জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

স্টাফ রিপোর্টার
২৪ জুলাই ২০২৫ ০৯:২৪

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে গত শনিবার (১৯ জুলাই) ছিল ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই উদ্যানে অবস্থান নেয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, ডিএমপির স্পেশাল টিম এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে পুরো এলাকা ও আশপাশের সড়ক ছিল নিরাপত্তা চাদরে মোড়ানো। মাঠের চারপাশে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা, ওয়াকিটকি ও ড্রোনের মাধ্যমে চলছিল মনিটরিং। সমাবেশস্থলে প্রবেশের প্রতিটি গেটেই ছিল মেটাল ডিটেক্টর, তল্লাশি চৌকি এবং পরিচয় যাচাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এসএলএমডি নজরুল ইসলাম জানান, ‘সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ে আমরা নিরপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।’
র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গাজী যুবায়ের আলম শোভন বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরো সময়জুড়ে আমরা উচ্চ সতর্কতায় ছিলাম। র‌্যাবের টহল টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং কুক স্কোয়াড প্রস্তুত ছিল যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায়।’
জামায়াতের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছিল নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল। একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, দলের কেন্দ্র থেকে আগত কর্মীদের নিয়ে গঠিত এ দলটি গেট নিয়ন্ত্রণ, নারী-পুরুষ আলাদা বসার ব্যবস্থা এবং চলাচলের পথ সুগম রাখায় সহযোগিতা করেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সমর্থকদের যাত্রাপথেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল লক্ষণীয়। হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ঢাকা প্রবেশ পথে গাড়ি তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রত্যেকটি স্পর্শকাতর এলাকা, হোটেল, মাদরাসা ও মসজিদ নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। আগতদের পরিচয় ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।’
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা : ব্যতিক্রমী আয়োজন
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাবেশে প্রায় ৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত ছিলেন। তারা ট্রাফিক, পথনির্দেশ, নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তারা সবাই নির্দিষ্ট গাউন ও পরিচয়পত্র পরিহিত ছিলেন। শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা নেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঢাকাবাসীকে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে ফেলতে চাইনি। এজন্য আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে গাড়িগুলো দূরে রাখার ব্যবস্থা করেছি।”
ভ্যাপসা গরমেও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন সক্রিয় ও অনড়। নেতাকর্মীদের জন্য রাখা হয় ১৫টি মেডিকেল বুথ, ৫০ হাজারের বেশি পানির বোতল, খাবার, অজু ও টয়লেটের ব্যবস্থা।
বক্তৃতা পৌঁছাতে ৩৩টি এলইডি স্ক্রিন ও ৩০০ মাইক স্থাপন করা হয়। এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত লাইটিং এবং ধাপভিত্তিক উপকমিটির মাধ্যমে পুরো আয়োজন সমন্বয় করা হয়।
এদিকে সমাবেশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘এত বড় সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দক্ষতার প্রমাণ।’ অন্যদিকে সমাবেশে অংশগ্রহণকারী এক জামায়াত কর্মী বলেন, ‘আমরা কৃতজ্ঞ যে পুলিশ ও প্রশাসন সহযোগিতা করেছে। কোনো হয়রানি ছাড়াই ঢাকায় প্রবেশ ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি।’
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি, নজরদারি ও কৌশলগত পদক্ষেপ সফলভাবে একটি বড় সমাবেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহায়ক ছিল।