জ্বালানি নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪২
সিলেট সংবাদদাতা : জ্বালানি নৈরাজ্য বন্ধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার ২ মাসেও দেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। সরকার বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
তিনি বলেন, লুটেরাদের ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবার লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার জামায়াতের ওপর সীমাহীন জুলুম-নিপীড়ন চালিয়েছে। আমাদের ১১ জন শীর্ষনেতাকে ফাঁসি দিয়ে ও কারাগারে নির্যাতন চালিয়ে শহীদ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নিপীড়ন উপেক্ষা করে আর্তমানবতার কল্যাণে জামায়াত সবসময় জনগণের পাশে ছিল। তাই গত নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোট দিয়ে জামায়াতকে বিজয়ী করতে কাজ করেছে। আমাদের সেই বিজয়কে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো অধরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটি বিতর্কমুক্ত না থাকা দুঃখজনক। ঐ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে বাতিলের মাধ্যমে সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। তাই তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশাকে জলাঞ্জলি দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এর পরিণতি ভালো হবে না। এ দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো স্বপ্ন পূরণ হবে না।
গত ১৮ এপ্রিল শনিবার রাতে সিলেট মহানগর জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর বন্দরবাজারস্থ মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য, শূরা সদস্য ও সকল থানা দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী মানবতার কল্যাণ সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সর্বাগ্রে এটিকে প্রাধান্য দিতে হবে। সামাজিক কর্মকাণ্ডে তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। গত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকে বিপুল ভোট দিয়েছে, তাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। ইসলামী আন্দোলনে শামিল করতে হবে। তাহলে জনগণ প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখতে পারবে। দেশ থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দূর করা হবে। জামায়াতের দায়িত্বশীলদের দুনিয়াবি স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে পরকালীন মুক্তির পথকে প্রাধান্য দিতে হবে। দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আমানতদারিতা ও ত্যাগের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সদস্য (রুকন) সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল শনিবার মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গোলাম পরওয়ার সদস্যদের (রুকন) দায়িত্বানুভূতি, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একজন রুকন হিসেবে সমাজ ও দেশের কল্যাণে আত্মনিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে এবং নৈতিকতা ও আদর্শিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে হবে। তিনি রুকনদের উদ্দেশে আরও বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় রুকনদের দৃঢ় শক্ত ও ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করতে হবে। দুনিয়াবি চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাক্সক্ষা, ইচ্ছা, পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়, দায়িত্বটা আমার শপথের সাথে জড়িত অঙ্গীকার এবং তা কেবল আল্লাহকে খুশি করার জন্যই পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমার ভালো কাজের জন্য কে আমাকে স্বীকৃতি দিলো বা নাই দিলো তা ভাবার সময় নেই। আমাদের কাজ করে যাওয়াই হলো মূল কাজ। আমাদের সকল কাজ একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য করে যাবো। আমাদের সবসময় আত্মসমালোচনা করে নিজেকে তৈরি করতে হবে। সম্মেলনে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক রুকন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি ইয়ামীর আলীর পরিচালনায় উক্ত রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া। সম্মেলনের দারসুল কুরআন পেশ করেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সংগঠনিক রিপোর্টিং সেশনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়।