শহীদ হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম রাহিমাহুল্লাহর কবর জিয়ারত আমীরে জামায়াতের
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৬
গত ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সকাল ১০টায় শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শহীদ হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ এবং তার কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, খোঁজখবর নেন ও সান্ত্বনা প্রদান করেন। এই কঠিন বিপদে তাদের ধৈর্যধারণের তাওফিক কামনা করে আল্লাহর নিকট দোয়া করেন।
আমীরে জামায়াত শহীদ রেজাউল করিমের ৩ বছরের কন্যাসন্তানকে কোলে তুলে নেন এবং অবুঝ শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এরপর আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন। তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ রেজাউল করিম রাহিমাহুল্লাহর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শাহাদাত কবুলিয়াতের জন্য দোয়া করেন।
আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়াসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গ্রামবাসী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
শেরপুরে শহীদ রেজাউল করিমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
শেরপুরে শহীদ রেজাউল করিমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মরহুমের দুটি জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শহীদ রেজাউল করিমের প্রথম জানাজা বিকেল ৫টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকীর ইমামতিতে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর নাজমুল হক সাঈদী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শেরপুর জেলা আমীর হাফিজুর রহমান, শেরপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্যপ্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী, শিবিরের শেরপুর জেলা সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুম প্রমুখ।
মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা শ্রীবরদী উপজেলার গোপালখিলা খেলার মাঠে রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ ও ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামছুল ইসলাম।
জানাজাপূর্ব বক্তব্যে মাওলানা আ ন ম শামছুল ইসলাম বলেন, শহীদ রেজাউল করিমকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে বিএনপির সন্ত্রাসীরা এমন হত্যাকাণ্ডের সুযোগ পেয়েছে। নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে তারা হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। আমরা পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শহীদ করে ইসলামের বিজয়কে ঠেকানো যাবে না। শহীদের রক্তঝড়া জমিন বিজয়ের জন্য উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়, শেরপুরও এর ব্যতিক্রম হবে না, ইনশাআল্লাহ। তিনি শহীদ রেজাউল করিমের এতিম সন্তান ও স্ত্রীর উত্তম অভিভাবক আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে পাশে থাকার ঘোষণা দেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জামালপুর জেলা আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও শেরপুর জেলা আমীর হাফিজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মো. তসলিম, এনসিপির শেরপুর জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া, ইদ্রিসিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফজলুল করিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শেরপুর-১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, শহীদ রেজাউল করিমের পিতা আজিজুর রহমান এবং শহীদের ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান ও মাসুদুর রহমান, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল প্রমুখ।
শহীদ রেজাউল করিম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাবা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান এবং দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন শহীদ রেজাউল করিম। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।