পৃথিবীর সকল অহংকার
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১১
নূহের নৌকাটিই ছিলো মহাপ্লাবনের বুকে এক টুকরো পৃথিবী।
জোড়া-প্রাণীদের ভাসমান ছোট্ট গৃহ।
এ গৃহ থেকেই বিশ্বে ছড়িয়েছে মানুষের মিছিল!
খুঁজলাম প্লাবনের সেই ছবি, যা ফুলে উঠেছিল আকাশ অবধি
ইঙ্গিত এলো— পৃথিবীর সাগর-মহাসাগর সেই
প্লাবনের টুকরো টুকরো ছবি।
পাঠ করো সেই ছবি, দেখো— আগুনের মহাকাব্যগুলো সমুদ্রের তলপেটেই লেখা!
প্রতিটি আগ্নেয়গিরি মহাকাব্যের একেকটি অধ্যায়!
একদা সমুদ্র প্রজ্জ্বলিত হবে সমুদ্রসমূহ,
তখন সমস্ত ঢেউ হবে আগুনের পাহাড়।
লোহিত সাগরে ঢেউয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই দেখি ফেরাউনের শেষ নিশ্বাসের দাগ
জলের ভাঁজে বিস্ফারিত দৃষ্টির সংলাপ
মূসার অলৌকিক লাঠির আঘাতটি বড় যত্নে রেখেছে লাল সাগর
হাঁটতে থাকলাম ইবরাহিমের অগ্নি-উদ্যানের পথে
কেউ যেন ইঙ্গিত দিলো একটি প্রাসাদের দিকে
দরোজা খুলতেই দেখি নমরূদের উল্টানো চোখ
বিঁধে আছে মহলের রাজকীয় ছাদের কিনারায়
চোখের পাতায় লেপ্টানো দাম্ভিকতার রং
মগজের শিরায় উৎকীর্ণ অন্ধ মশার হুল
হিটলারের আত্মহত্যার কক্ষটি পেলাম
চারদেয়ালে পিস্তলের শব্দ ঝুলছিলো
থেকে থেকে ঝরছিলো স্বেচ্ছাচারী রং
সে রঙেই উতলা জগতের সকল রাজা-রানির মন
অথচ কোনো ক্ষমতাই মৃত্যুর গ্রাস থেকে
সরাতে পারেনি নিজের মুখ
ভাবুন তো— কীভাবে মাটিচাপা পড়ে আছে
পৃথিবীর সকল অহংকার!