৮৩ শতাংশ জনগণ ভাঙবেই এ বাধার প্রাচীর


১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৩০

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
দেশের রাজনীতির হাওয়া বদলের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষমতা দখলের স্বপ্নে বিভোর লর্ডরা। রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, ৩৬ জুলাই বিপ্লবে হাসিনার ফ্যাসিজমের পতন হয়েছে। কিন্তু এর আগে ত্রুটিপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সেবক না হয়ে জনগণের প্রভু বা লর্ডে পরিণত হতেন। সেই ব্যবস্থা ভাঙতে না পারলে এবার যারাই ক্ষমতায় আসুক, বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না। জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখল, ঘুষ-দুর্নীতির নাগপাশ থেকে মুক্তি আসবে না। তাই দেশের জনগণ আর যেনতেন নির্বাচন চায় না। তারা চায়Ñ তাদের প্রতিটি ভোটের মূল্যায়ন হোক, প্রতিটি ভোট কাজে লাগুক। তাই সংখ্যানুপাতিক জনপ্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ।
দেশের ৮১ শতাংশ মানুষ গণভোট চায়
গত ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : জনমানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজিং ইনস্টিটিউট (বিইআই) পরিচালিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। বিইআই’র জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, সংবিধান সংশোধনে গণভোট চায় দেশের ৮১ শতাংশ মানুষ। ৮৩ শতাংশ পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির পক্ষে। রাজনৈতিক দলগুলোয় ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ সমর্থন করেন ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : জনমানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সংবিধান সংশোধন ও পিআর পদ্ধতির সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করছে বিএনপি নেতাদের একটি অংশ। অবশ্য পিআর বিতর্ক শুরু হলে সেই ১ জুলাই এ বক্তব্যে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা কতটা উপযোগী, ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তারেক রহমান। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামত সমর্থন করতে গণতান্ত্রিক দলগুলো বাধ্য। এর ব্যত্যয় মানেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা।
বাংলাদেশের বিদ্যমান অবস্থায় সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনী ব্যবস্থা কতটা উপযোগী কিংবা উপযোগী কি-না, তা ভেবে দেখার অনুরোধের ফলাফল জনমত জরিপে উঠে এসেছে। আর ভালোভাবে যদি তিনি বা তার দল বুঝতে চায়, তাহলে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার জাতীয় নির্বাচনের আগে সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণভোটের ব্যবস্থা করতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সংবিধান রচনা করতে গণভোট আয়োজনের নজির আছে, যা ইতিহাসে ম্যাগানা কার্টা নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও ম্যাগনা কার্টা (Magna Carta) একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা ১২১৫ সালের ১৫ জুন ইংল্যান্ডের রাজা জন তাঁর বিদ্রোহী ব্যারনদের চাপের মুখে স্বাক্ষর করেন। এ ‘মহান সনদ’ রাজার ক্ষমতাকে সীমিত করে এবং এটি প্রমাণ করে যে, রাজা বা সরকারও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি আইনের শাসন, ন্যায্য বিচার এবং রাজার করারোপের ক্ষমতার ওপর কিছু বিধিনিষেধের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতির সূচনা করে, যা আধুনিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধারণাকে ভিত্তি ধরে পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান মদিনা সনদ, আমেরিকার সংবিধান ও অধিকারের বিল (ইরষষ ড়ভ জরমযঃং)সহ জনগণের পক্ষের চুক্তিগুলোকে ম্যাগনা কার্টা (গধমহধ ঈধৎঃধ) মতোই জনবান্ধব মনে করা হয়। ইসলামী চিন্তাবিদরা অবশ্য জনগণের পক্ষের চুক্তিগুলোকে মদিনা সনদের সাথে তুলনা করেন, কারণ ম্যাগনা কার্টার অনেক আগে এবং পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে এটিকেই ভিত্তি ধরা হয়।
তাই আজ যারা সংবিধান সংশোধনকে সংসদের দোহাই দিয়ে ঐকমত্য কমিশনে উপস্থাপিত সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের মতামতকে উপেক্ষা করছেন, তারা আসলে জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণচিন্তায় তা করছেন না। সংকীর্ণ দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থকে দেশ এবং জনগণের মতামতের ওপর প্রাধান্য দিচ্ছেন। অথচ তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাতার দর্শন থেকে সরে গেছে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
অন্যান্য বিরোধীদলের নেতা ও বিশ্লেষকদের ভাবনা
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর রোববার কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তুলে ধরেছে।
বিএনপি বলেছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতেই হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, তারাও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়। তবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন হলে সেটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। এনসিপি বলেছে, সংস্কার টেকসই করতে হলে দরকার গণপরিষদ নির্বাচন।
ছয়টি সংস্কার কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই পর্বের আলোচনায় ইতোমধ্যে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। সনদের চূড়ান্ত খসড়া ইতোমধ্যে দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতার কারণে সনদ আটকে আছে। অবশ্য বাস্তবায়নের পদ্ধতি সনদের অংশ হবে না। এ বিষয়ে সরকারকে একটি সুপারিশ দেবে ঐকমত্য কমিশন।
জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য
প্রধান উপদেষ্টার সামনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নের দুটি বিকল্প উপায় তুলে ধরেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ। এর একটি হলোÑ ‘প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার’, আরেকটি হলো- গণভোট। সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে ঐকমত্য না হলে গণভোটে জনগণের রায় নেওয়ার পক্ষে দলটি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল সংস্কার, গণহত্যার বিচার ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইতিহাসসেরা নির্বাচন। ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সনদ এবং এর ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হলেই তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনি বলেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে ‘লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ ও ফলাফল ঘোষণা জামায়াতে ইসলামীকে কিছুটা উদ্বিগ্ন করেছে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টাকে তাঁরা নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখতে চান। এটার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কি না, সেটা নিয়েও উদ্বেগ আছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক প্রসেস মেনেই পলিটিক্স (রাজনীতি) করে আসছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ আমাদের অর্জন বার বার বলেছি, বাংলাদেশকে মেনে নিয়েই কিন্তু সবাই রাজনীতি করছে। আমরাও তা-ই। সুতরাং এখানে পেছনের কথা টানার কোনো সুযোগ নেই।’
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার পর সেই আলোকে জাতীয় নির্বাচন হলে, সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর এ নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী দিনে যে একটা ক্রেডিবল (গ্রহণযোগ্য) ইলেকশনের কথা বলছি, সুষ্ঠু এবং ইতিহাসের সেরা নির্বাচনের কথা বলছি- সবটাই সম্ভব হবে, যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে নির্বাচন হয়। এটাও বলেছি, আমরা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাই। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি রচনা করে, তার ভিত্তিতে নির্বাচন হতে হবে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবে স্বীকৃত হবে বলে মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘যদি এটা আইনি প্রক্রিয়ায় না আসে, তাহলে স্টেট এভিডেন্স হিসেবে, ডকুমেন্ট হিসেবে এটা স্বীকৃতি পায় না। তাহলে আমরা যে আগামী দিনের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি- সুশাসন-ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক, জনকল্যাণমুখী একটি রাষ্ট্র কায়েম হবে; পুরোনো যে ফ্যাসিবাদী আমলের সবকিছু সংস্কার করে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে নবযাত্রা শুরু হবে, তার জন্য জুলাই চার্টারের আইনি ভিত্তির কোনো বিকল্প নেই।’ জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিটা কীভাবে হবে- এ প্রশ্ন তুলে নিজেই উত্তর দেন জামায়াতে ইসলামীর এ নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হতে হবে একটা শক্তিশালী আইনি ভিত্তি দিয়ে- যাতে পরবর্তী সময়ে সনদটি চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়ে, চ্যালেঞ্জ করে এটাকে আবার রহিত করার সুযোগ না পায়।’
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭-এ জনগণের পরম অভিপ্রায়ের কথা বলা আছে। এর ভিত্তিতে যদি এ কনস্টিটিউশনাল অর্ডারটা (সাংবিধানিক আদেশ) হয়, এটা সবচেয়ে শক্তিশালী হবে। সরকার এটা করার পর এটাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। মানে শক্তির ওপর শক্তি। জোরের ওপর জোর হবে, যদি এটাকে আবার রেফারেন্ডামে (গণভোট) দেওয়া হয়। তাহলে আর বিন্দু পরিমাণও ছিদ্র উন্মুক্ত থাকার সুযোগ এখানে নেই। আইনি চ্যালেঞ্জ বা অন্য কোনোভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না। এমন প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাঁচটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে জামায়াতের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে। আশা করি, এ পাঁচটি প্রস্তাবের মধ্যে আমরা কাছাকাছি আসতে পারব এবং জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি হবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
আইনজীবীর বক্তব্য
জামায়াতের দেওয়া প্রস্তাব প্রসঙ্গে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আমরা একটি বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলেছি। অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশন যেসব বিষয়ে একমত পোষণ করেছে, এর মধ্যে যে বিষয়গুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলোকে একটি বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি করে সংবিধানের ওপরে প্রাধান্য দেওয়া। বাকি ক্ষেত্রে সংবিধান যেমন আছে, তেমনই থাকবে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মন্তব্য করে শিশির মনির বলেন, ‘জনগণের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বাস্তবায়ন করার জন্যই সব আলোচনা চলছে। গণঅভ্যুত্থানের পর যখন কোনো সংবিধান ছিল না, যখন দেশে কোনো সরকার ছিল না, বিচার বিভাগ ছিল না, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী এ সময়ে জনগণের ইচ্ছা কার্যকর ছিল।’
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী জনগণের ইচ্ছার যে চরম বহিঃপ্রকাশ, এ বহিঃপ্রকাশকে একটি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে প্রাধান্য দেওয়া হলে আগামী নির্বাচন এর অধীনে হওয়ার পথে কোনো বাধা থাকবে না বলে মনে করেন শিশির মনির।
গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার ব্যবস্থায় সাংবিধানিক ব্যবস্থা অনুসরণ করার সুযোগ না থাকায় সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদের মধ্যে ৫৭টি অনুচ্ছেদ ইতোমধ্যে অকার্যকর হয়ে গেছে বলে দাবি করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘এজন্য আমরা বলেছি একটি নতুন সাংবিধানিক আদেশ জারি করার জন্য। একটি বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি করে আগামী দিনে সংবিধানের ওপরে বিশেষ সাংবিধানিক আইনকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর দেখাতে।’
৩১ রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৬টি পিআরের পক্ষে
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নেওয়া ৩১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৬টি দলই সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছে। ডা. তাহের বলেন, কিছু দল শুধুমাত্র উচ্চকক্ষে পিআর ব্যবস্থার দাবি তুলেছে, তবে জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি দল উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চায়। তিনি আরও জানান, কমপক্ষে একবারের জন্য হলেও জামায়াত পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেখতে চায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জোর করে কেন্দ্র দখল করে এমপি হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু আছে, তা পরিবর্তন করা জরুরি।’
বাধা কোথায়
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, যারা আগের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে তিনশত ভাগে ভাগ করে জমিদারি অর্থাৎ চাঁদাবাজি-দখলবাজির রাজত্ব ফিরিয়ে এনে আবার জনগণের ওপর ফ্যাসিবাদের দৈত্য চাপিয়ে দিতে চান, তারাই বাধা। এ বাধা ভাঙতে ইতোমধ্যে ৮টি রাজনৈতিক দল অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষাণা দিয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে তারা এ বাধা ভাঙবে বলে বিশ্বাস করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।