নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি বাড়ছে
১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২২:২৬
স্টাফ রিপোর্টার : স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই। সরকার বিদ্যুৎ ও সব ধরনের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ও সরবরাহে পরিবহন খাতে। এতে বাজারে প্রায় সব পণ্যের মূল্য বেড়েছে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাপন আরও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বাজারের পেঁপে ছাড়া ৬০ টাকার কমে কোনো সবজি বিক্রি হচ্ছে না। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে সাইজভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ডিমের খাঁচি (৩০টি) পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা। অর্থাৎ ডজন ১৪৪ টাকা আর প্রতিটি ডিমের মূল্য ১২ টাকা পাইকারি ধরে। অন্যসব পণ্যের মতো বাজারে নীরবে বাড়ছে চালের মূল্যও। গত ১২ অক্টোবর সোমবার ঢাকার বাজারের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
খবর নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ২৮-পাইজাম চাল প্রতি কেজি ৫৬ থেকে ৫৭ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এসব চাল প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রয়েল ক্রাউন কাটারি নাজির চালের ২৫ কেজি বস্তার মূল্য কয়েকদিন আগেও ২১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকা। ২৫ কেজিতে ১০০ টাকা বাড়লে কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। চালের সঙ্গে বেড়েছে ডিমের দামও। গত সপ্তাহের তুলনায় মূল্য বেড়ে লাল ডিম খুচরা বিক্রি হচ্ছে ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৬০০ টাকায়। কৈ মাছ ২৪০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছোট মাছ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দামও রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজারে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। প্রতি কেজি পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারটি কাঁচকলার দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলা, ধুন্দল, কাঁকরোল, মুলা, বরবটি, লতি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শসহ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। মিষ্টিকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। আলুর কেজি ৩০ টাকা।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলও আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, একটি পণ্যের দাম বাড়ার চাপ সামলাতে না সামলাতেই নতুন কোনো পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষ বলছেন, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সিরিয়াস না হওয়ায় বিক্রেতারা যে যার মতো করে মূল্য নির্ধারণ করে ক্রেতাদের পকেট কাটছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিজ্ঞরা।