ইল্লত যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০২
॥ জামশেদ মেহদী ॥
Once a terrorist always a terrorist. অর্থাৎ একবার যে সন্ত্রাসী হয়, সে সারা জীবনই সন্ত্রাসী থেকে যায়। আওয়ামী লীগের গুণ্ডামি, সন্ত্রাস, নৈতিক স্খলন এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট সম্পর্কে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের মরহুম চিফ সেক্রেটারি শফিউল আজম বলেছিলেন, Once an Awami Leaguer, always an Awami Leaguer. কথায় বলে, ইল্লত যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে (মরে গেলে)। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, A leopard can never change its spots. অর্থাৎ চিতাবাঘের কালো দাগ কোনোদিন মুছে যায় না। আরো আছে। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না।
এত সব বাগধারা এবং প্রবাদবাক্য আওয়ামী লীগের সাথে জুড়ে দিলাম কেন? কারণ বাংলাদেশে এবং সীমান্তের ওপারে দুনিয়ার সমস্ত অপকর্ম করতে করতে এবার তারা আমেরিকার নিউইয়র্ক পর্যন্ত তাদের অপকর্ম রফতানি করেছে। এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যখন গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করেছিলেন, তখন আওয়ামীওয়ালারা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম মেরেছিলো এবং তাকে হেনস্তা করেছিল। তারা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকেও হেনস্তা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জামায়াতের অন্তত ৩শত সদস্যের এক সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী ডা. তাহেরকে প্রটেকশন দিয়ে নিয়ে যান।
এখন ড. ইউনূস আর প্রধান উপদেষ্টা নন। নির্বাচন দিয়ে তিনি বিএনপির হাতে ক্ষমতা অর্পণ করেছেন এবং নিজে তার আগের জীবনে ফিরে গেছেন। যখন তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, তখনো তিনি বিপুল জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি যদি ক্ষমতা চাইতেন, তাহলে তিনি বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন। আর তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাকে হারাবার সাধ্য কারো ছিলো না।
এমন জনপ্রিয়, সম্মানীয় ও শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তি সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে গত ১২ অক্টোবর সোমবার নিউইয়র্ক গিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগ তাদের ডিএনএতে লেখা অসভ্যতার কারণে তার ওপর হামলে পড়ার চেষ্টা করেছিল।
বাংলাদেশ ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৮ এ হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ায় সময় একদল আওয়ামী সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে অশালীন আচরণ করে। তারা উচ্চৈঃস্বরে স্লোগান দেয়, ‘You are a terrorist’ ‘আপনি একজন সন্ত্রাসী।’ ‘ÔWhy did you come here?’ ‘আপনি এখানে কেন এসেছেন? ’ তারা আরো স্লোগান দেয়, Go back Younus, ইউনূস ফিরে যাও। গোলমাল সৃষ্টিকারীরা উচ্চৈঃস্বরে স্লোগান দেয়, ইউনূস বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করেছেন, পুলিশ হত্যা করেছেন, হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছেন এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। এ সম্পর্কে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে দেখা যায় যে, ড. ইউনূস হুইলচেয়ারে বসে আছেন। তিনি প্রকাশ্যে তর্কে না জড়িয়ে সামনে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা সহযোগী ও নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত খবরে বলা হয় যে, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজনকে ভিডিওতে দেখা গেছে। পরিস্থিতির কারণে ইউনূসকে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. ইউনূসকে হেনস্তা করায় ভারতীয় গণমাধ্যম বেজায় খুশি। দ্য ইন্ডিয়া টুডেতে বলা হয়, You terrorist. Muhammad Yunus faces anger of Bangladesh expatriates in New York Bangladesh is set to take legal action against angry expats who confronted Muhammad Yunus, the head of the earlier interim government in Bangladesh, at New York’s JFK Airport. The heckling showcased the anger over his tenure after the fall of the Sheikh Hasina regime. Yunus is travelling abroad amid calls for probes against him and his Grameen Group.
বাংলা : তুমি সন্ত্রাসী। নিউইয়র্কে জনরোষের সম্মুখীন ড. ইউনূস। খবরে বলা হয়, যারা ইউনূস সম্পর্কে এসব উক্তি করেছে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তাকে যে হেনস্তা করা হয়েছে, সেটি হলো বাংলাদেশীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ইউনূস এমন একসময় আমেরিকা সফর করছেন, যখন তার বিরুদ্ধে এবং তার গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্তের আওয়াজ উঠেছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে বলা হয়, একটি ভিডিওতে বলতে শোনা যায় ‘You are a terrorist’. Bangladesh’s Muhammad Yunus heckled at New York airport. government vows action.’ বাংলা : আপনি একজন সন্ত্রাসী। নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস হেনস্তা। এছাড়া হিন্দুস্তান টাইমসের বাংলা সংস্করণেও হেনস্তার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঐ রিপোর্টে ড. ইউনূসকে ঘিরে বলা হয় আপনি জঙ্গি।
বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ঘটনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নেতা-কর্মীরা ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ভিডিওতে ইমদাদ চৌধুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরীকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। জাগোনিউজের ইংরেজি সংস্করণে জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সারের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইমদাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মীরা বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন।
বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের নজরে এসেছে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার বক্তব্যের মূল দিকগুলো ছিল— ঘটনাটিকে সরকার গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ হিসেবে দেখছে। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের হেনস্তার ঘটনায় যে ধরনের আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছিল, এখানেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসের নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু কাউকে ঘিরে ধরে এভাবে কটূক্তি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পরাজিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে তার অনুসারীদের উসকানি দিচ্ছেন। ড. ইউনূসের সঙ্গে তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের অপকর্মের দায় সরাসরি শেখ হাসিনার ওপরই বর্তায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমীর লেখেন, ‘পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট তার সন্ত্রাসীদের সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে অপকর্ম করেছে, তার দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনারই।’
ঘটনার বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করে তিনি আরো লেখেন, ‘সরকারের উচিত হবে এ ব্যাপারে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এরা যে ফ্যাসিস্ট, দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ অব্যাহত রেখে তা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে।’ পোস্টের শেষাংশে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘সেইম…’
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে।
গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবারে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। গত ১২ অক্টোবর সোমবার নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চৈঃস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হেয়ার’, ‘গো ব্যাক’সহ নানা অবমাননা সূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটিকে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই। দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলের গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে।
বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ আরোও বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তাদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আওয়ামী সন্ত্রাসের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এভাবে, হুইলচেয়ারে একা একটা মানুষ। তার সামনে হঠাৎ এসে চিৎকার করে ‘টেররিস্ট’, ‘ট্রেইটর’ বলে দিলেন, আর তার মান-সম্মান চলে গেল! কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা!
ফ্যাসিস্ট খুনি শাসকের দোসর-অনুসারী এবং হৃদয়ে বাকশালধারী সুশীল বাবুরা, ভালো করে শোনেন। আপনারা সুদূরতম কল্পনাতেও বুঝতে পারবেন না, ড. ইউনূস কতটা শ্রদ্ধেয় মানুষ সারা পৃথিবীতে। তার কাজ কতটা অনুকরণীয় হয়েছে সারা বিশ্বে। এমনকি আপনাদের প্রিয় ভারতেও! ভারতের দুই আইনসভার যৌথ অধিবেশন ডেকে কাকে সম্মানিত করা হয়েছিল, মনে আছে?
আপনাদের মালকিন বা প্রভুদের দৌড় রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত। আর ড. ইউনূসের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে বিল গেটসের! আমি নিজে শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি, রাজা-রানি আর করপোরেট দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিদের দেখেছি তার সান্নিধ্যে আপ্লুত হতে। তাকে তন্ময় হয়ে শুনতে।
আর আপনি, সাদামাটা একটা জীবনযাপন করা মানুষ, ড. ইউনূসকে সন্ত্রাসী বলে হাঁক দিলেন, মিথ্যা গালাগালি করলেন, এতে তার কী ক্ষতি হবে? সূর্যের দিকে ঢিল ছুড়ে মারলে কি হয়? কতটা আলো আড়াল হয় তাতে? গাধার দল!
বিশিষ্ট সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের লিখেছেন, একটা সরল কথা কি জানেন? দুনিয়াজুড়ে প্রায় দেড় কোটির মতো বাংলাদেশির বসবাস। আর তাদের প্রায় সকলেই জানেন, স্বৈরাচার ও তাদের তল্পিবাহক কে বা কারা। স্বৈরাচারের নিকটজনদেরও তারা বেশ ভালোই চেনেন। দুর্নীতির পাচার করা অর্থে এরা কোন দেশে কী কী সম্পদ গড়েছেন, সেসবও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
হুইলচেয়ারে বসা বয়োবৃদ্ধ একজন সম্মানিত নাগরিককে হেনস্তার প্রতিবাদ যদি এই দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজের মতো করে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কিন্তু ভেনিস, মিলান অথবা আমস্টার্ডামে কাঁধে ক্যামেরা ঝুলিয়ে ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়ানো আর ওয়াইনের গ্লাস মুখে চিল করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে। What goes around, comes around…remember? জুলকারনাইন সায়েরের ইঙ্গিতটি খুব পরিষ্কার। অর্থাৎ ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হবে।
পরিশেষে আমার দু-চারটি মন্তব্য। তবে দিয়ে লাভ কি? চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। তবুও দুটি কথা বলতেই হয়। ড. ইউনূস ১৮ মাস দেশ শাসন করেছেন। তার শাসনামলের সব কাজই ভালো ছিলো এমন কথা হলফ করে বলা যায় না। মানুষ ফেরেস্তা নয়। ভুল তার হতেই পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগওয়ালারা জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে যেসব খিস্তিখেউর করছে, সেগুলো কোনো ভদ্র সন্তানের কাজ নয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত আমলা মরহুম শফিউল আজম। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের চিফ সেক্রেটারি ছিলেন। আবার পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিও ছিলেন। একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আমরা ৩ বন্ধু তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করে হাফপ্যান্ট পরা রিকশাওয়ালা।’
শফিউল আজম মারা গেছেন। কিন্তু ড. ইউনূসের মতো বিশ্ববরেণ্য একজন ব্যক্তিত্বের প্রতি আওয়ামী লীগের এই তৃতীয় শ্রেণির আচরণ মরহুম শফিউল আজমের কথা মনে করিয়ে দেয়।
E-mail : jamshedmehdi15@gmail.com