ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটনে প্রয়োজন আমূল সংস্কার
১৯ জুন ২০২৫ ১১:৪৭
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’- এ স্লোগানের বিপ্লবীরা মাঠ ছাড়লে যেকোনো সময় ফ্যাসিবাদের নব্য সংস্করণের ফাঁদ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের জালে আবার বন্দি হবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদা সমুন্নত করে বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার যে প্রত্যয়ে ছাত্র-জনতা দ্বিতীয় স্বাধীনতা এনেছে, তা নস্যাৎ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেলেও, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদ যে দীর্ঘ শিকড় গেড়েছে, তা এখনো সক্রিয়। আমূল সংস্কার ছাড়া ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। কিন্তু কাজটি যে খুব সহজ নয়, তা ইতোমধ্যেই জাতি টের পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিকে বার বার সতর্ক করছেন, ‘আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি’ এ বার্তা দিয়ে। কৌশলগত যুদ্ধ অস্ত্রের যুদ্ধের চেয়ে কম ভয়াবহ নয়। কারণ দুই যুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতিই অর্জন বিসর্জন।
এখন সেই সত্য উপলব্ধি করার সময়- ‘স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন’। এ কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল, তাদের সমর্থক সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ হতাশাব্যঞ্জক। তারা সংস্কারকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচনের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। জোর করে সরকার, স্থানীয় সরকার, বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের পদ দখল করে, ফ্যাসিবাদের মূলমন্ত্র, ‘জোর যার মুল্লুক তার’ চর্চা করে। ‘মাননীয়’ ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ক্ষোভের আগুন ছড়াচ্ছে। তারা বুঝতে চাচ্ছে না। জেনজি আবার মাঠে নামলে পতিত ফ্যাসিস্টের পরিণতি তাদেরও হতে পারে। ৩৬ জুলাই বিপ্লবকে স্বীকার করে বিপ্লবী সরকার গঠন না করার কাফফরা বর্ষপূর্তিতে আদায় হওয়া অস্বাভবিক নয়। কারণ সরকার বদল ও নির্বাচনের জন্য জাতি রক্ত দিয়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতা আনেনি। তারা যে যুদ্ধ শুরু করেছে, লক্ষ্যে পৌঁছার আগে জেনজির যোদ্ধারা মাঠ ছাড়বে- এ কথা যারা ভাবছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। বিগত বছরের ৫ আগেস্টর পর থেকে পাঁচশ’র বেশি ষড়যন্ত্র, বিক্ষোভ বা প্রতিবিপ্লব মোকাবিলা করতে হয়েছে, যা শুরু হয়েছিল হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ বিদ্রোহ দিয়ে। এখন চলছে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা, চাকরিবিধি সংশোধন এবং এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধ নিয়ে ষড়যন্ত্র করে বিক্ষোভ উসকে দিয়ে সরকারকে বিব্রত করার নীলনকশা ও নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিতে সংস্কার নস্যাৎ করার মহাযুদ্ধ।
এনটিআরসিএ-তে ফ্যাসিবাদের ছায়া : বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-তে ফ্যাসিবাদের ছায়া এখনো বিদ্যমান আছে- এমন মন্তব্য করেছেন ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত জটিলতা প্রত্যক্ষ করার পর অনেক ভুক্তভোগী। এনটিআরসিএ দায়িত্ব পরীক্ষা নিয়ে যোগ্যতা বাছাই করে সনদ দেয়া। তারা চাকরি দেন না। এবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে অনেক যোগ্য পরীক্ষার্থীকে ভাইভায় ফেল করানোর। বিশেষ করে আরবি প্রভাষকের পদ খালি থাকার পরও গণহারে ভাইভায় ফেল, এটা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। সূত্রে প্রকাশ, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষায় পাস করেও মৌখিকে (ভাইভা) রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী ফেল করেছেন। ফেলের এ হার ‘অস্বাভাবিক’ দাবি করে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন প্রার্থীরা। ফেল করা প্রার্থীদের অভিযোগ, চূড়ান্ত ফলাফলে ইচ্ছা করেই তাদের ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করে ভাইভায় অংশ নেওয়া সবাইকে তাদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিতে হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘মৌখিক পরীক্ষায় মূল ভূমিকা রেখেছেন এক্সটার্নালরা। অর্থাৎ যারা বাইরে থেকে পরীক্ষা নিতে এসেছিলেন, প্রার্থীদের পাস-ফেল অনেকটা তারাই নির্ধারণ করেছেন। মৌখিক পরীক্ষা এবার তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় ফেলের সংখ্যা কিছুটা বেশি।’ মৌখিক পরীক্ষায় আসলে কি নির্ধারিত কোনো প্রশ্নপত্র থাকে? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, লিখিত পরীক্ষায় যারা ভালো করেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুএকটি প্রশ্ন করে, নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করেই ছেড়ে দেয়া হয়। তাই বিষয়টির মধ্যে সরকারকে বিব্রত করার ষড়যন্ত্র আছে কি না, তদন্ত দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা। ইব্রাহীম প্রিন্স নামে একজন বলেন, এনটিআরসিএ-তে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয়, তারা পদশূন্য থাকার পরও ফেল করিয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। তাই তিনি পুনর্মূল্যায়ন দাবি করেছেন।
চাকরিবিধি সংশোধন ও আন্দোলন
পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অকার্যকর করে রেখে গেছে। তার সংস্কার করতে হবে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার আগেই চার ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধের জন্য বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে- এমন বিধান রেখে গত ২৫ মে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে সচিবালয় উত্তপ্ত করে সরকারকে মূল কাজ থেকে দূরে রাখার মধ্যেও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আছে বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। ইতোমধ্যেই সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ মে থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইনটি প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব সংগঠন সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করে আসছিল। তারা এ অধ্যাদেশটি নিবর্তনমূলক ও কালো আইন হিসেবে অবহিত করছেন। অথচ এটি নতুন কোনো আইন নয়, এর আগে এমন আইন ছিল। এছাড়া প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলেও অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা যায়। এজন্য প্রয়োজন ফ্যাসিবাদের অপছায়ামুক্ত নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন।
ফ্যাসিস্টের নতুন ফাঁদ
যুদ্ধ-পরবর্তী সংজ্ঞার বদলে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ফ্যাসিস্টের নতুন ফাঁদ। ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ছিল একেবারে স্পষ্ট। ইংরেজিতে প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছিল, ‘ফ্রিডম ফাইটার মিনস অ্যানি পারসন হু হ্যাড সার্ভড অ্যাজ আ মেম্বার অব অ্যানি ফোর্স এনগেজড ইন দ্য ওয়ার অব লিবারেশন।’ অর্থাৎ যিনি মুক্তিযুদ্ধে যেকোনো একটি বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেছেন, তিনিই মুক্তিযোদ্ধা। সেই আদেশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ ছিল, যাঁরা প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ বা সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত কিংবা সরকারি পেনশনভোগী বা যাঁদের নিয়মিত আয়ের উৎস আছে, তাঁরা সম্মানী ভাতা বা সুবিধার আওতায় আসবেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের যে মূল দায়িত্ব ৩৬ জুলাই চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কার, তা না করে হঠাৎ তারা কেন ব্যস্ত হয়ে পড়লেন নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে ফ্যাসিস্টদের বাসনার আলোকে সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণের। ১৯৭২ সালের সংজ্ঞা বদলে গত ৩ জুন নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে, যাঁরা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে গ্রামে-গঞ্জে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল বদর, আল শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, এরূপ সব বেসামরিক নাগরিক- ওইসময় যাঁদের বয়স সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের মধ্যে এবং সশস্ত্র বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) এবং ওই সরকারের স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, ‘কিলো ফোর্স’, আনসার সদস্যরা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।’ এর বাইরে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের সহযোগী কর্তৃক নির্যাতিত সব বীরাঙ্গনা এবং মুক্তিযুদ্ধকালে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ফিল্ড হাসপাতালের সব ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারীদের বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে বা প্রবাসে অবস্থান করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করার প্রয়াসে সংগঠকের ভূমিকা পালন, বিশ্বজনমত গঠন, কূটনৈতিক সমর্থন অর্জন এবং মনস্তাত্ত্বিক শক্তি অর্জনের প্রেক্ষাপটে যেসব বাংলাদেশের নাগরিক প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করেছেন। এ শ্রেণিতে কারা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন, তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে গবেষক সহুল আহমদ লিখেছেন, “২০১৬ সাল থেকে জারি করা সংজ্ঞায় আরও একটি হাস্যকর বিষয় রয়েছে। একদিকে বলা হচ্ছে, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়া’ যাঁরা লড়াই করেছেন, তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা। আবার অন্যদিকে সেই আহ্বানকারী নেতাকেও মুক্তিযোদ্ধা বলা হচ্ছে। অতিরিক্ত আনুগত্য প্রকাশ ও ইতিহাসে আওয়ামীকরণ ঘটাতে গিয়ে সংজ্ঞার এ অন্তর্নিহিত সংকট কারও চোখে পড়েনি।… সবকিছুকে কীভাবে আওয়ামীকরণ করা হয়েছিল, তার একটি ছোট নজির হতে পারে এ সংজ্ঞার পাঠ। ১৯৭২ সালের সংজ্ঞাটি ছিল নির্ভার ও মেদহীন। কিন্তু আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, সবকিছু শেখ মুজিবের নামে করার চেষ্টা করেছে। ১৯৯৬ সালে বলা হলো, যাঁরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধা। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিটি আইনে সংজ্ঞার শুরুতেই ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’-এর নাম যুক্ত করা হয়েছে।” হাসিনা পালালেও তার প্রেতাত্মারা যে এখনো সক্রিয় এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে বার বার সরকারকে লক্ষ্যচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে, জটিলতা সমাধানের নামে নতুন নতুন সংকট সৃষ্টি করছেÑ এটি তার একটি জ¦লন্ত উদাহরণ।
রাজনীতির মাঠে ফ্যাসিবাদ
‘তিনি এখন মাননীয় মেয়র।’ মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন নির্বাচন দাবি না করে চেয়ারে বসেছেন তিনি। বিষয়টি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী যে কারো জন্য লজ্জার, কিন্তু জোর যার মুল্লুক তার নীতিতে বিশ্বাসীরা মনে করে তিনি শক্তিতে জিতে গেছেন মানে বিজয়ী, ফ্যাসিবাদের বীজ এভাবে মহিরুহে পরিণত হয়। এদের অনুসারীই জনগণের সমর্থনের তোয়াক্কা করে না, জনগণকে লাইনে দাঁড় করিয়ে, নয়তো বুথে প্রবেশ করিয়ে মেশিন টিপে ভোট নিয়ে নেয়। তারপর দিনের ভোট রাতে, ডামি নির্বাচন ইত্যাদি ইত্যাদি অপকৌশলে ভোট চুরি করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে। তারপরও চলছে এমন অপতৎপরতা। রাজনীতির মাঠ এ চলমান ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে অবাধ, স্বচ্ছ ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
গত ১২ জুন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পাতাবুনিয়া বটতলা বাজারে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল রাজনীতির মাঠের ফ্যাসিস্টরা। নুরুল হকের সঙ্গে থাকা গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল আমীন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, সেনাবাহিনী আর পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দিতে অপারগতা জানিয়ে নুরুল হকসহ তাঁদের গলাচিপা ছেড়ে পটুয়াখালী জেলা শহরে চলে যেতে অনুরোধ জানানো হয়। তবে তাঁরা গলাচিপা ডাকবাংলোয় রাতে থাকার জন্য রওনা হয়েছেন।
এক ফেসবুক পোস্টে নুরুল হক লিখেছেন, ‘গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া বটতলা বাজারে বিএনপি নেতা হাসান মামুনের অনুসারীরা রাস্তায় গাছ ফেলে গুলতি, রড, রামদা নিয়ে আমাদের পথ রোধ করেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় কয়েকজনকে মারধর করে দুটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেছে।’ সেনাবাহিনী ও পুলিশ অপারগতা প্রকাশ করেছেন খায়রুল আমীনের এ বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে। এ অবস্থার উন্নতির আগে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করলে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে কি? অবশ্যই হবে না। তবে অতীতের মতো ভোট চোররা বিনা বাধায় ক্ষমতার মসনদে বসবে- এমন আশা দুঃস্বপ্ন পরিণত হবে। কারণ আবু সাঈদ-মুগ্ধর সাথীরা হার মানবে না। তারা যুদ্ধ শেষ করবে, নয়তো শহীদের মিছিলে তাদের সাথে শামিল হবে।