পুরোনো খেলায় দিল্লি
২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০২
আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের অভয়বাণী
॥ উসমান ফারুক ॥
২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় যে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে, তা কেবল দেশীয় রাজনীতিতেই নয়; বরং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ব কাঁপিয়ে দেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের প্রভাব এখন ভারতসহ কয়েকটি দেশে পড়েছে। সার্কভুক্ত নেপালেও সরকার বদল হয়েছে। তাতে বাংলাদেশসহ এই ভৌগোলিক অঞ্চলে একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর যে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, সেই সময়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের এই গণদমননীতিতে দিল্লির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। সবকিছুই হয় একতরফা ছাড় না দিয়ে।
অগ্রাধিকারে রাখা হয় বাংলাদেশের স্বার্থকে। তুলে ধরা হয় ভারতের ভুল নীতিগুলোকে। বলা হয়, এসব নীতির বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করতে। ভারতের আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হয়। তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে বরফ জমতে শুরু করে। বাংলাদেশের পোশাক ইউরোপে পাঠাতে ভারতের বিমান ও আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাটপণ্যে অতিরিক্ত শুল্কারোপ করা হয়। এসবের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব দেয় রাজনৈতিক সরকারের কাছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ঢাকাস্থ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রীবেদির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, বৈঠক এবং কূটনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, যোগাযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের অবাধ দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। করছেন গোপন বৈঠক, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে করতো। এসব সভার সবগুলোই প্রথাগত কূটনীতির সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচারেরও বাইরে। বৈঠক করছেন আওয়ামী বয়ান তৈরিকারীদের সঙ্গেও। জুলাই গণহত্যায় সহযোগীদের নিয়ে করছেন নিয়মিত প্রাতরাশ সভা। তাতে সামনে চলে আসে দিল্লি তাদের ভুলনীতি না বদলিয়ে পুরোনো খেলায় মেতে উঠেছে। শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে বাংলাদেশে আবার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পুরোনো খেলায় মেতে উঠেছে। সরকারকে অবশ্যই ভারতের ওপর কূটনৈতিক লাগাম টানতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলো কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে কোনো কোনো কর্মকর্তা দিল্লির গোলামি করছে তাদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভারতের নতুন কৌশল
জুলাই বিপ্লবের পর যখন বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়, তখন প্রথম দিকে দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্ব ও ছাড় না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, জুলাই গণহত্যার সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য ভারত একটি নতুন কৌশল নিয়ে এগোতে শুরু করেছে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, একটি কূটনৈতিক মিশনের কাজ হলো দুই দেশের সরকারের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা, কিন্তু সরকারি আমলাতন্ত্রের নিচতলা পর্যন্ত এই অবাধ দৌড়ঝাঁপ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকির সংকেত বলেই মনে করছেন সচেতন নীতিনির্ধারকরা।
দিল্লি এখন বুঝতে পেরেছে যে, পুরোনো মিত্রের পতনের পর তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা জরুরি। তাই তারা এখন সরকারের সাথে মিশে যাওয়ার এক নতুন ও আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো কীভাবে দ্রুত নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভারতের প্রভাব খাটানো যায়, ট্রানজিট, বাণিজ্য ঘাটতি, তিস্তা চুক্তি, গঙ্গা চুক্তি ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো আদায় করা যায়। এজন্য আবার আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির কূটনীতিতে নীতিগত কোনো স্থিতিশীলতা নেই। তারা মূলত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এর সাথে কাজ করতে অভ্যস্ত। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূত যেমন সরকারের মন্ত্রীদের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে, প্রভাব খাটিয়ে এবং দরকষাকষির মাধ্যমে বৈঠক করতেন, ঠিক একই ধরনের আচরণ এখন তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন বা নতুন সরকারের মন্ত্রীদের সাথেও দেখাচ্ছে। মন্ত্রীদের দপ্তরে গিয়ে তারা যেভাবে বিভিন্ন প্রকল্প ও চুক্তির বিষয়ে তাগিদ দিচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে তারা নতুন সরকারকেও পুরোনো সরকারের মতোই চাপে রাখতে চায়।
ঢাকাস্থ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেই সভা করছেন না, সরকারি দপ্তরে দপ্তরে তার অবাধ দৌড়ঝাঁপ এখন একটি নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, নৌপরিবহন, সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে, যা প্রকাশ্যে এসেছে। এসব বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন, সীমান্তে গুলিবন্ধ এবং ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের দ্রুত সভা আয়োজনের বিষয়ে। কিন্তু আসল উদ্বেগের বিষয় হলো গোপন বৈঠকগুলো। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলের সূত্র জানিয়েছে, দিল্লির রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের যুগ্ম সচিব, উপসচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অব দ্য রেকড বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা; বিশেষ করে ভারতবিরোধী দর্শনের উত্থান রোধ এবং বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রীদের একটি অংশ ও জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ আমলাতন্ত্রের একটি বড় অংশ এই পুরোনো কূটনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে নারাজ, যা দিল্লির জন্য এক নতুন কূটনৈতিক ধাক্কা।
সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ভারতীয় হাইকমিশনের আরেকটি গোপন ও উদ্বেগজনক কর্মকাণ্ড হলো ট্র্যাক-টু ডিপ্লোম্যাসির নামে প্রভাবশালী মহলের সাথে গোপন বৈঠক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং তার আগে থেকেই আওয়ামী লীগের পক্ষে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মিডিয়ায় একটি বয়ান তৈরি করা হয়েছিল। এই বয়ান তৈরিতে সহযোগিতা করেছে দেশের কিছু প্রভাবশালী থিঙ্কট্যাঙ্ক, নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম, সাবেক কূটনীতিবিদ এবং সরকারপন্থী বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, ঢাকাস্থ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এবং তার কার্যালয়ের কর্মীরা আওয়ামী বয়ান তৈরির সহযোগিদের সাথে নিয়মিত গোপন মিটিং করছেন।
যেভাবে কাজ করছে দিল্লি
নতুন সরকারের ভেতরের খবর এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কীভাবে প্রভাবিত করা যায়, তার ইনপুট নিতে শুরু করেছে। পুরোনো সেই বয়ান নির্মাতাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং দেশীয় গণমাধ্যমে এমন সংবাদ পরিবেশন করা— যাতে ভারতের বিরুদ্ধে জনরোষ কমে এবং দিল্লির ভুলগুলোকে যৌক্তিক দেখানো যায়। ভবিষ্যতে যদি রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে, তবে সেই পরিবর্তনের সময় যাতে ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী ক্ষমতায় বা প্রভাবশালী অবস্থানে থাকে, তার জন্য পরিবেশ তৈরি করা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গোপন মিটিংগুলো মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের শামিল। নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা যে, দিল্লি কেবল সরকারের সাথেই নয়, বরং সরকারের বাইরের প্রভাবশালী চক্রগুলোর সাথেও নেটওয়ার্কিং করে যাচ্ছে।
দিচ্ছে আওয়ামী লীগ কর্মীদের অভয়বাণী
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন থেকেই সরগরম করতে চাচ্ছে দিল্লি। যদিও নির্বাচনের এখনো ৪ বছরের বেশি সময় রয়েছে। নতুন সরকারের হানিমুন সময়ও শেষ হয়নি। তার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের ডামাডোল করতে শুরু করেছে। জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ এখন কঠিন সময়ে আছে, তাদের অনেক নেতাকর্মী আইনি জটিলতায় জড়িয়ে আছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ঢাকাস্থ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা, প্রভাবশালী কর্মী এবং সুশীল সমাজের আওয়ামীপন্থী অংশের সাথে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, দিল্লি আওয়ামী লীগ কর্মীদের আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এবং মাঠে সক্রিয় থাকতে অভয়বাণী দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের বার্তা হলো, দিল্লি এখনো আপনাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
এই অভয়বাণীর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশকে ভারতবিরোধী হওয়া থেকে বিরত রাখা। তাদের একটি ভুলের মধ্যে রাখা যাতে জুলাই অভ্যুত্থানের জন্য দিল্লির দাদাগিরিই দায়ী, তা বুঝতে না দেওয়া। নির্বাচনের সময়ে দিল্লির প্রতি চরম আনুগত্য থাকে এমন অংশকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা। বিশ্লেষকরা ও কূটনীতিবিদরা বলছেন, ঢাকাস্থ ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের এই অবাধ দৌড়ঝাঁপ, গোপন বৈঠক এবং পুরোনো মিত্রদের নিয়ে ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য একটি জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিবিদদের এখন অত্যন্ত কৌশলগত এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিকদের কাজের সীমারেখা স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি দপ্তরের আমলাদের সাথে কূটনীতিকদের অনিয়মিত বা গোপন বৈঠকের ওপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। ভারতের সাথে যেকোনো চুক্তি, ট্রানজিট বা বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়ে জাতীয় সংসদে এবং জনসমক্ষে স্বচ্ছতা আনতে হবে। গোপন চুক্তির আর কোনো সুযোগ নেই।
একদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সুশিল সমাজ, সাংবাদিক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সভা করছে। ঠিক তখনই, ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হামলা, দূতাবাসে ভাঙচুর করছে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনার জন্ম দিচ্ছে দিল্লি। এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ, যা বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকট ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
দিল্লির এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, তারা বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নিতে চাইলেও, তাদের মৌলিক কূটনৈতিক মানসিকতা বা পুরোনো খেলা এখনো পরিবর্তন হয়নি। সরকারি দপ্তরে দপ্তরে রাষ্ট্রদূতের এই দৌড়ঝাঁপ মূলত ভারতের অস্থিরতা এবং বাংলাদেশের প্রতি তাদের নির্ভরতারই বহিঃপ্রকাশ। নীতিনির্ধারকদের এখন বুঝতে হবে, কূটনীতি মানে বন্ধুত্ব নয়, কূটনীতি মানে হলো পারস্পরিক স্বার্থের সম্মিলিত অবস্থান। জুলাইয়ের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হলে দিল্লির প্রতি কূটনৈতিক কৌশলে সতর্ক এবং কঠোর হতেই হবে। সময়ের দাবি হলো— ভারতের সাথে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক বজায় রাখা, কিন্তু কোনো মূল্যেই অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের গোপন হস্তক্ষেপ বা পুরোনো দালাল চক্রকে প্রশ্রয় না দেওয়া। চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে, বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্কোন্নয়নের কৌশল নিতে হবে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব বা জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে আপস করা যাবে না।