনো স্পষ্ট পূর্বাভাস দিচ্ছে না। তারা বলছে যে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতের যে ভোট ছিল সেই সংখ্যা এবার আমূল বদলে গেছে। জুলাই বিপ্লব ভোটার এবং ভোটিং প্যাটার্নকেও বদলে ফেলেছে। বাংলাদেশের ৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি তার জ¦লন্ত প্রমাণ। এসব ভূমিধস বিজয়ের প্রভাব যদি জাতীয় নির্বাচনেও পড়ে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।