দেশে নিত্যপণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন আকাশছোঁয়া সবজির দাম
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:০০
স্টাফ রিপোর্টার: দেশে নিত্যপণ্যের বাজার সরকারের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সরকার নানা কাজে সময় দিতে গিয়ে বাজারে নজর রাখতে পারছে না। আর এ সুযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পণ্যের বাজার থেকে পালিয়ে যাওয়া সিন্ডিকেট আবরণ পরিবর্তন করে ফের জেঁকে বসেছে। ফলে সাধারণ মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েক মাস স্বস্তিতে থাকলেও এখন রয়েছেন অস্বস্তিতে। এখন পণ্যমূল্য অনেকটাই ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে সবজির মূল্য আকাশছোঁয়া। আর মাছ-গোশত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। বেশ কিছুদিন মুদিপণ্যমূল্য স্থিতিশীল থাকলেও এখন ক্রমেই বাড়ছে।
খুচরা বাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করেই বেড়েছে মসুর ডালের দাম। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আটা-ময়দার দামও বেড়েছে ৫ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত। বাজারে বেশিরভাগ সবজির কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় ডিম মুরগির দাম কিছুটা কমলেও মাছের বাজার চড়া। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে আটা-ময়দা ও মসুর ডালের দাম। দাম বাড়ার কোনো অজুহাতও দেখাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
বাজারে সব ধরনের মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে দাম নাগালের মধ্যে নেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের। আর ইলিশ অনেকটা চিন্তার বাইরে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে মুরগির দাম। ব্রয়লার ১৭০ টাকায় আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা। পাঙাশও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকা, লেয়ার, সোনালি এবং দেশি মুরগির দাম আরও বেশি। রাজধানীর বাজারে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল রয়েছে গরু ও খাসির গোশতের বাজার। গরুর গোশত কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ এবং ছাগল ও খাসির গোশত ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লার মুরগি ছাড়া অন্য কিছু কেনার সুযোগ কমে যাচ্ছে। তাও আবার ব্রয়লারের দামও বাড়তি। অন্যদিকে মাছের বাজারে আকারভেদে ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার রুই মাছ আকারভেদে ৩৪০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট রুই ৩৪০, মাঝারি ৩৬০ ও বড় রুই ৩৮০ টাকা কেজি। এদিকে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম না কমায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, সাধারণত এ মৌসুমে বাজারে ইলিশের জোগান বাড়ে এবং দাম কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। সবচেয়ে ছোট মাছও কেজিপ্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দাম থাকায় অনেক ক্রেতাই অসহায়বোধ করছেন। তারা বলছেন, ভরা মৌসুমেও যদি ইলিশ নাগালের বাইরে থাকে, তবে স্বল্পআয়ের মানুষের পক্ষে এ মাছ কেনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। তবে বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, নদীতে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না, সরবরাহ কম থাকায় দামও কমানো যাচ্ছে না।
এক কেজিরও বেশি ওজনের এক ফালি মিষ্টি কুমড়ার মূল্য কিছুদিন আগেও ছিল ২০ টাকা, আর এখন ওজনে এক কেজি মিষ্টি কুমড়া কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পটোল ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, বেগুন (গোল) ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ৬০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বরবটি ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, শাসা ৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, কঁচু ৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, কঁচুরলতি ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা এবং গাজর ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।