ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রংপুর-৪ আসনে জামায়াতের সমর্থনে এগিয়ে এনসিপির আখতার


১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৭

মো. মফিদুল ইসলাম সরকার, রংপুর : রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রার্থী হওয়ায় তাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এটিএম আজম খান। একই সাথে তার পক্ষে গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে গ্রুপভিত্তিক মাঠে কাজ করছেন জামায়াতের নেতা-কমীরা।
এনসিপি নতুন দল হওয়ার কারণে দলীয় সমর্থন কম থাকলেও ১১ দলীয় জোট হওয়ার কারণে আখতার হোসেনের মাঠ এখন অনেক উর্বর। আখতার নিজ এলাকায় কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে সরেজমিন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সিংহভাগ মানুষ এবার আখতারকে ভোট দেবেন। আখতারের আশপাশের সাধারণ ভোটাররা বিশ্বাস করেন, আখতার হোসেন যেহেতু এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব, এ কারণে আখতার এমপি হিসেবে নির্বাচিত হলেই তিনি মন্ত্রী হবেন সরকার যারাই গঠন করুক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির এ নেতা বলেন, শুধু আমি নই, আমার মতো অনেকেই এমন আছেন, যারা এবার সবাই আখতারকে ভোট দেবেন। তিনি এ সময় বলেন, যেহেতু আমি অন্য একটি দলের সাথে যুক্ত এ কারণে আমাকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আমি ভোট চাইবো। কিন্তু আমি নিজেই আখতারকে ভোট দেব।
অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুরের পীরগাছা উপজেলা আমীর বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই মাঠে আখতারের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি। রংপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং রংপুর-৪ আসনের পরিচালক মাওলানা মোস্তাক আহমদ বলেন, আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই মাঠে আখতারের পক্ষে কাজ করছি। শুধু তাই নয়, আমাদের তৈরিকৃত ভোট কেন্দ্রের জন্য যে কমিটি তৈরি করা হয়েছিল, সেই কমিটি সরাসরি আখতারের পক্ষে কাজ করছেন।
অপরদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র দাবি করেছে রংপুর-৪ আসনে বিএনপি কমপক্ষে পাঁচটি গ্রুপ রয়েছে। যদিও সকল গ্রুপ আপতত সবাইকে মনে হচ্ছে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। বাস্তবতা হচ্ছে অনেকেই আখতারকে ভোট দেবেন।
এ আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মাঠে কাজ করছেন আবু নাছের শাহ মাহবুবার রহমান। জাতীয় পাটির ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক নতুনভাবে বৃদ্ধি হয়নি। এ কারণে বলা যায়, আগামী নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে না আবু নাছের মাহবুব। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উঠান বৈঠকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত হয়ে আখতারের পক্ষে ভোট চাওয়ার কারণে আখতারের ভোটব্যাঙ্ক বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে।
এদিকে মাওলানা এটিএম আজম খান আখতারকে সমর্থন করার কথা প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্র ও জোটের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলের সিদ্ধান্তে জোটসঙ্গী এনসিপির আখতার হোসেনের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে।
পীরগাছা উপজেলার বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, পীরগাছায় বিএনপির কোনো গ্রুপিং নেই। এ কারণে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।
কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা নিয়ে রংপুর-৪ আসন। স্বাধীনতার পর এ আসনে আওয়ামী লীগ ৬ বার, জাতীয় পার্টি ৪ বার এবং বিএনপি একবার জয়ী হয়েছে। এবার আসনটিতে লড়বেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি কাউনিয়ার মধুপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এর আগে আখতার ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তিরও প্রতিষ্ঠাতা। ডাকসুর সাবেক এ সমাজসেবা সম্পাদকের জুলাই আন্দোলনেও বড় অবদান ছিল। পুলিশি নির্যাতন-নিপীড়নেও দমে না আখতার। এবারেই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন তরুণ এ রাজনীতিবিদ।