প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শকুন আজ বিলুপ্তির পথে


৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৯

পাইকগাছা সংবাদদাতা : প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শকুন আজ বিলুপ্তির পথে। বিশ্বের জীববৈচিত্রে শকুন একটি খুবই উপকারি পাখি। শকুন মৃত পশু-পাখি খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে এবং রোগজীবাণু ছড়ানো রোধ করে। তারা প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে এবং মৃতদেহ দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশকে রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
শকুন বড় ডানাওয়ালা পাখি। যারা তীক্ষ দৃষ্টির অধিকারী শিকারি পাখি । এদের মাথা, ঘাড় ও গলায় কোনো পালক নেই। তবে ঠোঁট খুবই ধারালো। এরা ময়লার ভাগাড় থেকে খাবার খুঁজে খায়। অনেক দূর থেকে শকুন মৃতপশুর দেহ দেখতে পায়। এরপর তারা দলবেঁধে সেখানে নেমে এসে দ্রুত সাবাড় করে দেয়। শকুনের পাকস্থলীর জারণ ক্ষমতা অসাধারণ। মৃত পশুর দেহ তো বটেই, এমনকি এসব পশুর হাড় পর্যন্ত এরা হজম করে ফেলতে পারে। বিশ্বের বহু দেশের সংস্কৃতিতে শকুন নিয়ে নানা মিথ, কুসংস্কার ছড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশর বিভিন্ন সংস্কৃতিতে শকুন মানেই অমঙ্গল, মৃত্যুর পূর্বাভাস, মৃত্যুদূতও বলা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, যেখানে শকুন উড়ে বা শকুন যেখানে ঘোরাফেরা করে, সেখানে কেউ মারা যেতে পারে।
কুসংস্কারের ফাঁদে কথিত তকমা পেয়েছে শকুন। প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতা কর্মী হয়ে বিষাক্ত বায়ুর থাবা থেকে রক্ষা করছে মানবজাতিকে। ডাইক্লোফেনাক ওষুধে চিকিৎসা করা পশুর মৃতদেহ খেয়েই নির্বিচার প্রাণ হারাতে থাকে শকুন। এই শকুন আজ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কখনও খাবার না পেয়ে আবার কখনও মানুষের হিংস্রতার শিকার হয়ে। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ইউনিয়নের (আইইউসিএন) মতে, প্রকৃতি থেকে কোনো প্রাণীর মোট সংখ্যার ৯০ শতাংশই হারিয়ে গেলে সেটা লাল তালিকাভুক্ত প্রাণী। জরিপ বলছে, ১৯৭০ সালে দেশে শকুনের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের মতো। স্বাধীনতার পর কমতে কমতে ২০১৪ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ২৬০টিতে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জরিপে দেশে ২৬৮টি শকুনের অস্তিত্ব মিলেছে। ফলে আইইউসিএন সংস্থার লাল তালিকাভুক্ত হয়েছে শকুন। বিপর্যয়ে পড়া শকুন সংরক্ষণ এবং বংশবৃদ্ধির তাগিদ থেকে সারাবিশ্বে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। শকুনের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং তাদের সংরক্ষণে উৎসাহিত করা। প্রায় চার কোটি বছর আগে শকুনের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। গোটা আমেরিকা মহাদেশ নতুন পৃথিবীর শকুন আর আফ্রিকা, ইউরেশিয়া ও এশিয়াতে পুরাতন পৃথিবীর শকুন ভিন্ন ভিন্নভাবে বিবর্তিত হলেও বিস্ময়করভাবে তাদের জীবনধারা প্রায় একই রকম। নিরীহ প্রাণীটি মৃতদেহ খাওয়ার মাধ্যমে যারা পরিবেশ-প্রকৃতিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখত। ৩-৪ কোটি বছর আগে পুরাতন গোষ্ঠীর বিবর্তন শুরু হয়েছিল। আর ২ কোটি থেকে আড়াই কোটি বছর আগে থেকে নতুন গোষ্ঠীর অভিযোজন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। যারা বিশ্ব জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্বে মোট ১৮ প্রজাতির এবং বাংলাদেশে ৬ প্রজাতির শকুন দেখা যেত। যার মধ্যে বাংলা শকুন, কালা শকুন, রাজ শকুন, হিমালয়ী গৃধিনী, সরুঠুঁটি শকুন ছিল উল্লেখযোগ্য। রাজ শকুন তো পুরোপুরিই বিলুপ্ত।