সৈয়দপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার কাছে রেলওয়ের জায়গা বিক্রির অভিযোগ


৭ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৫

মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) : বৈধ পন্থায় অবৈধ কারবার সম্পাদন করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর কাচারী-৮ এর কানুনগো। আর এজন্য মোটা অংকের অর্থ পকেটস্থ হচ্ছে তাঁর। আর সেই সুযোগে সৈয়দপুরের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এবার রেলওয়ের বাংলো সংলগ্ন ফাঁকা জায়গা দখল করছেন। দখল সম্পন্ন হলে সেই জায়গা লিজ লাইসেন্স করে দেবেন কানুনগো। প্রায় ২ লাখ টাকা চুক্তিতে এ কার্যসম্পাদন করা হবে। যার অগ্রিম হিসেবে ইতোমধ্যে ১ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাগড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসী। ফলে দখল সম্পন্ন হয়নি, তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একটি সূত্রের অভিযোগ, বর্তমান কানুনগো আসার পর থেকেই সৈয়দপুরসহ পার্বতীপুর এলাকায় ব্যাপকভাবে রেলওয়ের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন তৈরির হিড়িক পড়েছে। তাছাড়া ঠুনকো অজুহাতে আগের লিজগ্রহীতার লাইসেন্স বাতিল করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্যকে নতুন করে লিজ প্রদান করছেন। একইসাথে একাধিক ব্যক্তিকে একই জায়গা লিজ প্রদানের ঘটনাও ঘটেছে। এভাবে বৈধতার ভান করে অবৈধ কারবার অব্যাহত রেখেছেন পার্বতীপুর রেলওয়ে কাচারী নং-৮-এর কানুনগো শরিফুল ইসলাম।
পার্বতীপুর রেলওয়ে কাচারী নং-৮ এর কানুনগো শরিফুল ইসলাম বলেন, সৈয়দপুর ড্রিম প্লাসের মালিক তহিদুল ইসলাম তার স্ত্রী সাবিনা বেগমের নামে রেলওয়ে জমি লিজ নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে তিনি যে স্থান নির্ধারণ করেছেন, তা তার দখলে না থাকায় এখনো লাইসেন্স করে দেয়া হয়নি। অর্থ নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৈয়দপুরের মানুষ কোথায় টাকা দেয়? তারাতো পাকশীতে সরাসরি গিয়ে টাকা দিয়ে লাইসেন্স করে আনে। আমাদের কাছে আসেনা। তাই সৈয়দপুরের কারো কাছে টাকা নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
একই অফিসের কর্মচারী ফারুক বলেন, আমি অধীনস্থ কর্মচারী। সাহেব যা করতে বলেন, তাই করতে হয়। এখানে আমার কোনো নিজস্ব কর্তৃত্ব নেই। আর টাকা ছাড়া কোথাও কোনো কাজ হয় না। তবে আমাদের কাছে তেমন কেউ আসে না। বিশেষ করে সৈয়দপুরের লিজগ্রহীতারা বেশিরভাগই সরাসরি পাকশী এস্টেট অফিস থেকেই তাদের কাজ করেন। নতুন গ্রহিতারাও সেই পথেই যান। ফলে এখানে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার সুযোগ কোথায়?