সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৫৪
বিপদে পড়া হিন্দুদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত গড়লেন মুসলিমরা
ভারতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব হলো কুম্ভমেলা। গত ২৯ জানুয়ারি এ মেলায় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর হাজারো বিপন্ন পুণ্যার্থীদের আশ্রয়ের জন্য উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ্যের (ইলাহাবাদ) মুসলিমরা খুলে দিয়েছেলেন মসজিদ-মাদরাসার দরজা। জানা যায়, পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর ইলাহাবাদে তীব্র যানজটে আটকে পড়েন বহু পুণ্যার্থী। তাদের জন্য মসজিদ, মাদরাসা, এমনকি নিজের বাড়ির দরজা পর্যন্ত খুলে দিয়েছেন স্থানীয় মুসলিমরা। সেই সঙ্গে খাবার-পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি পুণ্যার্থীদের জন্য কম্বলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের প্রয়াগরাজ্যের স্থানীয় মুসলিমদের কথায়, এটাই প্রয়াগরাজ্যের সংস্কৃতি যা স্থানীয়ভাবে গঙ্গা-যামনি তেহজাব নামে পরিচিত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের দিকে মানুষের হাত বাড়ানোর প্রমাণ আরও একবার পাওয়া গেল। মুসলিমবিদ্বেষে রাজনৈতিক ইন্ধন সত্ত্বেও এ সংস্কৃতি বা মানবিকতা শুধু প্রয়াগরাজ্যেই নয়, অন্যত্রও এমন দৃশ্য বিদ্যমান।
পদপিষ্টের ঘটনায় গত ২৯ ও ৩০ জানুয়ারির রাত ও দিন হাজারো অসহায় পুণ্যার্থীর জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল খুল্লাবাদ সবজি মান্ডি মসজিদ, বড় তাজিয়া ইমামবাড়া, হিম্মতগঞ্জ দরগাহ, চক মসজিদের দরজা। এছাড়া খুলে দেওয়া হয় নখসখোলা অঞ্চলের হাফিজ রাজ্জাব মসজিদ ও চক এলাকার জামে মসজিদও। মুসলিম-অধ্যুষিত রোশনবাগ, খুল্লাবাদ, রানি মান্ডি, শাহগঞ্জ এলাকার বহু স্থানীয় বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয় রাজস্থান, তামিলনাড়ু, বিহার, হরিয়ানা থেকে মেলায় আসা পুণ্যার্থীদের। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, বাড়ির নারীরা এসব পুণ্যার্থীর জন্য সাধ্যমতো খাদ্যপানীয়র ব্যবস্থা করেন। কোনো কোনো এলাকায় সেই রাতেই ভান্ডারা ও লঙ্গরের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় মুসলিমদের মতো শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও খুলে দিয়েছিল গুরুদ্বারের দরজা। আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বিপর্যয়-উ™£ান্ত অসহায় মানুষদের। সিয়াসত ডেইলি।
যে শিশুর আকুতি নাড়া দিয়েছে বিশ্ব বিবেককে
‘আমার খুব ভয় লাগছে। কেউ একটু আসেন। আমাকে বাঁচান। উদ্ধারকর্মীদের ফোন দেন।’ এভাবেই করুণ স্বরে কাতরাচ্ছিলেন ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব। পরিবারের সাথে যুদ্ধপ্রবণ এলাকা ছাড়ছিলেন তখন। তাদের লক্ষ করে ৩৩৫টি গুলি ছোড়ে দখলদার বাহিনী। এতে আহত হন তিনি। ডাকতে থাকেন আহত স্বরে। তার এ করুণ স্বরের অডিও গত ২৯ জানুয়ারি বুধবার ভাইরাল হয়। আলোড়ন সৃষ্টি হয় দুনিয়াব্যাপী। জানা যায়, তার এ আওয়াজ শুনেছিল প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস)। তাকে উদ্ধার করতে পাঠিয়েছিল দুই প্যারামেডিক। কিন্তু তাদেরকেও হত্যা করে ইহুদি বাহিনী। গত ২৯ জানুয়ারি পিআরসিএসই প্রকাশ করে অডিও রেকর্ডটি। তারা জানায়, ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি গাজার দক্ষিণে তেল আল হাওয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ পড়ে থাকে হিন্দ ও তার পরিবারের লাশ।
হিন্দ রজব মারা গেছেন প্রায় এক বছর। সম্প্রতি তার রেকর্ডটি প্রকাশ পেয়েছে। ব্যাপকভাবে শেয়ার করছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। তারা হিন্দের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। দাবি করছেন তার মৃত্যুর জন্য ন্যায়বিচার। দখলদার বাহিনীকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতেও কথা বলছেন অনেকে। মার্কিন জায়নবাদবিরোধী সংগঠন ইহুদি ভয়েস ফর পিস। তারা হিন্দ রজবকে নিয়ে কয়েকটি পোস্ট করেছেন। এক্স একাউন্টে ছবিটি পোস্ট করে তারা লিখেছেন, ‘হিন্দ রজব। তুমি স্মৃতিতে থাকবে অম্লান। তুমি ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিনিদের আত্মা নেভে না। চিরকাল বেঁচে থাকবে তোমার উত্তরসূরীরা।’ আরেক পোস্টে প্রশ্ন রেখেছে যে, হিন্দ ও তার বয়সী শিশুরা কি কেবলই ট্র্যাজেডির শিকার হয়ে যাবে? তারা কি বন্ধুদের সাথে হেসে খেলে সময় কাটাবে না? অনেকে হিন্দের ছবি শেয়ার করে এক্সবার্তায় লিখেছেন, কখনো ভোলা যাবে না। এ সময় তারা হিন্দের গল্প ছড়িয়ে দেয়ারও আহ্বান জানান। অনেকে হিন্দের ঘটনার জন্য পশ্চিমা মিডিয়াকে দোষারোপ করেছেন। তারা পশ্চিমা মিডিয়ার কভারেজ তুলে ধরে বলেন, এ ঘটনায় তাদের ভাষা ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। তারা হিন্দের মৃত্যুর পরিস্থিতি আড়াল করে ফেলেছিল। মিডল ইস্ট আই।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক নয় : আলজেরিয়া
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক নয় বলে জানিয়েছেন আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল মাজিদ তেব্বুন। গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সভিত্তিক গণমাধ্যম লি পয়েন্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি গত সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সংবাদপত্রটিতে প্রকাশিত হয়েছে। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তার দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে উদ্যোগ নেবে। এর আগে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে না।
তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে যদি স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে কি তার দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে উদ্যোগ নেবে? তিনি বলেন, অবশ্যই উদ্যোগ নেবে। আর সেদিনই কেবল এটি সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকেই এখন পর্যন্ত প্রায়োরিটি দিচ্ছি। উল্লেখ্য, আলজেরিয়া বরাবরই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সেজন্য তারা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে যেকোনো কূটনৈতিক তৎপরতাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আনাদলু এজেন্সি।
সিরিয়ার পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে কাতার : শেখ তামিম বিন হামাদ
সিরিয়ায় আসাদ যুগের অবসানের পর প্রথম আরব নেতা হিসেবে সিরিয়া সফরে গেছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। তিনি সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সাথে বৈঠক করেছেন। তুরস্কের ‘আনাদলু বার্তা সংস্থা’র উদ্ধৃতি দিয়ে দামেস্ক থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে। বৈঠকে কাতারের আমীর সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আমীর গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠনে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
গত ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার কাতারের আমীরকে স্বাগত জানান।
এ সময় সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বাশির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুরহাফ আবু কাসরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। বাশার আল-আসাদের পতনের পর প্রথম কোনো আরব নেতা হিসেবে সিরিয়া সফরে গেলেন আল-থানি। দামেস্কে পৌঁছে আহমেদ আল-শারার সাথে বৈঠক করেন কাতারের আমীর। এ সময় সিরিয়া পুনর্গঠন, দেশটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের ওপর জোর দেন তিনি। কাতারের আমীর বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, পুনর্নির্মাণ সিরিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এ ঘোষণা কাতারের জন্যও খুশির খবর। সিরিয়ার মানুষকে সমর্থন ও সহযোগিতায় সবসময় পাশে থাকবে কাতার। এএফপি।
ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবে ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন
সপ্তাহের প্রথম দিনেই ব্যাপক ধস নেমেছে ভারতীয় রুপির মূল্যে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে রুপির দর ৬৭ পয়সা কমে ৮৭.২৯-এ নেমে রেকর্ড পতনে পৌঁছেছে। গত ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার রুপির দর তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল- ৮৬.৬২-তে বাজার বন্ধ হয়েছিল। সোমবার দিনের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে রুপি ৮৭.০০ দরে লেনদেন শুরু করলেও তা আরো নেমে যায়। কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৫ শতাংশ এবং চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করায় বিশ্বব্যাপী এক বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ফরেক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি পুঁজির ধারাবাহিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণেই ভারতীয় মুদ্রার ওপর ক্রমাগত চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল আমদানিকারকদের যে বিপুল চাহিদা ডলারের, সেটিও টাকার দর পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ উদ্বেগের বড় কারণ ট্রাম্পের শুল্কনীতি কার্যকর হওয়া। কারণ বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ায় তা ১০৯.৫০ স্তরে পৌঁছে গেছে। এদিকে ডলারের শক্তি পরিমাপকারী সূচক ডলার ইনডেক্স ১.৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৯.৭৭-এ পৌঁছেছে। ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড ও ইয়েনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাগুলোরও দরপতন ঘটেছে ইউরো ১.০২২৪, পাউন্ড ১.২২৬১ এবং ইয়েন ১৫৫.৫৪-তে নেমে এসেছে। দ্য ওয়াল।
৬৫ বছরের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় সর্বোচ্চ মূল্যহ্রাস
শ্রীলঙ্কায় জানুয়ারি মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক ৪.০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা জুলাই ১৯৬০ সালের পর দেশটির সর্বোচ্চ মূল্যহ্রাস। গত শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি তার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কলম্বো থেকে এএফপি জানায়, কলম্বো কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী পরপর পাঁচ মাসের মূল্যহ্রাসের ধারাবাহিকতায় জানুয়ারিতেও মূল্যহ্রাস অব্যাহত থাকে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীলঙ্কা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়ে। তখন শ্রীলঙ্কায় মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড ৬৯.৮ শতাংশে পৌঁছে এবং কয়েক মাস ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচের উল্লেখযোগ্য হ্রাস জানুয়ারিতে মূল্যহ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৫ সালে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৫.০ শতাংশ হতে পারে।
২০২২ সালের অর্থনৈতিক ধসের পর শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের পুনরুদ্ধার ঋণ নিশ্চিত করে। গত বছর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমার দিশানায়েকে তার পূর্বসূরির আলোচনায় চূড়ান্ত করা আইএমএফ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা উচ্চ করহার ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের কাটছাঁটের মতো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাসস।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান