দেশে প্রতি চারজনে একজন দরিদ্র

‘দারিদ্র্য কমাও’—কি শুধুই স্লোগান


১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২২:২২

॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া ॥
অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তির স্লোগান তুলে দেশে কত পরিবর্তন আর কত ভাঙা-গড়া হলো। সেই ১৯৫০-এর দশকে শুরু হয়েছে বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি চাই স্লোগান, আজও চলছে। বাংলার মানুষ শোষিত হচ্ছে, পশ্চিমারা, উহারা, তেনারা শুধু শোষণই করছে। পুরো বাংলা গরম করা হয়েছিল, পশ্চিমা শোষণ থেকে মুক্তি পেতে হবে। তার জন্য একটি দলকেই সমর্থন করতে হবে, তাদের সেই প্রতীকে ভোট দিতে হবে। না হলে বাংলার মানুষের কোনো মুক্তি নেই। সাধারণ জনগণকে পাগল করে দেয়া হয়েছিল, মুক্তি পেতে হলে একমাত্র একটি দলকেই ভোট দিতে হবে। সাধারণ জনগণের একটা অংশও ঐ একটা অপশক্তি দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে তাদের পেছনে দৌড়াইছে। তারাও জনগণকে সফলভাবে বাংলার জনগণের একটা অংশ; বিশেষ করে অপরিপক্ব তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করেছিল। যার পরিণতিতে বিশ্বের একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র ভাগই করে ফেলল তারা। আর এ ভাগের প্রধানতম স্লোগান ও দাবি ছিল— পশ্চিমারা বাংলার জনগণকে শোষণ করছে, তাই আমরা গরিব। কিন্তু বিগত ৫৫ বছরে কি বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে। এ ৫৫ বছর কে শোষণ করেছে? দরিদ্রতা তো কমছে না, বরং বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টেও জানা গেছে যে, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত দরিদ্র বাড়ছে। দেশের অন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও বলছে, বাংলাদেশে দরিদ্র না কমে বাড়ছেই।
অর্থনীতির পরিভাষায় দারিদ্র্য প্রধানত দুই প্রকার— একটি হচ্ছে আপেক্ষিক দারিদ্র্য ও আরেকটি হচ্ছে চরম দারিদ্র্য। চরম দারিদ্র্য ((Absolute Poverty) : বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যে মৌলিক চাহিদাগুলো থাকে; যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষা— তার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি বা চরম ঘাটতিকে বোঝায়। বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের (যেমন দৈনিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম আয়ে জীবনযাপন) নিচে থাকা মানুষকে চরম দরিদ্র বলা হয়।
আপেক্ষিক দারিদ্র্য (Relative Poverty) : কোনো সমাজে মানুষের জীবনযাত্রার যে গড় মান থাকে, তার তুলনায় যখন কেউ পর্যাপ্ত আয় বা সম্পদের অভাবে সেই মানে জীবনযাপন করতে পারে না, তখন তাকে আপেক্ষিক দারিদ্র্য বলে। এখানে মৌলিক চাহিদা হয়তো মেটে, কিন্তু সমাজের অন্যান্য মানুষের তুলনায় তারা পিছিয়ে থাকে।
দরিদ্রতা ও আয়বৈষম্য পাল্লা দিয়ে বাড়ছে
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, মডেলভিত্তিক হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দৈনিক ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমায় দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। এক বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে এই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে মোট দারিদ্র্যের হার যেখানে ছিল ১৮.৭% এবং অতি দারিদ্র্য ছিল ৫.৬%, এটা ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ২২.৫%-এ পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশে মোট দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
জাতীয় দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার টানা চতুর্থ বছরের মতো বেড়েছে। একই সময়ে আয়বৈষম্যও বেড়েছে। কিন্তু দেশীয় অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমীক্ষায় দারিদ্রের হার বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি। দেশে দারিদ্র্যের হার গত তিন বছরে বেশ খানিকটা বেড়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
একইসঙ্গে অতি দারিদ্র্যের হার তিন বছর আগের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়েছে। গত ২০২৫ সালে ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার ঢাকার এলজিইডি মিলনায়তনে দেশের অর্থনীতির বাস্তব অবস্থা নিয়ে দেশব্যাপী সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করেছে গবেষণা সংস্থাটি।
অবশ্য ইতোপূর্বে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। আর অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সেই হিসেবে পিপিআরসির সমীক্ষায় দেশে দারিদ্র্য ও অতি দারিদ্র্য— দুটিই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এককথায় বলতে হবে, বাংলাদেশে প্রতি চারজনে একজন দরিদ্র।
ভারতে দারিদ্র্যের হার মাত্র ৫ শতাংশ
বিশ্বব্যাংক ও সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালের তথ্যানুযায়ী ভারতে চরম দারিদ্র্যের হার বর্তমানে প্রায় ৫.৩% । ভারতে ২০১১-১২ সালে যেখানে চরম দারিদ্র্যের হার ছিল ২৭.১%, তা কমে ২০২২-২৩ সালে ৫.৩%-এ নেমে এসেছে। নীতি আয়োগ ও জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২১ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় ১৪.৯৬% মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে, যা ২০১৫-১৬ সালে ছিল ২৪.৮৫%। ভারতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এক দশকে প্রায় ২৭ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
বাংলাদেশে দারিদ্র্য বাড়ছেই
বিশ্বব্যাংক, বিবিএস ও পিপিআরসিসহ যেকোনো সংস্থার জরিপেই দেশে দারিদ্র্য ও অতি দারিদ্র্য দুটিই বাড়ছে। এটার হার কমবেশি হতে পারে, কিন্তু বাড়ছেই। সরকারগুলো বিভিন্ন সময় বলছে এবং কাগজে-কলমে জানাচ্ছে যে, তারা দেশের দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য অনেক কাজ করে যাচ্ছে। তাদের অনেক ধরনের পরিকল্পনা যেমন আছে, তেমনিভাবে অনেক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কি আমরা দারিদ্র্য হ্রাসের কোনো বাস্তব পরিস্থিতি দেখছি বা আন্তর্জাতিক ও দেশিয় সংস্থাগুলো যে সমীক্ষা ও জরিপ প্রকাশ করছে তাতে কি এমন কোনো তথ্য ও পরিসংখ্যান পাচ্ছি যে, যেখানে দারিদ্র্য ও অতি দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। উত্তর হচ্ছে দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উভয়ই বলছে যে, দারিদ্র্য ও অতি দারিদ্র্য সবই বাড়ছে।
বিগত ৩৫ বছর ধরে দুটি বড় দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে দেশ পরিচালনা করেছে। এর আগেও এ দুটি দলই সরকারে থেকে দেশ পরিচালনা করেছিল। বর্তমানেও বিএনপি সরকারই ক্ষমতায় আছে। দুটি দলই ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের দারিদ্র্যবিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৫ সালের দিকে প্রথম Poverty Reduction Strategy Paper-PRSP (২০০৫-২০০৮) প্রণয়ন করে। এটি ছিল তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে প্রথম দারিদ্র্যবিমোচন কৌশলপত্র। এটির শিরোনাম ছিল ‘আনলকিং দ্য পটেনশিয়াল’ বা দ্রুততর দারিদ্র্যবিমোচনের জাতীয় কৌশল।
বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র্যবিমোচন কৌশলপত্র PRSP হলো দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রণীত একটি মধ্যমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের শর্ত ও দিকনির্দেশনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এটি তৈরি করা হয়। বাংলাদেশ সরকারও এটি দাতা সংস্থাগুলোর পরামর্শে এটি প্রণয়ন করে।
দ্বিতীয় PRSP ev NSAPR-II (2009-2011) NSAPR-II stands for the National Strategy for Accelerated Poverty Reduction II (Titled ‘Steps Towards Change’। সরকারের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে দলিলটি হালনাগাদ করা হয়। ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রেক্ষাপট ও নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এর নামকরণ করা হয় ‘দ্রুততর দারিদ্র্যবিমোচনের কৌশল-২ (অর্থবছর ২০০৯-১১) পথে অগ্রযাত্রা’। এর মূল স্লোগান ছিল— ‘দারিদ্র্য ঘোচাও-বৈষম্য রুখো’। বিগত সরকারগুলো দারিদ্র্যবিমোচনে খুবই আকর্ষণীয় টাইটেলে অনেক পরিকল্পনা কৌশলপত্র ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু দারিদ্র্যবিমোচন তথা দারিদ্র্য কমাতে ঐসকল পরিকল্পনার কোনো সুফল তো দেশের জনগণ দেখতে পাচ্ছে না। বরং প্রতিনিয়ত দারিদ্র্য বাড়ছেই। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে একজন দরিদ্র। বড় বড় রাজনৈতিক চেতনাধারী দল ও নেতাদের অর্থনৈতিক মুক্তির এতো কর্মকৌশল, কমনীতি ও কর্মসূচির প্রতিফলন কোথায়? এসব হচ্ছে সাধারণ জনগণকে প্রতারণা করার স্লোগান মাত্র।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভিশন নেই কর্মসংস্থানের
সরকারের একটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন পূর্ণমন্ত্রী ও একজন সচিব রয়েছেন। একজন অতিরিক্ত সচিবসহ বেশ কয়েকজন যুগ্ম সচিবসহ একটি বিশাল বহর আছে মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম পরিচালনার জন্য। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ভিশন মিশনের মধ্যে কিন্তু সাধারণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কোনো একটি শব্দও নেই। ভিশনে বলা হয়েছে, ‘ভিশন : শোভন (Decent) কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের উন্নত জীবন মান’। আর মিশনে বলা হয়েছে, ‘মিশন : শ্রম অধিকার সুরক্ষা, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ, শিল্প সম্পর্কোন্নয়ন, শিশুশ্রম নিরসন এবং কর্মসংস্থান সেবা প্রদানের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন।’
বাংলাদেশে দরিদ্রতার মূল কারণ হচ্ছে কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই, তাই কর্মক্ষম মানুষ কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। অথচ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভিশন ও মিশনের দেশের সাধারণ জনগণের কর্মসংস্থান তৈরির কোনো চিন্তা ও পরিকল্পনার জন্য একটি শব্দও নেই।
অবশ্য মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে ইতিহাস সম্পর্কিত কলামের শেষ প্যারার শেষ একটি বাক্যে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতি, শ্রমবাজার, আর্থসামাজিক অবস্থান ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কর্মে নিয়োগ এবং কর্মের জন্য জনশক্তিকে উপযুক্ত ও দক্ষ করে কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” উল্লেখ্য, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে , এ বছর ২০২৬ সালের ২ মার্চ কনটেন্টটি হালনাগাদ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কর্মসংস্থান অধিদপ্তরটি চালু করা হয়নি। কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এক বক্তব্যে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ অধিদপ্তরটি চালু করা হবে। অধিদপ্তরটি চালুর টার্গেট হচ্ছে প্রধানত চাকরিপ্রার্থীদের ডাটাবেজ ও ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজন করা। দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ক্যারিয়ার এবং জব ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত অনলাইন ও অফলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাজারে কোন খাতে কেমন শ্রমের চাহিদা রয়েছে তাও ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো চাকরিপ্রার্থী এবং নিয়োগকর্তাদের তথা শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সরাসরি যোগসূত্র বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
এখানেও সরকার থার্ড পার্টি তথা তৃতীয় পক্ষ থেকে হিসেবে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে সংযোগ স্থাপন করে দেয়া। সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো উদ্যোগ বা কর্মসূচির কোনো উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নয়নশীল দেশের সরকারের এত বড় একটি মন্ত্রণালয় রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়টি দেশের যুবক বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সরাসরি কোনো উদ্যোগ ও কর্মসূচি নিয়ে চিন্তা ভাবনা ও পরিকল্পনা করছে না। তাহলে কীভাবে গরিব ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে আর দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ জনগণের দারিদ্র্যবিমোচন হবে। যে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এ দেশের গরিব ও যুবকরা বারবার জীবন ও রক্ত দেয় তাদের দারিদ্র্য দূরীকরণে রাষ্ট্র ও সরকারের সরাসরি ও প্রত্যক্ষ কোনো উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেই। হায়রে র্ষ্ট্রা সরকার ও প্রশাসন। তখনই প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকার কি সত্যিই দারিদ্র্য দূরীকরণ করতে চায়? নাকি সবই ধোঁকাবাজি ও মিথ্যা আশ্বাস।
দারিদ্র্যের হার কমাতে প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ
তাহলে কি বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার বাড়তেই থাকবে। বিশ্বে যেখানে প্রতিনিয়ত দারিদ্রের হার কমছে সেখানে আমাদের দেশে বাড়ছে। ভারতে দারিদ্রের হার মাত্র ৫ শতাংশ আর বাংলাদেশে এটা ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতি চার জন মানুষের মধ্যে একজন দরিদ্র। দারিদ্র্যের হার যেভাবে বাড়ছে, এটা মেনে নেয়া যায় না। সরকার দারিদ্র্য হ্রাসের টার্গেট নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু কমছে না, বরং বাড়ছে। এটার প্রকৃত কারণ কী, সরকারের কর্মকৌশল ও কর্মসূচি কি যথাযথ নয়, নাকি সরকার যে কৌশল, কমনীতি ও কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে, তা সঠিক নয় বা সঠিকভাবে কাজ করছে না। কোনটা ঠিক, নাকি দুটিতে ঘাপলা রয়েছে? সরকার যাদের দিয়ে গরিবতা হটাতে কাজ করছে, তাদের দায়িত্বাবোধ ও আন্তরিকতা কোন মাত্রায় তা আজ বিশ্লেষণ করার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা বর্তমান সরকার দরিদ্র মানুষের আয় বৃদ্ধি ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারলেই দারিদ্র্য হার কমতে পারে। চারদেয়ালের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে শুধু কৌশলপত্র প্রণয়ন করলেই দেশের দারিদ্র্য হার কমতে পারে না। দারিদ্র্য হার কমাতে হলে যথোপযোগী কৌশল, কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার এ লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ নেবে— এটাই সরকারের কাছে সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা।
লেখক : বার্তা সম্পাদক, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।
ই-মেইল : ferdous.ab@gmail.com