সমাজসেবার সর্বোত্তম আদর্শ
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০০
আসাদুজ্জামান আসাদ
বিশ্বব্যাপী সমাজসেবা বিকশিত হচ্ছে। সমাজজীবনে যার মর্যাদা, গুরুত্ব অপরিসীম। প্রত্যেক মুমিন বান্দা সমাজসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে দোজাহানের মুক্তি পাওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা তৈরি করেন। সামাজিক জীবনে সমাজসেবায় রয়েছে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ রূপ। বাহ্যিক রূপ হচ্ছেÑ তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত। অভ্যন্তরীণ রূপ হচ্ছে আত-তাকওয়া। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজসেবামূলক কাজটি সামাজিক, অথনৈতিক, রাজনৈতিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রবেশ করেছে সমাজের অভ্যন্তরে। সে হিসেবে ইসলামী আদর্শকে মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত।
আজকের প্রবন্ধ ‘রাসূল সা.-এর আদর্শই সমাজসেবার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ’। মানবতার মহান কাণ্ডারি হযরত রাসূল সা. ছিলেন বিশ্বজাহানের জন্য মহান আদর্শ ও রাহমাতুল্লিল আলামিন। তিনি সর্বদা সমাজসেবামূলক কাজ করতেন। তার ছোঁয়ায় পাথর সোনা হতো। মুমিন বিশ্বাসীরা তাঁর আদর্শে সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সমাজসেবার পূর্বে জানতে চাই মানুষ সৃষ্টির ইতিহাসে। মহান আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে হযরত আদম আ. এবং তার বাম পাঁজরের হাড় থেকে মা হাওয়া আ.-কে সৃষ্টি করেন। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘হে মানবজাতি! সমাজ তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র আত্মা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে। আর এতদোভয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু সংখ্যক পুরুষ ও নারীকে’। (সূরা নিসা : ১)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘হে লোকসকল! নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একটি পুরুষ ও একটি নারী থেকে এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে পরস্পরে পরিচিতি হতে পার। বস্তুত তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সম্মানিত, যে আল্লাহকে ভয় করে’। (সূরা হুজুরাত : ১৩)। মহান আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠালেন। স্বভাবগতভাবে মানুষ একাকী বসবাস করতে পারেন না, সেজন্য সমাজের প্রয়োজন। মানুষ ও সমাজকে পরিচালনার জন্য আসমানি কিতাব আল কুরআন সর্বশেষ রাসূল সা.-এর ওপর নাজিল করেন।
বিশ্বনবী সা. সমাজসেবা কাজের জীবন্ত প্রতীক। তার সাথে সাহাবীগণ এ কাজে আত্মনিয়োগ করেন। হযরত আবু মুসা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, এক মুমিন আরেক মুমিনের জন্য ইমারতের মতো, যার এক অংশ অন্য অংশকে সুদৃঢ় করে। এরপর তার আঙুলগুলো একটি অন্যটির মধ্যে প্রবেশ করান’। (বুখারী)। জুলুম, শোষণ-নির্যাতন, খুন-খারাবি সমাজকে কলুষিত করে। পক্ষান্তরে ন্যায়, ইনসাফ ও সুনীতি সমাজে শান্তির আবহ তৈরি করে। আল্লাহ বলেন, ‘তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করলে সালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ প্রতিহত করে’। (সূরা হজ : ৪১)। আল্লাহর বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করলেই সমাজে শান্তি ফিরে আসে। অশান্তি চলে যায়। সমাজে নিরাপত্তা লাভ করে। বিশ্বনবী সা. বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় সংঘটিত হতে দেখ,ে সে যেন হাত দ্বারা তা প্রতিহত করে। যদি তাতেও সমর্থ না হয়, তাহলে কথা দ্বারা যেন তার প্রতিবাদ করে। তাতেও সমর্থ না হলে অন্তর দ্বারা সে যেন ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করে’। (মুসলিম)। আমরা সমাজে শান্তি চাই। অশান্তি চাই না। কারণ সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ইসলামের সৌন্দর্যকে বিনষ্ট করে।
রাসূল সা.-এর আদর্শই সমাজসেবার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। সে হিসেবে পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সমাজসেবামূলক কাজ হলো পিতা-মাতার সেবা করা। পিতা-মাতাই দুনিয়ায় আগমনের মাধ্যম। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি মানুষকে স্বীয় পিতা-মাতার সাথে সদাচরের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং প্রসবও করেছে। অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করা ও দুধ পান করাতে সময় লেগেছে ২৪ মাস’। (সূরা-আল আহকাফ)। মহান আল্লাহ পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেন। এটা পালন করা আমাদের ওপর ফরজ। বিশ্বনবী সা. বলেন, পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি’। (বুখারী)। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি পিতা-মাতার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করছে। সেজন্য পিতা-মাতার সাথে যথাযথভাবে সৎ ব্যবহর করা সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বাড়ির আশপাশে যারা বাস করে, তারাই প্রতিবেশী। রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর প্রতি উত্তম আচরণ করে’। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়’। (বুখারী)। প্রত্যেক মুমিন বান্দার উচিত প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়া। কারণ প্রত্যেক মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। ইসলামী সমাজ এ বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সর্বোত্তম জাতি। মানবতার কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে আবির্ভাব করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা মানুষকে কল্যাণের আদেশ দাও এবং অন্যায় ও অকল্যাণ থেকে বিরত রাখ’। (সূরা অ লে ইমরান)। বিশ্বনবী সা. বলেন, সকল সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার, সুতরাং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি সে, যে তার পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী’। (তাবারানী)। আমরা মুসলিম জাতি। জাতিগত ঐতিহ্য হচ্ছে আত্মীয় হোক বা না হোক, মুসলিম কিংবা অমুসলিম, প্রতিবেশী বা অপ্রতিবেশী হোক, অসুস্থ হলে তার সেবা করা উচিত। রাসূল সা. কোনো ব্যক্তির অসুস্থতার খবর শুনলে তাকে দেখতে যেতেন। বিশ্বনবী বলেন, ‘হে মানুষের রব,এ ব্যক্তির কষ্ট দূর করে দাও। তুমি তো নিরাময়কারী,তাকে রোগ থেকে সুস্থতা দান করো, তুমি ব্যতীত অন্য কেউ আরোগ্য দাতা নেই। এমনভাবে মুক্ত কর, যা কোনো প্রকার রোগ অবশিষ্ট রাখে না’। (বুখারী)। এ দুনিয়ায় প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। যখন কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তাকে দেখতে যাওয়া। পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনকে সান্ত্বনা দেওয়া। রাসূল সূরা কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর খবর শুনলে সেখানে তাড়াতাড়ি উপস্থিত হতেন। বিশ্বনবী সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় কোনো মুসলিমের লাশের অনুসরণ করে; এমনকি জানাজায় সালাত আদায় পর্যন্ত তার সাথে থাকে এবং দাফন শেষ করে ফেরে, তাহলে সে দুই কীরাত সাওয়াব নিয়ে ফিরে। প্রতি কীরাত ওহুদ পাহাড়ের ন্যায়। আর যে ব্যক্তি জানাজা সালাত আদায় করে দাফনের পুর্বে ফিরে আসে, সে ব্যক্তি এক কীরাত পরিমাণ সাওয়াব নিয়ে ফেরে’। (বুখারী)। মানুষের মানবীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে সর্বোত্তম গুণাবলি হলো মেহমানদারি করা। বিশ্বনবী সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে’। (বুখারী)। সমাজে চলাচলের জন্য রাস্তাঘাটের প্রয়োজন। রাস্তাঘাট নিরাপদ ও কণ্টকমুক্ত করা সুন্নত। এ কাজটি করা সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিশ্বনবী সা. বলেন, ‘তোমরা তিনটি অভিশাপকারী কাজ হতে বিরত থাক। আর তা হলো রাস্তাঘাট ও ছায়াযুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ না করা। (আবু দাইদ)। আমরা মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকি না। কিন্তু সমাজসেবা এমন একটি কাজ, যার মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত সাওয়াব পাওয়া যায়। সমাজসেবা কাজটি সদকায়ে জারিয়া। এটি দীর্ঘদিন স্থায়ী থাকে। স্থায়ীভাবে লোকদের কল্যাণ সাধন করা। বিশ্বনবী সা. বলেন, যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার সকল আমল বিছিন্ন হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল এর ব্যতিক্রম। সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা লোকের উপকার হয়ে থাকে এবং সৎ সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম)। এছাড়া রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, কূয়া বা টিউবওয়েল স্থাপন করা, মসজিদ, মাদরাসা নির্মাণ করা। এ জাতীয় কাজ সদকায়ে জারিয়া, যা জাতিসত্তার জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
মানুষ সামাজিক জীব। তাঁর সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করা উচিত। এ কারণে সমাজজীবনে বৃক্ষরোপণ, লতাপাতা রোপণ করার প্রয়োজন। গাছপালা মহান আল্লাহর বিরাট নিয়ামত। আল্লাহ বলেন, ‘তৃণলতা ও বৃক্ষরাজি (আল্লাহর সমীপে) সিজদারত’। (সূরা আর রহমান)। বিশ্বনবী সা. বলেন, কোনো মুসলিম বৃক্ষরোপণ করলে অথবা ফসলের চাষ করলে এবং তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা জন্তু-জানোয়ার কিছু ভক্ষণ করলে তা সে ব্যক্তির জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে’। (বুখারী)। বৃক্ষ আমাদেরকে অক্সিজেন দেয়। মহান আল্লাহ চাষাবাদের মাধ্যমে আমারে রিজিকের ব্যবস্থা করেন। সমাজজীবনে সেবামূলক কাজ হিসেবে এতিম, বিধবা ও নিঃস্ব ব্যক্তিদের সেরা করা। আল্লাহ বলেন, ‘সদাচরণ কর আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, আত্মীয় ও অনাত্মীয়, প্রতিবেশী, সহযাত্রী ও সহকর্মী, মুসাফির এবং অধীনস্থ লোকদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারী লোকদের পছন্দ করেন না’। (সূরা আন নিসা : ৩৬)। মানবসমাজে অনেক মানুষ হতদরিদ্র, ক্ষুধার্ত থাকে। ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান এবং বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান করা। আল্লাহ বলেন, ‘কখনো নয় বরং তোমরা এতিমদের সম্মান করো এবং মিসকিনদের খাদ্যদানে উৎসাহিত করো’। (সূরা-আল ফজর)। বিশ্বনবী সা. বলেন, যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে জানা সত্ত্বেও অভুক্ত রেখে নিজে পেট পুরে খেয়ে রাতযাপন করে, সে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমানদার নয়’। (তাবারানী)। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য প্রতিষ্ঠা করা ইমানের অপরিহার্য দাবি। কাফির মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ-লড়াই হওয়া স্বাভাবিক। কিংবা প্রতিবেশী ও পরস্পরের মাঝে ঝগড়া-মারামারি হতে থাকে। ইসলাম ধর্মের পূর্বে জালিম শাসকরা বন্দিদের সাথে চরম অমানবিক আচরণ করতো। মানবিক কোনো আচরণ করা হতো না। ইসলাম ধর্ম বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ ও সদাচরণ শিক্ষা দিয়েছে। রাসূল সা. বলেন, ‘তোমরা বন্দিদের মুক্ত কর এবং ক্ষুধার্তকে খাবার দাও’। (দায়েমী)। বান্দার প্রতি বিপদ-আপদ হলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তা বড় নিয়ামত। যে ব্যক্তি বিপদ-আপদে মানুষকে সাহায্য করে, মহান আল্লাহ তায়ালা সে ব্যক্তিকে দুনিয়ার বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করবেন এবং আখিরাতের কঠিন বিপদ থেকে তাঁকে নাজাত দেবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যদি মুমিনের দুটি দল পরস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। যদি এক দল অন্য দলের ওপর চড়াও হয়, তাহলে তোমরা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। তবে যদি তারা ফিরে আসে তাহলে তাদের মধ্যে ন্যায়ের ভিত্তিতে মীমাংসা করে দাও এবং ইনসাফ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন’। (সূরা আল হুজুরাত)। রাসূল সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের নিকট হতে দুনিয়ার বিপদসমূহের কোনো বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ তার নিকট থেকে কিয়ামত দিবসের বিপদসমূহ হতে কোনো বিপদকে দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো সংকটাপন্ন ব্যক্তির সংকটকে সহজ করে দেয় আল্লাহ তাকে দুনিয়া এবং আখিরাতে সহজাত দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটিকে গোপন রাখে, আল্লাহও দুনিয়া এবং আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটিকে গোপন রাখবেন। আল্লাহ তার বান্দাকে সাহার্য করতে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহার্যরত থাকে”। (আবু দাউদ)। সামাজিক জীবনে মেজাজ-প্রকৃতি, আচার-আচরণ ও স্বার্থসংশিষ্ট বিষয়ে অনেক সময় পরস্পরে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়। মুসলিম উভয় দলের মধ্যে সন্ধি ও সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সমাজসেবামূলক কাজ। এছাড়া রাসূল সা. অগণিত সমাজসেবামূলক কাজ করেছেন।
পরিশেষে ‘রাসূল সা.-এর আদর্শই সমাজসেবা কাজের সর্বোত্তম আদর্শ’ সামনে রেখে বলতে চাই যে, সমাজসেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমাদের সমাজের সর্বক্ষেত্রে সমাজসেবার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। আজকে বস্তুবাদী বিজাতীয় ও বিধর্মীদের চতুর্থমুখী আক্রমণে যুবসমাজ অপসংস্কৃতির সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। অপসংস্কৃতির কালো স্রোতে বহু মুসলিম যুবসমাজ শুকনো পাতার ন্যায় ভাসছে। অপসংস্কৃতির আগ্রাসন ও নগ্নতা ইসলামী সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে গিলে খাচ্ছে। ইসলামী সংস্কৃতির অভাবে মুসলিম যুবসমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংস্কৃতির ক্যাম্পাসে ইসলামী সংস্কৃতি, কৃষ্টি, কালচার, বিধিবিধান প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মুসলিম যুবসমাজকে ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরতে হবে। রাসূল সা.-এর মহান আদর্শকে সামনে নিয়ে পাড়া-মহল্লা সর্বক্ষেত্রে ইসলামী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। সমাজসেবামূলক কাজকর্ম বাস্তবায়নে অপরাজিত সেনাপতির ভূমিকা রাখতে হবে। এ হোক আজকের প্রত্যাশা।
লেখক : গ্রন্থাকার, সহকারী অধ্যাপক।