শ্যেনদৃষ্টিতে শরিয়াহ ব্যাংকগুলো
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪৮
আওয়ামী স্টাইলে ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ সংশোধন
এবারো লুটেরা চক্রের প্রথম টার্গেট ইসলামী ব্যাংক
॥ উসমান ফারুক ॥
নব্বই দশকের গোড়ার দিকে চালু হওয়া শরিয়াহভিত্তিক তথা ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনাকারী ব্যাংকগুলো সর্বপ্রথম শ্যেন নজরে পড়ে ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতা দখল করলে। নামে-বেনামে শেয়ার কিনে সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তাড়িয়ে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ দেয়ার পর ২০১৭ সালে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ্যে দখল করে নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকারের সরাসরি মদদে ইসলামী ব্যাংকগুলো দখল করে বের করে নেয় দেড় লাখ কোটি টাকা। শুধু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকেই নেয় ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ব্যাংকটি ইসলামপন্থীদের সহযোগিতা নিয়ে দুই বছরে ঘুড়ে দাঁড়ানোর পর ফের বর্তমান সরকারের ক্যুদৃষ্টিতে পড়েছে। ইসলামী ব্যাংকে নিজেদের পছন্দের জনবল নিয়োগ দিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে সেই গোষ্ঠী। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকটির শীর্ষ প্রধান নির্বাহীকে দেড় মাসের বেশি সময়ের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বিরোধীদলের বিরোধীতার মধ্যেই বিতর্কিত ও অর্থ পাচারকারী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে লুটেরাদের ফের ব্যাংকিং খাতে ফেরত আনতে ব্যাংকিং রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে নতুন একটি ধারা যোগ করে সংসদে বিল পাস করেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপি।
কী হচ্ছে দেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকে
ইসলামপ্রিয় সিংহভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মাধ্যমে। সেবার মান বৃদ্ধি, মুনাফা দেওয়া ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি আস্থা বাড়তে থাকলে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে ব্যাংকটি। আমানতদারিতা ও অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় ব্যাংকটির প্রতি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী তথা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরাও ইসলামী ব্যাংকে আমানত রাখতে শুরু করেন।
বিশেষ করে অন্য ধর্মের নারীদের কাছে ব্যাংকটি জনপ্রিয় ও আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে প্রচলিত সুদি ধারার ব্যাংকগুলোও ইসলামী ব্যাংকিং শুরু করে। বর্তমানে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ধারার ব্যাংকের পাশাপাশি প্রায় সকল ব্যাংকই ইসলামী ব্যাংকিং শাখা বা উইন্ডো চালু করেছে। এমনকি স্টান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো পশ্চিমা ধাঁচের ব্যাংকও ইসলামী ব্যাংকিং চালু করেছে।
বর্তমানে দেশের আমানতের ২৫ শতাংশ, রেমিট্যান্সের ৩৩ শতাংশ অবদান হচ্ছে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর। খেলাপি ঋণ কম হওয়া ও আমানতের উচ্চ প্রবৃদ্ধিই কাল হয়ে দাঁড়ায় গ্রাহকপ্রিয় ইসলামী ব্যাংকগুলোর। ২০১৭ সালে মাত্র সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণগ্রহীতা চট্টগ্রামের সেই ব্যবসায়ী গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ সরকারের মদদে। একে একে ৭টি ইসলামী ব্যাংক দখল করে শুধু ইসলামী ব্যাংকের ৮২ শতাংশের শেয়ারের মালিক হয়ে যান ব্যাংকের কাছ থেকে নামে-বেনামে নেওয়া ঋণের অর্থে।
শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকটিতে আওয়ামী লীগের লুটপাটে নাস্তানাবুদ হয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে। নগদ টাকার সংকট এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে, প্রচলিত সুদি ব্যবস্থার ব্যাংক থেকে ঋণ করে অর্থ আনতে হয় ইসলামী ব্যাংকের। সেই অর্থ পরিশোধে সময় বাড়িয়ে নেয় একাধিকবার।
আর্থিক খাতের এমন প্রতিচ্ছবির মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ব্যাংকটি সেই ব্যবসায়ী গ্রুপের ছোবল থেকে মুক্তি পায়। আর্থিক খাতের সংস্কারের পদক্ষেপে একে একে দস্যুমুক্ত হয় ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো। এরপরই ইসলামপ্রিয় মানুষগুলো পুনরায় ব্যাংকটিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে শুরু করে নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে।
জনবল পুনর্গঠন করলে এক বছরেই প্রাণ ফিরে পায় ব্যাংকটি। ইসলামী ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এক বছরেই উপ-শাখাগুলোর আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ সময়ে এই ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৬ হাজার কোটি টাকার। আর এই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখ বেড়ে ৩ কোটিতে উন্নীত হয়।
আওয়ামী স্টাইলে চলছে বর্তমান সরকার
বিশাল এই অর্জনের সময়ে লুটেরা চক্র ব্যাংকটিতে ফেরার একাধিক উদ্যোগ নেয়। শেষ পর্যায়ে ব্যর্থ হলে বর্তমান সরকারের একটি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে ফেলে। জাতীয় সংসদে কাউকে না জানিয়ে অধ্যাদেশ সংশোধন করেই উপস্থাপন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তিন দিন আগে প্রস্তাবিত আইনের চূড়ান্ত খসড়া সংসদ সদস্যদের মাঝে বিতরণ করার কথা। এটি দেখে বুঝে সংসদ সদস্যরা বিলটির ওপর আলোচনা করবেন। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি চব্বিশ ঘণ্টা আগেও সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত আইনটি চেয়েও পাননি। সংসদ সভা শুরু হওয়ার সময়ে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রস্তাবিত আইনটি। তখন পুরো আইন পড়ে সমালোচনা করার কোনো সুযোগ পায়নি কেউ।
বিষয়টি বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন। তারপরও কণ্ঠভোটে পাস হয় আইনটি। সেখানে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। যেটি সম্পর্কে জানে না বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। আইন তৈরির সময়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের না জানিয়ে শেষ সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও একইভাবে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারা সংশোধন করা হয়। সবখানে যে খসড়া দেওয়া হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা ছাড়াই সংসদে পরিচালকদের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে আইনটি পাস করা হয়। তাতে পরিচালকরা ধারাবাহিকভাবে ১৮ বছর একটি ব্যাংকের পরিচালক থাকার সুযোগ পায়।
যা আছে ১৮(ক) ধারায়
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫ রাজনৈতিক সরকারের সময় আইন আকারে হুবহু পাস হওয়ার শর্ত ছিল সকল রাজনৈতিক দলের সমঝোতায়। জুলাই সনদে বিষয়টি উল্লেখ করে সকল রাজনৈতিক দল স্বাক্ষরও করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সংশোধনীসহ ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন ২০২৬ হিসেবে সংসদে পাস করেছে বিএনপি সরকার। এ আইন পাস হওয়ার পর ব্যাংকে পুরনো শেয়ারধারকরা আবার ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।
নতুন পাস হওয়া বিলের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন কিংবা এ আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ারধারক অথবা শেয়ারধারকরা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনঃধারণ বা ধারণ করার জন্য রেজ্যুলেশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে পারবে। তবে শেয়ার পুনঃধারণের আবেদন করার ক্ষেত্রে একটি পৃথক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার আইনটি পাসের পরে প্রথম কর্মদিবস গত ১৯ এপ্রিল রোববার সকালে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রেও প্রতিবাদে মানববন্ধন করে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। তাদের অভিযোগ ছিল, একটি চক্র সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যবহার করে আবারও ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা করছে। সেদিই বিকেলে অনুষ্ঠিত পরিচালক পর্ষদের সভায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে বাধ্যতামূলক দেড় মাসের বেশি সময়ের ছুটিতে পাঠানো হয়। অথচ ওমর ফারুককে বলা হয়েছিল, ১৫ দিনের ছুটির আবেদন দিন। তিনি ১৫ দিনের ছুটির আবেদন দিলেও পরিচালক পর্ষদ জোর করে ৪৯ দিনের ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়।
এত দীর্ঘসময়ের জন্য কোনো ব্যাংকের এমডিকে ছুটিতে পাঠানো হয় না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকেও এর নজির নেই। এর আগে ব্যাংকটির সাবেক এমডি মুনিরুল মাওলাকে প্রায় তিন মাসের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল বিশেষ অডিটের (নিরীক্ষা) চালানোর জন্য। এমডির বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় তাকে ছুটিতে পাঠিয়ে ব্যাংকে বিশেষ অডিট চালানো হয়।
ছুটিতে পাঠানো নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকদের; এমনকি ব্যাংকের পক্ষ থেকেও কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থন পেয়েই ব্যাংকের এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ব্যাংকটিতে বর্তমানে কোনো শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নেই। পাঁচজনের সবাই স্বতন্ত্র পরিচালক। নিজের শেয়ার না থাকায় ব্যাংকটির প্রতি স্বাভাবিকভাবে তাদের দায়বোধ এখনো তৈরি হয়নি। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশিদ ওয়াহাব হচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমডি ছুটি চেয়েছিলেন। তাকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে।
আবার ব্যাংকটির আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ রহমান বলেন, এমডি ছুটি চেয়েছেন তাকে দেড় মাসের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি ইউএসএ তে যাবেন তার ছেলের কনভোকেশন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সেখানে কিছু ট্রিটমেন্ট করবেন বলে জানিয়েছেন। তাকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি দেয়া হয়।
শরিয়াহভিত্তিক সবচেয়ে বড় ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দীর্ঘসময়ের জন্য ছুটিতে পাঠানোর নজির নেই। এই ছুটি স্থায়ী হবে কি না, এমন প্রশ্নে স্বতন্ত্র পরিচালক খুরশিদ ওয়াহাব ও মাসুদ রহমান কোনো সাড়া দেননি। এমডির অনুপস্থিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ফলে তাকে ছুটির নামে জোরপূর্বক সরে যেতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, তারা এমন কোনো অভিযোগ পাননি। এমন কিছু এখনো আমাদের জানা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে আছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এগুলো দেখছেন। গত ২০ এপ্রিল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকে আর কতদিন বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সপেরিমেন্ট চালাবে। একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ইসলামী ব্যাংককে সবল হতে দিচ্ছে না।
এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। আইন সংশোধন হওয়ায় এখন ফের চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক গ্রুপটির ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে পুরো ব্যাংকিং খাতে ফেরত আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে বলেন, সরকার পাস হওয়া আইনে এমন বিধান রেখেছে যাতে করে ইসলামী ব্যাংকগুলো পুরনো মালিকানায় চলে যাওয়ার সুযোগ পাবে। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক খাতে যে পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিল সেটা এখন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, ইসলামী ব্যাংকে যা হচ্ছে সেখানে স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতির সুযোগে আগের মালিকরা ফিরে আসার পথ খুঁজছে। দেশের ৩০ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে এই ব্যাংকের মাধ্যমে। সেখানে যাই করা হোক স্বচ্ছতার সাথে করা উচিত। মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে আগের মালিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে কিনা সেই সন্দেহ। সরকারের উচিত এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
আইন সংশোধন হওয়ায় চট্টগ্রামের সেই গ্রুপটি মাত্র সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা পুনর্বিনিয়োগ করে অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকে ফিরতে পারবেন। আর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে ফিরতে তার একটি টাকাও নতুন করে বিনিয়োগ করা লাগবে না। উল্টো জব্দ করা ৮২ হাজার কোটি টাকার শেয়ার ফিরে পাবেন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কারে যতটা সময় দেওয়ার প্রয়োজন, ততটা দেওয়া হচ্ছে না। একটি সংস্কার শেষ করে তার ফলাফল দেখার আগেই তা সংশোধন করা হচ্ছে। এটা দোষীদের জন্য এক ধরনের ইমপিউনিটি (দায়মুক্তি)। লুটেরা ফেরত আসলে এত সংস্কারের মধ্যে যাওয়ার দরকারটাই কি ছিলো।