জুলাই সনদে পিআর পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করে গণভোটের আয়োজন করতে হবে – সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার
১০ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:০২
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে গণমিছিল পূর্বক বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদে পিআর পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। গণভোটে জনগণ যেই মতামত দিবে জামায়াতে ইসলামী সেটাই মেনে নেবে। তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতি সারাবিশ্বে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। পিআর পদ্ধতি হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটের মূল্যায়ন করা। এই পদ্ধতিতে একজন ভোটারের মতামতও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রতিটি ভোট মূল্যায়িত হয়। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে গণমিছিল পূর্বক বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’, ‘পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচন’, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চতকরণ’, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা’, এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ করার জামায়াতে ইসলামীর উত্থাপিত ৫ দফা দাবি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া না হলে ফ্যাসিবাদের দোসরার জুলাই বিপ্লবকে নসাৎ করে দেবে। ফলে দুই সহস্রাধিক শহীদের আত্মদান ও পঞ্চাশ হাজারের অধিক আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারী দেশপ্রেমিক জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। আবারো বিরোধী দলমতকে দমন করবে, মানুষের কন্ঠরোধ করবে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কোনো দলই একদলীয় শাসন কায়েম করতে পারবে না। ফলে জনগণ সরকার দ্বারা শোষিত হবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করে নির্বাচন দিলে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীরা জবরদখল করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কালো টাকার ছড়াছড়ি করে অস্ত্রের মুখে একটি প্রহসনের নির্বাচন করবে। গণহত্যার বিচার না হলে পরবর্তীতে যারাই ক্ষমতায় বসবে তারাও আওয়ামী লীগের মতোই গণহত্যা সংঘঠিত করতে দ্বিধাবোধ করবে না। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টিসহ তাদের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করা না হলে আওয়ামী লীগ শরিকদের কাঁধেভর করে আবারো ফিরে আসবে। আরো ভয়ঙ্কর রূপে ফিরে আসবে। জামায়াতে ইসলামীর উত্থাপিত এই ৫ দফা দাবি দলীয় দাবি নয়। এই ৫ দফা দাবি জাতির ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণের জন্য। ৫ দফা দাবি পূরণ হলে মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে ৫ দফা দাবি পূরণ করতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মিডিয়ার সামনে যেভাবে দেশপ্রেম প্রকাশ করা হয়, সেভাবে দেশের স্বার্থে দলীয় স্বার্থত্যাগ করে ঐক্যমত সৃষ্টির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান। তিনি বলেন, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে প্রশাসনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করলে পরিণতি হবে রাতের ভোটের সিইসি সহ ঐ ভোট আয়োজনের সকল ডিসি, এসপি, ইউএনওদের মতোই। তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিতে মাঠ প্রশাসন সহ নির্বাচন কমিশন ও উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি আরো বলেন, প্রধান উপদেষ্টা একই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান আবার ঐক্যমত কমিশনেরও প্রধান। তিনি জাতির স্বার্থে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে কিছু উপদেষ্টা একটি দলের আনুগত্য প্রকাশের কারণে তারা প্রধান উপদেষ্টাকে বিব্রত করছে। যেসকল উপদেষ্টা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুগত্য করছে তাদের নিরপেক্ষতার স্বার্থে আনুগত্য পরিহারের আহ্বান জানান অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, যারা আমাদের ভাইদেরকে হত্যা করেছে, গুম করেছে, জুলুম করেছে তাদের বিচার অবশ্য অবশ্যই হতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে জাতীয় স্বার্থে ঐক্য গড়ে তুলতে তিনি সকল দলের প্রতি আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো. শামছুর রহমান সহ মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী এদেশের গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। ফ্যাসিবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেজন্য ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ৫ দফা দাবি পূরণ হলে ফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। যারা ৫ দফা দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটাতে চায়। যারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে তারা ভারতের দালাল। আওয়ামী লীগের মতো তারাও ক্ষমতায় বসে ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। জুলাই যোদ্ধারা এদেশে আর কখনো আধিপত্যবাদের বিস্তার ঘটতে দেবে না। তিনি বিদেশিদের আনুগত্য না করে দেশের জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করতে সকল দলের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইট থেকে এক বিশাল গণমিছিল গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট- পল্টনমোড়-বিজয়নগর হয়ে কাকরাইল গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল এবং জনশক্তিসহ কয়েক হাজার জনতা অংশগ্রহন করেন।