যুব উন্নয়নের নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁস

বিতর্কিত নিয়োগ কমিটি বহাল রেখে তদন্তের আগেই নতুন পরীক্ষা-ফল, নানা প্রশ্ন


২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫৮

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর সময় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল এবং কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। অথচ সেই পরীক্ষার প্রশ্নই ফাঁস হলো। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তা বাতিল করা হয়। এই কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। অবাক করা বিষয় হচ্ছে— এত বড় একটি কেলেঙ্কারি ঘটার পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার আগেই নতুন করে ১৬ অক্টোবর সেই একই পদে নিয়োগের জন্য তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, যে নিয়োগ কমিটির অধীনে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো সেই প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ কমিটির অধীনেই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলো। কিন্তু কেন এই তড়িঘড়ি করা হলো? সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন বিশেষ বিশেষ কাউকে আড়াল করতে নাকি ঘটনাটি যত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থী ও দেশবাসীর দৃষ্টির বাইরে চলে সেজন্য তাড়াহুড়া করা হয়েছে, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন প্রাথমিক আবেদনকারী ১০ অক্টোবর পরীক্ষার টেবিলে বসলেও দুই মিনিট পর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবরটি সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। তখনই বাতিল করা হয় নিয়োগ পরীক্ষা। পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর পরীক্ষা নিয়ে যে ফল প্রকাশ করা হয়, তাতে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন ৫ হাজার ৩৮৬ জন চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের প্রশ্ন— কীভাবে ঘটলো এমন কাণ্ড? এ কেলেঙ্কারির মূল হোতা কারা? কেন জড়িত উচ্চপদস্থদের আড়ালে রাখা হচ্ছে? সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এত কড়া নিরাপত্তা ও পাহারার মধ্যে কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাল? প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সাতজন গ্রেপ্তার হলেও তাদের কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া ব্যক্তি বা মূল উৎস শনাক্ত হয়েছে কি না। এর মধ্যেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা আবার নেওয়া হয়েছে, আগের নিয়োগ কমিটিও বহাল রয়েছে। এমনকি তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৪২টি পদের নিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন ফাঁসের প্রকৃত উৎস উদ্ঘাটন, অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা নেই।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সাতজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলেও প্রশ্নপত্রের মূল উৎস ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত জরুরি। নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে— প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার তদন্ত এবং এতে কারা জড়িত এসব বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি না করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া নিয়ে মানুষের মনে নানা সন্দেহ-সংশয় রয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসে সাতজন গ্রেপ্তার, মূল হোতা এখনো অজানা-অধরা
গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। তারা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম, অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম। অন্য দুজন চাকরিপ্রত্যাশী মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজন। ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর, সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবির বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রের একটি ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছবিটি জাহাঙ্গীরের কাছে পাঠান। জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর নূর উত্তর তৈরি করেন। এরপর বিতরণকারীদের মাধ্যমে উত্তর ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নূর মোহাম্মদ প্রথম ছবিটি কার কাছ থেকে পেলেন? জাহাঙ্গীরের কাছে স্পষ্ট প্রশ্নপত্রই বা কে পাঠালেন? প্রশ্ন তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত কোনো ব্যক্তি, ছাপাখানার কর্মী, নাকি অন্য কোনো মধ্যস্থতাকারী— কোন পথে প্রশ্নপত্র চক্রটির হাতে পৌঁছেছিল, তা সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করা হয়নি। অভিযানে ১৬০টির বেশি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১৯টি প্রবেশপত্র, ১০টি মূল সনদপত্র, ব্যাংকের চেক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে এসআরবি। এসব আলামত সম্ভাব্য প্রতারণার ধরন সম্পর্কে ধারণা দিলেও প্রশ্নপত্রের মূল উৎস প্রমাণ করে না। ফলে সাতজন গ্রেপ্তার হওয়াকে তদন্তের শেষ ধাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষ কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন চান।
তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষা, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ১০ অক্টোবর নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। একই দিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। পরে তদন্তের কাজ শেষ করতে কমিটি আরও দুই দিন সময় চায়। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৭ অক্টোবর পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলে উত্তীর্ণ হন ৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রার্থী। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কি না, জমা দিয়ে থাকলে তাতে কী সুপারিশ করা হয়েছে এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নিয়েছে, এসব বিষয়ে গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অর্থাৎ প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি না করে পরীক্ষা নেওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।
কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। নিয়োগ কমিটির কিছু কর্মকর্তা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কয়েক কর্মকর্তা চাকরি প্রার্থীদের জনপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত চাকরি প্রার্থীরা বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কারা জড়িত এবং বাণিজ্যের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ফাঁস ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা, তবুও প্রশ্ন বাইরে গেল কীভাবে?
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সবচেয়ে বড় রহস্য প্রশ্ন তৈরির কক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঘিরে। প্রথম দফার পরীক্ষা গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রাতভর প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানোর কাজ চলে। সেখানে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার মতো ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে। তারপরও পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যায়। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও প্রশ্ন বাইরে যাওয়ার ঘটনা প্রশ্নপত্র তৈরি, সংরক্ষণ, মুদ্রণ ও বিতরণের পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তদন্তের আওতায় আনা জরুরি, কিন্তু সরকারের সে ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখছেন না ভুক্তাভোগীরা।
প্রশ্ন ফাঁসের পরও নিয়োগ কমিটি কেন বহাল?
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরও আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রেখে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব ডি এম আতিকুর রহমান। প্রথম দফায় প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর কার্যক্রমে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের উপস্থিত ছিলেন। ফলে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার ছিল এবং সেই দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা বের করতে পূর্বের নিয়োগ কমিটি বহাল থাকার কথা নয়, কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি ঘটার পরও সেই নিয়োগ কমিটিই তড়িগড়ি করে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে নেয়। ফলে এই কমিটির ওপর মানুষের সন্দেহ আরও বাড়ে। এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেনের ভাষ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কারা জড়িত, তা তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই নিয়োগ কমিটিকে সরাসরি দায়ী করা যায় না। নতুন নিয়োগ কমিটি গঠনের এখতিয়ারও অধিদপ্তরের নেই।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীরা
নিয়োগ পরীক্ষার সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ চাকরিপ্রার্থীরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। প্রথম পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় অনেকে ঢাকায় এসে ভোগান্তিতে পড়েন। যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং প্রস্তুতির পেছনে তাদের সময় ও অর্থ ব্যয় হয়েছে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রেও নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং নিয়োগের স্বচ্ছতা যারা রক্ষা করতে পারেনি তদন্তের মাধ্যমে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর চাকরিপ্রার্থী আফজাল হোসেন ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তিনি পরীক্ষার জন্য সুদূর কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। এত কষ্ট সহ্য করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর জানতে পারলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আমরা যারা এত কষ্ট করে সেখানে গিয়েছিলাম, আমাদের এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
প্রশ্ন ফাঁসের খবরে ১০ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে চাকরি প্রার্থীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তোলেন যে, বর্তমান সরকারের আমলেও কেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। অথচ আগের শাসনামলেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। তারা প্রশ্ন রাখেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের সেই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য কী, যেখানে হাজার হাজার মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন? তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপও নিতে হবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান জানান, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র তৈরির সময় সবাই একসঙ্গে ছিলেন। অফিসে অন্য কেউ সেখানে ছিল না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তিনি বিব্রত। বুঝতে পারছেন না কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো। তাহলে কারা করল এটি? সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভেতর থেকেই। এ ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮-২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। টাকার বিনিময়ে টার্গেটকৃত প্রার্থীদের পাস করাতে পরীক্ষার আগেই তাদের হাতে প্রশ্ন তুলে দেন অধিদপ্তরে কর্মরতরা। নেপথ্যে বড় কর্তারাও জড়িত থাকতে পারে।
তদন্তের বিষয়ে কমিটির সভাপতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান বলেন, কমিটি ঘটনার একাধিক স্থান পরিদর্শন করেছে। প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। যা পেয়েছি, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আশা করি, সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষার আগের রাতে রাজধানীর মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভাড়া অফিসের চতুর্থ তলায় প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়। সেখানেই রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রশ্নপত্র ছাপানো শুরু হয়। শেষ হয় শনিবার সকাল ৯টায়। প্রশ্নপত্র তৈরি ও ফটোকপি করার সময় কমিটির পাঁচজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নপত্র টাইপ করা ও ফটোকপি করার জন্য তাদের সঙ্গে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮ থেকে ২০ জন কর্মচারী ছিলেন। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্যরা রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে সরেজমিন পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস ও টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন বিক্রি ফৌজদারি অপরাধ। ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের আইনগত এখতিয়ার পুলিশ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। তারা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিট দাখিল করবে। যে অপরাধী প্রমাণিত হবে, তার শাস্তি হবে।