৩০ নভেম্বর থেকে বিভাগীয় সাত শহরে সমাবেশ করবে ৮ দল
২০ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৪১
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আট দলের নেতাদের বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিং
চলমান যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে পাঁচ দফা দাবিতে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগ বাদে দেশের বাকি সাত বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দল। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আট দলের নেতাদের বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আট দলের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নভেম্বর রংপুর, ১ ডিসেম্বর রাজশাহী, ২ ডিসেম্বর খুলনা, ৩ ডিসেম্বর বরিশাল, ৪ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ, ৫ ডিসেম্বর সিলেট এবং ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে। সমাবেশ সফল করতে আট দলের বিভাগীয় লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে। যারা সমাবেশ বাস্তবায়ন ও পরবর্তী আন্দোলন পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে আট দল। ইতোমধ্যে সরকার আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত আইনিভিত্তি গণভোট নির্বাচনের আগে করার দাবি ছিল আমাদের; কিন্তু সরকার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আমাদের আরেকটি দাবি ছিল ফ্যাসিবাদীদের বিচার। এরই মধ্যে ফ্যাসিস্টদের প্রধান ‘লেডি ফেরাউন’-এর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কেউ আর ফ্যাসিবাদী হওয়ার দুঃসাহস করবে না বলে আমরা মনে করি। যারা ক্ষমতায় বসবে তারা আর গুম-খুনের রাজনীতি করার সাহস পাবে না। উন্মুক্ত আদালতের মাধ্যমে দেওয়া এ রায় ন্যায়বিচারসম্মত, উপযোগী এবং ইনসাফভিত্তিক।
খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির বলেন, আমাদের দাবি ছিল পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি বাস্তবায়ন। আট দলের কেউ চাইছিল উভয় কক্ষে পিআর, কেউ শুধু উচ্চ কক্ষে। উচ্চ কক্ষে পিআর ব্যবস্থা জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আদেশের মাধ্যমে সাময়িকভাবে বাস্তবায়িতও হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।
আমাদের পঞ্চম দাবি ছিল— জাতীয় পার্টিসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিষিদ্ধ করা। এ দাবির কোনো অগ্রগতি এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এক প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া ছাড়া আমাদের পাঁচ দফা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। যদি ‘না’ জয়ী হয়, তাহলে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে না। পাঁচ দফার মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আশরাফুল আলম ও হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র (জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য রিয়াদ হোসাইন রায়হান প্রমুখ।
বৈঠক শেষে আন্দোলনরত ৮ দলের লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়ঃ-
১। ৩০ নভেম্বর (রবিবার) রংপুর বিভাগে বিশাল সমাবেশ
২। ১ ডিসেম্বর সোমবার রাজশাহী বিভাগে বিশাল সমাবেশ
৩। ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার খুলনা বিভাগে বিশাল সমাবেশ
৪। ৩ ডিসেম্বর বুধবার বরিশাল বিভাগে বিশাল সমাবেশ
৫। ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ বিভাগে বিশাল সমাবেশ
৬। ৫ ডিসেম্বর জুম’আ বার সিলেট বিভাগে বিশাল সমাবেশ
৭। ৬ ডিসেম্বর শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগে বিশাল সমাবেশ