কুরআনের আলোকে দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই
৩১ জুলাই ২০২৫ ১৩:০৫
গত ২৯ জুলাই মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সোনার বাংলার পক্ষ থেকে এটিএম আজহারুল ইসলামের এ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন হারুন ইবনে শাহাদাত। উল্লেখ্য কারাগার থেকে মুক্তির পর এটিই কোনো মিডিয়ার সাথে তার প্রথম সাক্ষাৎকার।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি সৎ লোকের শাসন এবং কুরআনের আলোকে পরিচালিত ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই। যেখানে মদিনার কল্যাণরাষ্ট্রের মতো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সুখে থাকবে। যে যার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। কোনো বৈষম্য থাকবে না। ধর্ম ও রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসের কারণে কোনো শান্তিপ্রিয় দেশপ্রেমিক নাগরিক লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হবেন না। অশান্তি সৃষ্টিকারী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ভারতের তাঁবেদার এবং দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে যে বাংলাদেশে, আমি তেমন একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে আমার প্রিয় জন্মভূমিকে দেখতে চাই।
দেশের অন্যতম প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের দুয়ার থেকে ফিরেছেন। এটিএম আজহারুল ইসলাম চলতি বছরের ২৮ মে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম জনগণের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ লাভ করেছেন। গত ২৯ জুলাই মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সোনার বাংলা তার মুখোমুখি হয়েছিলো। উল্লেখ্য, এটি কোনো মিডিয়ার সাথে তার প্রথম সাক্ষাৎকার।
তার এ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন হারুন ইবনে শাহাদাত
সোনার বাংলা : ফাঁসির মঞ্চ থেকে জনতার মঞ্চে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে ফিরিয়ে এনেছেন। এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: আলহামদুলিল্লাহ। এটি আমার জীবনের জন্য শুধু নয়, বাংলাদেশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমত ছাড়া মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের এ বিজয় সম্ভব হতো না। আমি যেদিন ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছি, সেদিন থেকেই শাহাদাতের তামান্না হৃদয়ে লালন করি। আমি শাহাদাতের জন্য সবসময় প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাকে বাছাই করেছেন, জীবন্ত সত্যের সাক্ষী হিসেবে।
আপনি জানেন, আদালত বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে বিচারের নামে অবিচার। আমাকে খালাস দিয়ে চারটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ- এক. এ উপমহাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতি ও রীতিনীতি পাল্টে আমাকে শাস্তি দিয়েছিলো। দুই. সাক্ষ্য-প্রমাণ অ্যাসেসমেন্ট ছাড়াই ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছিলো। তিন. নজিরবিহীনভাবে বিচারের নামে অবিচার করা হয়েছিলো। চার. যেসব তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হয়েছিলো, আগের আপিল বিভাগ সঠিকভাবে তা পর্যালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। বেঞ্চের অন্য ছয়জন ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি ইমদাদুল হক, বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
আল্লাহ তায়ালা আমাকে বাছাই করেছেন জীবন্ত সত্যের সাক্ষী হিসেবে। তাই তিনি হাসিনার জুডিশিয়াল কিলিং থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন। এ কথা বলার কারণ আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন। আমি বোঝাতে চাচ্ছি- আমার আগে এ ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আরো যে পাঁচ জনপ্রিয় নেতাকে তারা প্রহসনের বিচারে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এবং কারা নির্যাতনে ৬ জনকে হত্যা করেছে, তারা সবাই অবিচারের শিকার হয়েছেন- এ সত্য এদেশের জনগণ আমার মামলার রায়ের পর খুব সহজেই বুঝতে পেরেছেন। বিশ্ববাসীর কাছে হাসিনার ফ্যাসিস্ট চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে।
আমি আবারও আলহামদুলিল্লাহ বলে আমার জীবন-মৃত্যুর মালিক মহান রবের শুকরিয়া আদায় করছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লবের ছাত্র-জনতাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাদের উসিলায় আল্লাহর রহমতে আমি আজ ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে নতুন করে দেশ ও জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।
সোনার বাংলা: কারাজীবন নিঃসন্দেহে মুমিনের জন্য পরীক্ষা? এ পরীক্ষায় আপনার অর্জন ও বর্জনগুলো একটু সংক্ষেপে বলবেন কি?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: পবিত্র মুসলিম শরীফে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘আদ দুনিয়া সিজনুল মুমিনিন ওয়া জান্নাতুল কাফিরিন” অর্থাৎ “দুনিয়া হলো মুমিনের জেলখানা আর কাফিরের জান্নাত।” হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ একটি বড় কারাগারে পরিণত হয়েছিলো। আমি বন্দি ছিলাম তার ছোট কারাগারে। এটি একটি বিশেষ নির্যাতন সেল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আল্লাহর রহমতে কোনো কষ্টকেই আমি কষ্ট মনে করিনি। ঈমানী চেতনার কারণে সাহস হারাইনি। কারণ প্রথম যেদিন ইসলামী আন্দোলনে নাম লিখিয়ে পবিত্র কুরআন, হাদীস এবং মাওলানা মওদূদী রহ.সহ বিশ্ববরণ্যে আলেমদের সাহিত্য পড়া শুরু করেছিলাম, সেদিন থেকেই বুঝেছিÑ এ পথে জেল-জুলুম ও শাহাদাতের মতো পরীক্ষা আসবে। তাই তাদের শত নির্যাতন আমাকে কাবু করতে পারেনি। ফাঁসির সেলে নেয়ার পর আমার ব্লাডপ্রেসার মাপার পর ডাক্তার বিস্ময়ভরা মুখে আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চায়, ‘আপনি জানেন, আপনার বিরুদ্ধে কী রায় হয়েছে? আপনাকে এখন কোথায় রাখা হয়েছে?’ আমি মৃদু হেসে বলি, ‘কেন? আমি সবই জানি।’ ডাক্তার আবার প্রশ্ন করে, ‘তাহলে আপনার প্রেসার বাড়ছে না, আপনি স্বাভাবিক কীভাবে?’ আমি ওপরের দিকে ইশারা দিয়ে বলি, ‘হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ। আর শেখ হাসিনার আদালাতের রায় কার্যকর হলে আমি নিঃসন্দেহে শহীদ হব। আমি হব আল্লাহর সৌভাগ্য একজন বান্দা। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি। বরং ইসলামবিদ্বেষী ভারতের তাঁবেদার হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’ জেলজীবন নিঃসন্দেহে কষ্টের, আর হাসিনার জেলখানা, সেখানে ন্যূনতম মানবাধিকার নেই। আমাকে চিকিৎসার কোনো সুযোগ দেয়নি। দাঁতের চিকিৎসার জন্য পর্যন্ত ডাক্তার দেখানোর অনুমতি দেয়নি। জেলারকে বললে তিনি বলতেন, ‘ওপরের অনুমতি নেই।’ হাসিনার তাঁবেদার জেলখানার বড় কর্তারা আমার সাথে রূঢ় আচরণ করেছে। কিন্তু নিচের পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমার সাথে ভালো আচরণ করেছেন। অন্য বন্দি ও কয়েদিরাও ভালো আচরণ করেছেন।
জেলাখানায় আমার অর্জন অনেক। একান্তভাবে আল্লাহর জিকির ও ইবাদত বন্দেগি করার সুযোগ পেয়েছি। বিনা অপরাধে রাজনৈতিক কারণে এবং বিভিন্ন অপরাধেও যাদের আটক করে জেলখানায় রাখা হয়েছে, তাদের মাঝে দাওয়াতি কাজ করেছি। ইসলাম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের এমন অনেক নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছি। তারা অনেকেই জেলখানা থেকে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পেয়ে বাইরে এসে কাজ করছেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। বর্জনের কথা কী আর বলব। মুমিনের জীবনে হারানোর কিছু নেই। মুমিনের কোনো পরাজয় নেই। তাই আমি কোনো কিছুতেই আপস করিনি। আপস করলে, অসৎ পথ অবলম্বন করলে বাহ্যিকভাবে হয়তো অনেক সুখে থাকতে পারতাম। পরিবারের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হতাম না। মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হতাম না। কিন্তু তা কী সত্যিকারে সুখের হতো? আমার মনে হয় না। কারাগারে শত অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যে যখন মনে হতো আমি আল্লাহর একজন নগণ্য বান্দা হলেও তার রহমতের ছায়ায় আছি, প্রশান্তিতে আমার মনটা ভরে যেত। মনে হতো আল্লাহ আমার ওপর খুশি, আমিও তার নিয়ামত পেয়ে খুশি। তাই কারাগারের ১৪ বছরে এমন একটি রাতও আমার কাটেনি যেÑ আমার ঘুম হয়নি। আমি কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়নি। দাঁতের একটু সমস্যা ছাড়া। কিন্তু হাসিনার জেল কর্তৃপক্ষ এর জন্য আমাকে ডাক্তার দেখাতে দেয়নি। বলেছে ওপরের নিষেধ আছে।
সোনার বাংলা: আপনাকে কেন বন্দি করেছিলো পতিত হাসিনা সরকার?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: আমাকে বন্দি করার কারণ এককথায় এবং পবিত্র কুরআনের ভাষায় বলতে পারেন, ‘ওয়া-মা নাকামু মিনহুম ইল্লাআঁই উই মিনুবিল্লাহ-হিল আঝিঝিল হামীদ। (তারা তাদের শাস্তি দিয়েছিল শুধু এ কারণে যে, তারা মহাপরাক্রমশালী সপ্রশংসাভাজন আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।” (সূরা আল বুরূজ : ৮)। এছাড়া আর কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না।
আপনি জানেন, ২০১০ সালের ৩০ জুন সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আটক করে হাসিনা সরকার। তখন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ দায়িত্ব পালনকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আমি সারা দেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলি। ২০১০ সালের ২৯ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর। এর আগে তিনিসহ আমাদের সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে ২০১১ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। হাজার হাজার জনতার এ প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখে তাঁবেদার ফ্যাসিস্ট সরকার আতঙ্কিত হয়ে ব্যাপক ক্র্যাকডাউন চালায়। এ সময় আমিসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রায় ৩৭০ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। আমাকে গ্রেফতার করে প্রায় এক বছরের মতো জেলখানায় রাখে। এর মধ্যে আমি কয়েকবার জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হই। কিন্তু আবার গ্রেফতার দেখায়।
সর্বশেষ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে দেখি- আমার গাড়ির পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা- আমি তাদের প্রশ্ন করি, আপনারা কেন পিছু নিয়েছেন, আমি কি মুক্ত নই। তারা আমাকে জানায়, আপনি মুক্ত। আমরা আসছি আপনার নিরাপত্তার জন্য। আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিতে। আমি বাসায় আসার পর দেখি যে অসংখ্য পুলিশ। তখন আমি চিন্তা করলাম, আমি একটি রাজনৈতিক দলের একজন মুখপাত্র। আওয়ামী লীগ সরকার এত দীর্ঘসময় আমাকে হাউস অ্যারেস্ট করে রাখবে কীভাবে? চারদিন পরেই এ প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাই।
ঈদের পরে তখন আমি একদিন টেলিভিশনে দেখলাম, আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকারের পক্ষ থেকে সাজানো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর ২০১২ সালের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে আমাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একে একে ভিত্তিহীন মিথ্যা কাল্পনিক ১৪টি অভিযোগ আনা হয়। বানোয়াট অভিযোগ প্রমাণে এমন সব সাক্ষী হাজির করা হয়, যারা ৯ মাইল দূর থেকে আমাকে দেখেছে। পরে প্রহসনের বিচারের নামে অবিচারে আমার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছিলো। অনেক সাক্ষীই এ কথা স্বীকার করছেন, তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে- এ কথা আপনি অবশ্যই একজন সচেতন সাংবাদিক হিসেবে জানেন। যেমন- রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মো. মকবুল হোসেন জানিয়েছেন, জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিলো। মানবাধিকার সংস্থা Alliance for Witness Transparency (AWT)-এর কাছে দেওয়া তার এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তিনি ও তার মা দৌড়াতে থাকলে তার মা গুলিতে নিহত হন। ওই সময় তিনি পালাতে সক্ষম হন। তিনি পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে আমাকে দেখেননি বলে, ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাননি। এজন্য তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। হাসিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করতে শ্বশুর বাড়ি থেকে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে রংপুর সার্কিট হাউজে আটকে রেখে মিথ্যা সাক্ষ্য শেখায়। এরপর ঢাকায় একটা সেফ হোমে আটকে রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চারবার চেষ্টা করেও এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে হত্যার হুমকির মুখে পঞ্চমবারে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াতে সক্ষম হয়।’ এমন সব মিথ্যা সাক্ষী হাজির করেই আমার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছিলো।
সোনার বাংলা: আপনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদালত তার সবকিছু মিথ্যা, ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন। অথচ ওই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল আরও পাঁচজন নেতার বিরুদ্ধে, যাদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য কষ্টের। বিশেষ করে আল্লামা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় সুখরঞ্জন বালিকে ভারতের পাচার এবং পরে সেখানের জেলে নিয়ে নির্যাতন। সাবেক আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ভাইয়ের বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগে চার্জশিট, ভুয়া সাক্ষী হাজির করা হয়েছিল। সেই সময়ের একই নামের অন্য কারো করা অপরাধের দায় তাদের ওপর চাপিয়েছে, নয়তো কোনো ঘটনাই ঘটেনি অথচ গল্প-নাটকের মতো প্লট সাজিয়ে বিচারের নামে অবিচারের রায় দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, শায়খুল হাদীস মাওলানা একেএম ইউসুফ, মাওলানা আবদুস সুবহানকে কারানির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। স্কাইপে কেলেঙ্কারিসহ সবই এদেশের মানুষ দেখেছে এবং প্রতিবাদী জনগণ হাসিনার গুম, খুন, আয়নাঘরের নির্যাতনের ভয় উপেক্ষা করে সাধ্যমতো প্রতিবাদও করেছে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী বন্দি হয়েছিলেন। খুন, গুমের শিকার হয়েছেন। অত্যাচার-নির্যাতন যত বেড়েছে, জনতার মনে তত বেশি হাসিনার প্রতি ঘৃণা ও ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। ২০২৪ জুলাই-আগস্টে সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
সোনার বাংলা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের দিন আপনার অনুভূতি কেমন ছিলো?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের খবর আমরা পেতাম। জনতার বিক্ষোভ বাড়ছে দেখে আল্লাহর দরবারে দোয়া করতাম। আগস্টের দুই/তিন তারিখে টেলিভিশনে যখন দেখলাম, সম্ভবত রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে একটি শিশু পুলিশের পেটে ঘুষি মারছে। সেদিনই বুঝতে পেরেছি, হাসিনার প্রতি জনগণের ক্ষোভ কতটা তীব্র। সেদিনই আমি বুঝতে পেরেছি, হাসিনার শেষ রক্ষা হবে না। মজলুম জনতার এ আন্দোলন সংগ্রাম বিজয়ের মঞ্জিলে না পৌঁছা পর্যন্ত থামবে না। হাসিনা আর বেশিদিন টিকতে পারবে না।
সোনার বাংলা: বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতির বিশেষ করে হাসিনার পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: হাসিনা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রমাণ করেছে, সে আসলে ভারতের তাঁবেদার। তারা আমাদের অপবাদ দিয়ে দেশের শত্রুর ট্যাগ লাগিয়ে ভিন্ন নামে ডেকেছে। ‘শেখ হাসিনা পালায় না’ বলে দম্ভ দেখিয়েছে অথচ দেশটাকে তারা নিজের ভাবতে পারে না বলেই পালিয়েছে। বরং আমরা দেশের মাটিতে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করি বলেই পালাইনি। আমাদের নেতা মীর কাসেম আলী আমেরিকা থেকে দেশে চলে এসেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি তো কোনো দোষ করিনি। আমি বিচারের মুখোমুখি হতে ভয় পাই না। অন্যায়ভাবে আমাকে হত্যা করলে আমি দেশের মাটিতেই মৃত্যুবরণ করব। প্রহসনের বিচারে আমাকে শাস্তি দিলে কোনো না কোনো দিন জনগণ প্রতিবাদ করবেই। জনগণ এ অন্যায়ের বিচার করবেই।’ অন্যদিকে যারা নিজেদের প্রেমিক দাবি করে, তারা আসলে বাংলাদেশকে নিজের মনে করে না। ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্র বানিয়েছিল দেশকে। তারা শোষণ আর দুঃশাসন চালিয়েছে। তাই তারা যাদের স্বার্থ এতদিন দেখেছে, তাদের কাছেই আশ্রয় নিয়েছে।
সোনার বাংলা: আপনি ভারতের সাথে কেমন সম্পর্ক প্রত্যাশা করেন?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: সমমর্যাদাভিত্তিক সম্মানজনক সম্পর্ক চাই। আমরা ভারতের কাছে সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ আশা করি। দাদাগিরি এবং আগ্রাসন আমরা মানব না। ভারতের জনগণকে আমাদের শত্রু মনে করি না। তাদের সাথে আমরা সুসম্পর্ক চাই। কিন্তু তাদের সরকার আগ্রাসী আচরণ করে। সীমান্তে আমাদের নাগরিকদের হত্যা করে, পানি আটকে দিয়ে খরা এবং বর্ষায় বাঁধ ছেড়ে দিয়ে বন্যায় ভাসায় কিংবা ভূমির দখল নিতে হাত বাড়ায়। আমরা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতি মেনে আগ্রাসনের প্রতিবাদী। তাদের সব আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত। শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রয়োজনে প্রতিরোধ সংগ্রাম করতে পিছপা হবো না। দেশের স্বার্থে আপস করব না। ক্ষমতায় থাকা বা যাওয়ার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের মতো আমাদের জন্মভূমি ভারতের হাতে কাউকে তুলে দিতে দেব না।
সোনার বাংলা: বর্তমান রাজনীতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: আলহামদুলিল্লাহ। আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালের ১ আগস্ট গণআন্দোলনকারীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে পতন ঠেকাতে ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু আপনি জানেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছর জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সাথে সরকার নিষিদ্ধ দলের মতোই আচরণ করেছে। আমার গ্রেফতারের পর থেকেই অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলো। সারা দেশের কোনো অফিস খুলতে দেয়নি। প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি। জুডিশিয়াল কিলিংয়ে শীর্ষনেতাদের হত্যা করেছে। লাখ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার, জেল-জুলুম চালিয়েছে। অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়ে শাহাদাতবরণ করেছেন। বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক নেতা-কর্মীকে উচ্ছেদ করেছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। কিন্তু এতে জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব কমেনি, বরং বেড়েছে। অতীতেও যতবার জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রকাশ্যে রাজনীতিতে এসেছে, একই ঘটনা ঘটেছে। যেমনÑ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ১৯৫৮ সালে অন্যসব দলের সঙ্গে জামায়াতের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেন তখনকার সেনাশাসক আইয়ুব খান। ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে জামায়াতকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো, কিন্তু সেই বছরের শেষে নিষেধাজ্ঞা বাতিলের পর প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করলে ব্যাপক জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটেছে জাতীয় নির্বাচনে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত অন্যসব ইসলামপন্থি দলের মতো জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে রেখেছিলো হাসিনার বাবা শেখ মুজিব। কিন্তু ১৯৭৯ সালে যখন প্রকাশ্যে আসে, আমরা দেখলাম জনসমর্থন কমেনি। বরং বেড়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির মাঠে আছে। জনগণের সেবা করছে। জনগণ সমর্থন দিলে, আরো বেশি তাদের সেবা করার সুযোগ দিলে তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের তাদের সেবক হিসেবে পাবে। আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের সেবার জন্য রাজনীতি করি। সরকারে গেলেও ক্ষমতাভোগ নয়, জনগণের সেবাই করব, ইনশাআল্লাহ।
সোনার বাংলা: দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সাথে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সম্পর্ক কেমন? ভবিষ্যতে এ সম্পর্কের পারদ কোন দিকে যাবে বলে আপনি মনে করেন?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষ নয় প্রতিদ্বন্দ্বী ও গণতন্ত্রের সহায়ক শক্তি বলে মনে করি। তারা যতক্ষণ দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখে রাজনীতি করবে, আমাদের সাথে রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করে চলবে, ততক্ষণ তারা আমাদের বন্ধু হিসেবে পাশে পাবে। এর ব্যতিক্রম করলে আমরা গণতান্ত্রিক ভাষায় তার প্রতিবাদ করব। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তাদের অন্যায়ের প্রতিকার চাইব। আওয়ামী লীগের মতো কোনো রাজনৈতিক দল প্রতিবেশী দেশের তাঁবেদারের ভূমিকা পালন করলে জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতোই হবে।
সোনার বাংলা: ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: আমি মনে করি, আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন দল। তাদের অনেক সমর্থক ছিলো, হয়তো এখনো আছে। কিন্তু তারা বার বার দেশ ও জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। গণতন্ত্র হত্যা করেছে। ১৯৭১-এর পর দেশ গঠনের সুযোগ পেয়েছিলো, কিন্তু তা কাজে না লাগিয়ে ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ব্যালট বাক্স লুট করেছে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ১২-১৩ মিনিটে একদলীয় বাকশাল বিল সংসদে পাস করে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। মাত্র চারটি সরকার সমর্থক পত্রিকা রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিলো। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। রক্ষীবাহিনী গঠন করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল এবং জনগণের ওপর অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। এর পরিণতি ভোগ করার পরও তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি। বিগত ১৫ বছরে হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দুঃশাসন তার প্রমাণ। আওয়ামী লীগের এ পরিণতির জন্য আওয়ামী লীগই দায়ী, অন্য কেউ নয়। তারা দেশ ও জনগণের সেবার পরিবর্তে প্রতিবেশী দেশের তাঁবেদারি এবং ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে নিজেদের পতন ডেকে এনেছে। তারা মুখে দেশপ্রেম ও চেতনার কথা বললেও তারা আসলে একটি তাঁবেদার রাজনৈতিক দল। দেশ ও জনগণের জন্য তাদের কোনো অঙ্গীকার নেই। তাই জনগণ তাদের ছুড়ে ফেলেছে। জনবিক্ষোভ থেকে বাঁচতে তারা যেদেশের তাঁবেদারি করে, সেই ভারতে আশ্রয় নিয়েছে।
সোনার বাংলা: ইউরোপ-আমেরিকার মিত্ররা জামায়াতে ইসলামীর উত্থানকে কীভাবে দেখছে?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে কিছুই গোপন থাকে না। ইউরোপ-আমেরিকার মিত্ররা জামায়াতে ইসলামীকে জানার ও বোঝার সুযোগ পেয়েছে। অপপ্রচারে তারা আর বিভ্রান্ত হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
আমাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চালিয়েছে কিছু রাজনৈতিক দল ও ভারত। আমাদের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে দেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছ থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি উদারপন্থি রাজনৈতিক দল। মদিনার আদর্শে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। আমরা আমাদের আদর্শ জনগণের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছি না। জনগণের সমর্থন দিয়েই তাদের দায়িত্ব নিতে চাই। জনগণ সর্মথন না দিলে আমরা দায়িত্ব নেব না। কারণ আমরা যার আদর্শ অনুসরণ করছি, তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ সা.। যিনি জনসমর্থন নিয়েই মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হয়েছিলেন। মক্কার অধিবাসীরা সমর্থন না করা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেছেন। মদিনায় হিজরত করে সেখানে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রায় আট বছর পর বিনা রক্তপাতে তিনি মক্কা বিজয় করেছেন। অর্থাৎ মক্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যখন চেয়েছেন, তখনই তিনি সেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। ইতিহাস সচেতন সবাই জানেন, রাসূল সা. ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ১২/১৩ সেপ্টেম্বর মক্কা থেকে হিজরত শুরু করেছিলেন। মক্কা বিজয় করেন ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি। অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের সময়কাল হিজরতের প্রায় ৭ বছর ৩ মাস ২৭ দিন পর।
আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিলে বিদেশি মিত্ররা আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না। কারণ এতে গণতন্ত্রের প্রতি তাদের অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়বে।
সোনার বাংলা: বাংলাদেশকে আপনি কেমন দেখতে চান?
এটিএম আজহারুল ইসলাম: আমি সৎ লোকের শাসন এবং কুরআনের আলোকে পরিচালিত ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই। যেখানে মদিনার কল্যাণরাষ্ট্রের মতো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সুখে থাকবে। যে যার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। কোনো বৈষম্য থাকবে না। ধর্ম ও রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসের কারণে কোনো শান্তিপ্রিয় দেশপ্রেমিক নাগরিক লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হবে না। অশান্তি সৃষ্টিকারী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ভারতের তাঁবেদার এবং দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে যে বাংলাদেশে, আমি তেমন একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে আমার প্রিয় জন্মভূমিকে দেখতে চাই।
সোনার বাংলা: শত ব্যস্ততার মধ্যে কষ্ট করে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
এটিএম আজহারুল ইসলাম: আপনাকে এবং আমার প্রিয় পত্রিকা সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সম্পাদকসহ সকলকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। সাথে সাথে সাপ্তাহিক সোনার বাংলার মাধ্যমে আমি দেশবাসীর প্রতি কৃজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে আমার জন্য দোয়ার দরখাস্ত করছি।