ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় বিশাল ছাত্র-যুব সমাবেশ

নির্বাচনে খুনি-চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের সাথে তরুণ ভোটারদের লড়াই হবে —মিয়া গোলাম পরওয়ার


২ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:০৬

এস এ মুকুল, খুলনা : আগামী নির্বাচনে খুনি, চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের সঙ্গে তরুণ ভোটারদের লড়াই হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, মানবরচিত আইন নয়, দুর্নীতি, চুরি, ধর্ষণ, খুন বন্ধে প্রয়োজন আল-কুরআনের শাসন। আগামী নির্বাচনে ইসলামের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করে তিনি একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করতে ‘তরুণ প্রজন্মের প্রথম ভোট, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক’- এ স্লোগান নিয়ে সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় দিয়েছে, সেই তরুণ প্রজন্ম আগামীতেও দেশ পরিচালনায় সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেবে।’ গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডুমুরিয়া স্বাধীনতা চত্বরে এবং বিকেলে ফুলতলা উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ফুলতলা স্বাধীনতা চত্বরে পৃথক দুটি ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বেকার সমস্যার সমাধান, শিক্ষার আমূল সংস্কার এবং কারিগরি দক্ষতাভিত্তিক সমাজ গড়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠন করবে। ডুমুরিয়া-ফুলতলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার মূল কারণ বিল ডাকাতিয়াকে কেন্দ্র করে মহাপরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ডুমুরিয়াকে ব্যবসায়িক হাবে রূপান্তর করা হবে। শিক্ষা শেষে চাকরি নিশ্চিত করা হবে, না হলে বেকার ভাতা দেওয়া হবে।’
তিনি জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমীরে জামায়াত ঘোষণা দিয়েছেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কোনো নেতা সরকারি গাড়ি, বাড়ি, প্লট নেবে না। সৎ সাহস থাকলে অন্য কোনো দলের নেতারা এমন ঘোষণা দিক। সেই সাহস অন্য দলের নেতাদের নেই। সুতরাং জামায়াতই একমাত্র মানবিক বাংলাদেশ গড়তে পারবে, ইনশাআল্লাহ।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াতের ১১ জন শীর্ষনেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশা করা হয়েছিল। কিন্তু আজ জামায়াত ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে। জামায়াত দেশ সেবার সুযোগ পেলে শুধু মুসলিম নয়, সকল ধর্মের মানুষ ও নারী সমাজ সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবে। এজন্য তিনি আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইসলামী মোর্চার প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতি, লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড, সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করেই আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ বিদায় করেছি ঠিকই, কিন্তু এখনো লড়াই শেষ হয়নি। চূড়ান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশের নতুন ভবিষ্যৎ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সবচেয়ে শক্তিশালী হাত মিয়া গোলাম পরোয়ারকে আমরা শুধু ডুমুরিয়া-ফুলতলার নয়, বরং দেশের একটি মডেল হিসেবে দেখতে চাই। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ ৫৪ বছরেও জামায়াতের বিরুদ্ধে হিন্দুসহ অন্য সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর নির্যাতন, বাড়ি দখলের কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিগত দেড় দশকে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে নানা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে। আজ তারা দেশছাড়া। এখনো যারা নানাভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, আগামী নির্বাচনে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা তাদের উচিত শিক্ষা দেবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের জনগণ আগামী নির্বাচনে প্রত্যাখ্যান করবে। জামায়াত দেশ সেবার সুযোগ পেলে কারও মাথায় উঠবে না, বরং দেশের মানুষকেই জামায়াত মাথায় তুলে রাখবে। আগামী নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, কালো টাকার প্রভাব ছাত্র-জনতা রুখে দেবে, ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কোনো ফল হয়নি। সুতরাং তাকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে আগামীতে ইসলামের এবং কুরআনের দেশ গড়ার কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, এমপি থাকা অবস্থায় মিয়া গোলাম পরওয়ার ডুমুরিয়া-ফুলতলায় ৫০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন। বিনিময়ে তাকে কোনো উপঢৌকন দিতে হয়নি। এজন্য আগামীতে তাকে আবারো এমপি হিসেবে দেখতে চাই।
খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হোসাইন বলেন, আজকের এ ছাত্র-যুব সমাবেশ থেকে শপথ নিতে হবে যে, মিয়া গোলাম পরওয়ারকে বিজয়ী না করে আমরা ঘরে ফিরব না, ইনশাআল্লাহ।
ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুখতার হুসাইনের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রশীদের পরিচালনায় এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জামায়াতের ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণনন্দী, সহ-সভাপতি ডা. হরিদাস মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ।
এছাড়া বক্তব্য দেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ নোমান হোসেন নয়ন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, খুলনা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু ইউসুফ ফকির, খুলনা জেলা যুব বিভাগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, ঢাকাস্থ খুলনা ক্লাবের সভাপতি সরদার আব্দুল ওয়াদুদ, ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর গাজী মো. সাইফুল্যাহ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ফরহাদ আল মাহমুদ প্রমুখ।
এরপর বিকেলে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ফুলতলা স্বাধীনতা চত্বরে ছাত্র-যুব সমাবেশ উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম মোল্যার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন।